গভীর রাতে মন খারাপের গল্প
প্রিয়,
পাঠকগন,
ঘড়িতে এখন রাত ১.৫৭ মিনিট হয়েছে। আমি সবেমাত্র আজকের লেখা লিখতে বসলাম। প্রথমেই দুঃখিত আজকে অন্যান্য দিনের মতো আরও আগে লিখতে বসতে পারিনি সেই কারনে।
আসলে জীবনের প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত কিভাবে কাটাবো সেটা নিয়ে আমরা যতই পরিকল্পনা করি না কেন, জীবনের কিন্তু জীবনের হিসাব অনুযায়ীই চলবে। তাই কখন আমাদের। পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যাবে আমার নিজেরাও জানিনা।
হ্যাঁ, আমার সাথে আজকে ঠিক এমনটা হলো। ব্যক্তিগত কিছু কারনে আজকে একটু সমস্যার মধ্যে ছিলাম। আর বাড়িতেও কয়েকজন লোক এসেছিলেন এবং সেই কারনেই আমি একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।
আমি জানি নিজের কাজের জায়গায় কখনো ফাঁকি দিতে নেই, তাহলে নিজে কখন ফাঁকিতে পরবো নিজে জানতেও পারবো না। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি, শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমি আমার কাজটা যেন সঠিক ভাবে করতে পারি।
শীতকালের রাত ১ টা মানে প্রায় মধ্যরাত। চারিদিকে যখন সকলে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে, তখন আমি লাইট জ্বেলে লিখতে বসলাম।আসলে এখন না লিখে ঘুমাতে গেলেও ঘুম আসবে না। কারন আমি নিজের কাছে নিজে উত্তর দিতে পারবোনা।
আর সবথেকে বড়ো কথা হলো আজকের থেকেও খারাপ পরিস্থিতি যে সামনে আর আসবে না,একথা কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবে না। তাই পরিস্থিতিকে একটু সামলে নিয়ে ভাবলাম আপনাদের সাথে একটু গল্প ভাগ করেই নিই।
রাতের নিস্তব্ধতা আমার একেবারেই অপছন্দ। কারন রাত হলেই সবরকম চিন্তাভাবনা, ভালোমন্দ সবকিছু চোখের সমানে ভেসে ওঠে। বিশেষ করে যে কথা বা যে ঘটনা গুলো আমরা মনে করতে চাইনা সেগুলো বেশি করে মনে পড়ে।
আজকাল আমরা সকলেই জানি যে হঠাৎ করে কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ নয়। কিন্তু যখন পরিস্থিতি এমন হয় যে, নিজের মানুষেরা আমাদের ঠকায়, তখন একটা অন্যরকম কষ্ট অনুভূত হয়।
আচ্ছা মানুষ যদি আপনজনদের বিশ্বাস না করে, তাহলে কাকে বিশ্বাস করবে বলতে পারেন? পৃথিবী আজকে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে গেছে। অথচ মানুষের স্বভাব বদলালো না এতটকুও।
আমরা নিজেদের যতই আধুনিক মনস্ক তৈরি করি না কেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আজও আমাদের চিন্তাভাবনা কিন্তু ভীষন সংকীর্ণ। নিজের জায়গা থেকে একটুও সরতে চাই না আমরা, অথচ আশাকরি অন্যজন আমার জন্য নিজের সবটুকু ছেড়ে দেবে।
আমি আমার নিজের জন্য আর ভাবি না কিন্তু আমার ছেলের কথা ভেবে চাইলেও অনেক পদক্ষেপ নিতে পারি না। সত্যি বলতে আমার নিজের জন্য কিছুই চাই না। শুধু আমা্যবিষ্যত দিয়ে যেতে পারলেই আমি খুশি।
যাইহোক,এখন লিখতেন বসে শুনতে পারছি,দূর থেকে ভেসে আসছে কুকুরের ডাক। এই শীতকালে ওদের বড্ড কষ্ট। কারন শীতকালে, রাতের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে ঠান্ডা। আর এই কারনেই রাত বাড়ার সাথে সাথে কুকুরের ঠান্ডা লাগলে ওরা ডাকতে শুরু করে।
এখন রাত 2.32 মিনিট, এখন পোস্ট করার পরে আমি শুয়ে পড়বো। কাল রবিবার বলেই রাত জেগে লেখার কথা ভাবতে পারলাম। কারন অন্যান্য দিন অফিসে যাওয়ার জন্য এতো রাত পর্যন্ত জাগা সম্ভব হয় না।
আপনারা সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভ রাত্রি।
কারোর মানসিকতা বদলানো যায় না কখনো, আমরা সকলে পৃথক এবং আমাদের চিন্তাধারা।
মেনে নেওয়া এবং মানিয়ে নেওয়ার নাম জীবন, তবে অন্যায় নয়।
একদম সত্যি বলছেন স্যার। ভালু লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে।
@baishakhi88 আপনার প্রতিটা কথাতেই সত্যতা আছে। আসলে পৃথিবীর এমন একটা বাজে পরিস্থিতিতে আছে যেখানে মানুষের আর একজন মানুষের প্রতি কোনো বিশ্বাস এবং সহানুভূতি নেই।
আমার প্রতিনিয়তই ধ্বংসের দিকে যাচ্ছি।জানি না কিভাবে এসব ঠিক হবে।
আপনার লেখা পড়ে সত্যের দেখা পেলাম।আপানার এবং আপনার ছেলের মুখ যেন সব সময় হাসি খুশি থাকে, এটাই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি। ভালো থাকবেন।
সত্যি বলতে আমাদেরও জানা নেই আমরা কোনদিক যাচ্ছি। তবে হ্যাঁ মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও সহানুভূতি একেবারে তলানীতে এসে ঠেকছে একথা সত্য। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এতো সুন্দর মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকবেন।
@baishakhi88 এটা সত্য যে আপনজনের উপর আমরা বেশি বিশ্বাস করি তারাই,আমাদের সব থেকে বেশি কষ্ট দেয়।
আসলে পৃথিবীতে এতটাই পাপের ভাগ বেড়েছে যে ভালোবাসার ভাগ নিম্নে চলে গেছে।এখন থেকে এভাবেই চলতে হবে।
তবে অনেক ভালো লাগলো আপনি আপনার মন খারাপের কথা ভাগ করে নিলেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেনথাকবেন দিদি।