পেট্রা - যে স্থাপত্য মানুষের চোখকে বিস্ময় পাথর করে দেয়।
জর্ডানের রাশি রাশি পাহাড়ের মধ্যে ভূমধ্যসাগর ও মৃত সাগরকে যুক্ত করেছে যে উপত্যকা সেখানেই পেট্রার অবস্থান।।এখানকার স্থাপত্যের দিকে চোখ গেলে চোখ যেন আর সরানো যায় না। পেট্রা এর শাব্দিক অর্থ পাথর।। পেট্রার স্থাপত্য মানুষের চোখ বিস্ময়ে পাথর করে দেয়।
জর্ডানের রাজধানী আম্মান। আম্মানের ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে পেট্রা শহরের অবস্থান।উপত্যকায় এই নগরীটি নির্মাণ করা হয় খ্রিস্টপূর্ব নয় অব্দ থেকে চল্লিশ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। রাজা এরিটাসের শাসনামলে আরব মরুভূমির শেষ প্রান্তে ও জেডসির উপকূল ভেসে গড়ে ওঠে নাবাতিয়ান সাম্রাজ্যের রাজধানী। তবে যাযাবর নাবাতিয়ানদের হাত দিয়ে শুরু হয় পেট্রার আসল যাত্রা।।
সুপেয় খাবার পানি, কৃষি জমি, পশুচারণভূমি থাকায় দিন দিন অর্থনৈতিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠে পেট্রা।। আর গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়কের সংযোগস্থলের মাত্র ২০ কিলোমিটারের মধ্যে পেট্রার অবস্থান হওয়ায় কৌশলগতভাবেও শহরটি হয়ে ওঠে অনন্য।।
সড়ক দুটির একটি পারস্য উপসাগরের সঙ্গে মিলিয়েছে ভূমধ্যসাগরকে, অন্যটি সিরিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে লোহিত সাগরকে।। প্রথম সড়কটির কথা ভাবলেই ভারত ও চীন, রেশম ও মসলার কথা মনে পড়ে।।আর ভূমধ্যসাগরের কথা উঠলেই তো গ্রিক ও রোমান সভ্যতার কথা চলে আসে। অর্থাৎ প্রাচীন সভ্যতাগুলো কোন না কোনভাবে পেট্রা স্পর্শ করেছিল।।
আর ক্যারভান বাণিজ্যের প্রয়োজনেই পেট্রা হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ।। যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে আস্তে আস্তে সুরম্য মন্দির, বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনে ছেয়ে যায় পেট্রা।। তার কিছু টিকে আছে আজ অবধি। এসবে মিসরীয় ও আসিরীয় স্থাপত্যের নিদর্শন যেমন দেখা যায়, তেমনি গ্রিক ও রোমান স্থাপত্যের চিহ্নও দৃশ্যমান।।
আর এই সভ্যতাগুলোকে মিলিয়ে দিয়ে নাবাতিয়ানরা নিজেদের স্থাপত্যরীতি তৈরি করে। বেলেপাথর কেটে তৈরি করা এসব স্থাপত্য যা বহু আগেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারত, কিন্তু জর্দান এলাকায় কম বৃষ্টিপাত হয় বলেই অনেক কিছু রক্ষা পেয়েছে। পেট্রায় পাওয়া গেছে প্রাচীন প্রস্তরযুগের নিদর্শন, এখনও আছে নব্য প্রস্তরযুগের স্থাপত্য, লৌহযুগের নিদর্শন।।
অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, নগর সভ্যতার সূচনা এ পেট্রা থেকে পয়ঃনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত।। চিত্তবিনোদনের জন্য নির্মিত হয়েছিল ৪ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন থিয়েটার।।রাজার প্রাসাদ ছিল অত্যন্ত কারুকার্য খচিত।।সে সময় পেট্রা নগরীতে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করতো।।
অনেকের ধারণা, প্রাচীন কালে বন্যা থেকে রক্ষা পেতে জর্ডানবাসী এ নগরী তৈরি করেছিল।। প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রাচীনকালে পেট্রার নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।। ওই সময় রোম সাম্রাজ্যও দোর্দণ্ড প্রতাপে পূর্বদিকে বিস্তৃত হচ্ছিল। রোমান সম্রাট ব্রায়ান পেট্টার প্রাচুর্যের কথা শুনে লোভ সামলাতে পারেননি তাই তিনি মনস্থির করেছিলেন, যে কোন মূল্যেই পেট্রার দখল নিতে হবে।।
বলা হয়,ঈসাই ১০৬ সালে ব্রায়ান নাবাতিয়ানদের পেট্রা দখলে নেয়।। টানা ৩০০ বছর রোমের অধীনে ছিল পেট্রা। অনুপম সৌন্দর্যের নগরী পেট্রার পতনের পেছনে ভূমিকম্পও আরেকটি বড় কারণ ছিল। ।ঈসাই ৩৬৭ সালে বাইজানটাইন শাসনামলে এ নগরী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।।ধ্বংস হয় অধিকাংশ স্থাপনা।।
সুইস অভিযাত্রী বুকহার্ট জর্ডানে থাকাকালে আরব বেদুইনদের কাছে জানতে পারেন ওয়াদি আল-মুসা (মুসার উপত্যকা) এলাকার পাহাড়ের আড়ালে একটি প্রাচীন শহর আছে, যার খোঁজ বাহিরের মানুষ জানে না। বুর্কহার্টের আবিষ্কারের সুবাদে ইউনেস্কোর বিশ্বঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবেও জায়গা পেয়েছে পেট্রা। সপ্তাশ্চর্যে পেট্রা যেন স্থান করে নিতে পারে সে জন্য সক্রিয়ভাবে প্রচার কার্যে অংশ নিয়েছিলেন জর্ডানের রানী।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এত সুন্দর তথ্য গুলো একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনি জর্ডানের পেট্রা বা পাথর
লিখেছেন। আমার জন্য একেবারেই নতুন। এই পাথর সম্পর্কের এত সুন্দর তথ্য আপনার
পোস্টটি পড়ে জানতে পারলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ এত তথ্য বহুল একটি পোস্ট শেয়ার
করার জন্য।
ইতিহাস বিষয়ক পড়াশোনা আমি মাঝেমধ্যে একটু করি। এটা একটি পুরনো অভ্যাস বৈকি। এই অঞ্চলের ইতিহাস গুলো আমাদেরকে অনেক বেশি পড়ানো হয়েছিল। বিশেষ করে পূর্ব মুসলিম শাসনের অঞ্চল
গুলো নিয়ে। মাঝে মাঝে সে পড়াশোনা থেকেই একটু লেখালেখি করার চেষ্টা করা হয়। জানিনা আজকের পোস্টটি কেমন হয়েছে। তবে আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভালো লাগলো।
তা আপনার লেখনী থেকেই বুঝা যায়। গভীরভাবে অধ্যায়ন না করলে এত সুন্দর করে লেখা সম্ভব নয়। তবে খুব ভালো লেগেছে আমার একেবারে অন্যরকম।
সত্যি আপনি খুব অসম্ভব সুন্দর একটি পোস্ট আমি তোমাকে শেয়ার করেছেন। পেট্রা - যে স্থাপত্য মানুষের চোখকে বিস্ময় পাথর করে দেয়।যদিও আমার এই স্থানের কোন ধারণাই ছিল না। সম্পূর্ণ আমার অজানা। আপনার পোস্টটা পড়ে বেশ সবকিছু পেট্রা সম্পর্কে জানতে পারলাম।সত্যি অনেক চোখ ধাঁধানো। প্রাচীন কালে বন্যা থেকে রক্ষা পেতে জর্ডানবাসী এ নগরী তৈরি করেছিল।।প্রাচীন সভ্যতা পেট্রা। বাণিজ্যিক কেন্দ্র রোমান সম্রাট ব্রায়ান পেট্টার প্রাচুর্যের কথা শুনে লোভ সামলাতে পারেননি।কিছু অজানা তথ্য আপনার এই পোস্টের মাধ্যমে থেকে জানতে পারলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু
আসলে যে ছবিগুলো পাওয়া যায় এগুলোতে পুরনো সেই সভ্যতাকে দেখা যায় না। বর্তমানে এগুলো শুধুই সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ। তাই আমাদেরকে কল্পনা করে নিতে হয় কেমন ছিল সেই সময়টি। বিভিন্ন পিরিয়ড মুভি গুলো দেখলেও আসলে একটি ধারণা পাওয়া
যায়। খুব ভালো লাগলো আপনার মন্তব্যটি পেয়ে।
অসম্ভব সুন্দর এক প্রাচীন যুগের রাজ্যের কথা তুলে ধরেছেন পেট্রা - যে স্থাপত্য কথা বলেছেন এটা সত্যি আমার জানা ছিল না।
তখন পেট্রা নগরীতে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করতেন, তবে অনেকে ধারণা করেন প্রাচীন কালে বন্যা থেকে রক্ষা পেতে জর্ডানবাসী এ নগরী তৈরি করেছিল।
ধন্যবাদ অজানায় তথ্য শেয়ার করার জন্য।
এই রাজ্যটি সুশোভিত ও অত্যন্ত সৌন্দর্যমন্ডিত ছিল। তার চেয়েও বেশি ছিল পরিকল্পিত। তখনকার মানুষের মেধা দেখলে এখনকার বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানীরা লজ্জা পাবে। তাদের বুদ্ধি এতটাই ধারালো ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য তারা যে পন্থাগুলো অবলম্বন করত এটা বিজ্ঞানসম্মত ছিল। আর আজকে আমরা তাদের ইতিহাস গুলো পড়লে অবাক হয়ে যাই। আপনার মন্তব্যটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো।
আপনি আজকে আমাদের সাথে অনেক সুন্দর একটি বিষয় বস্তু নিয়ে পোস্ট শেয়ার করেছেন। আসলে এই সব জায়গা গুলো দেখার মতো হয় একবার গেলে বার বার যেতে ইচ্ছা করে। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর এতো তথ্যমূলক পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর পরিবার ও নিজের খেয়াল রাখবেন।
আপনি জর্ডানের পেট্রা বা পাথর লিখেছেন।এই পাথর সম্পর্কের এত সুন্দর তথ্য আপনার পোস্টটি পড়ে জানতে পারলাম। পোস্টি বেশ চমৎকার ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন ।থ্যাঙ্ক ইউ এত তথ্য বহুল একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
নতুন বছর এর শুভেচ্ছা রইলো। আজকে আপনি পেট্রা নিয়ে লিখেছেন। আমার বাকেট লিস্টে পেট্টা নামটা একদম ওপরের দিকে।জীবনে একবার হলেও যাওয়ার ইচ্ছে আছে।যদিও যাওয়া হবে না এটার সম্ভাবনাই বেশি।
চমৎকার এই শহরটা নিয়ে বিস্তারিত লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময়।
পাথর দিয়ে তৈরি এই প্রাসাদ গুলো দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। আপনি ঠিকই বলেছেন এই প্রাসাদ গুলোর দিকে কেউ একবার তাকালে তার চোখ পাথরের মত আটকে যাবে। এত সৌন্দর্য যেটা হয়তোবা বলে বোঝাতে পারবো না। ধন্যবাদ আপনাকে অজানা তথ্যগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভালো থাকবেন।