গতকালকে ট্রেনে ভ্রমণ করে গ্রামের বাড়িতে আসলাম।
আপনারা অবগত আছেন যে, আমি ট্রেনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। যদিও বাড়িতে আসার বিষয়টা কনফার্ম ছিলাম না এজন্য কোন টিকিট কাটা হয়নি।
সারাদিন রাস্তাঘাটে খুবই জ্যাম থাকে তাই চিন্তা করেছিলাম সকাল সকাল রওনা দেব। কিন্তু গত তিনদিন যাবত এত পরিমান শীত পড়েছে যে, বাহিরে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। শুধু শীত নয় বরং কুয়াশা প্রচুর পরিমাণ পরে। ফজরের নামাজের এক ঘন্টা আগে অর্থাৎ সকাল পাঁচটার সময় মাদ্রাসা থেকে রওনা করলাম। বাহিরে এসে দেখলাম প্রচুর পরিমাণ কুয়াশা পড়েছে।
খুবই শীত, কিন্তু শীতের পোশাক পরেছিলাম এবং দ্রুত হেটে যাচ্ছিলাম তাই বেশি শীত লাগেনি। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত হেঁটে আসলাম, এরপরে যাত্রাবাড়ী থেকে কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত লাব্বাইক বাসে আসলাম। কমলাপুর স্টেশনে এসে টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়ালাম, দেখে অনেকটাই অবাক লাগছিল! সকাল সকাল আসলাম তবুও অনেক বড় লাইন হয়ে গেছে। কিন্তু টিকিট তো কাটতেই হবে, তাই লাইনে দাঁড়িয়ে রইলাম। ১০-১৫ মিনিট পরে দেখলাম সামনে আরো ১০-১২ জনের বেশি রয়েছে, তাই আমার বন্ধুকে বললাম তুমি পাশ দিয়ে সামনে গিয়ে একটু খোঁজখবর নিয়ে আসো যে, দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট আছে নাকি? সিটে বসে যাওয়ার টিকিট আজকে পাওয়া যাবে না কারণ দশ দিন আগে অনলাইন অফলাইন সব টিকিট বিক্রি করা শেষ।
এরপরে আমার বন্ধু টিকিট কাউন্টারে জিজ্ঞেস করল উত্তরে তারা বলল কোন টিকিট নেই। সকাল ছয়টা ৪৫ মিনিটে নীল সাগর এক্সপ্রেস ট্রেন আছে। সময়ও মাত্র ১০ মিনিট আছে, তাই আমি বললাম চলো ভিতরে চলে যায়। ট্রেনের মধ্যে থেকে টিকিট কেটে নেব। যখন ভিতরে যাচ্ছিলাম তখন গেটে দাঁড়িয়ে থাকা গেটম্যান আমাদের জিজ্ঞেস করল আপনাদের টিকিট হয়েছে? আমরা বললাম না টিকিট পাইনি। উনি আমাদেরকে বললেন তাহলে এখান থেকে টিকিট নিয়ে যান, আমি বললাম কত করে? উত্তরে উনি বললেন ১৯০ টাকা করে। আমি বললাম ১৩৫ টাকার টিকিট কিভাবে ১৯০ টাকা হয়! এরপরে ওই ব্যক্তি কিছু মিথ্যা কথা বললেন অথচ যে বিষয়গুলো আমার জানা আছে।
আমি টিকিট কাটতে অস্বীকৃতি জানালাম, এরপরে ওই ব্যক্তি আমাদেরকে বলল তোমরা বাহিরে চলে যাও ভিতরে যেতে পারবে না। আমাদের তো কিচ্ছু করার নেই কারণ রাজত্ব তাদের। কিন্তু মনে তো সৎ সাহস আছে কারণ টিকিট কাটবো। তাই বের হওয়ার জন্য অন্য গেটের পাশে দাঁড়িয়ে দেখলাম ওই ব্যক্তি অন্য দিকে তাকিয়েছে তাই ভিতরে চলে গেলাম। ভিতরে গিয়ে দেখি এখনো ট্রেন লাইনে দেয়নি। কারণ ট্রেন এখনো ঢাকায় পৌঁছায়নি। তাই প্ল্যাটফর্মে কিছু সময় বসে রইলাম।
প্ল্যাটফর্মে বসার আগ মুহূর্তে প্ল্যাটফর্মের এক সাইটে দেখলাম কোন ট্রেন নেই তাই রেললাইনের একটি ফটো সংগ্রহ করলাম। এরপরে ৭ টা ৪৫ মিনিটে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলে আসলো।
ট্রেন আসার সাথে সাথে সকল যাত্রীগণ নামতে শুরু করলো, যখন সকলের নামা শেষ হলো তখন আমরা উঠতে শুরু করলাম। ট্রেনের ভিতরে দেখলাম সব সিট ফাঁকা কারণ কমলাপুর থেকে সব যাত্রী ওঠে না অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে ওঠে। তাই আমরা সিটে বসেই যেতে ছিলাম। ট্রেন যখন এয়ারপোর্ট স্টেশনে থামালো তখন চিন্তা করলাম হয়তো এখন সিটের মালিক এসে পড়বে এবং আমাদের দাঁড়িয়ে যেতে হবে। কিন্তু তখন ও সিটের কোন মালিক পাওয়া যায়নি। এরপরে পরবর্তী স্টেশন জয়দেবপুর পর্যন্ত বসে বসে গেলাম। এরপরে এক ভাই এসে বলল ভাই সিটটা আমার, এরপর আমরা উঠে দাঁড়ালাম।
তখন ট্রেনের মধ্যে অনেক যাত্রী ছিল, যদিও তুলনামূলক খুব বেশি ভিড় হয়নি। ভিড় হবে বিকালের ট্রেনে, এটা সকালের ট্রেন এজন্য ভিড় কম হয়েছে। তাই ট্রেনের মধ্যের একটি ফটো ওঠালাম।
একটু পরে দেখলাম টিটি আসলো টিকিট চেক দেওয়ার জন্য। টিটির সামনে সামনে এক ব্যক্তি আসলো সে বলছিল কোথায় যাবেন টিকিট হয়েছে? আমরা বললাম যমুনা সেতু পূর্ব পর্যন্ত যাব, না টিকিট হয়নি। উনি আমাদেরকে বললেন তাহলে ১০০ টাকা করে দিন। আমি বললাম টিকিট কাটবো, উনি আমাকে বললেন টিকিট কাটতে হবে না ১০০ টাকা দিলেই হবে। আমি বলেছিলাম আমি আপনাকে ১০০ টাকা দিতে পারব না আমি টিকিট কাটবো। এরপরে উনি বললেন আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে এখানে দাঁড়ান টিটি আসলে টিকিট কেটে নেবেন, আমি বললাম ঠিক আছে।
এরপরে টিটি আসলো আমরা টিকিট কেটে নিলাম, আমরা যমুনা সেতুর পূর্বপাশে নেমে পরলাম, কারণ নীলসাগর এক্সপ্রেস শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে দাঁড়ায় না। এরপর আমি সেখান থেকে ট্রেনের এই ফটোগ্রাফিটি উঠালাম।
এরপরে সেখান থেকে বাসে যমুনা সেতু পার হয়ে বাসায় চলে আসলাম। আসলেই অনেক দিন পরে বাসায় আসলে অনেক আনন্দ হয়।
আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি সকলেই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
নির্বাচনের কারণে সম্ভবত বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে গাড়ি ভাড়া অনেক বেশি। এবং দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যেটা দেখে মাঝে মাঝে নিজের কাছেও খারাপ লাগে। যেখানে 135 টাকা ভাড়া সেখানে আপনার কাছ থেকে নিয়েছিল ১৯০ টাকা। একেবারে ডাকাতি করার মত। যাই হোক আপনার ট্রেন ভ্রমণ বেশ ভালোভাবেই হয়েছে। যদিও এখনো ট্রেন ভ্রমণ করতে পারিনি তবে অবশ্যই সময় পেলে করব। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার ট্রেন ভ্রমণ করা আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।
জি আপু ট্রেনে ভ্রমণ করার মজা অন্যরকম, যখন সময় পাবেন অবশ্যই ট্রেনে ভ্রমণ করবেন অনেক ভালো লাগবে।
সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ে মূল্যবান একটি মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
গতকালকে ট্রেনে করে বাড়ি আসছেন ৷ ট্রেনের ভাড়ার চেয়ে আপনার কাছে একটু বেশী নিয়েছে ৷ আমি যতদুর জানি ট্রেনে করে কোথাও গেলে হয়তো সব ধরনের যানবাহানের চেয়ে ট্রেনে হয়তো একটু কম ভাড়াই নিয়ে থাকে ৷
যাই হোক আপনি সুস্থ ভাবে ট্রেন ভ্রমন করে বাড়ি ফিরেছেন এটাই অনেক কিছু ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷ দিনটি আপনার শুভ হোক ৷