মা
কেমন আছেন সবাই, আজকে আমার পোস্ট করতে বেশ দেরি হয়ে গেল। সকাল থেকে নানান কাজে ব্যস্ত ।তারপর হট করে শরীরটা যখন খারাপ হলো। আমি নিজেই সকাল থেকে ক্লান্ত ফিল করছিলাম। বুঝতে পারছিলাম শরীরটা খারাপ যাচ্ছে। সকাল বেলায় কোন রকম ভাবে পড়াশোনা করেছি। তারপর আর পড়তে বসাই হয়নি।
আজকে ভাবলাম আপনাদের সাথে আমার মায়েদের নিয়ে কথা বলি। কিছুদিন আগেই মাতৃ দিবস গেল। পিতৃ দিবস, মাতৃদিবস ,নারী দিবস এরকম অনেক ধরনেরই দিন আমরা আজকাল পালন করে থাকি।। কিছুদিন আগেও এই দিনগুলোর কোনরকম জ্ঞান আমাদের ছিল না। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেগুলো রীতিমতো আমাদের সকলের চোখের সামনে ভেসে আসে। আর স্বাভাবিকভাবেই মানুষ সেই দিনটিকে একটু অন্যভাবে পালন করার চেষ্টা করে।
যদিও আমার কাছে এরকম আলাদা করে কোন দিন নেই। আমার মনে হয় প্রত্যেকটি দিনই অনেক সুন্দর এবং আমরা প্রত্যেকটি দিনই আমাদের নিজেদের মতন করে একটু অন্যভাবে কাটানোর চেষ্টা করি। কারো জন্মদিন থাকলে সেটা আলাদা ব্যাপার। এছাড়া সেরকমভাবে আমি নিজে কোনদিনকে পার্টিকুলার ভাবে পালন করার পক্ষপাতি নই।
১২ তারিখে আমার ছোট ভাই ঈশানের জন্মদিন ছিল। সেদিন আমার পিসতুতো দিদির ছেলের অন্নপ্রাশন। এর সাথে ছিল সেদিনকে মাতৃ দিবস। এই এতগুলো অনুষ্ঠান একইদিনে পড়লে কোনটা ছেড়ে কোনটা পালন করব বলুন তো। তাও ঈশানের জন্মদিন আর পিসতুতো দিদির ছেলের অন্নপ্রাশনের কাজ মিটে গিয়েছিল।
কিন্তু সেদিনকে আমি যে একেবারেই মাকে একটু বেশি করে আদর করিনি, তা কিন্তু নয়। মায়ের জন্য চকলেট কিনে নিয়ে এসেছিলাম। আর আমার আর এক মায়ের জন্য কেক কিনে পাঠিয়েছিলাম।
আসলে সম্পর্কগুলো এমন করেই গড়ে ওঠে। হঠাৎ করেই কোন মানুষ এতই কাছের হয়ে যায়। তা আমরা নিজেরাও টের পাই না। আমার জীবনে আমার অনেক মা রয়েছে। আমার নিজের মা যিনি আমাকে জন্ম দিয়েছেন ,তার পাশাপাশি এরকম অনেকেই আছেন, যারা আমার মাতৃ সম এবং আমাকে সব সময় উৎসাহ দেন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এবং আমাকে অনেক অনেক ভালোবাসেন।
তাদের নাম এবং পরিচয় বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু নিজের কাছে যে দুটো মাকে আমি পেয়েছিলাম ,এবারে তাদেরকে একটু খুশি করার চেষ্টা করেছিলাম। আমার নিজের মা তো সেদিনকে এত বেশি ব্যস্ত ছিল যে মায়ের মাথাতে ঈশানের জন্মদিন , দিদির ছেলের অন্নপ্রাশন এতো ভাবেই ঘুরছিল, নিজেই ভীষণ ক্লান্ত ছিল।
তাই সেদিন কে কোনরকম ভাবে আমি চেয়েছিলাম ,মা যেন একটু রেস্ট পায়। তাই যত তাড়াতাড়ি পারি, মায়ের সাথে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম বিকেলের মধ্যে। আর আমার ইচ্ছামত মা রেস্ট নিতে পেরেছিল সন্ধ্যের পরপরই।
মনে একটা আফসোস ছিল যে মাকে সেদিনকে কেক বানিয়ে খাওয়াতে পারিনি।আমি যে কেক বানাতে ভালোবাসি এবং নিজেও কেক খেতে ভালবাসি সেটাও আপনারা জানেন এবং আমার বাড়ির সকলেই আমার বানানো কেকে খুবই পছন্দ করেন।
তাই আজকে শরীরটা ভালো না লাগলেও হঠাৎ করেই যখন ইচ্ছা হল মায়ের জন্য কেক বানাবো, তখন শুরু করে দিলাম। এবং এই কিছুক্ষণ আগেই আমরা সবাই মিলে কেক কাটলাম। আমার মা ভীষণ আনন্দ পেয়েছে।
আমি যেই না বলেছি মা তাড়াতাড়ি পছন্দ মতো আমার দেওয়া বৈশাখের শাড়িটা পড়ে নিল। একটু সেজেও নিল ।মায়ের এই বছর একটা অপারেশন হয়েছিল প্রথমের দিকে ।তাই শরীরটা এখনো ঠিকমতো সেরে ওঠেনি। ছবি দেখলেই বুঝতে পারবেন আমার মায়ের শরীরটা একটু খারাপই রয়েছে।
আমার মা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক এটাই আমার প্রার্থনা।
আর ছবিতে আমার যে আর এক মাকে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। উনি যে আমার কতটা কাছের হয়ে গেছেন অল্প সময়ের মধ্যে। তা আমি আপনাদের বলে বোঝাতে পারবো না। সত্যিকারের ভালোবাসা যে নিঃস্বার্থ হয়। সেটা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত কথা। আমি ওনাকে মায়ের চোখেই দেখি। আমি জানিনা মাতৃ দিবসের দিন কেক পাঠানোর পর উনি কতটা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু ছবিতে ওনার গাল ভরা হাসি দেখে আমার প্রান্ জুড়িয়ে গেছে ।
আমি নিজের মুখে কাকিমা বলে ডাকলেও, মা লক্ষ্মীর মত মিষ্টি মুখটা দেখে সবারই হয়তো মা ডাকতে ইচ্ছা করবে। আমি সব সময় চাই তিনি যেন ভাল থাকেন। আর আমার আবদারটা মেটানোর জন্য আমার এই কাজটিকে সম্পূর্ণ করতে যে আমাকে সাহায্য করেছে তাকেও আমার অনেক ধন্যবাদ।
যদিও ছবিগুলোতে কেক কাটার সময় মায়ের থেকে ছেলের বেশি আনন্দ নজর কেড়ে নিচ্ছে।
হ্যাঁ অবশ্যই এটা ঠিক নিজের মায়ের সমতুল্য কেউ কখনোই হতে পারে না, কিন্তু এই মানুষটির কাছ থেকে আমি খুব অল্প দিনের মধ্যেই মাতৃস্নেহ পেয়েছি। আর এই কারণেই হয়তো আমার নিজের মন থেকেই এই ভালোবাসা।
আমি সব সময় চাই পৃথিবীর সবাই সুস্থ থাকুক। প্রত্যেকটি মা সুস্থ থাকুক। আর প্রত্যেকটি সন্তান যেন তাদের মাকে সবসময় আগলে রাখে। আমিও ভীষণ ভালোবাসি, আমার দুই মাকে। এবং সাথেই যে সকল মায়েরা আমাকে কোলে পিঠে মানুষ করে বড় করে তুলেছে। তাদের সকলের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলতে চাই, তারা যেন সকলে সবসময় আমার পাশে থাকে।
ঈশ্বরের কাছে আমার এটাই চাওয়া, আমার মায়েদের জানো তিনি ভালো রাখেন।
দিদি মায়ের প্রতি আপনার ভালোবাসা সত্যি অসাধারন। আমাদের সবার এমনটাই হওয়া উচিত। একজন মা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। মা ছাড়া পৃথিবীতে একটি দিন কাটানো সত্যি অনেক কষ্টকর। পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
মায়ের জন্য তৈরি করা কেকটি অনেক সুন্দর হয়েছে দিদি। দুটো অনুষ্ঠানের ভীরে আপনি যে মায়ের জন্য মা দিবসে ছোট্ট একটু আয়োজন করেছেন সেটি প্রশংসার দাবি রাখে। আপনার মায়ের জন্য রইলো অনেক অনেক দোয়া ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন দিদি।
TEAM 1
Congratulations! This comment has been upvoted through steemcurator04. We support quality posts , good comments anywhere and any tags.Thanks sir
অনেক সুন্দর করে কমেন্ট করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। খুব ভালো থাকুন।
ভালো করেছো মায়ের জন্য নিজে কেক বানিয়েছো। মাকে নিজের হাতে কিছু দেবার মজাই আলাদা।দেখেই বোঝা যাচ্ছে তোমার মা খুব খুশি হয়েছেন। আমি ও চাই প্রত্যেকের মা ভালো থাকুক সুস্থ থাকুক। তোমার পোস্ট টা পরে খুব ভালো লাগলো। তুমি ও ভালো থেকো।
আর কেক টা কেমন খেতে ছিল, সেটা বললে নাহ তো🤭
TEAM 1
Congratulations! This post has been upvoted through steemcurator04. We support quality posts, good comments anywhere, and any tags.