ক্রিয়েটিভ রাইটিং: "যেখানে চোখ থেমে থাকে"❤️
🌿আমি তানহা তানজিল তরসা। আমি বাংলাদেশ 🇧🇩 থেকে বলছি। আমার স্টিমিট আইডির নাম @tanha001।
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগবাসি.........
কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে মোটামুটি ভালো আছি।বেশ কয় একদিন ধরে অনেক অসুস্থ আমি। ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না তারপরেও এক্টিভ থাকার চেষ্টা করছি। আমি সপ্তাহে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট শেয়ার করার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতায় আজ একটি ক্রিয়েটিভ রাইটিং পোস্ট শেয়ার করব। আশা করছি আমার শেয়ার করা পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লাগবে। চলুন তাহলে শুরু করে যাক।
রোদ্দুরের বিকেলগুলো মেঘলার খুব প্রিয় ছিল না কখনোই।আলো আর অন্ধকারের মাঝের ওই সময়টা তাকে অদ্ভুত এক শূন্যতায় ভরিয়ে দিত। ঠিক যেন কোনো কিছু আসবে আবার হারিয়েও যাবে।আজও সে দাঁড়িয়ে ছিল জানালার পাশে। পুরনো কাঠের জানালা, তাতে জমে থাকা ধুলো আর স্মৃতিরা যেন একটা ক্যানভাস হয়ে উঠেছে। জানালার ওপারে ছায়া ছায়া গাছ, রাস্তায় ছুটে চলা জীবনের শব্দ, আর তার মাঝখানে নিঃশব্দ এক প্রশ্ন"তুমি কি এখনো আছো, আর্য?"আর্যকে হারিয়ে তিন বছর হতে চলল।তাদের ভালোবাসার গল্পটা খুব বইয়ের মতো ছিল না বরং কবিতার মতো। টুকরো টুকরো অনুভব, অসম্পূর্ণ বাক্য, চুপ থাকা শব্দ।আর্য প্রথম এসেছিল এক ঝড়ের বিকেলে।মেঘলার বাবা তখন হঠাৎ অসুস্থ। হাসপাতালের করিডোরে নিঃশব্দ কান্না চেপে রাখা মেয়েটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল ছেলেটি। একটা বোবা দুঃসময়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিমুখ।"তুমি কি ঠিক আছো?"মেঘলা তাকিয়ে দেখেছিল চেনা কেউ নয়, অথচ মনে হচ্ছিল বহুদিনের চেনা।সেদিন থেকেই শুরু।আর্য যেন ছিল কোনো পুরনো জীবনের বন্ধু যে বুঝে নিত মেঘলার না বলা সব কথা।ওরা হেঁটেছিল দীর্ঘ পথ, পুরোনো বইয়ের দোকানে ঘুরে ঘুরে, হাতের তালুতে স্বপ্ন লিখে।আর্য বলত,"জীবন আসলে খুব ছোট না, খুব গভীর। যে বুঝে নিতে পারে, তার কাছে প্রতিটা দিন মহাকাব্য।"
কিন্তু মেঘলা?সে ছিল এক পৃষ্ঠার গল্পের মতো। ছোট ছোট দুঃখ, চুপ করে থাকা হাসি, আর প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে হারানো এক মেয়ে।আর্য তাকে প্রতিদিন বুঝিয়ে দিত সে ঠিক আছে। তাকে ভালোবাসা মানে তাকে বদলে ফেলা নয়, তাকে গ্রহণ করা।তারপর একদিন জানা গেল আর্যর ভেতরে জন্ম নিচ্ছে এক মরণব্যাধি।ধীরে ধীরে তার চোখের দীপ্তি কমে যাচ্ছিল, তবু হাসি থাকত মুখে।মেঘলা বলেছিল,"চলো না, দূরে কোথাও চলে যাই। সব ফেলে।"আর্য শুধু বলেছিল,"তুমি একা যেতে শিখো। কারণ কখনো কখনো, একাই বাঁচতে হয়। আমি থাকব তোমার ভেতরে।"শেষ দিনটায় হাসপাতালের বেডে আর্যর ঠোঁটের শেষ শব্দ ছিল,"মেঘ আলো খুঁজে নিও নিজের জন্য। আমি সেখানেই থাকব।"তারপর দিনগুলো চলতে থাকে।মেঘলা অফিস করে, হাসে, লোকের ভিড়ে থাকে কিন্তু সন্ধ্যায় ফিরে এসে চুপ করে বসে সেই জানালার পাশে।একদিন হঠাৎ, আর্যর পুরোনো বইয়ের ভেতরে সে পায় এক চিঠি তাতে লিখা ছিল.........
প্রিয় মেঘ,
জানি, তুমি আজও জানালার পাশে দাঁড়াও। জানি, তোমার চোখ থেমে থাকে সেখানে যেখানে তুমি আমাকে শেষবার দেখেছিলে। কিন্তু আমি চাই তুমি সামনে হাঁটো। আলোতে যাও। কারণ যেদিন তুমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে, সেদিনই তুমি আমাকে সত্যিকারে পাবে। আমি চলে যাইনি, আমি রয়ে গেছি তোমার গল্পে, তোমার নিঃশ্বাসে।ভালো থেকো, আমি জানি তুমি পারবে।
"আর্য"
সেদিন অনেকদিন পর মেঘলা কেঁদেছিল অন্ধকারে নয়, আলোতে বসে।জানালার পাশে বসে সে নিজের হাতে একটা ছোট্ট নোট লিখে রাখে।"ভালোবাসা কখনো হারায় না। সে রয়ে যায়, চোখ থেমে থাকা মুহূর্তগুলোতে।"আর সে জানে আজও, সন্ধ্যায় রোদ যখন মেঘ ছুঁয়ে যায়, তখন কেউ একজন তার পাশে দাঁড়িয়ে বলে "তুমি একা নও আমি আছি তোমার সাথে "
| পোস্টের বিষয় | ক্রিয়েটিভ রাইটিং |
|---|---|
| পোস্টকারী | তানহা তানজিল তরসা |
| ডিভাইস | রেডমি নোট ১১ |
| লোকেশন | পাবনা |
@tipu curate
;) Holisss...
--
This is a manual curation from the @tipU Curation Project.
Upvoted 👌 (Mana: 2/8) Get profit votes with @tipU :)
https://x.com/TanhaT8250/status/1919660825322914095?t=AFS6EmHGd3N7RYQ4GS4mAQ&s=19