আজকের গল্প//টান (পর্ব১)
আসসালামু আলাইকুম ভাই বোনেরা আশা করি সবাই ভাল আছেন আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি আজকে আপনাদের মাঝে আবারও নতুন একটি গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি আশা করি গল্পটি ভালো লাগবে এবং মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ।
আঁধার গায়ে মেখেই দুয়ারটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় বিন্তি। খুব আস্তে নিঃশব্দে। রাতের প্রায় শেষ প্রহর। খানিকটা পরেই আঁধার কেটে আলো ফোঁটবে। তার আগেই বিন্তিকে হাটখোলার রাস্তাটা পার হয়ে গাড়ির রাস্তায় আসতে হবে। শরীরের অসয্য ব্যাথা প্রতি কদমে টের পায় বিন্তি। তার মানুষটা ক্লান্ত হয়ে কী নিঃচিন্তে ঘুমিয়ে আছে। বৌ- এর গায়ে হাত তোলার সময় কোথা থেকে যে এতো শক্তি আসে। আর এই মানুষটার জন্যেই কিনা বিন্তি পুকুর পাড় বিলের ধার থেকে শাক তুলে আনে। সামান্য তেলে শুকনো লংকা গড়িয়ে স্বামীকে খেতে দেয়। পেটে আগুন ক্ষুদা নিয়ে মানুষটা যখন ভাত গিলে। বিন্তি নিজের খাওয়ার কথাও ভুলে যায়। কুলির কাজ কী আর যেমন তেমন কাজ। রেল স্টেশনের পথও কী আর কম দূরে। এক ঘন্টার হাটা পথ। পান্তা ভাতে নুনের ছিটা দিয়ে কাঁচা লংকা ডলে তৃপ্তি নিয়ে খেয়েই তো তবে যায়। মাঝে মধ্যে বাসি সালুন।
কুদ্দুস মোল্লার ঝাপি ফেলা দোকানটা পাড় হতেই থমকে দাঁড়ায় বিন্তি। সাত সকালে ওঠে মানুষটা যখন পুকুর ঘাট ঘুরে এসে। বিন্তির সাজিয়ে রাখা পান্তাভাত আর পাতের পাশেই কাঁচা লংকাটা দেখতে না পায়। তখন কী একবার ও এই বিন্তিকে মনে পড়বে। নাকি নিজেই থালায় ভাত নিয়ে খেতে খেতে ভাববে। যাক আপদ তো দূর হলো।
বিন্তি আবার কদম বাড়ায়। মায়া জিনিষটাই এমন। যেন আঠালো মাটি। এই সাত বছরের ও বেশি সময় মানুষটার সংগে আঠালো মাটির মতোই ছিলো। কেন যে মনের কোনে তার জায়গাই হলোনা। চামড়ার উপরে কালো রঙটাই চোখে পড়লো। শরীরের ভিতর মনের হদিস নিলই না। ভালবাসার টাইটুম্বুর পুকুরটা একটা ডিলের অপেক্ষাতেই ছিলো।
পাহাড় সমান বাধা তো তার কালো চামড়া। সেই পাহাড় ডিঙিয়ে কাছে আসা সেতো প্রয়োজনে। ক্ষিদে মিটে গেলেই ফেলনা কালোখোসা। বিন্তি যেন মূল্যহীন সেই খোসা।
| আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন। |
|---|
cc: @farhan456
| Device | name |
|---|---|
| Android: | realme 8 |
| Android version: | realme UI 3.0 Android 12 |
| Camera: | 64MP |
| Location: | Bangladesh-bogura |
| Short by : | Pixabay |
আমাদের বাস্তব জীবন এখন এতটাই নিষ্ঠুর যে বিপদের সময় যে পাশে থাকে তাকে ভুলে গিয়ে আমরা সুখের সময় অন্য কারো সাথে বসবাস করে।
এবং গায়ের রং দিয়ে বা চেহারা দেখে মানুষ চেনা যায় না মানুষ চিনতে গেলে সুন্দর একটি মন থাকা দরকার এবং মনের ভেতরে বুক ভরা ভালবাসা থাকা খুবই দরকার।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আপনি আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনার পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য।
গল্পের সাথে মিল রেখে সকলকেই সম্মোধন করা ঠিক মনে করলাম না। তবে বেশিরভাগ মানুষই বর্তমান এমন অবস্থা। সবাই প্রয়োজন খোজে, প্রয়োজন শেষ হলে আর তাকে দরকার হয় না।
তবে মানুষও আছে অনেক, যারা প্রয়োজনে নয় অপ্রয়োজনে ভালোবাসে, কাছে টানে। আর এটাই মুলত ভালোবাসা। প্রয়োজন আসলে কোনটা?? প্রয়োজনে যদি একে অপরের দু'জনেরই সার্থকতা থাকে, তাহলে এটা ভালো। আর যদি একজনের থাকে তাহলে সার্থহীনতা।
জি ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন আখন কার সমাজ এমনই আগের মানুষ রা এত স্বার্থহীন ছিল না আখন সমাজ টা এইরকমই হয়ে গেছে
বিন্তির টানাটানির সংসার সারাদিন কাজ করে স্বামীটা যখন বাসায় ফিরে। তখন শাক কুড়িয়ে নিয়ে এসে, তা শুকনো মরিচ দিয়ে সামান্য তেলে ভেজিয়ে স্বামীকে ভাত খেতে দেয়।
কিন্তু তারপরেও বিন্তি তার স্বামীর কাছ থেকে একটু ভালোবাসা পায় না। বর্তমান সময়ের মানুষ গুলো এমন। কালো মানুষ গুলোকে যেন তাদের মানুষ মনে হয় না। প্রয়োজনে কাছে আসে প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে আবার ছুড়ে ফেলে দেয়।
আপনার গল্পটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো। পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম অসংখ্য ধন্যবাদ। এত সুন্দর একটা গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ভালো থাকবেন।