বিদ্যাসাগর , বঙ্কিমচন্দ্র ও মধুসূদন

in Bulls Mind4 years ago

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ‘বেতালপঞ্চবিংশতি’ হিন্দি ‘বৈতাল পচ্চীসীর’ অনুবাদ। বিদ্যাসাগর এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম যতি-চিহ্নের সফল প্রয়োগ করেন। বাংলা সাহিত্যের প্রসার, সংস্কৃত সাহিত্যের সহজসরল অনুবাদ নারী শিক্ষা বিস্তারে বহু প্রবন্ধ লিখে সমাজে আলোড়ন তুলেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। নারীর সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন তিনি। সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন করে বিদ্যাসাগর বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বিধবা বিবাহ প্রচলনে তার লেখা পুস্তিকা ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদবিষয়ক প্রস্তাব’। বেতালপঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)– প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ। হিন্দি ‘বৈতাল পচ্চীসীর অনুবাদ’। ঈশ্বরচন্দ্র এই গ্রন্থের দশম সংস্করণে সর্বপ্রথম যতি চিহ্নের সফল প্রয়োগ করেন। গ্রন্থটি প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা হয়। কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক রচিত ‘ব্রজবিলাস’ (১৮৮৪)। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত অনূদিত গ্রন্থ:


102775436_115730946841553_3215901553685866784_n.jpg

শকুন্তলা (১৮৫৪)– কালিদাসের সংস্কৃত ভাষার নাটক ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ এর বাংলা অনুবাদ। এই উপাখ্যানে মালিনী নদীর কথা উল্লেখ আছে। শকুন্তলার পিতার নাম মহর্ষি বিশ্বামিত্র। ‘একি শরীরের রূপ, নাকি রূপের শরীর’- রাজা দুষ্মন্তের উক্তি।
সীতার বনবাস (১৮৬০)– ভবভূতি রচিত ‘উত্তররামচরিত’ নাটক ও বাল্মীকির রামায়ণের উত্তরকাণ্ড থেকে। ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯)– শেক্সপীয়রের ‘Comedy of Errors’ এর বাংলা রূপ।

বাংলা উপন্যাসের জনক সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) উপন্যাসটি তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের পটভূমিতে রচিত। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের তৃতীয় উপন্যাস। মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথা। কৃষ্ণকান্তের উইল- এর অন্তর্গত চরিত্র হলো- গোবিন্দলাল, হরলাল, কৃষ্ণকান্ত, রোহিনী, ভ্রমর, নিশাকর। বিষবৃক্ষ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমুখী, কুন্দনন্দিনী, হীরা। তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের অন্তর্গত চরিত্র। ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত ‘সাম্য’ বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি এই গ্রন্থটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেন। তার অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে লোকরহস্য, কমলাকান্তের দপ্তর, কৃষ্ণচরিত্র, বিজ্ঞানরহস্য উল্লেখযোগ্য। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত রাজসিংহ – একটি রাজনৈতিক ঐতিহাসিক উপন্যাস। চরিত্র – রাজসিংহ, চঞ্চলকুমারী, জেবুন্নেসা, মবারক। এ উপন্যাসের জবাবে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ‘তারাবাঈ’ উপন্যাস লিখেন। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত রজনী– বাংলা ভাষার প্রথম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। চরিত্র – রজনী, শচীন্দ্র, অমরনাথ, লবঙ্গলতা। আনন্দ মঠ ও বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র রচিত যথাক্রমে রাজনৈতিক ও সামাজিক উপন্যাস। কপালকুণ্ডলা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’র দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের ‘পান্হনিবাসে’-এর শেষ উক্তি। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। মৃণালিনী (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত। মাগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু। বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাস।

মাইকেল মধুসূদন রচিত সর্বশেষ বিয়োগান্তক নাটক– মায়াকানন। এটি তাঁর শেষ রচনা। সীতার বনবাস, বোধোদয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে সনেটের প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের রূপকার, প্রথম সার্থক নাট্যকার, প্রথম পত্রকাব্যকার, প্রথম সার্থক মহাকাব্য রচয়িতা ও প্রথম প্রহসন রচয়িতা। মধুসূদনের ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ গ্রন্থে ১০২টি সনেট রয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার প্রবল দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন সনেটের মাধ্যমে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের সফল প্রয়োগ ঘটান ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্যগ্রন্থে। তার রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য এবং ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। ইতালীয় কবি পেত্রার্ক এবং শেক্সপিয়র সপিয়র এর অনুকরণে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ বা সনেট রচনা করেন। বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি ও নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনিই বাংলায় প্রথম সনেট রচনা করেন এবং তার নাম দেন ‘চতুর্দশপদী’। বাংলা সনেটের আদি গ্রন্হ ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ (১৮৬৬)। মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ’, গীতিকাব্য ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’, আখ্যানকাব্য ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’ এবং পত্রকাব্য ‘বীরাঙ্গনা’। ‘বীরাঙ্গনা’ এগারটি পূর্ণপত্রে রচিত কাব্যগ্রন্হ।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 64414.57
ETH 1751.02
USDT 1.00
SBD 0.44