নাটক রিভিউ :- " ফকির গ্রাম " ( পর্ব ৪৪ )
✋হ্যালো বন্ধুরা,✋
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম। আজকে আপনাদের সাথে একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করব। কিছুদিন ধরে আমি " ফকির গ্রাম " এই নাটকটি দেখছিলাম । এই নাটকটি মূলত পর্ব আকারে করা হয়েছে। আজকে আমি আপনাদের সামনে এই নাটকের ৪৪ তম পর্ব শেয়ার করব। আশা করি নাটকটি আপনাদের ভালো লাগবে।
নাটক সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
| নাম | ফকির গ্রাম। |
|---|---|
| পরিচালনা | ঈগল টিম |
| প্রযোজনা | কচি আহমেদ |
| প্রযোজনা সহকারী | জাহাঙ্গীর আলম, বাবু আহম্মেদ, আলমগীর, ইনামুল, মারুফ, জনি। |
| স্ক্রিপ্ট | সুলাইমান |
| অভিনয়ে | আনোয়ারুল আলম সজল, ইফতেখার ইফতি, আজমাইল মেহেরব এলহাম, মোসাদ্দেক সাহেব, লিপু মামা, তুহিন চৌধুরি, সবুজ আহমেদ, রাবিনা, জারা নুর, স্পর্শিয়া মিম, সাগরিকা ইসলাম মিনহা, আফরিভা খান মুমু, আকাশ ইসলাম, সুমন পাটোয়ারী, রেজবিনা মৌসুমী, আকলিমা লিজা, অদিতি জামান স্নেহা, জাহাঙ্গীর কবির , মিমো এবং জাকির সিন্টু। |
| প্রধান সহকারী পরিচালক | কামরুজ্জামান রানা, আকরাম দেওয়ান, এস এল ডি সাগর, শাফায়েত, হানিফ খান |
| সম্পাদনা | অনিক ইসলাম |
| সহকারী সম্পাদনা | জুনায়েদ মোঃ বাঁধন |
কাহিনী সারসংক্ষেপ
এই পর্বের শুরুতে আমরা রতন ফকির এবং ডাক্তার আপাকে দেখতে পাই রাস্তা দিয়ে হেটে আসছিল। ডাক্তার আপা যখন বক্সটা নিচ্ছিল তখন রতন বক্সটা দিতে চায় না। এরপর তারা অনেকক্ষণ কথা বলে আর তখন ডাক্তার আপা তাকে জিজ্ঞেস করে তাকে নিয়ে তিনি কেন এত চিন্তা করেন। এরপর রতন বলে আমি আপনাকে ভালোবাসি। এসব নিয়ে তারা অনেকক্ষণ কথা বলে, আর সেখান থেকে চলে যায়। তারপরে সায়েম এবং তার বউ এর সাথে আসমানির দেখা হয়। সায়েমের বউ তো অনেক রেগে যায় আসমানীকে দেখে কিন্তু সায়েম অনেক খুশি হয়। এরপর সায়েমের বউ সায়েমকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। যদিও আসমানি চেয়েছিল তাদের সাথে ভিক্ষা করার জন্য যেতে, কিন্তু সায়েমের বউ নেই নিই।
তারপর আমরা কাদের ফকিরকে দেখতে পাই ঘরের সামনে বসে রয়েছে। তখন সেখানে রবি ফকির আসে। আর তাদের বিয়ের কথা বলে। কাদের ফকির রবিকে ভালোভাবে সবকিছু বুঝায়। তারা যখন কথা বলছিল তখন সেখানে মর্জিনা চলে আসে। তারপর কাদের ফকির রবিকে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়। আর মর্জিনা তার বাবাকে বিভিন্ন কথা শুনিয়া ঘরে চলে যায়। এরপর ডাক্তার আপা এবং রতনকে দেখা যায় একটা জায়গায় এসে বসছিল। তারপর ডাক্তার আপা যখন রতনের সাথে কথা বলতে যাচ্ছিল, তখন রতন অনেক রেগে ছিল। তার সাথে কথা বলছিল না। এরপর ডাক্তার আপা যখন বলে সে নিজেও তাকে ভালোবাসে। তখন রতন অনেক খুশি হয়ে যায়। আর ডাক্তার আপা ফুলির কথা যখন বলছিল তখন সে ফুলের নামে বিভিন্ন খারাপ কথা বলতে থাকে। আর তাকে বাচ্চা মেয়ে বলে। আর এগুলো বলার সময় ফুলি সেখানে চলে আসে। আর অনেক রেগে যায়। তারপর রতন সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়, ফুলিও তার পিছনে দৌড়াতে থাকে।
এরপর মেম্বার এবং তার বউকে দেখা যায় একসাথে বাহিরে তারা প্রিন্সকে নিয়ে কথা বলছিল। তারপরে তারা ঘরে চলে যায়। এরপর টিক্কা ফকির এবং কমলাকে দেখা যায়। তারাও আসমানীকে নিয়ে কথা বলে। আর সন্দেহ করতে থাকে। আর তার থেকে সাবধানে থাকার চিন্তা করে। এরপর মেম্বার চেয়ারম্যানের সাথে তাদের দুজনের দেখা হয়। এরপর মেম্বার চেয়ারম্যান তাদেরকে এই এলাকা থেকে চলে যাওয়ার কথা বলে। এরপর টিক্কা যখন তাদের বন্দুক দিয়ে ভয় দেখাচ্ছিল। তখন তারাও বন্দুক দেখিয়ে তাদেরকে ভয় দেখায়। আর এই সবকিছু আসমানী দেখে ফেলে। আর তখনই বাঁশি বাজায়। তখন তারা সবাই সেখান থেকে পালিয়ে চলে যায়। আর আসমানি ওখানে উপস্থিত হয়। এরপর সে নিজে নিজে বলতে থাকে এসব কিছুর পেছনে আর কে কে আছে এগুলো খুঁজতে হবে। তারপরে আসমানিও সেখান থেকে চলে যায়।
তারপরে আমরা ফুলিকে দেখতে পাই রাস্তা দিয়ে একা একা যখন আসছিল, তখন প্রিন্স এবং ঝুমার সাথে দেখা হয়। আর ঝুমা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করে। তখন সেখানে চেয়ারম্যান চলে আসে। আর ফুলি চেয়ারম্যানের কাছে তাদের নামে বিচার দেয়। এরপর চেয়ারম্যান তাদেরকে ধমকিয়ে বলে আমি মেম্বারের কাছে এই বিষয়ে বিচার দিব। কারণ প্রিন্সের জন্য তার দুই মেয়ে গ্রামে থাকতে পারেনি। এরপর তিনি ফুলকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। তারপরে আমরা সায়েম ফকির এবং তার বউকে দেখতে পাই ভিক্ষা করছিল। তখনই তাদের সাথে বিদেশি আকাশের দেখা হয়। আর সায়েম কে বলে তাড়াতাড়ি যেন চম্মনের সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে। এরপর সায়েম কে বিদেশি আকাশ ৫০০ টাকা দেয়। এটা থেকে সায়েম তো অনেক খুশি হয়ে যায়। তখন বিদেশী আকাশ সেখান থেকে চলে যায়।
তারপরে চান্দুকে দেখা যায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভিক্ষা করছিল। তখন তার কাছে আসমানী আসে। এরপর তারা একসাথে ভিক্ষা করার জন্য যখন হাত ধরে যাচ্ছিল তখনই মর্জিনা দেখে ফেলে। আর এটা দেখে মর্জিনা তো অনেক রেগে যায়। তারপরে মর্জিনা কান্না করতে করতে সেখান থেকে চলে যায়। যদি আসমানি থাকে পেছন থেকে ডাকে কিন্তু মর্জিনা তাকায় না। এরপর আসমানি সেখান থেকে চলে যায়। আর চান্দু ভাবতে থাকে কিভাবে মর্জিনাকে বুঝাবে, এগুলো ভাবতে ভাবতে সে চলে যায়। এরপর বিদেশি আকাশের বোনকে দেখা যায় ঘরের সামনে বসে রয়েছে। তখনই সেখানে বিদেশি আকাশ আসে। এরপর সে চম্মনের সাথে তাকে যেন তাড়াতাড়ি বিয়ে করিয়ে দেয় এগুলো তার বোনকে বলে। তার বোন তো অনেক রেগে যায়। তারপরে রাতের বেলায় দেখা যায় চম্মন এবং মানিক ফকিরকে চম্মনের বাবা কোনো কিছুর কারণে বকাবকি করছে। তখনই পর্বটা শেষ হয়ে যায়।
ব্যক্তিগত মতামত
এই পর্ব অনেক সুন্দর হয়েছে প্রত্যেকটা পর্বের মতো। আসমানি টিক্কা ফকির এবং কমলার উপর সন্দেহ করে। আর তাদের উপর সবসময় নজর রাখে। যখন মেম্বারের লোকদের সাথে কমলা এবং টিক্কা কথা বলছিল, আর বন্দুক দেখিয়ে একে অপরকে ভয় দেখাচ্ছিল, তখন আসমানী গাছের আড়াল থেকে বাঁশি বাজায়। আর তখন তারা পালিয়ে যায়। আসলে আসমানী কে, এটা আমরা পরবর্তীতে ভালোভাবে বুঝতে পারব। একবার মানিক ফকির আসমানির সাথে হ্যান্ডশিপ করার পর চম্মন দেখে ফেলে। এখন আবার চান্দু যখন হ্যান্ডশিপ করছিল আসমানির সাথে, তখন মর্জিনা দেখে ফেলেছে। এখন দেখা যাক চান্দু মর্জিনাকে বুঝাতে পারে কিনা। এ পর্বে আমরা আবার দেখি বিদেশী আকাশ ফিরে এসেছে। দেখা যাক এখন পরবর্তী পর্বগুলোতে কি হবে। সে পর্যন্ত আশা করছি আপনারা অপেক্ষায় থাকবেন। আমি চেষ্টা করবো তাড়াতাড়ি পরবর্তী পর্বের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
ব্যক্তিগত রেটিং
৯/১০
নাটকের লিংক
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।

https://x.com/TASonya5/status/1846221530453496040?t=rBLdTN_ILOttzxb6PXhPXQ&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এই নাটকের বেশ কয়টা পর্ব আমি ইতোমধ্যে দেখেছি। আজকে আপনি আবারো আমাদের ফকিরগ্রাম নাটক টা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। রিভিউটা বেশ দারুন ছিল আপনার। আমি চেষ্টা করব এই পর্বটা সুযোগ করে দেখে নেওয়ার।
আপনি বেশ কয়েকটা পর্ব দেখেছেন শুনে ভালো লাগলো।
ঈগল টিমের বেশিরভাগ নাটকই আমার দেখা হয়েছিল। তবে এখন আর ব্যস্ততার জন্য তাদের নাটক খুব একটা দেখা হয় না। কিন্তু আজকে আপনি এত সুন্দর করে তাদের এত সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন দেখে আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে পড়তে। পুরো কাহিনীটাকে খুব সুন্দর করে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
তবে চেষ্টা করবে এই নাটকটা দেখার জন্য। অনেক ভালো লাগবে নাটকটা। কারণ নাটকটি অনেক সুন্দর।
আপু আজ আপনি অনেক দারুণ একটি নাটক রিভিউ করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। এই নাটকের বেশ কয়েকটি পর্ব আমি দেখেছি। নাটকটি আমার কাছে অনেক ভালো লাগে সাথে নাটকটা আপনি অনেক সুন্দর করে রিভিউ করেন। অনেক সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনি এই নাটকের বেশ কয়েকটি পর্ব দেখেছেন শুনে ভালো লাগলো
ধন্যবাদ আপু।