পরিচিত এক ছোট ভাইকে এয়ারপোর্ট এ বিদায় দিতে যাওয়া
হে লো আমার বাংলা ব্লগ বাসী। কেমন আছেন সবাই। আশা করি ভালো আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। আবার ও হাজির হলাম একটি পোস্ট নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আমার আজকের পোস্ট। আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আমিও মোটামুটি ভালোই আছি। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার পরিচিত এক ছোট ভাইকে এয়ারপোর্ট এ বিদায় দিতে যাওয়ার অনুভূতি। আশা করি সবার কাছে ভালোই লাগবে।
যাকে গত পরশু বিদায় দিয়েছিলাম সে আমার পরিচিত ছোট ভাই যেমন বলা যায় তেমনি বন্ধুও বলা চলে। ওর সাথে আমার পরিচয়টা ২০১৯ এর শেষের দিকে কিংবা ২০২০ এর শুরুর দিকে। পরিচয়টা নিয়েও মজার এক কাহিনী আছে। সেটা আরেকদিন অন্য এক পোস্ট এ শেয়ার করবো। আপাদত একটু বলছি। তা হচ্ছে ওনার সাথে পরিচয়টা হয় আমার পাবজিতে। মানে পাবজি মোবাইল গেম এ। সরাসরি ওর সাথে পরিচয় হয়নি। প্রথমে পরিচয় হয় এক মেয়ের সাথে। যার নাম লাবিবা। এই কমিউনিটিতে ছিলো। তবে ব্যাক্তিগত কারণে চলে গেছে হয়তো। আমরা এক সাথেই গেম খেলতাম সব সময়। এই ভাইটির নাম ছিলো সামিন। তিনিও ছিলো আমার বাংলা ব্লগ এ। তবে ইনএকটিভ। যাক সে কথায় না যাই। লাবিবার মাধ্যমে গেম খেলতে খেলতেই পরচিয়। লাবিবা যেমন ছিলো ছোট বোন এর মতন। তেমনি সামিন ছিলো ছোট ভাই এর মতন। কখনো আমাদের দেখা না হলেও যেনো একটা পরিবার হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। সেই সামিন ভাই লন্ডন চলে যাবে পড়াশুনার জন্য। সিলেট এ তার বাড়ি। আর সিলেটের বেশির ভাগ মানুষ কেনো জানি লন্ডনই যায়। আপনারা কেউ জানেন? কেনো লন্ডনই যায় তারা? তো বাড়ি সিলেট হলেও লন্ডন এর ফ্লাইট ছিলো ঢাকা বিমানবন্দর থেকে অর্থাৎ হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে।
উনি প্লেনে করেই ঢাকার বিমান বন্দর এ আসে। এখান থেকে ৬ টায় ফ্লাইট। আমি আগেই বলেছিলাম বের হবে কিনা। যেহেতু বিমানে করে এসেছে তাই ভিতরেই থাকবে। তখন বলেছিলো যে বের হবেনা। তাই আমি আর তেমন প্যারা নেইনি। যদি আগেই বলতো বের হবে তাহলে হাতে কাজ রাখতামনা। সেদিন ছিলো শুক্রবার। তো আমি নামাজ পড়ে এসে দোকানে বসেছিলাম আমাদের। হঠাৎ সামিন ভাই মেসেজ দিলো যে উনি বের হয়েছে। আর আপনারা অনেকেই জানেন আমার বাসা এয়ারপোর্ট থেকে কাছেই মাত্র ৩-৪ কিলো হবে হয়তো। কিন্তু সমস্যা হলো আব্বু আর ছোট ভাই বাসায় খেতে গেছে। একজন আসলে আমি যেতে পারবো। তবুও বললাম আমার যেতে হয়তো ৩০-৪০ মিনিট লাগতে পারে। একটু পর বাসায় চলে গেলাম। সামিন ভাই বললো ২০-২৫ মিনিট এর মধ্যে যাইতে। আমি দ্রুতো প্রস্তুতি নিয়ে দৌড় মারলাম। বাসা থেকে বের হয়েই রিকশা নিলাম। কারণ হেঁটে দেড়ি হতে পারে।
গিয়েই আমি বাসে উঠে পরলাম। শুক্রবার হওয়াতে তেমন ভির ছিলোনা। তবে পেসেঞ্জার না পাওয়াতে বাস ছাড়তেছিলোনা। এদিকে সামিন ভাই খাবার খেয়ে ভেতরে যাওয়ার দিকে রওনা দিয়েছে। অনেক চিল্লা চিল্লি করে বাস আলাকে বাস ছাড়তে বললাম। তবে যায়গায় যায়গায় দাড়াচ্ছিলো। একটা সময় আমি পৌছে যাই। সামিন ভাই ও ভিতরে ঢুকে গিয়েছে প্রায়। কারণ ওনার ফ্লাইট ৬ টায়। আর ৩ ঘন্টা আগে ঢুকতে হয় ভিতরে। তখন ৩ ঘন্টার একটু বেশি বাকি ছিলো। সমস্যা হলো আমাকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিলোনা। কারণ সিকিউরিটি। গত কাল একটা রাজনৈতিক দল এর সমাবেশ ছিলো তাই এতো সিকিউরিটি। কি আর করা। সামিন ভাই কে জানালাম। সামিন ভাই বললো আমাকে দাড়াতে। উনি আসতেছে। আশে পাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলো। কারণ তারাও ভিতরে ঢুতকে পারছিলোনা।
সামিন ভাই ভেবেছিলো আমি ভিতরের চেক পোস্ট এ। কিন্তু আমি ছিলাম বাইরের দিকের চেক পোস্ট এ। তখন সামিন ভাই এইদিকেই এগিয়ে আসলো। দেখা হলো আমাদের প্রথম বারের মতন। পাবজি খেলি প্রায় ৩ বছর । কিন্তু এই প্রথম বার দেখা হলো। তারপর উনি আর বেশিক্ষন দাঁড়ায় নি। কারণ ভিতরে ঢুকে ইমিগ্রেশন শেষ করে চেকইন করে হবে। তারপর আরো কিছু ছবি তুলে বিদায় দিলাম ওনাকে। আমিও তারপর চলে আসলাম।
তো এই ছিলো আজকে। আশা করি ভালো লেগেছে আপনাদের। কেমন হলো জানাবেন।
░▒▓█►─═ ধন্যবাদ ═─◄█▓▒░
আমি রাজু আহমেদ। আমি একজন ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি থেকে। আমি বাঙ্গালী তাই বাংলা ভাষায় লিখতে ও পড়তে পছন্দ করি। ফোন দিয়ে ছোটখাট ছবি তোলাই আমার সখ। এছাড়াও ঘুরতে অনেক ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
Upvoted 👌 (Mana: 6/8) Get profit votes with @tipU :)
পুরো পোস্টটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বা বর্তমান সমাবেশের কারণে অনেক ঝামেলা অনেক দিকে পোহাতে হয়েছে। যেমনটি আপনি এয়ারপোর্টের ইন্টারনাল সেক্টরে ঢুকতে পারেনি, সে সমস্যার কারণেই আপনাকে বাধা দিয়েছে। আর এটি অবাক লাগলো যে সামিন ভাই আর আপনি তিন বছর ধরে pubg খেলেছেন, এই বার প্রথমবার মত দেখা হয়েছে। নিশ্চয় তখন অনুভূতিটা ব্যতিক্রম ছিল। ধন্যবাদ আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।
হ্যা ভাই। সব ভোগান্তি জনগন এর পোহাতে হয়।
কি করার ভাই আমরা জনগণ থাকবোই এই রকম সবসময়।
বিদায়ের মুহুর্ত গুলো সবসময়ই অনেক কষ্টের হয়। পাবজি গেইম খেলার কথা অনেকের কাছে শুনি কিন্তু এভাবে কারো সাথে পরিচিত হওয়া যায় এটা আমার জানা ছিল না। যাক আপনি তবুও নির্ধারিত সময়ের আগে পৌঁছাতে পেরেছেন শুনে ভালো লাগলো তা না হলে আপনার ছোট ভাই এর সাথে আর দেখা হতো না। এয়ারপোর্টে ঢুকতে একটু ঝামেলা সবসময়ই থাকে কারন ওখানকার নিরাপত্তার জন্য এরকম হয়ে থাকে। দুজনকে একসাথে দেখতে খুবই ভালো লাগছে।সামিন ভাইয়ের যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ ভাইয়া।
এইরকম অনেক ঘটনা আছে যেখানে পাবজির মাধ্যমে বাস্তব জীবনের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ট বন্ধু পাওয়া যায়।
বাহ কী নাটকীয়ভাবে সামিন এর সঙ্গে
আপনার পরিচয়। এবং তার চেয়েও নাটকীয়ভাবে আপনাদের প্রথম দেখা হওয়া। বেশ দারুণ লাগল আমার কাছে। অনেক টা সিনেমার কাহিনীর মতো। ঢাকা শহরের বাসগুলোর এটাই সমস্যা দুই মিনিট পর পর দাঁড়ায়। প্রথম সাক্ষাৎতে দুজনেই বেশ উৎফুল্ল ছিলেন দেখছি।।
হুম। সাক্ষাতটা হয়তো প্রথম। তবে পরিচয় অনেক অনেক আগের থেকে।
আপনার ছোট ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা রইল। আশা করি সে সুন্দর ভাবে গন্তব্য স্থলে পোঁছতে পারবে এবং যে জন্য দূর প্রবাসে পাড়ি দিয়েছে সে আশা পূরণ করতে সক্ষম হবে। আসলে বিদায় বেলার মুহূর্তগুলো খুবই আবেগঘন হয়ে থাকে । পোস্টটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া আপনি শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনার পাবজি ভাই সামিন ভাইয়ের সাথে দেখা করেছেন। এটা শুনে অনেক ভাল লাগলো। আর সিলেটের অধিকাংশ প্রবাসি লন্ডনে থাকে যার কারনে তাদের ভাই বন্ধু বা আত্বীয় স্বজন কাউকে বিদেশ পাঠাতে হলে আপন জনের কাছে লন্ডনেই পাঠায়। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনার ছোট ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সবসময় বিদায়ের মুহুর্ত গুলো অনেক কষ্টের হয়। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো ভাই।