আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সামনে একটি পিঠার রেসিপি নিয়ে এসেছি ।আমার আজকের রেসিপিটি হচ্ছে পাকান পিঠার রেসিপি। বেশ কিছুদিন আগে আমার এই পিঠাটি খাবার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল। তারপরে আবার ভুলে গিয়েছিলাম ।তবে কিছুদিন হয়েছে আমি আমার মায়ের বাড়িতে আছি ।হঠাৎ একদিন আবার মনে পড়লো এই পিঠাটির কথা ।তখন আমি আমার মাকে বললাম এই পিঠাটি আমার কিছুদিন আগে খেতে খুব ইচ্ছে করছিল। তখন মা বলল যে এটি বানানো তো খুবই সহজ।এটি বানাতে খুব বেশি জিনিস লাগে না। গুড় আর নারিকেল হলেই বানানো যায়।ফ্রিজে তো গুড়, নারকেল আছে তাহলে এখনই বানিয়ে দিচ্ছি। ব্যাস তারপরে আমার মা পিঠাটি বানাতে শুরু করল ।আর আমি পিঠাটি বানানোর সময় কিছু ফটোগ্রাফ তুলে নিলাম। এখন সেই রেসিপিটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে । তবে একটি কথা এই পিঠাটি আমাদের এখানে পাকান পিঠা নামে পরিচিত। আপনাদের অন্য নামও হতে পারে। যাইহোক আর কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে দেখে আসি আমার আজকের পিঠার রেসিপি পাকান পিঠা বানানোর রেসিপি।
পাকান পিঠা বানানোর রেসিপি


- নারিকেল কোড়ানো
- গুড়
- আটা
- লবন
- তেল

প্রুস্তুতপ্রণালী
ধাপ -১
প্রথমে একটি কড়াই চুলায় বসিয়ে দেই ।তারপর তাতে নারিকেল ও গুড় দিয়ে দেই ও ভালোমতো নেড়েচেড়ে নেই। |
ধাপ -২
বেশ কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করার পর নারিকেল ও গুড় যখন আঠালো হয়ে আসবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে নেই ।তারপর দুই হাতের সাহায্যে এভাবে লম্বা করে নাড়ু বানিয়ে নেই। |
ধাপ -৩
এখন একটি পাত্রে পরিমাণ মতো আটা নেই। তারপর তাতে স্বাদমতো লবণ ও একটু তেল , একটু পানি দিয়ে ভালোমতো মেখে নেই। তারপর রুটি বানানোর পিরিতে গোল করে নেই । |
ধাপ -৪
তারপর রুটিটি একদম পাতলা করে বেলে নেই ।তারপর এক পাশে লম্বা করে বানানো নাড়ুটি বসিয়ে দেই। |
ধাপ -৫
তারপর ছবির মত করে এভাবে পিঠাটি কেটে নেই। |
ধাপ -৬
তারপর এভাবে সবগুলো পিঠা কেটে নেওয়ার পর একটি কড়াইয়ে তেল দিয়ে দেই। তেল গরম হলে পিঠা গুলি ছেড়ে দেই। |
ধাপ -৭
তারপর এপাশ ওপাশ উল্টিয়ে খুব ভালো করে ভেজে নেই। |
ধাপ -৮

তারপর ভালোমতো ভাজা হয়ে গেলে একটি প্লেটে উঠিয়ে নেই ও গরম গরম খেয়ে নেই। পিঠাটি কিন্তু খেতে বেশ সুস্বাদু হয়েছিল। বেশ তৃপ্তি করে খেয়েছি। আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। |
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

🔚ধন্যবাদ🔚
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।


আপনার মা ঠিকই বলেছে এই পিঠা বানানো খুবই সহজ। এই পিঠা খেতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। আপনি অনেক সুন্দর করে পিঠা গুলো তৈরি করেছে। এত সুন্দর একটি রেসিপি আমাদেরকে উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
আপনার কাছে আমার পিঠার রেসিপি টি ভালো লেগেছে জেনে বেশ ভাল লাগল ।মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
আপু আপনার পাকান পিঠা রেসিপি দেখে অনেক লোভনীয় লাগছে। অনেকদিন হয়েছে কোন পিঠা খাইনি। আজ আপনার পোস্টে পিঠার রেসিপিটি দেখে অনেক ভালো লাগলো। আপনার মা ঠিক বলেছে এই পিঠা টি তৈরি করা একদম সহজ । ধন্যবাদ আপনাকে
আপনার কাছে আমার পিঠার রেসিপিটি লোভনীয় লেগেছে জেনে অসম্ভব ভালো লাগলো । মন্তব্য করে আমাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
এভাবে পাকান পাকান কখনো খাইনি আপু। তবে এভাবে পিঠা তৈরি করেছিলাম সেগুলোকে আমরা ঝুনঝুনি পিঠা বলি। ভিতরে নারিকেল গুলো এভাবে নাড়ু বানিয়ে দেই না। তারপর যখন ভাজা হয়ে যায় হাত দিয়ে নাড়ালে ঝুনঝুনির মত আওয়াজ করে তাই এটার জন্যই ঝুনঝুনি পিঠা বলি। যাইহোক এভাবে তৈরি করে দেখব আর আপু একটি প্রশ্ন বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যেতে কেমন লাগে?
বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যেতে বুকটা একদম ভেঙ্গে যায় আপু ।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্য করে করার জন্য।
আমার আপুর কষ্ট দেখেই বুঝেছি তাই জিগ্যেস করলাম। 😣
বাহ খুব অসাধারণ পাকান পিঠা বানানোর রেসিপি করেছেন। পিঠা আমার খুব প্রিয়। খুব সুন্দর করে আপনার মা আপনাকে পিঠাগুলো বানিয়ে দিয়েছেন। মনে হয় ফ্যামিলির সবাই মিলে খুব মজা করে খেলেন। অনেক সুন্দর করে আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করেছেন। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু সবাই মিলে বেশ মজা করে খেয়েছি এবং খেতে বেশ সুস্বাদু হয়েছিল । ধন্যবাদ আপনাকে ।
আপু আমাদের এদিকে এই পিঠাকে কুলি পিঠা বা কলসি পিঠা বলা হয়ে থাকে। আর বিশেষ করে এই পিঠা আমাদের গ্রামে শীতের সময় বেশি তৈরি করা হয়। কারণ এই সময়ে নারিকেল গাছ পরিষ্কার করে সব পেড়ে ফেলা হয়। তাই অনেক নারিকেল পাওয়া যায়। যার জন্য এই পিঠা তৈরীর বেশি আয়োজন শুরু হয়ে যায় গ্রামে। যাইহোক খুবই ভালো লাগলো আপনার এই পিঠা বানানো দেখে।
আপনি ঠিকই বলেছেন এই পিঠাগুলো বেশিরভাগ শীতের দিনেই বানানো হয়ে থাকে। এই পিঠা কে আপনাদের ওখানে কুলি পিঠা ও কলসি পিঠা বলে জেনে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে ।