যাত্রা শুরু
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। আমার পুরী ভ্রমণের জার্নি টা আপনাদের সাথে শেয়ার করছিলাম গত পোস্টগুলোতে, আজকে সেটাই জানি রাখছি। আজকের পোস্টে জার্নির কিছুটা অংশ থাকছে।
তার আগে বলি, আমার মতে ঘুরতে যাওয়া গোছানো একটা ব্যাপার। আর ফিরে আসার পরে এত এত লাগেজ, এত জামাকাপড় ধোঁয়া ,বিশেষ করে বিচ সাইট থেকে এসে জামা কাপড়ের ভেতরে বালি থাকে শুধু, তারপর সব কেচে শুকিয়ে সবকিছু আবার গুছিয়ে রাখা, এটা বিশাল খাটনির ব্যাপার আমার কাছে মনে হয়। এমনিতে জার্নির জের কাটতে কাটতে সময় চলে যায়। তার ওপর এসব করা অ্যাকচুয়ালি অনেক বিরক্তির ব্যাপার।
যাই হোক এসব কথা থাক, পরে আমি গল্প করবো এই নিয়ে। গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম তবে গাড়ি ছাড়তে ছাড়তে মোটামুটি দুপুর আড়াইটা বেজেছে ,কারণ লাগেজ গুলোকে ওপরে ড্রাইভার দাদা সমস্ত সেট করছিল। সবাই সবার মতন লাগেজ গুলো তুলেছে, সবকিছু মিলিয়ে বেরোতে বেরোতে আড়াইটা বেজেছে।
আমি সকালবেলাতেই মাকে বলেছিলাম যে আমি বেরোনোর সময় একেবারে খাওয়া দাওয়া করে বেরোবো। তাই সকাল বেলায় হালকা কিছু খেয়েছিলাম ।তবে মা বাবা সকালবেলায় খাওয়া দাওয়া করেছিল ,তাই দুপুর বেলায় বাবা-মার খিদে পেয়ে গেছিল ,তাই আমরা বেরোনোর পরেই কিছুটা এগিয়েই একটা রেস্টুরেন্টে দাঁড়িয়ে ছিলাম বাবা-মা খেয়েছিল বলে। ওখানে আমি একটু টক দই খেয়েছিলাম, ওখানকার দই টা খুব ভালো।
এইভাবে যেতে যেতে আমরা বারাসাতের কাছাকাছি আসলাম ,সেখানে একটু ব্রেক নিয়ে চা খাওয়া হলো।। অনেকদিন পরে ঘুরতে যেতে পেরে ভালো লাগছিল। আমরা প্রচুর জায়গায় হল্ট করেছি। এতটা রাস্তা একভাবে যাওয়াটা সম্ভব না। ছোট গাড়িতে স্পিড লিমিট অনেক বেশি থাকে ,তবে এই গাড়িটাতে লিমিট ৮০ কিলোমিটার ।এ কারণে বেশি জোরে গাড়ি চালানো যাচ্ছিল না। একভাবে ওইভাবে বসে থাকা যায় না বলেই আমরা মাঝে মধ্যেই ব্রেক নিয়েছিলাম।
সব মিলিয়ে মনের মধ্যে একটা চিন্তা ছিল, যে পরের দিন যেহেতু কোনো রকম হোটেল আমাদের ঠিকঠাক করা নেই, তাহলে পরের দিন আমাদের পৌঁছে হোটেলটা ঠিকঠাক করতে হবে এবং সেটা একটা বড় চাপের বিষয় ছিল।
দক্ষিণেশ্বরের মা এর মন্দিরকে ডানহাতে রেখে আমরা সোজা এগোতে থাকলাম । আমার মনে আছে রাত যখন আড়াইটা বাজে, তখন আমরা ওড়িশা বর্ডারে। ওখানে আমাদের পারমিট চেক হলো, তারপরে আমাদের ছেড়ে দেয়া হলো এবং আমরা ওড়িশার মধ্যে ঢুকে পড়লাম।
কোলাঘাটের ওদিক দিয়েই আমাদের আসতে হয়েছে। তার আগে আমরা একটা জায়গায় ব্রেক নিয়ে খাওয়া দাওয়া করেছি।
প্রথম দিনকেই যেদিনকে সমস্ত কিছু ঠিক হয় শুক্রবার রাতে ,আমাদের যে দাদা সমস্তটা প্ল্যান করেছিল, মানে মলয় দা ,সে বলেছিল যে আমরা রান্না করে খাবো, কারণ পুরীতে রান্না করে না খেলে শরীরে অসুবিধা হতে পারে।
আমার বড় পিসি কিছু দিন আগে পুরী ঘুরে এসেছিল, তো ওরা যারা গিয়েছিল, পিসেমশাই, পিসি এবং দাদারা সকলেরই পেটের সমস্যা হয়েছে, তাই এই বিষয়টাতে আমরা সবাই এগ্রি করেছিলাম যে রান্না করেই খাওয়া হবে।
তাই ওই জায়গায় ব্রেক নিয়ে রান্না করা হয়েছিল। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরের পোস্টে বাকি কথা শেয়ার করব।
Curated By : @ memamun