সুস্বাদু খয়রা মাছের ঝাল
প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সকলে খুব ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের আজকের দিনটাও আশাকরি খুব ভালো আছেন।
আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো খয়রা মাছের রেসিপি। খয়রা মাছের স্বাদ কিছুটা ইলিশ মাছের মতো। তবে মাছটিতে ভীষন কাঁটা। তাই খাওয়ার সময় খুবই সাবধানে খেতে হয় না হলে কাঁটা বিধে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রান্নার উপকরণ:-
প্রথমেই বলি এই রান্না টি করতে আমি কি কি উপকরণ নিয়েছি-
১.খয়রা মাছ - তিনটি।
২. কালো সর্ষে- দেড় চামচ।
৩.কাঁচা জিরা- হাফ চামচ।
৪.কাঁচা লঙ্কা- ছয়টি।
৫.কালোজিরা - হাফ চা চামচ ফোরনের জন্য।
৬.সর্ষে তেল- চার-পাঁচ চামচ।
৭.লবন ও হলুদ- পরিমাণ মতো।
রান্না টি করতে আমি আমার পরিমাণ মতো উপকরন ব্যবহার করেছি। যদি আপনারা চান আপনাদের স্বাদ অনুযায়ী উপকরন কম/বেশি ব্যবহার করবেন।
রান্নার পদ্ধতি:-
এবার রান্না টি কিভাবে করলাম সেকথা জানাই-
প্রথমে আমি মাছগুলো ভালো করে ধুয়ে তাতে পরিমাণ মতো লবণ ও হলুদ মেখে কিছুক্ষণ রেখে দিলাম।
ততক্ষণে আমি সর্ষে, কাঁচা জিরা ও কাঁচা লঙ্কা একসাথে বেটে রাখলাম।
এরপর গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই গরম করে তাতে অল্প পরিমাণে সর্ষের তেল দিলাম। এই মাছে ইলিশ মাছের মতো কম তেল ভাজলেও অনেক তেল বেরোয়। এরপর মাছগুলো ভেজে নিলাম।
মাছ ভাজা হয়ে গেলে ঐ তেলের মধ্যে কালোজিরা গুলো ফোরন দিয়ে বেটে রাখা মশলার সাথে পরিমাণ মতো হলুদ মিশিয়ে নিয়ে ঐ তেলের মধ্যে দিয়ে দিলাম।
একটু নাড়াচাড়া করে নিয়ে আমি পরিমাণ মতো জল দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিলাম।
এরপর ঝোল ফুটে উঠলে, তাতে ভেজে রাখা মাছগুলো দিয়ে একটু ফুটিয়ে নিলাম।
তারপর গ্যাস বন্ধ করে আমি উপর থেকে কিছুটা সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিয়ে ঢাকা দিলাম।একটু বাদে নামিয়ে নিয়ে গরম ভাতের সাথে খেতে দারুণ লাগে।
এই মাছে প্রচুর কাঁটা থাকার কারণে আমার মা আমার ছেলেকে খাওয়াতে ভীষন ভয় পায়। তাই আমি যখন খেতে বসি আস্তে আস্তে কাঁটা বেছে ওকে খাইয়ে দিই। ও এই মাছটা খেতে খুব ভালোবাসে।
খয়রা মাছের উপকারিতা:-
খয়রা মাছ আমাদের শরীরের জন্যেও অনেক উপকারী। যেমন-
খয়রা মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যার ফলে মস্তিষ্ক সহ আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গার কোষ প্রাচীর গঠন করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বাচ্চাদের মস্তিষ্ক গঠনের জন্য বিশেষ উপকারী।
শিশু থেকে বয়স্ক সকলেই এই মাছ খেতে পারেন, এই মাছে প্রোটিনের সাথে আরও আছে ভিটামিন এ ও ডি আছে, তার পাশাপাশি আছে ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও প্রচুর আয়োডিন আছে।
এই মাছ খেলে আরথারাইটিস ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে।
আমাদের চোখের জন্যেও অনেক উপকারী এই মাছ।
এই মাছ খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
আমার রান্না আপনাদের কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভ রাত্রি।
ভারি সুন্দর এবং সুস্বাদু রান্নাটি ভাগ করে নেবার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার কাজে আমি সত্যিই প্রশংসা করতে বাধ্য।
অনেক ধন্যবাদ দিদি। আমি তোমার সাথে একবছর অফিসে কাজ করে বুঝেছি, তুমি কাজকে কতটা ভালোবেসে করো। আমি ও চেষ্টা করছি, যাতে তোমার মত কাজকে ভালোবাসতে পারি। আর এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে আমার সত্যিই খুব ভালো লাগছে। ভালো থেকো।
@baishakhi88 আমার খয়রা মাছ খুব প্রিয়। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা রেসিপি ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
অনেক ধন্যবাদ। জেনে ভালো লাগলো আপনার ও খয়রা মাছ খেতে ভালো লাগে। আপনার রান্না গুলোও অনেক ভালো হয়।
খয়রা মাছ যে কতোটা উপকারি তা তোমার লেখা পড়েই জানতে পারলাম।অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা রান্না আমাদের সাথে ভাগ করে নেবার জন্য।
ধন্যবাদ এতো সুন্দর মন্তব্যের জন্য। ভালো থেকো।
Congratulations! This post has been upvoted through steemcurator06. We support quality posts, and good comments anywhere, and with any tags.
অসংখ্য ধন্যবাদ @steemcurator06 ও @cryptogecko আমার লেখাকে সাপোর্ট করার জন্য।
@baishakhi88 আমরা মাও এই রান্নাটা করে থাকে।
তোমার মায়ের রান্না দেখলেই বোঝা যায় তিনি অনেক ভালো রান্না করেন। ধন্যবাদ তোমার মন্তব্যের জন্য।
ইলিশ মাছের ভায়রা ভাই হলো খয়রা মাছ, দেখেই সুস্বাদু হয়েছে মনে হচ্ছে।
হাহাহা বেশ বলেছেন স্যার। ধন্যবাদ এতো সুন্দর মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকবেন।
দিদি অনেক সুন্দর রান্না হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে, ভালোবাসা রইলো আপনার জন্য দিদিআমার পক্ষ হতে❤️❤️
অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর ভাবে মন্তব্য করার জন্য। খুব ভালো থাকবেন।
জি আপু🙂