ফলে সুফলের শেষ নেই।

in Incredible India2 years ago
healthy-5146826_1280.jpg

Pixabay

সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের আশায় অনেকেই ফল খেয়ে জীবন ধারণ করেন।মানুষের জন্য প্রকৃতির দেওয়া ফল সর্বশ্রেষ্ঠ খাদ্য হতে পারে। কারণ ফলের উপকারিতা অনেক। অন্যান্য অনেক প্রাণীর মতোই মানুষ নানা রকম খাদ্য খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।মানবদেহ গঠনগত ও জৈবিক দিক থেকে কমপক্ষে চল্লিশটি বৈশিষ্ট্য আছে। যেগুলো বলে দেয় যে মানুষের দেহ ফলাহারের জন্য ও তৈরি।

মহাত্মা গান্ধীর নাম তো আমরা সবাই জানি। উনি ৩২ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত ছিলেন খুবই হালকা-পাতলা স্বাস্থ্যের অধিকারী। এরপর প্রাকৃতিক চিকিৎসায় বিশ্বাসী হয়ে উনি পুরোপুরি ফলাহারি হয়ে পড়েন।

tangerines-1721633_1280.jpg

Pixabay

ফলাহার প্রসঙ্গে গান্ধীজি বলেছিলেন আমি বিগত ছয় মাস যাবত কেবল ফল খাইয়াই জীবন ধারণ করিতেছি। এত দিনের খাদ্য অভ্যাস হঠাৎ পরিবর্তন করিয়া এত অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তনের সম্পূর্ণ সুফল আশা করা যায় না। তবে এই পর্যন্ত বলিতে পারি যে অপরের ন্যায় আমি কোন রোগ ভোগ করি নাই এবং ফলাহারে আমার শারীরিক মানসিক শক্তি সমাধিক বর্ধিতই হইয়াছে। আমি অবশ্য গুরুভার সম্পন্ন কোন দ্রব্য তুলে দিতে পারি না, তবে ক্লান্তিবোধ না করিয়া পূর্বাপেক্ষা অধিক পরিশ্রম করিতে পারি, একথা বলিবই। মানসিক পরিশ্রমের শক্তি ও সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে এবং আমি পূর্বাপেক্ষা অধিকতর দৃঢ়তা,একাগ্রতা ও অধ্যাবসহকারে মানসিক পরিশ্রম করতে সমর্থ্য। এখানে এইমাত্র বলিয়া রাখি, অধ্যায়ন ও অভিজ্ঞতার ফলে আমার সম্পূর্ণ প্রতীতি জন্মিয়াছে যে ফলাহারই মানুষের পক্ষে শ্রেষ্ঠ আহার।

আমাদের কমিউনিটির টিউটোরিয়াল ক্লাসে আমাদের প্রিয় এডমিন দিদির মুখে প্রায়ই শুনি উনি সারাটা দিন ফল খেয়ে কাটিয়ে দেন। ঘরে রাখা চালগুলোতে পোকা ধরে যায়। ফল খেয়ে যে দিব্যি সুস্থ ও সবল থাকা যায় তার জ্বলন্ত প্রমাণ দিদি। উনি কতটা পরিশ্রম করেন তা আমরা সবাই জানি। তাই ফলাহারে সুস্থ,কর্মক্ষম যে থাকা সম্ভব এই ধারণাটি একেবারে অমূলক নয়।

তবে আমাদের মত ভেতো বাঙালির কাছে ফল খেয়ে থাকাটা যথেষ্ট অসম্ভব ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া আমরা পুরোপুরি ফলাহারি কেন হতে পারছি না তার সম্পর্কে আমার নিজস্ব কিছু ধারণা আছে।এগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিচ্ছি।

fruits-1600023_1280.jpg

Pixabay

সাধারণত ফল গাছে থাকা অবস্থায় বা বেশি সময় রাখার জন্য কীটনাশক, ফরমালিন ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার বাজার থেকে এনে সরাসরি ফল খেয়ে ফেলেন। এটি খুবই বিপদজনক। জীবাণুমুক্ত ফল ও সবজি খেতে হলে পটাশ পারম্যাঙ্গানেটে ভিজিয়ে বিষমুক্ত করা যায়।

করোনার সময় আমি জীবাণুমুক্ত ফল-সবজির ব্যাপারে খুবই সচেতন হয়ে গিয়েছিলাম। ওষুধের দোকানে গেলাম পটাশ পারম্যাঙ্গানেট কিনতে। তারা আমার কাছে প্রেসক্রিপশন চাইল। আমি বললাম যে, এটা আমার ডাইটেশিয়ান মুখে বলেছে। কোন প্রেসক্রিপশনে লেখেনি ।তখন তারা বলল যে, আমরা নিতান্তই সীমিত মাত্রায় আপনাকে দিতে পারবো।আমি বললাম যে, এটা ফল-সবজি জীবাণুমুক্ত করার জন্য কিনতে চাই। তারা বললেন আপনি যে কারণেই চান না কেন!!! অল্প পরিমাণের বাহিরে আপনার কাছে বিক্রি করা যাবে না। এইতো গেল একটি অভিজ্ঞতা।

এছাড়া ফল বা ফলের রসের অতিরিক্ত শর্করা রক্তে ফ্যাটের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত মিষ্টি ফল যেমন কলা,আঙুর,শুকনো ফল এগুলো বেশি করে খেলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থাইটিস রোগাক্রান্ত প্রত্যেকের ক্ষতি সম্পন্ন হতে পারে।

orange-7669963_1280.jpg

Pixabay

ফল সম্বন্ধে আমাদের একটি পুরনো ধারণা আছে যে সকালে ফল বেশি পুষ্টিকর। কিন্তু রাতে ফল খাওয়ার তেমন উপকারিতা নেই। এটি একেবারেই ভ্রান্ত একটি ধারণা। ফলের যে গুন আছে সেটা সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় না। এজন্য উচিত তাজা ফল খাওয়া।

3YjRMKgsieLsXiWgm2BURfogkWe5CerTXVyUc6H4gicdRPmPayXPfM22kXaj3xKw37oQ9tua3JfrnuMRWWqGHfhuyA1UYheY5qjiFbP3BW...JWNUaLb1UAxtVkvpEzFvrbCpiTVHr2qys8cnVHpyrfv38wVPMc1Luya71X8AzcNNuKjF1rHwqMTUWN8r39rGXHzGTLWtLUbqpNh6DHaWG6eK2zUkgnx8ShFKdg.png

Sort:  
 2 years ago 

আমরা হলাম ভাতে মাছে বাঙালি।এক বেলা ভাত না খেয়ে থাকলে মনে হয় কয় বেলা যেন ভাত খাইনি। তবে আমরা বাঙালিরা ফল খাই সেটাও খেয়ে থাকি ভাত খাওয়ার পরে । তবে আমরা বাঙালিরা এটা ভাবি যে এক প্লেট ভাত খেলে পেট ভরে যায় কিন্তু ফল খেলে তেমন পেট বরলেও পরিশ্রম করতে পারি না বাঙালিরা যেটা মনে করি।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য।

Loading...
 2 years ago 

আমরা হলাম মাছে ভাতে বাঙালি একবেলা ভাত না খেলে মনে হয় যেন তিন বেলা না খেয়ে আছি।।
আমাদের ভুল একটা হয়েছে, সেটা হল ফল খেয়ে খুব একটা পরিশ্রম করা যায় না।
তবে দিদির টিউটোরিয়াল ক্লাসের এ কথাটা শোনার পর আমার নিজেরও মনে হয়েছে শুধু ভাত নাই সারাদিনই ফল খেয়ে নিজেকে অনেক সুস্থ তার পাশাপাশি অনেক পরিশ্রম করা সম্ভব। ধন্যবাদ খুব সুন্দর লেখা শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

আপু আপনি সঠিক বলেছেন ,আমরা বাঙালি ভাতে-মাছে বাঙালি ।আমাদের অনেকেই আছে যারা প্রতিদিন তিন বেলা ভাত খেয়ে খেতে খুব পছন্দ করে সেখানে ফল খেয়ে থাকা তো প্রশ্নই আসে না ।

হ্যাঁ, আমাদের বাঙালিরা ফল খায় তবে ভাত খাবার পরে ।আমরা বিভিন্ন দেশের মানুষদের দেখলে বুঝতে পারি তাদের তক কতটা মসৃণ কারণ তারা ভাতের থেকে ফল ,দুধ ও ডিম খেয়ে থাকেন বেশি ।
আমাদের অ্যাডমিন দিদি সত্যিই অনেক সুন্দর ।অবশ্যই সে বেশি বেশি ফল খায় বিধায় তিনি এখনো এতটা স্ট্রং এবং সুন্দর আছেন।

তবে আমাদের দেশে যে পরিমাণে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে, বাজার থেকে কেনা ফল খেতেও ভয় লাগে । আমরা বাজার থেকে যদি কোন ফল কিনে নিয়ে আসি সেই ফলটি 30 মিনিট লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখবো অথবা ভিনেগার দিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখবো অথবা বেসিনে জোরে নলকা ছেড়ে সেই ফল ৩০ মিনিট ধরে ধুয়ে থাকব তাতে ফরমালিন টা কেটে যায়তবে ।
দেশি ফলের কিন্তু কোন তুলনা নেই ।যত বেশি বেশি পারা যায় বেশি ফল খাওয়া উচিত আমাদের ।এই সুন্দর পোস্টটি করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।

 2 years ago 
  • আপনি ফল খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আসলে ফলের বিকল্প নেই। আমাদের দেহের পুষ্টি সাধন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ নানাবিধ উপকারে আসে ফল। আর এই শীতে ফল খাওয়া খুবই প্রয়োজন। ধন্যবাদ আপনাকে যুগোপযোগী একটি পোস্ট আমাদের সাথে
    শেয়ার করার জন্য।
 2 years ago 

ফলের সত্যি কোন বিকল্প নেই। প্রত্যেকটা মানুষের রোজ ফল খাওয়া উচিত তবে ফলগুলোকে অবশ্যই রাসায়নিক মুক্ত এবং কীটনাশক মুক্ত করে নিতে হবে। না হলে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হবে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।

সাধারনত আমরা জানি ফলের উপকারিতা অপরিসীম ৷ আগেকার মানুষজন নানান ফল খেয়েই জীবন জীবিকা নির্বাহ করেছিলো ৷ তারা বন জঙ্গলের ফল খেয়েই তারা তাদের জীবন বাঁচিয়েছিলো ৷ নানা ধরনের ফলে নানান পুষ্টি রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৷

ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷

 2 years ago 

আসলে যদি প্রাচীন মানুষগুলোর কথা আমরা চিন্তা করি। তাহলে দেখতে পাব তারা কিন্তু বনের ফল খেয়ে তারা জীবন যাপন করত। খাবারটা তেমন একটা খেত না। ফল খেয়েও কিন্তু একজন মানুষ সুস্থ সবল থাকতে পারে। সেটা আপনার পোস্ট পড়ে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছে।

আমাদের মত ভেতো বাঙালি কখনোই ফল খেয়ে নিজেদের জীবন ধারণ করতে পারবে না। একদমই ঠিক বলেছেন আমরা খাবারের প্রতি এতটাই দুর্বল। বিশেষ করে ভাত খাওয়ার প্রতি। আমরা কখনোই ফল খেয়ে নিজেদের দিন পান করতে পারবো না।

তবে ফল খাওয়ার মধ্যেও অনেক ধরনের উপকার রয়েছে আসলে আমি ঠিক জানিনা। কখন ফল খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হয়। তবে অনেকের মুখে শুনেছি সকাল বেলা ফল খেলে নাকি অনেক বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।

 2 years ago 

আপনার শীর্ষকের সাথে বিষয়বস্তুটির এক অসাধারণ সম্পর্ক আমি লক্ষ্য করলাম। ফল আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু বর্তমান এই উপকারী ফল যেন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একমাত্র বাড়ির গাছের ফলই স্বাস্থ্যসম্মত আমাদের শরীরের জন্য। যদিও আপনি ফ্রি সাইট থেকে ছবি নিয়েছেন কিন্তু আপনার ছবির নির্বাচনের প্রশংসা করতে হয়। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি লেখা আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য।

 2 years ago 

ফল খাওয়া ভালো তবে সব ফেলে শুধু ফল খেয়ে বেচে থাকবেন এমন চিন্তা মাথায় না নেয়াই ভালো। কেননা মহাত্মা গান্ধীর আমলের ফল আর ২০২৪ এর ফলের মধ্যে পার্থক্য কল্পনাতীত। এখন ফল মানে যেন বিষ আর ফরমালিন।

ফল খেয়ে এখন কেউ সুস্থ আছে এমন মানুষ পাওয়া কষ্টকর। সবাই কম বেশি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল।

ফল খান তবে সেটা নিজের শরীরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। কোন ফল আপনার সাথে শ্যুট করছে তা হিসেব করে খাওয়া উচিত।

 2 years ago 

বর্তমান যুগে ফলের যে দাম আর ফলের মধ্যে যে পরিমাণ বিষ তাতে ফল খেলে নিশ্চিত ফকিরও হতে হবে আবার মৃত্যুবরণও করতে
হবে। তবে পরিমিত পরিমাণে ফল খেলে বহু উপকার আছে। খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যটি পড়ে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.085
BTC 58361.75
ETH 1559.17
USDT 1.00
SBD 0.38