সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ। প্রযুক্তিগত বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্র
🙏 সকলকে স্বাগত জানাই 🙏
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্বন্ধে একটি পোষ্ট এর আগেও আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম। সেখানে বলেছিলাম যে মোট কত ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বর্তমানে টেকনোলজির দুনিয়ায় দেখা যায়। সেই পোস্টে আপনাদের সঙ্গে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রাথমিক ধারণার বিষয়টিও শেয়ার করেছিলাম। আসলে এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা মানুষের জীবনকে অনেক সহজ থেকে সহজতর করে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক যন্ত্রকে প্রদান করেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক চমকপ্রদ ক্ষমতা। আর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পাওয়ার জন্য যন্ত্রকে ডাটার উপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে। ডাটা হল এমন একটি বিষয় যা যেকোনো স্বতন্ত্র তথ্যকে সরবরাহ করবার পূর্ববর্তী অবস্থার পরিস্থিতিকে ধারণ করে। ডাটার মাধ্যমে সঠিক কোন তথ্য মানুষের সামনে উঠে না এলেও, একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অনেক। আসলে ডাটাগুলিকে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রসেস করার মাধ্যমেই কম্পিউটার যেকোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে।
আজকে এই পোস্টে আমি আপনাদেরকে জানাবো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির আওতায় বর্তমানে কোন কোন পরিষেবা মানবজাতি লাভ করতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তি এখনো গবেষণার আওতায় রয়েছে এবং সম্পূর্ণভাবে ডিজাইন হয়নি, তবু যে পরিমাণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যন্ত্রের মধ্যে প্রয়োগ করা গেছে, তাতেই যে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তা অস্বীকার করবার জায়গা নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রযুক্তি বর্তমানে যে যে ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছে, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -
- চিকিৎসা ক্ষেত্র - চিকিৎসা ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ প্রভূত পরিমাণে সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে রোগীর ওপর বিভিন্ন রকমের মনিটরিং সার্ভিস চালু করবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বেশ উল্লেখযোগ্য। হার্ট মনিটরিং সিস্টেম, পালস মনিটরিং সিস্টেম এবং অন্যান্য জীবনদায়ী সার্ভিস মানুষের মধ্যে সরবরাহ করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
- শিক্ষা ক্ষেত্র - শিক্ষাক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের এডুকেশন মডেল তৈরি করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ বাড়াবার জন্য স্মার্টবোর্ড ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে ভিজুয়াল লার্নিং এর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় সমস্ত বোর্ডে। আর এই ধরনের টেকনোলজি গুলি তৈরি করতে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে।
- গেমিং বিনোদন - বর্তমানে গেমিং বিনোদনের জগতে একটি বিশেষ ক্ষেত্র হল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারেক্টিভ গেমস তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন বয়সের মানুষদের ক্ষেত্রে অনেক আকর্ষণীয় হিসেবে গণ্য হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে যেসব গেম তৈরি করা হয় তার আকর্ষণ সমস্ত বয়সের মানুষের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
- বাণিজ্য ক্ষেত্র - বাণিজ্যক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বর্তমানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দেশীয় আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বর্তমানে সাড়া জাগিয়েছে। বহির্বাণিজ্যে এমন ধরনের কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রয়োগ দেখা যায়।
- ই-গভর্নেন্স - বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবায় ই-গভর্নেন্স এর কাজ দেখা যায়। আর সেই ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে বর্তমানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন রকম বট তৈরি করে মানুষের সঙ্গে ইন্টারেকশনে যন্ত্রকে সরাসরি ব্যবহার করে সরকার। এক্ষেত্রে আমরা ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারি। বর্তমানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত আয়কর থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, সমস্ত ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
- অটোমোবাইল - অটোমোবাইল বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বানাতে বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রয়োগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বিভিন্ন গাড়ি সেন্সর পরিচালিত। আর সেই সকল ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রয়োগ অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমানে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ দেখা যায়। তাই বিভিন্ন দিক থেকে সার্বিকভাবে বিচার করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্বকে অস্বীকার করবার কোন উপায় নেই। যদিও মানুষ বিভিন্নভাবে এই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে কথাও বলে আসছে, কিন্তু তাও সময়ের চাহিদা কে মেনে নিয়ে এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত। প্রযুক্তির উন্নতি কারো জন্য থেমে থাকে না। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তি এগিয়ে যাবেই এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ প্রতিদিন বাড়তে থাকবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সও ধীরে ধীরে আরো এগিয়ে যাবে সামনের দিকে এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিস্তৃত হবে। কিন্তু তার জন্য মানুষের গুরুত্ব কমবে না। শুধুমাত্র বলা যায় মানুষের পরিশ্রমকে অনেক সহজতার পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করে দেওয়ার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই।
🙏 ধন্যবাদ 🙏
(১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁককে)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।
https://x.com/KausikChak1234/status/1891568085083062729?t=98Nf-tI7s1y8fZ_nVygr9w&s=19
Daily tasks-
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.