নাটক রিভিউঃ- " মানুষ কী বলবে "
06-04-2025
২৩ চৈত্র , ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
🌼আসসালামুআলাইকুম সবাইকে🌼
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকে চলে এলাম একটা নাটক শেয়ার করার জন্য। নাটকটির নাম হচ্ছে মানুষ কী বলবে। আশা করছি নাটকের গল্পটি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
| নাম | মানুষ কী বলবে |
|---|---|
| কনসেপ্ট এন্ড স্টরি | আকবার হায়দার মুন্না। |
| প্রযোজক | আকবার হায়দার মুন্না। |
| স্ক্রিনপ্লে এন্ড ডায়লগ | মনিরুল ইসলাম রুবেল। |
| অভিনয়ে | খাইরুল বাশার, কেয়া পায়েল, তারিক আনাম খান, মিলি বাশার, ডাঃ এজাজ ,ফারিয়া হোসেন, নীলিমা সহ আরও অনেকে। |
| আবহ সংগীত | নীল কামরুল। |
| দৈর্ঘ্য | ৪৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ড। |
| মুক্তির তারিখ | ০৫ই এপ্রিল , ২০২৫ ইং |
| ধরন | রোমান্টিক, সামাজিক । |
| ভাষা | বাংলা |
চরিত্রেঃ
তপুঃ
খাইরুল বাশার।অর্চিঃ
কেয়া পায়েল।কাহিনী সারসংক্ষেপ
নাটকের শুরুতে দেখা যায়, তপু ও অর্চি ফোনে কথা বলছে। তাদের আজ সেকেন্ড এনিভার্সারি! তারা দুজন দুজনকে ভীষণ পছন্দ করে। তপুর পরিবার জানে তপু যে অর্চিকে ভালোবাসে। অর্চি মেয়ে হিসেবেও ভালো। তপু পেশায় একজন ফ্রিল্যান্সার! আর এ পেশা নিয়ে অর্চির বাবার সামনে কিভাবে যাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে? এটা নিয়েই ঝগড়া হয় বেশি তপু ও অর্চির মধ্যে। এদিকে তপুর বাবা চাকরি থেকে রিটায়ার্ড করেছে কয়েক বছর হলো। রিটায়ার্ড করার পর একটা স্কুল দিয়েছে তপুর বাবা। তবে তপুর বাবার ইচ্ছে অবসর সময়টা কাজে লাগানোর! তপুর ছোটবোন মাহিমাকে সকালে ভার্সিটিতে দিতে যায় তারপর আবার বিকালে ভার্সিটি থেকে নিয়ে আসে। বাকি সময়টা তপুর বাবা ফ্রি থাকে।
আর সে ফ্রি সময়টা তপুর বাবা রাইড শেয়ার করতে চাই। কিন্তু এটা শোনার পর তপুর ভীষণ রাগ হয়ে যায়। কারণ ফ্রিল্যান্সিং করে তপু অনেক টাকা আয় করছে তারপরেও কেন তার বাবাকে রাইড শেয়ার করতে হবে। তার উপর অর্চির পরিবার যদি জানতে পারে তপুর বাবা রাইড শেয়ার করছে তাহলে তপুর কাছে কখনোই বিয়ে দিবে না অর্চিকে। এ নিয়ে তপুর বাবার সাথে তপুর ভীষণ ঝগড়া হয়। কিন্তু তপুর বাবা ছেলের ব্যবহারে কিছু মনে করেনি। কারণ নিজের ভালো লাগাটাকে আগে মূল্য দিতে হবে। কে কি বলবে এটা ভেবে বসে থাকলে চলবে না। তপুর বাবা রাইড শেয়ারিং শুরু করে দেয়। পথে অনেক মানুষদের সাথে পরিচয় হয়। তাদের সাথে গল্প করেই সময় চলে যায় তপুর বাবার! একদিন অর্চি ও তার বাবা অফিসের দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িটা হঠাৎ ই নষ্ট হয়ে যায়।
তখন অর্চির বাবা মেজাজ গরম হয়ে যায়। কারণ মাঝ রাস্তায় এভাবে গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে বড় একটা অফিসে জব করে। লোকে দেখলে কে কি বলবে? অর্চির বাবা ড্রাইভারকে কতোক্ষণ ধমকায় । কেন সে গাড়ি স্টার্ট দেয়ার আগে সব চেক করে বের হলো না। তারপর অর্চি উবারকে কল দেয়। তাদের লোকেশনে চলে আসতে বলে। তারপর গাড়ি নিয়ে চলে আসে তপুর বাবা! অর্চি জানতো না যে উবারকে বলেছে সে তপুর বাবা। তখন অর্চি লজ্জায় পরে যায়। তারপর তপুকে ফোন দিয়ে বলে তার বাবা আজ তাদেরকে গাড়িতে লিভ দিয়েছে! অর্চি প্রচন্ড রেগে যায়। একে তো তপু একজন ফ্রিল্যান্সার তার উপর তপুর বাবা উবারে করে রাইড শেয়ার দিচ্ছে। এটা জানতে পারলে আর বিয়েই হবে না দুজনের!
তারপর তপু তার বাবার সাথে রাগারাগি করে। কেন সে এভাবে রাইড শেয়ার করছে। আজ অর্চিকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। তখন তার বাবা বলে এতে দোষের কি! এ কাজটা তো সৎ। আর হালালভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করলে এতে দোষের কি! ডাকাতি বা চুরি করে তো টাকা আয় করছে না। তারপর তপুকে তার বাবা বুঝায়। সে যে ফ্রিল্যান্সিং করে এতে কখনো বাধাঁ দিয়েছে! দেয়নি, কারণ তার ভালো লাগার জায়গা থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয় করছে। এতে হীনমন্যতায় ভোগার কি আছে! এদিকে অর্চি ফোন দিয়ে বলে তার বাবা তার জন্য একটা ছেলে দেখেছে। শুক্রবারে তাকে দেখতে আসবে। সেটা শুনে তপুর মন খারাপ। তার পরের দিন সিদ্ধান্ত নেয় তারা সবাই অর্চিদের বাসায় যাবেবিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।
তপু খুশি হয়ে যায়। তারপর সবাই মিলে অর্চিদের বাসায় যায়। অর্চির বাবা বুঝতে পারে কেন তারা এখানে এসেছে। কিন্তু অর্চিকে তপুর সাথে বিয়ে দিবে না। কারণ তপুর কোনো ফিউচার নেই। সে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছে। তাছাড়া অর্চির বাবার সোসাইটিতে সবাইকে নিয়ে থাকতে হয়। তপুর সাথে বিয়ে হলে মানুষ কি বলবে! তখন তপু রেগে যায়। তারপর বলে হাসিমুখে অপমান না করে বলে দিলেই পারতেন। আর সোসাইটিতে কে কি ভাবলো এসব নিয়ে আপনারা বসে থাকেন। আমরা আমাদের কাজকে প্রায়োরিটি দেয়! তারপর তপুরা চলে আসে অর্চিদের বাসা থেকে। অর্চির ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায়। অর্চির বাবা বিয়ে ঠিক করে। অর্চি তপুকে ছাড়া বিয়ে করতে চাইছে না। যখন শাড়ি পরে মেহমানদের সামনে চলে আসে তখন অর্চি অবাক হয়ে যায়। তপুর পরিবার এসেছে বিয়ের আংটি পরিয়ে দিতে। অবশেষে তাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়।
ব্যক্তিগত মতামত
নাটকটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাটকটি আদর্শ হতে পারে। কারণ আমরা এমন এক সমাজে থাকি যেখানে কে কি বলবে এসবের পিছনে জীবনের অর্ধেক সময় ব্যায় করে ফেলি। নিজের ভালো লাগাটাকেও মূল্যায়ন করতে পারি না সঠিকমতো। কোনো কাজই যে ছোট নেয় নাটকটি তার প্রমান। আমাদের উচিত সবসময় নিজের যেটা ভালো লাগে সেটাকে গুরুত্ব দেয়া। হোক সেটা সোসাইটির সাথে না মিললেও! এছাড়াও নাটকটিতে ভালোবাসার সমাপ্তিটা সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। সবমিলিয়ে নাটকটি ভালো লাগার মতো ছিল।
ব্যক্তিগত রেটিং
৯.৭/১০
নাটকটির লিংক
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে অধ্যয়নরত আছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Twitter share
Puss tweet
অনেক সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ আপনি আজকে আমাদের সবার মাঝে শেয়ার করে নিয়েছেন। নাটকটার রিভিউ পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সুন্দর সুন্দর নাটকগুলো আমি অনেক পছন্দ করি। নাটকটা না দেখা হলেও রিভিউটা পড়ে ভালো লেগেছে। এত সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাই আপনাকে।
আপনাকেও ধন্যবাদ আপু রিভিউ পড়ার জন্য।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চমৎকার একটি নাটক। নাটকটি এক কথায় অসাধারণ। আমরা সমাজের মানুষের কথা নিজের থেকেও বেশি চিন্তা করি। সমাজের মানুষও হয়েছে, কার কি হলো এটা নিয়েই বেশি চিন্তা। জীবনে অনেক বিষয়ে আমরা পিছিয়ে থাকি শুধু মানুষ কি বলবে এই কথা ভেবে। কোন কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত নয়। চমৎকার একটি নাটক রিভিউ। রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। আপনাকে ধন্যবাদ।
এটা ঠিক বলেছেন। সমাজের মানুষের কথায় আমরা অনেক সময় কাজ করতে দ্বিধাহীন হয়ে পরি।
আপনি তো দেখছি আজকে আমার খুবই পছন্দের নায়ক নায়িকার নাটকের রিভিউ নিয়ে হাজির হয়েছেন। এই নায়ক এবং নায়িকা আমার অনেক বেশি পছন্দের। তাদের বেশিরভাগ নাটকই আমার দেখা হয়েছিল। তবে এখন আর ব্যস্ততার জন্য তাদের নাটক খুব একটা দেখা হয় না। কিন্তু আজকে আপনি এত সুন্দর করে তাদের এত সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন দেখে আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে পড়তে। পুরো কাহিনীটাকে খুব সুন্দর করে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ নাটকের রিভিউটা পড়ার জন্য।
এটা ঠিক বলেছেন, আমাদের বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে এটা আদর্শ একটা নাটক। আমরা অনেক সময় নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেই না, সমাজে মানুষ কি বলবে সেটার কথা চিন্তা করে। নাটকটার গল্প খুবই সুন্দর। সময় করে নাটকটা দেখার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর নাটক রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
নাটকটা দেখতে পারেন আশা করছি আপনি উপভোগ করতে পারবেন।
আজকে আপনি খুবই সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন। আজকে আপনার কাছ থেকে সুন্দর নাটকের রিভিউ পড়ে খুব ভালই লাগছে৷ আসলে একেবারে বাস্তবের কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে এই নাটক এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ একই সাথে আপনিও আপনার এই পোষ্টের মধ্যে দিয়ে সবকিছু খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন৷ যা পড়ে খুব ভালই লাগলো৷ অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি নাটক এর রিভিউ শেয়ার করার জন্য৷
আপনাকেও ধন্যবাদ নাটকের রিভিউটা পড়ার জন্য।