প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের উৎস সমূহ, ভৌগোলিক বৈশিষ্ঠ্য, জনপদ, এর বিবরন।

in #bangla4 years ago

ইতিহাস রচনায় উৎসের ভূমিকা অনকে। উৎস যত স্বচ্ছ, যৌক্তিক ও প্রায়োগিক ইতিহাস তত প্রাণবন্ত।প্রাচীন বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠন একটি জটিল বিষয়, কারণ প্রাচীন বাংলার কোন ধারাবাহিক ইতিহাস প্রাচীন কালে রচিত হয়নি।যেসব সূত্রে ভিত্তিতে ইতিহাস রচিত হয় মূলত সেগুলোই ইতিহাসের উৎস।
#সাধারণভাবে ইতিহাস রচনার উৎসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে::::::::::
(ক) প্রাথমিক বা মূল উৎস::::;::::::::::::::এই উৎসগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিষয় বা উৎস হল------*সাহিত্যও রচনাবলি * দলিল ও ফরমান *মুদ্রা ও শিলালিপি, *স্থাপত্যওশিল্পকর্ম ।।
(খ)মাধ্যমিক বা গৌন উৎস::::::::::::::::::::::::প্রাথমিক উৎস সূত্র যাচাই- বাছাই ও বিচার বিশ্লেষণ করে পরবর্তী যেসব বস্তুনিষ্ঠা, ইতিহাস গ্রন্থ রচিত হয়ে থাকে সেগুলোই মাধ্যমিক বা গৌণ উৎস হিসেবে চিহ্নত করা যায়।
#প্রচীন বাংলার ইতিহাস রচনা উৎসমূহকে ৩টি পর্যায় ভাগ করা যেতে পারে।
(১)প্রন্ততাত্ত্বিক উৎস সমূহ (archaeological)
(2)সাহিত্যক উৎস সমূহ(literary)
(৩)পর্যটকদের বিবরনী(travelers)
#ইতিহাস রচনার উপাদান মূলত কয় ভাগে বিভক্ত::::::::::::::
(ক) লিখিত উপাদান::::::::::সাহিত্য,নথিপত্র, জীবনী
(খ)অলিখিত উপাদান:::::::::মুদ্রা, মূর্তি, ইমারত,লিপিমালা
#(ক)প্রত্নতাত্ত্বিক উৎস সমূহ::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ইতিহাসের উৎস হিসেবে প্রত্নতত্ত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ।প্রত্নেোত্ত্বিক উপাদান অর্থ অর্থ অতীত বা প্রাচীন মানুষ মানুষের সৃষ্ট, ব্যবহৃত বা প্রভাবিত দ্রব্যাদির চিহ্ন বা ধ্বংসাবশেষ।প্রাচীন বাংলার ইতিহাস রচনায় ব্যবহৃত প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলো::::::::::::::
১.লিপিমালা (Inscriptions)
২.মুদ্রা(Coins)
৩.স্থাপনা(Structures)
৪.চারুও কারুশিল্প (Arts and crafts)
Image result for প্রাচীন বাংলার লিপিমালা
(১)প্রাচীন বাংলা লিপি মালা
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস রচনার বা পুর্ণগঠনের লিপিমালা অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ণ উৎস।প্রাচীন কালের মানুষ শিলাগাত্রে তামার পাত বা স্তম্ভের গায়ে লিপি ্‌উৎকীর্ণ করতো সাধারনত শিলাগাত্রে উৎর্কীণ লিপিকে বলা হয় শিলালিপি।তামার পাতে উৎকীর্ন লিপিকে তাম্রলিপি বা তাম্রশাসন বলা হয়।এ ছাড়া ও ইট ,পোড়ামটির সিলেও লিপি আবিস্কৃত হয়েছে।
#এ লিপি থেকে যে তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়। তা হল সমসাময়িক রাজার নাম ,পদবি,পরিচয় ,পূর্বপুরুষদের পরিচয়, গৌরবময় কাজের বিবরণ, এবং রাজাদের বংশের তালিকাও এসব লিপিমালা থেকে উদঘাটন করা হয়েছে।যেমন-- বাংলার পাল, সেন, চন্দ্র, ইত্যাদি বংশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এ লিপি -মালা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছ।
#প্রাপ্ত অনেক লিপিতে সন তারিখ উৎকীর্ণ দেখা যায়। প্রাচীন বাংলায় প্রাপ্ত এ ধরনের সনগুলোর মধ্যে গুপ্তাব্দ,শকাব্দ প্রভৃতি দেখা যায়।গুপ্ত বংশে প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত।৩২০ খ্রি, সিংহাসন আরোহণ করেন।তার ক্ষমতায় আরোহণ সময়কাল থেকে গুপ্তাব্দ গননা হয়ে থাকে।সম্রাট কনিস্ক ৭৮ খ্রি. সিংহাসন আরোহণ এ সময় থেকে শকাব্দ গননা শুরু হয়।
#লিপি থেকে সম্রাজ্য সম্প্রসারণ সম্পর্কে জানা যায়।
#রাজার ভূমি দান ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলির মূলত তামার ফলকে উৎকীর্ণ করা হত। এর থেকে রাজার দানশীলতার ও পরিচয় পাওয়া যায়। এর থেকে জমির পরিমাণ, মূল্য তথ্য জানা যায় । এ ছাড়াও এর থেকে শিল্প ব্যবসায় - বাণিজ্য সম্পর্কেও জানা যায়। এ ছাড়া তৎকালীন স্থাপত্য- ভাস্কর্য সম্পর্কেও জানা যায়।
#লিপি থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। যেমন- প্রচীন বাংলার রাজারা ছিলেন দৈব্য ক্ষমতার বিশ্বাসী । এছাড়াও তৎকালীন স্থাপত্য - ভাষ্কর্য সম্পর্কে অনেক তথ্য লিপি থেকে পাওয়া যায়।

(২)মুদ্রা
ইংরেজি কয়েন শব্দের বাংলা পরিভাষা হচ্ছে মুদ্রা ।কয়েন (coin) শব্দটি ল্যাটিন কিউনিয়স (cuneus) শব্দ হতে নির্গত।মুদ্রা সংঙ্গা হিসেবে বলা যায় যে ,স্বর্ণ রৌপ্য বা এরূপ মূল্যবাণ ধাতুর এমণ এক খন্ডকে বুঝায যার আকৃতি ও পরিমাণ সুনির্দিষ্ট এবং যাতে প্রশাসন ক্ষমতা কর্তৃক বিশুদ্ধতা নিরূপনের উদ্দেশ্য কোন বিশেষ প্রতিকৃতির নমুনা বা প্রতীকচিহ্ন বা লিপি ব্যবহৃত হয়।মুদ্রার বিনিময়মূল্য আছে। মুদ্রা যে কোন দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ে বিনিময় মাধ্যমে হিসেবে বিবেচিত হয়।মুদ্রা অতীতের সমাজ ,সংসকৃতি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শিল্পকলা প্রভৃতি বিষয়ক তথ্য ও বিবরনী তথা ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে এ্কটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে।মুদ্রার প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়েছে এ সংক্রান্ত বিষয় বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে । ইতিহাসের জনক হেরডোটাস এর মতে-লিডীয় জাতি েএশিয়া মাইনরে সর্বপ্রথম স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রা প্রবর্তন করে । আবার অনেকে মতে মুদ্রার প্রবর্তন হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় অনেক মুদ্রা আবিষ্কার হয়েছে। মহাস্থন গড়ে কুশানরাজা কনিষ্কের মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে।পাহাড়পুরে ৩টি তাম্র মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে। ময়নামতির শালবন বিহারে “হরিকেল মুদ্রা” নামে অনেক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে।শ্রীবিগ্র নামে কয়েকটি মুদ্রা পাওয়া গেছে। বাংলায় চন্দ্র, বর্মণ, ও সেন রাজ বংশের কোন মুদ্রাই পাওয়া যায়নি।সুতরাং প্রাচীন ইতিহাস রচনায় মুদ্রা থেকে যে সব ধানণা পাওয়া
Git_govind_large.jpg

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.31
JST 0.077
BTC 63501.69
ETH 1664.92
USDT 1.00
SBD 0.41