বুড়ো রাজ মন্দিরে যাওয়ার গল্প
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি সকলে ভালো আছেন। আমি আমার গত পোস্টে জামালপুরের বিখ্যাত এবং জাগ্রত বাবা বুড়োরাজ মন্দিরের সমস্ত কাহিনী আপনাদের সাথে একটি পোস্টে শেয়ার করেছিলাম এবং আমি জানিয়েছিলাম যে এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আমি আমার পরিবারকে নিয়ে সেই স্থানে গিয়েছিলাম ।এবার আসি সেই স্থানে যাওয়ার কারণ কি ছিল, সেই নিয়ে ।
প্রথমত ওই পোস্টে আমি যা লিখেছি যদি আপনারা পড়ে থাকেন তাহলে আপনারা বুঝতে পারবেন যে মন্দিরের পিছনে এক বিরাট কাহিনী রয়েছে এবং বাবা বুড়োরাজের মহিমা সংক্রান্ত ব্যাপারে আশেপাশের মানুষ এবং বাইরের মানুষেরা ধীরে ধীরে জ্ঞাত হওয়ায় ওখানে খুবই ভালোভাবে পুজোর ব্যবস্থা করা হয় এবং সকলেই বিশ্বাস করে এবং এই কারণে সকলের নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন মনস্কামনা পূরণ করতে পুজো দিতে যায়।
আমার পিসতুতো দাদা বৌদি প্রায় ২০ বছর যাবৎ নিঃসন্তান ছিল। বহু ডাক্তার এর সান্নিধ্যে আসার পরেও সে সুন্দর মুহূর্তের ছোঁয়া ওদের প্রাপ্ত হচ্ছিল না। আমি শুনেছি বৌদি অনেক ডাক্তার পরিবর্তন করেছে।
পাশাপাশি বৌদি অনেক মন্দির এবং ভগবানের কাছে মানসিক করে। আমি যতটুক জানি আমাদের লোকোমুখি প্রচলিত এই মানসিক শব্দটি বলতে বোঝায় , ভগবানের কাছে কোন বিষয় নিয়ে প্রার্থনা করা এবং সেই প্রার্থনা পূরণ হলে খুশি হয়ে নিজের মন মত মন্দিরের উদ্দেশ্যে অথবা সকলের শুভ কামনায় কোন দান অথবা মন্দিরে পুনরাই পুজো দিতে যাওয়া।
যখন পুচকে হচ্ছিল না ,বৌদি জামালপুর নামক এই বিখ্যাত জায়গার নাম এবং এর মহিমার কথা প্রচুর শোনার পরে একদিন পুজো দিতে যায় এবং মানসিক রাখে যে পুচকে হলে তার আঠারো মাসের প্রথম চুল কাটার পর এই স্থানে আসবে এবং পুজো দেবে ।সাথে অনেকজনকে এই স্থানে নিয়ে এসে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করবে।
প্রায় কুড়ি বছর পরে অনেক কষ্ট সহ্য করে যখন বৌদির ছেলে হয়। বৌদি ১৮ মাসের পুচকু আর আমাদের পরিবারের সকলকে নিয়ে জামালপুর যাওয়ার প্ল্যান করে।
আমরা মোট ১০০ জন মানুষ , পরিবারের সকলে এবং প্রতিবেশী মিলে জামালপুর যাই ।এই যাওয়ার সমস্ত খরচ দাদা বৌদি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করেছিল। আমরা আমাদের গাড়িতে ,বৌদিরা বৌদিদের গাড়িতে এবং বাকিদের জন্য বাস ভাড়া করা হয়েছিল।
এই সূত্রেই আমার প্রথমবার জামালপুর যাওয়া। সকালবেলায় জামালপুর গিয়ে পুচকের জীবনের প্রথম বার চুল কাটা হয়ে যাওয়ার পর, স্নান সেরে পুজোর স্থানে পুজো দেও য়া হয় । আমরা সকলে পূজো দিই ।তারপরে সকালের টিফিন খাওয়া হয়।
টিফিনের পর আমরা একটু জায়গাটাকে ঘুরে দেখছিলাম। আমাদের সাথে রাধুনী নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চারজন । সব রাধুনী মিলে রান্না করছিল আমাদের দুপুরের জন্য। দুপুরে রান্নাতে ছিল ভাত, ভেজ ডাল, ফ্রাইড রাইস, পনিরের তরকারি ,এঁচোড়ের তরকারি, চাটনি, মিষ্টি। পুরোটাই নিরামিষ রাখা হয়েছিল। সকালে টিফিনে লুচি আর চানা মশলা ছিল।
খাবারে জায়গাটা আমরা মন্দির থেকে প্রায় এক কিলোমিটার মতো দূরে ঠিক করেছিলাম। সেখানেই ফাঁকা জায়গায় রান্না হচ্ছিল। মোটামুটি পুজো দেওয়ার সাথে সাথে একটা ছোটখাটো পিকনিক হয়ে গিয়েছিল সেদিন।
এবারের শীতে সেরকম পিকনিক করিনি ।বাবার বন্ধুদের সাথে একটা পিকনিক হয়েছিল, তারপরে এইভাবে কোথাও ঘুরতে গিয়ে তারপরে খাওয়া-দাওয়া এটাও যেন একটা পিকনিকের মতই হয়ে গেল। আমরা অন্ধকার হওয়ার আগেই ওখান থেকে রওনা দিয়েছিলাম। আমরা পরিবারের সকলেই খুব খুশি যে এত বছর পর দাদা বৌদির কোল আলো করে পুচকু এসেছে। সে এখন ভীষণ ভালো আছে। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি সে অনেক ভাল থাক এবং একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠুক ভবিষ্যতে।
এটা সত্যি যে ভগবানের কৃপা না হলে এবং সঠিক সময় না হলে কোন কাজই সম্পন্ন হয় না। আজ যখন দাদা বৌদির মুখে হাসি দেখি সত্যিই আমাদের সকলের মন ভরে যায়।
আশা করছি আমার আজকের পোস্ট আপনাদের ভালো লেগেছে সকলে সুস্থ থাকুন।
TEAM 2
Congratulations! This post has been voted through steemcurator05. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.সম্পূর্ণ পোস্টটি পরে ভিশন ভালো লাগলো। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, এত বছর পরে তাদের যে ছেলে সন্তানটি দিয়েছে তিনি যেন তাকে সবসময় সুস্থ রাখে।
তাদের আনন্দের দিনে সাথে সাথে আপনারও বেশ ভালো লেগেছে অনেকদিন পরে পিকনিকের মতন একটা আয়োজন হয়েছে।। মাঝেমধ্যে এমনভাবে বের হলে ভীষণ ভালো লাগে।। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।।।
বুড়ো রাজ মন্দিরে যাওয়ার গল্প টা পড়ে বেশ ভালো লাগলো ৷ আর জায়গা গুলো মনে হয় অনেক আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে একবার গিয়ে দেখে আসি ৷
যাই হোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ৷ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷