বড় ছেলের ছোটবেলায় হাত ভেঙে যাওয়ার গল্প

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।



আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।



আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। এর আগে আপনাদের সঙ্গে বাচ্চাদের ছোটবেলার দুটি দুর্ঘটনার কথা শেয়ার করেছিলাম। আজকেও হঠাৎ করে আবার বড় ছেলের ছোটবেলার একটি দুর্ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। আমি আমার দুই বাচ্চাকে একাই ছোটবেলা থেকে মানুষ করেছি। বাবার বাড়ি এবং শ্বশুর বাড়ি দূরে হওয়ার কারণে কারোই তেমন একটা সাপোর্ট পাইনি। আল্লাহর রহমতে খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয়নি দুই বাচ্চাকে নিয়ে। তারপরও টুকটাক এক্সিডেন্ট তো ঘটে যায়। বড় ছেলে দুই বছর হওয়ার আগে এক্সিডেন্টটি ঘটেছিল। আমি বাসায় থাকতে একা থাকলেও খুব একটা সমস্যা হয়নি। কিন্তু এবার যে ঘটনাটি ঘটেছিলো তা আমাদের বাসায় গিয়ে ঘটেছিলো। সেখানে অনেক মানুষের চোখের ফাঁক দিয়ে ঘটে গিয়েছিল।



broken-heart-6606080_1280.jpg

Link


তখন আমরা চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে রাজশাহীতে গিয়েছি মাত্র। খুব বেশিদিন হবে না। চট্টগ্রামে অনেকদিন ছিলাম তখন বাবার বাড়িতে যাওয়া হয়নি। এজন্য রাজশাহী বদলির অল্প কিছু দিন পর বাবার বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। বিশেষ করে রাজশাহীতে অচেনা শহরে গিয়ে খুব বিপদে পড়েছিলাম। পরিচিত কাউকে পাচ্ছিলাম না সেজন্য আরও যাওয়া।
অনেকদিন পর বাবার বাড়িতে গিয়ে বেশ আনন্দে সময় কাটছিলো। আমার বড় ছেলেকে পেয়ে বাসার সবাইও খুব খুশি ছিল। কারণ ছোট বাচ্চা কেউ ছিলনা। এক সময় ও খেলতে খেলতে বারান্দার একটি টেবিলের উপরে উঠে যায়। ওঠার পরপরই আমরা দেখেছি কিন্তু ওকে ধরার আগে ও টেবিল থেকে নিচে পড়ে যায়। নিচে পাকা করা ছিল। সেখানে পড়ে গিয়ে হাতে প্রচন্ড রকম ব্যথা পায়। খুব কান্না করতে থাকে। হাত ধরতেই দিচ্ছিলো না। প্রথমে ভেবেছিলাম যে পড়ে গিয়ে হয়তো ব্যথা পেয়েছে। সাথে সাথে আমার হাজবেন্ডের বন্ধু অর্থোপেডিকের ডাক্তার ছিল তাকে কল দিলাম। সে বলল যে ব্যথার ওষুধ খাওয়াতে এবং খেয়াল করতে ওই জায়গাটা ফুলে যায় কিনা।

কয়েক ঘন্টা পর দেখলাম যে ব্যথার কথা আর তেমন বলছে। জায়গাটা ফুলে যায়নি। কিন্তু হাতটা সোজা করছে না। কেমন যেন বাঁকা করে রেখেছে। কিন্তু ওই হাত দিয়ে আবার সব কাজ করছে। তখন দুপুরের দিকে পাশে আমার মামার বাসা ছিল সেখানে গিয়েছিলাম। আমার মামাতো ভাইয়ের ছোটবেলায় হাত ভেঙেছে সেজন্য ও দেখেই বলল যে আপু ওর হাত ভেঙেছে। তুমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও। ওর কথা শুনে আমারও কেমন যেন লাগলো। ভাবলাম যে ডাক্তার দেখিয়ে আসি।
ডাক্তার দেখানো কি আর এত সহজ গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। সিরিয়াল দিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকার পরেও বেশ বিরক্ত করছিল ছেলে। একবার ভাবলাম যে চলে যাই বাসায়। এখন তো হাত স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু আম্মা আসতে দিল না। বললো যে এসেছি যখন ডাক্তার দেখিয়ে যাই। ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখে বলল যে এক্সরে করতে হবে। এক্সরে করে ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বলল ফেটে গিয়েছে প্লাস্টার করতে হবে। শুনে তো আমার মাথা ঘুরে গেল।

কি করবো বুঝতে পাচ্ছিলাম না। কিছুতো করারও নেই। তারপর প্লাস্টার করার জন্য সব জিনিস কিনে নিয়ে আসলাম। ডাক্তার যখন ওর হাত টেনে সোজা করলো যেমন কান্না ও করছিল তেমন কান্না আমি করছিলাম। ওর কষ্ট দেখে আর সহ্য করতে পারছিলাম না। তারপরও করতে হয়েছে। কয়েকজন মিলে ধরে হাত প্লাস্টার করে দিয়েছে। তিন সপ্তাহ এভাবেই রাখতে হয়েছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম যে ছোট বাচ্চা এরকম ভাবে রাখবে কিনা বিরক্ত করবে হয়তো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে খুব একটা বিরক্ত করেনি। ওভাবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল ওই কয়দিন।

এর মাঝে আরো দুইবার এক্সরে করে দেখেছি সবকিছু ঠিক আছে কিনা। তিন সপ্তাহ পর ডাক্তারকে ফোন দেওয়ার পর ডাক্তার বলল যে সমস্যা নেই। বাসায় কেটে দেওয়া যাবে। তখন আমরা রংপুরের গিয়েছিলাম ঈদের সময়। তারপর ব্লেড কিনে এনে ওর বাবা আস্তে আস্তে করে কেটে দিয়েছিল।
এজন্য সব সময় সবাইকে বলি যে ছোট বাচ্চাদেরকে খুব সাবধানে যেন রাখে। দুর্ঘটনা চোখের সামনে দিয়েই ঘটে যায় বুঝতেই পারা যায় না।


এই ছিল আমার আজকের আয়োজন সময় নিয়ে আমার পোস্টটি দেখার জন্য সকলকে ধন্যবাদ সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন পরবর্তীতে দেখা হবে আবার নতুন কিছু নিয়ে।


ধন্যবাদ

@tania

আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি অর্থনীতিতে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা,আর্ট করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে এবং ব্লগিং করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি।

animasi-bergerak-terima-kasih-0078.gif

IMG_20220106_113311.png

7258xSVeJbKkzXhyseBP4PYz11eBDT8sW2oR1a4vfVFS6JTrGU8e1FPUaNdHG5vjXyg2xthV78bDEmEVvKCQpyzX1kq8gAVzGsPp9GqJVRWxb6T9y35PZmQehnLjELdKKmnhdxQjDuny4.png


VOTE @bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png OR SET @rme as your proxy

witness_vote.png

IMG_1605.webp

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

বাচ্চারা এরকম দুষ্টামি করে যে তাদেরকে নিরাপদে নেওয়ার আগেই দেখা যায় যে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায়।ঠিক সেই ঘটনাটি আপনার ছেলের সঙ্গে ঘটেছে।আর ডাক্তারের কাছে গেলে তো ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে এতো বিরক্ত বোধ হয যে আর মনে হয় না যে ডাক্তারকে দেখায়।

 2 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু নিরাপদে নেয়ার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। কিছুই করার থাকে না। যাই হোক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

 2 years ago 

কখন যে দূর্ঘটনা ঘটে যায় তা বলা যায়। অনেক সাবধানে রাখার পরও দূর্ঘটনা ঘটে যায়। আমি দেখেছি প্লাস্টার করতে কত জোড়া জুড়ি করে করতে হয়। আমার ভাইস্তার হাত প্লাস্টার করার সময় আমি ছিলাম। বেশ কস্ট পাওয়া যায়। আর বাচ্চারাতো আরও কস্ট পায়। তবে আপনার ছেলে প্লাস্টার ঠিক সময় পর্যন্ত রেখে বলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে গেছে। আর বাচ্চারা দুস্টামি করবেই এটাই স্বাভাবিক না করাটাই অস্বাভাবিক।

 2 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু বিপদ চোখের সামনে দিয়েই ঘটে যায়। ঠেকানো যায় না। যাই হোক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

 2 years ago 

একা একা বাচ্চা মানুষ করার কতটা কষ্ট সেটা আমি জানি আপু। আর বাচ্চার কিছু হলে তো একদমই ভালো লাগে না। অনেকদিন আগে আপনার ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা জেনে বেশ খারাপ লাগলো। বাচ্চারা দুষ্টামি করতে গিয়ে এমন অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলে। অবশেষে সেরে গিয়েছিল এটাই অনেক আপু।

 2 years ago 

ঠিক বলেছেন আপু বাচ্চাদের কিছু হলে মায়েদের কি আর ভালো লাগে। যাই হোক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

 2 years ago 

মায়ের চোখের সামনে বাচ্চা এতো কষ্ট পেলে তো কান্না করার ই কথা। ছোট মানুষ প্লাস্টার করতে গিয়ে কতো কষ্টটাই না পেয়েছে। আসলে বাচ্চাদেরকে সবসময় চোখে চোখে রাখতে হয়। কিন্তু কপাল মন্দ হলে আবার ঠিকই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যাইহোক বেশ খারাপ লাগলো ঘটনাটি জেনে। ঘটনাটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 2 years ago 

বাচ্চা ঐদিন খুবই কষ্ট পেয়েছিল। তা দেখে আসলেই সহ্য করার উপায় ছিল না। যাই হোক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.099
BTC 63275.91
ETH 1838.64
USDT 1.00
SBD 0.38