বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (১৬-০২-২০২৫)
আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে হালকা একটু নাস্তা খেয়ে বসে আছি। আসলে সিঙ্গাপুর আসার পর থেকে শুধুমাত্র ঘোরাঘুরি তাছাড়া আমার নিজের কোন ব্যক্তিগত কাজ নেই। কয়েকদিন গ্রামের সকলের সাথে দেখা করেছিলাম এবং গ্রামের বেশ কিছু ছেলেদের সাথে ঘুরাঘুরি করতে বের হয়েছিলাম সত্যি বেশ ভালো লেগেছে। সব দারুন সময় অতিবাহিত করেছি এখানে। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৬ তারিখ থেকে আমার ক্লাস শুরু হবে সব মিলিয়ে একটু টেনশনের মধ্যে আছি। মার্চ মাসের ১০ তারিখে পরীক্ষা শেষ হবে তাই ঈদের আগেই বাড়িতে আসতে পারবো এটা ভেবে সত্যিই বেশ ভালো লাগছে আবার ঈদ শেষ করে চলে আসা লাগবে। নিজে একটু চিন্তাভাবনার মধ্যে আছি তাও চেষ্টা করছি নিজের ব্যস্ততার সময় শেষ করে আপনাদের সাথে কিছু সময় ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। তাই আপনাদের মাঝে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক একটি জায়গার কিছু বর্ণনা দেওয়ার জন্য আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি তবে চলুন শেয়ার করা যাক.........
আপনারা উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি খুবই চমৎকার ভাবে আপনাদের মাঝে দুটি ছবি আমার মোবাইলে ক্যামেরা বন্দি করে শেয়ার করেছি। আপনারা সকলে জানেন ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। আসলে আমার দুলাভাই পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি মূলত খুলনা পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছে। কিন্তু ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে অনেক বাইরে থেকে পুলিশ এবং বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের নিয়ে আসা হয় শুধুমাত্র ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের দিন মুজিবনগর এরিয়াকে প্রটেকশন দেওয়ার জন্য আসলে সেদিন এখানে অনেক বড় বড় মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক বড় পর্যায়ের মানুষ আসে এখানে শুধুমাত্র এলাকার মানুষের সাথে দেখা করার জন্য মুজিবনগর দিবস পালন করার জন্য। আমার দুলাভাই প্রায় ১৭ এপ্রিলের দুই দিন আগেই সেখানে এসে পৌঁছে ছিল তাই সেখানে কোন কাজ না থাকায় আমাকে বলেছিল বাইক নিয়ে মুজিবনগর আসতে আমার সাথে বাড়িতে যাবে। তাই আমি আমাদের বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে দুলাভাইকে নিয়ে আনতে চলে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে মেহেরপুর শহরের প্রথম থেকে মুজিবনগর এর মধ্যে আর ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না আমাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। দুলাভাইকে ফোন দেওয়ার পরে ভিতরে প্রবেশ করতে দিয়েছিল তারপরে আমি বাইক নিয়ে দুলাভাইয়ের কাছে চলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমরা বেশ কিছু সময় রেস্ট নেওয়ার পরে খাওয়া-দাওয়া করে একটু মুজিবনগর ঘুরে দেখলাম।
আপনারা উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন আমি আবারও আপনাদের মাঝে খুবই চমৎকারভাবে দুইটি ছবি আমার মোবাইলে ক্যামেরা বন্দি করে শেয়ার করেছি। আসলে এখানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সময় বাংলাদেশের যেভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিল ঠিক সেভাবে কিছু দৃশ্য তৈরি করা হয়েছিল এখানে এগুলো আমি মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছিলাম দেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছিল। বাংলাদেশের মানচিত্রের বুকে এরকম দৃশ্য দেখতে সত্যি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আসলে মুক্তিযোদ্ধার কিছু স্মৃতি বলতে পারেন আপনারা সবাই। আসলে এই ছবিগুলো প্রায় এক বছর আগে আমি সংগ্রহ করেছিলাম। তবে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে এগুলো সব ভেঙে চুরমার করে ফেলা হয়েছে সত্যি আমার কাছে বেশ খারাপ লেগেছিল। আসলে এগুলো মানুষের কোন ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল না এগুলো ছিল দেশের সম্পদ এবং জনগণের সম্পদ। কিন্তু মানুষ না বুঝেই সেগুলো ভেঙে ফেলেছে। আসলে এখানে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বাইরের দেশ থেকে পর্যটক আসতে শুধুমাত্র বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী দেখার জন্য। আসলে আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এই বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর। বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল মুজিবনগরে এবং বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়েছিল মুজিবনগর সরকার নামে। সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে এই জায়গাটি ঐতিহাসিক একটি জায়গা।
আপনারা উপরের ছবির দিকে লক্ষ্য করলে আরও দুটি চমৎকার ছবি দেখতে পারবেন আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। এরপরে আমি এবং আমার দুলাভাই বাইক নিয়ে চলে গেলাম মুজিবনগর এর পাশেই বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্ত দেখার জন্য। আসলে এই মুজিবনগর আমাদের এলাকায় হওয়ার পরেও আসলে সেখানে তেমন একটা যাওয়া হয় না বললেই চলে ২-৩ বছর পরে একবার যাওয়া হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্তে আমরা যখন পৌঁছেছিলাম সেখানে বাইক রেখে আমি আমার ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। সেখানে বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ছিল সব মিলে সেখানে দারুন সময় অতিবাহিত করেছিলাম। সেখান থেকে ঘুরে দেখার পরে আমরা আবারো বাইক নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম এভাবেই পুরো দিনটা অতিবাহিত করেছিলাম সেখানে। সব মিলিয়ে বেশ দারুন সময় অতিবাহিত করেছিলাম। আশা করি আজকের লেখা পোস্ট আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য শুভকামনা রইল।
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি ক্যামেরাবন্দি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা এবং ফটোগ্রাফি ধারণ করা। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের ০১ তারিখে । স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://x.com/kibreay001/status/1890975509401493805?t=4d7Lyfe4qSAcLJsoKZF9iA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সিঙ্গাপুর গিয়ে তো তাহলে বেশ মজাই আছেন দেখছি। তেমন কোন কাজ নেই নতুন দেয় শুধু ঘোরাঘুরি। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে আজকের মুজিবনগর এর কিছু জায়গা দেখে খুবই ভালো লাগলো। অনেকদিন পর বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর দেখছি। খুব সুন্দর লিখেছেন। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আসলে প্রথমবার আসছি তো শুধুমাত্র ঘোরাঘুরি করার জন্য তাই তেমন কোন কাজ নেই। গ্রামের মানুষের সাথে ঘোরাঘুরি করতে সত্যি বেশ ভালই লাগছে।
কিছুদিন আগেও জায়গাটা অনেক সুন্দর ছিল কিন্তু এখন আর এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। জায়গাটা দর্শনার্থীদের খুবই পছন্দের জায়গা ছিল। আমাদের বাড়ির আশেপাশে হবার কারণে মাঝে মাঝেই এই জায়গাটাতে ঘুরতে যেতাম।
আসলে জায়গাটা আগে দর্শনার্থীদের দেখার মত একটা জায়গা ছিল তবে অনেকদিন হলো সেখানে যাওয়া হয় না।
বাংলাদেশের মুজিবনগর সম্পর্কে আমি আগে জানতাম না। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক কিছুই জানলাম। তবে সরকার পরিবর্তনের পরেই ভাঙচুরটা আমিও ঠিক হজম করতে পারিনি। যারা দেশের সম্পদ নষ্ট করে তারা আর যাই হোক দেশের কোন উন্নয়নের কাজে আসে না। আমি জানিনা এখন আপনাদের দেশে কি অবস্থা বা ওরা কত উন্নয়ন করছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে এবং মনে রাখতে এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলো বড় দরকার। এগুলো পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে যেমন জনপ্রিয় হবে তেমনি আমার ধারণা এগুলো দেখলে মানুষ সহজে ভুলে যাবে না যে দেশটা কিভাবে গঠন হয়েছিল।
ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর ভাবে পোস্ট পড়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য শেয়ার করার জন্য।