জীবনের প্রথম মেট্রোরেল ভ্রমণের অনুভূতি।।
আস্সালামু আলাইকুম /আদাব 🤝
আমার প্রাণ প্রিয় বন্ধুরা, কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা এবং বিশ্বাস করি আপনারা সবাই আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো ও সুস্থ আছি ।আমি @mahfuzur888, বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে আপনাদের সাথে আছি ।
আমার বাংলা ব্লগের প্রাণপ্রিয় বন্ধুরা, প্রতিদিনের মতো আজকে নতুন আরো একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের সবার মাঝে। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ঢাকা মেট্রোরেলে জীবনের প্রথম ওঠার অনুভূতি শেয়ার করতে চাচ্ছি। যদিও এই মেট্রোরেলটি অনেকদিন আগে থেকেই চলছে এবং আমি ঢাকাতে অনেক আগেই এসেছি। তারপরেও আমার গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জায়গাতে মেট্রোরেল এর কোন স্টেশন নেই। বিধায় আমি ঢাকা মিরপুর ১৩ তে থাকা সত্বেও এতদিন মেট্রোরেলে ওঠার সৌভাগ্য হয়নি । কিন্তু হঠাৎ করেই আমার পিতা মাতা ঢাকা আমার ভাগ্নির বাসায় আসার জন্য তাদের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। তো ঢাকা শহরে জ্যাম যটের জন্য অনেক সময় ব্যয় হয়। এই জন্য আমি বাইক ভাড়া করে যেতে চাচ্ছিলাম। তখন আমার এক কলিগ বাইকের কথা শুনে আমার গন্তব্য কোথায় জানতে চাইলো। তখন আমি বললাম আমি মতিঝিলে যাবো।তখন আমার কলিগ সুন্দর একটি হাসি দিয়ে বলল। দোস্ত তুমি বাইকে যাবা কেন। তুমি তো মেট্রোরেলে অতি সহজেই চলে যেতে পারো। আমার কলিগ বলার সাথে সাথে আমি বাইকের পরিবর্তে মেট্রোরেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। এবং মনে মনে ভাবতে থাকি আমার পিতা-মাতার সাথেও দেখা হবে এবং মেট্রোরেলেও ওঠা হবে । সাথে সাথে আমার কলিগের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে একটি অটোরিক্সা ৩০ টাকা দিয়ে ভাড়া করে মিরপুর ১০ এ মেট্রোরেল স্টেশনে চলে যাই।
আমার প্রথমে একটি ধারণা ছিল যে মেট্রোরেলে সবাই যাতায়াত করে না। কাজেই মেট্রোরেল স্টেশনে যাওয়ার সাথে সাথেই আমি টিকেট পেয়ে যাবো।কিন্তু মেট্রোরেল স্টেশনে যাওয়ার সাথে সাথেই আমার এই ধারণাটি পুরোপুরি পাল্টে যায়। এবং আমি ওখানে দেখতে পাই টোটাল তিনটি টিকেট কাউন্টার। যেহেতু আমি নতুন তাই একজনের সাহায্য নিয়েছিলাম যে টিকেট কিভাবে কাটতে হয়। তখন ওই ভদ্রলোক আমাকে একে একে তিনটি টিকেট কাউন্টারের বিবরণ দিয়ে দিলেন। একটি কাউন্টার হল আমার মত যারা হাতে টাকা দিয়ে টিকেট কাটবে তাদের জন্য। আরেকটি কাউন্টার হল যারা অনলাইনে টিকেট কাটবে তাদের জন্য। এবং তৃতীয় নাম্বার কাউন্টারটি হল যারা মাসিক কার্ড পে করবে তাদের জন্য। তো আমি যেহেতু হাতে হাতে টিকেট কাটবো সেহেতু অফলাইনের সাড়িতে দাঁড়িয়ে গেলাম। এবং দেখতে পেলাম পুরা লাইনটি একটি ইউসেপ হয়ে গিয়েছে। এত পরিমান লোকজনের ভিড় ছিল।
তো আমি যথারীতি ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এবং লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাঝখানে একটি পিলারের সাথে টিকিটের মূল্য তালিকা দেওয়া ছিল। সেই মূল্য তালিকাতে মতিঝিল পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৬০ টাকা। ৬০ টাকা দেখেই আগে থেকেই আমি টাকাটা আলাদা করে রাখলাম। এবং ফাইনালি আমি কাউন্টারের কাছে চলে আসলাম। তো আমি ভেবেছিলাম হয়তোবা কাগজের একটি টিকেট পাবো। কিন্তু ফাইনালি যখন টিকেটটা হাতে পেলাম তখন দেখলাম এটা একটি কার্ড সিস্টেম। তো কার্ডটি হাতে নিয়ে একটি ফটোগ্রাফি করে রাখলাম আপনাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এবার সবার মত করে আমিও সবার সাথে চললাম সেই কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেলে ওঠার জন্য। তো আমি যখন প্ল্যাটফর্ম এরিয়াতে ঢুকবো তখন দেখতে পেলাম একটি কার্ড স্লট। যেখানে কার্ডটি রাখার পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেটটি খুলে যাবে। সবার মত আমিও কার্ডটি স্লটে রাখলাম এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেটটি খুলে গেল এবং ভিতরে প্রবেশ করে রানিং সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেলাম।
যেহেতু আমি আগে কখনো মেট্রো রেল ভ্রমণ করিনি। তাই একা একা কোন কিছু করার আগেই আমি বাকি সবার মত স্বয়ংক্রিয় ভাবে খুলে যাওয়া দরজার সামনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ালাম। দাঁড়ানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই চলে আসলো মেট্রোরেল। এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেট্রো রেলের দরজা গুলো খুলে যেতে লাগলো। প্রথমে মেট্রো রেল থেকে সবাই নেমে পরলো পরে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা সমস্ত লোক মেট্রোরেলের ভিতর প্রবেশ করলো। মেট্রোরেলের ভিতরে প্রবেশ করার পরে দেখতে পেলাম সেখানে বসার মত কোন সিট ফাঁকা নেই। বাকি সবার মত আমিও দাঁড়িয়ে রইলাম হ্যাঙ্গারটি ধরে। যেহেতু আমি প্রথম প্রথম মেট্রোরেল ভ্রমণ করছি তাই স্বয়ংক্রিয় দরজার খোলা এবং বন্ধ হওয়ার সঠিক টাইমটা আমি স্টপ ওয়াচ ধরতে পারিনি তবে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড হবে।
তবে মেট্রোরেলের ভিতরে আমি দেখতে পেলাম সবকিছুই অত্যাধুনিক। এই মেট্রোরেলে যেকোনো ব্যক্তি অতি সহজেই উঠতে পারবে এবং তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবে। কারণ কোন স্টেশনের পর কোন স্টেশন এবং কোন দরজা কোন দিক দিয়ে খুলবে তা যেমন মেট্রোলের ভিতরের মনিটরে দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে ভয়েস রেকর্ডিং এর মাধ্যমে শোনাও যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত্য ২৫ মিনিট পর আমি আমার গন্তব্যস্থল মতিঝিলে পৌঁছাইলাম। পৌঁছানোর পর রানিং সিঁড়ি দিয়ে নেমে এক্সিট গেটে গিয়ে কার্ডটি স্বয়ংক্রিয় মেশিনের ভিতর জমা করে বাহির হয়ে আসলাম। জীবনের প্রথম মেট্রোরেল ভ্রমণ করে আমার খুবই ভালো লেগেছিল বিধায় আমার অনুভূতিগুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
আমার পরিচয়
আমার নাম মোঃমাহফুজুর রহমান।আমি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাস করি। আমি বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক। সর্বদাই নিজেকে দেশের মঙ্গল কামনায় ব্যস্ত রাখি। আমার জন্মভূমিকে আমি মায়ের মতো ভালোবাসি।আমি ভ্রমণ করতে খুবি ভালোবাসি।তাছাড়া ফটোগ্রাফি করতে আমার ভালো লাগে,আর রান্না করা আমার নেশা, এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাই আমি আমার সৃজনশীলতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চাই। এই ছিল আমার সংক্ষিপ্ত পরিচয়,ধন্যবাদ সবাইকে।🌹💖🌹।
https://x.com/mahfuzur888/status/1871223723958956460?t=eHn94g80XQe3CO2hIBA8hA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আসলে মেট্রো রেলে আমার কখনো ওঠা হয়নি। তবে আপনার কলিগ ভালোই বলেছে।আর তার কারণেই মূলত আপনি মেট্রো রেলে চড়েছেন। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে এই অনুভূতি শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন সর্বদা এই কামনা করছি।
বাহ্ আজকে আপনি দারুন একটি অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।মেট্রোরেল ভ্রমণের জন্য ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনেছেন । ২৫ মিনিটে আপনি আপনার গন্তব্য স্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। প্রথম বার মেট্রোরেল ভ্রমণ করে আপনার অনেক ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।
আমারও মেট্ররেল এ কখনো উঠা হয়নি তবে আপনার পোস্টের মাধ্যমে কিছুটা ধারণা হয়ে গেল পরবর্তীতে যদি যাই ঢাকাই এবং মেট্রতে উঠি অনেক সুবিধা হবে।আপনি আপনার প্রথম মেট্ররেল এ উঠার অনুভূতি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন নিশ্চয় অনেক মজা হয়েছিল এবং মনের মধ্যে অনেক ভালো লেগেছিল?
ঢাকা শহরে যাওয়া হয় না মেট্রোরেলে চলবো কিভাবে। আপনি তো খুব সুন্দর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন আর যেন লোভ লাগিয়ে দিলেন। জয় হোক ভাইয়া আপনার কথা অনুভূতিটা জানতে পারলাম, বেশ ভালো লাগলো জেনে। আশা করব এভাবে আমাদের দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। কোন একদিন হয়তো আমাদের এলাকাতেও সৃষ্টি হয়ে যাবে মেট্রোরেল।
টিকিট কাউন্টারে গেলে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় ভাইয়া। মেট্রোরেলে ওঠার সুযোগ যদিও এখনো হয়নি। তবে আপনার অভিজ্ঞতার কথা জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া। যদি কখনো সুযোগ হয় আমিও চেষ্টা করব মেট্রোরেলে ওঠার।
জি আপু আপনি একদম ঠিক বলেছেন যত সময় না ট্রেনে ছিলাম তার সাথে বেশি সময় টিকিট কাটার জন্য সিরিয়ালে লাইন ধরে ছিলাম। যাইহোক আপু আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ অনেক সুন্দর একটি গঠনমূলক মন্তব্য করে আমার পাশে থেকে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য।