ক্রিটিভ রাইটিংঃ ছোট ছোট সুখ
আজ - বুধবার
সবাইকে সুস্বাগতম জানিয়ে আজকে আমি আবার নতুন একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি। আশা করি মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই সুস্থ আছেন এবং ভালো আছেন আমিও ভাল আছি। ছোট ছোট সুখের মাধ্যমে ই আমাদের জীবনটাকে আমরা চাইলে আরো বেশি সুন্দর করে তুলতে পারি তো আমার অভিজ্ঞতা থেকে আজকে এই টপিকের উপরে পোস্ট করার চেষ্টা করছি আশা করি আপনাদের সবাই পোস্ট টি ভালই লাগবে। জীবনের ছোট ছোট কিছু সুখ রয়েছে যেই সুখগুলো আমাদের জীবনকে আরো বেশি চমৎকার করে তোলে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সকলের ভোর বেলায় উঠে চাওয়া কফি খাওয়া। আপনারা যারা প্রতিনিয়ত সকালে উঠে চা বা কফি পান করে থাকেন তারা হয়তো বা এর আসল মজাটা অবশ্যই উপলব্ধি করতে পেরেছেন। আর এমন এমন মানুষ রয়েছে যে সকাল বেলায় তাদের চা যদি না খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে তো তাদের দিনটাই পার হতে চায় না। আমি যদিও তেমন একটা টা পছন্দ করি না তবে দুধ চা টা আমার খেতে বেশ ভালোই লাগে।
জীবনের ছোট, ছোট সুখের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকৃতির সান্নিধ্য। আমরা মাঝেমধ্যে প্রকৃতির সান্নিধ্যে গিয়ে উপভোগ করি আবার মাঝেমধ্যেও আমাদের মোবাইলটার মাধ্যমে প্রকৃতি সান্নিধ্যে গিয়ে যখন আমি ফটোগ্রাফি করি তখন আমাদের মনটা অনেকটাই হালকা হয়ে যায় আবার প্রকৃতির সঙ্গে একা একা সময় কাটানোর সুবর্ণ একটা সুযোগ আমরা পেয়ে যাই যেটা আমাদের জন্য অনেক চমৎকার একটা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও আমরা যদি প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় দেয় এবং তাদের ছোট, ছোট স্বপ্নগুলো পূরণ করার চেষ্টা করি তাহলে দেখবেন আপনাদের জীবন আরো বেশি সুন্দর হয়ে উঠবে। আসল জীবনটা তো তেমন একটা বড় নয় তাই আমাদেরকে এই জীবনটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে উপভোগ করতে হবে তাহলেই আসল সার্থকতা পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয়। ছোটবেলার সেই সময় গুলো আসলে অনেক সুন্দর ছিল কারণ ছোটবেলায় কোন টেনশন ছিল না শুধুমাত্র ছিল আনন্দ ওই সময়গুলো হয়তোবা তো আর খুঁজে পাবো না তবে ওই সময়গুলো এখন অনেক বেশি মিস করি।
তখন হয়তোবা পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ ছিল না কিন্তু স্বপ্ন ছিল দু চোখে অনেক। ছোট ছোট সেই সুখের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আমি গান শুনতে অনেক বেশি পছন্দ করতাম তাই ছোটবেলায় বাবা মার আবদার করেছিলাম যে আমাকে একটা ছোট মোবাইল ফোন কিনে দিতে হবে। তবে আব্বু রাজি ছিল না কিন্তু আমি জড়াজড়ি করাতেই শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে গেলেন এবং একটা প্রথম ম্যাক্সিমাস নামের ফিচার ফোন আমাকে একটা কিনে দেয়া হয়েছিল সেই ফোনটাতে সারাদিন আমি গান শুনতাম এবং সবচেয়ে মজার বিষয় কি জানেন? ওর মোবাইলটাতে আমার ইন্টারনেটও চলত 😁। আগে মোট ১০ টাকার এমবি তুলে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতাম যদিও তেমন একটা ভালোভাবে চালাতে পারতাম না তবে এটাই মজা লাগতো যে বাটন ফোনে ইন্টারনেট চলে এটা কিন্তু তখনকার সময় অনেক বড় একটা ব্যাপার ছিল। তখন আবার নতুন নতুন যে গানগুলো রয়েছে সেগুলো আমি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করতে যেতাম। কয়েকটা বার ডাউনলোড করে ফেলতাম কিন্তু অনেক বেশি সময় লাগতো ধরুন দুই মিনিটের একটা গান ডাউনলোড করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট লেগে যেত ।
তবুও ভালো লাগার একটা বিষয় ছিল সেটা হচ্ছে সবশেষে গানটা তো ডাউনলোড করতে পারছি। আমি আমার পছন্দের গান ডাউনলোড করতে পারছি নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে এটার চেয়ে ভালো জিনিস আর কি হতে পারে বলুন। তখন আবার মোবাইলে গান তুলতে প্রত্যেক জিবি প্রতি ২০ টাকা করে নিতো। আমার যে মোবাইলটা ছিল ওই মেমোরিটা মাত্র দুই জিবি ছিল এবং ওই মোবাইলটাতে গান তুলতে ৪০ টাকার মতো নিত। তবে অনেক সময় পছন্দের গানগুলো পেতাম না পরে কম্পিউটারে যে গানগুলো রয়েছে ঘুরেফিরে ওগুলোই দিয়ে দিত পরে মন খারাপ হত আবার সাইকেল বয়ে অনেক দূর যেতাম নতুন কোন দোকানে গান তুলতে। হাহাহা সে দিনগুলো যে কি মনে পড়ে! তখন এক জিবি মেমোরি দাম ছিল মনে হয় ৭০০ টাকা আর এখন ১ জিবি ২ জিবি মেমোরি তো পাওয়া যায় না সর্বনিম্ন হয়তোবা আট জিবি পাওয়া যায়। সেগুলি ছিল আমাদের গোল্ডেন সবাই যাই হোক এই ছোট ছোট সুখের মাধ্যমে কিন্তু আমাদের জীবনটা আরো বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে। আজকের পোস্ট আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে আশা করি কমেন্টে জানিয়ে যাবেন আর ধন্যবাদ এতক্ষণ পাশে থেকে আমার ছোট্ট এই ব্লগটি উপভোগ করার জন্য।
আবারো খুব শীঘ্রই আপনাদের মাঝে নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব ইনশাল্লাহ ততক্ষণ সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.