মিশন বান্দরবান পর্ব-৩
আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আমি@ashikur50 বাংলাদেশের নাগরিক।
আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] এর সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনজানিয়ে আমার আজকের পোস্ট শুরু করছি।
আমাদের কমিউনিটির সবাই খুব সুন্দর সুন্দর পোস্ট করে, তেমনি আমিও আজকে আপনাদের সামনে একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম।
আমি আপনাদের মাঝে মিশন বান্দরবানের প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার করেছি। এবার আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি মিশন বান্দরবান তৃতীয় পর্ব নিয়ে। আশাকরি প্রতি পর্বের ন্যায় মিশন বান্দরবান তৃতীয় পর্ব ও আপনাদের কাছে খুবই ভালো লাগবে। এভাবেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার গল্প গুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। আপনারা কম বেশি সবাই জানেন আমাদের একটি গ্রুপ আছে। আমরা প্রতিনিয়তই সবাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে থাকি। ঘুরলে মন-মানসিকতা সবকিছুই অনেক বৃদ্ধি পায়। ঘোড়ার সঙ্গে জানা বুঝার অনেক কিছুর জড়িত রয়েছে। অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়। পৃথিবীর সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। না ঘুরলে কখনোই বোঝা যায় না সৃষ্টিকর্তার নিখুঁত হাতে এত দারুন সৃষ্টি। যেটা তিনি নিজ হাতে গড়েছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষদের জন্য। কত রকম দৃশ্য কত রকম প্রাণী। একেকটি জায়গায় এক এক রকম দৃশ্য যা নিমিষেই আপনার মন কেড়ে নিবে। অনেকেই আছেন অনেক ঘোরাঘুরি করে থাকেন কিন্তু তাদের ঘুরতে যাওয়ার গল্প এবং স্মৃতিগুলো ধরে রাখার তেমন কোন জায়গা নেই। এমন স্মৃতিগুলো ধরে রাখার প্ল্যাটফর্ম হল আমার বাংলা ব্লক। যা আপনাকে নিজের সকল মনের ভাব প্রকাশ করার একমাত্র প্লাটফর্ম।
Device : redmi note 13 pro plus
What's 3 Word Location: https://w3w.co/umbilical.boulevard.downswing
Device : redmi note 13 pro plus
What's 3 Word Location: https://w3w.co/umbilical.boulevard.downswing
অনেক বকবক করেছি এবার চলুন আমাদের আসল গল্পে ফিরে যাই। গত সপ্তাহে আপনাদের মাঝে আমি শেয়ার করেছি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আমাদের ট্রেন জার্নি। যা ছিল দুর্দান্ত যেটা আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করেছে। আমাদের জার্নিটি ছিল রাতে। সকালেই আমরা পৌঁছে যাই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। প্রথমে আমি ট্রেন থেকে নেমে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশে ঘুরে দেখছিলাম। পরিবেশটা বেশ চমৎকার এবং মনমুগ্ধকর। সকালের কুয়াশামাখা পরিবেশ এবং হালকা আলো এবং হালকা অন্ধকারের সংমিশ্রণ। কোথাও কোথাও লাইট জ্বলছে আবার কোথাও অফ হয়ে গেছে। আমরা রেলওয়ে স্টেশন থেকে বের হয়েই প্রথমে ছোট্ট একটি রেস্টুরেন্টে যাই সকালের নাস্তাটি সেরে ফেলার জন্য। সকালে বেশি একটা ভারি খাবার খেতে ইচ্ছে করে না কারণ রাত জেগেছি হালকা কিছু নাস্তা করলেই যথেষ্ট। এজন্য আমরা সকালে পরোটা সবজি ডাউন এবং ডিম ভাজি খেয়ে সকালের নাস্তাটি সেরে ফেলি। নাস্তা শেষ করে আর দেরি করলাম না আমাদের টার্গেট ছিল বান্দরবান গিয়ে দুপুরের খাবার খাব হোটেল বুক করার পরে। এজন্য আমরা তিনটি সিএনজি ভাড়া করে ঝটপট চলে যাই চট্টগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ড বেশি একটা দূরে নয়। আমাদের যেতে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগলো। সকালের চট্টগ্রাম শহরের রাস্তা বেশ ফাঁকা ছিল এজন্য সিএনজি চালক মামা বেশ জোরেশোরেই চালাচ্ছিল সিএনজি। আমরা ১৫ মিনিট পরেই পৌঁছে যাই বাস স্ট্যান্ডে। ওইখান থেকে বান্দরবানের বিভিন্ন ধরনের বাস ছেড়ে থাকে। গিয়ে একটু হতাশার মুখে পড়ে যাই আমরা। কারণ ওই দিন শুক্রবার থাকার কারণে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানের সকল ডাইরেক্ট বাস বন্ধ ছিল। এজন্য সবাই আমরা বেশ চিন্তিত হয়ে যাই। এতদূরের পথ সিএনজিতে যাওয়া ও আমাদের সম্ভব নয়। আমরা বাস না পেয়ে বেশ কিছু সময় একটি প্রাইভেট মাইক্রোবাসের খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু কিছুতেই মিল ছিল না। এত সকাল বেলা প্রাইভেট গাড়ি পাওয়া বেশ মুশকিলের আমরা সেটা বুঝতে ছিলাম। তারপরেও আমরা চেষ্টা কম রাখিনি। যেগুলো এই গাড়ি পাচ্ছিলাম সব গাড়ি রিজার্ভ ছিল। এক থেকে দেড় ঘন্টা আমরা অপেক্ষা করি চট্টগ্রাম বাস স্ট্যান্ডে। তারপরে আমরা কিছুতেই গাড়ি না পাওয়াতে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা ভেঙ্গে ভেঙ্গে লোকাল বাসে যাব। এত বড় জার্নি করার পর লোকাল বাসে যাওয়া বেশ মুশকিলের। কারণ লোকাল বাস অনেক আসতে যায় এবং কিছুদূর পরপর লোক ওঠানামা করে। তারপরেও কিছু করার নেই কবি এখানেই নিরব। পেয়ে গেলাম টিনের বাক্সের মত একটি লোকাল বাস। ওই ভাবেই আমরা সবাই বসে পড়লাম বাসের ছোট ছোট চিপা ছিটের উপর। সবাই বেশ ক্লান্ত জার্নি করাতে রাতে তেমন একটা ঘুম হয়নি। তারপরে আবার এত কষ্টে আবার নতুন করে যাত্রা। মাথার ভিতর কেমন যেন ব্যথা করছিল। আমরা প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টা জার্নির পর পৌঁছে যায় একটি গোল চট্রে। ভুলবশত ভাবে ওই স্থানটির নাম আমার এখন মনে আসতেছে না। তারপরে আমরা ওখানে নেমে যাই। নেমে গিয়ে ওখান থেকে আবার আর একটা বাসে আমাদের উঠতে হবে। কিন্তু প্রায় ১০-১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরও কোন বাস পাচ্ছিলাম না। পরে বাধ্য হয়ে দুটি সিএনজি আমরা বুক করি। টেনশন হচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তা সিএনজিতে সবাই চাপাচাপি করে বসেছি এভাবে কি যেতে পারবো। পাহাড়ি রাস্তা গুলো বেশ ভয়ঙ্কর হয় উঁচু নিচু রাস্তা। বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার তারপরও বাধ্য হয়ে উঠে পড়লাম। যাত্রা শুরু হওয়ার পরে ১০ মিনিট পরেই আমরা পাহাড়ি রাস্তার দেখা পেয়ে যাই। পাহাড়ি রাস্তা দেখার পরেই আমার বেশ ভয় লাগছিল। পাহাড়ের দিকে যখন সিএনজিগুলো উঠতে ছিল কেমন যেন ঝাকি দিয়েছিল সিএনজি। এবং উড়তেও অনেক কষ্ট হচ্ছিল তারপরও কৈ মাছের জান ঠিকই উঠে যায়। এভাবেই উসনিসু রাস্তা পেরিয়ে আমরা পৌঁছে যাই বান্দরবন শহরে। যাওয়ার পরেই নেমে আর একটি বিপদ। শুক্রবার থাকার কারণে বেশিরভাগ আবাসিক হোটেল গুলোই বুক ছিল। আমাদের বড় ভুল আমরা আগে থেকে অনলাইনে রুমগুলো বুক করে রাখিনি। বেস্ট ক্লান্ত লাগছিল শরীর আর পারছিল না।
Device : redmi note 13 pro plus
What's 3 Word Location: https://w3w.co/umbilical.boulevard.downswing
Device : redmi note 13 pro plus
What's 3 Word Location: https://w3w.co/umbilical.boulevard.downswing
তারপরে আমরা চেষ্টা করলাম শহরের বাইরে কোন একটা হোটেল পেলে ভালো হতো। একটি নিরিবিলি পরিবেশ খুব দরকার ছিল আমাদের জন্য। প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টা করেও কোথাও পেলাম না। পরে একটি হোটেল পেলাম যেটা ছিল অনেক ভিতরে। রুমটা ছিল বেশ বড়। অনেকটা বাসা বাড়ির ফ্ল্যাট এর মত। দুটি বেডরুম এবং একটি ডাইনিং স্পেস। ডাইনিং স্পেজেও এক্সট্রা করে দুটি খাট রেডি করেছিল। আমাদের জন্য বেশ ভালই সুবিধা হল কারন আমরা গিয়েছিলাম ১২ জন। তারপরে আমরা গোসল করে ঝটপট নিচে চলে আসি দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য। আমরা আগেও যখন গিয়েছি। তখনো একটি রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম সেটা হল কলাপাতা রেস্টুরেন্ট। খাবারের মান আমাদের কাছে আগেও মন্দ লাগছিল না। এজন্য এদিকে ওদিকে না দেখে সোজা চলে যায় কলাপাতা রেস্টুরেন্টে। যেই ঝটপট দুপুরের খাবার সেরে ফেলি । দুপুরের খাবার শেষ করে রুমে এসে সবাই লম্বা একটি ঘুম। এটাই ছিল আমার ভীষণ বান্দরবনের তৃতীয় পর্বের গল্প। আপনাদের মাঝে আমি আবার চতুর্থ পর্ব নিয়ে হাজির হবো। আশা করি আমার আগের দুই পর্বের ন্যায় এই পর্বটিও ভালো লেগেছে।
Device : redmi note 13 pro plus
What's 3 Word Location: https://w3w.co/umbilical.boulevard.downswing
তাহলে আপনারা অপেক্ষা করুন চতুর্থ পর্বের আশায়। তাহলে আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি দেখা হবে আবার নতুন পর্ব নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনাই রইল।
আমার পোস্টে ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ সবাই কে আমার পোস্ট টা পড়ার জন্য।
আমি মোঃ আশিকুর রহমান সোহাগ। আমার স্টীমিট একাউন্ট@ashikur50। আমি একজন বাঙালি আর আমি বাঙালী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করি। আমি স্টীমিটকে অনেক ভালোবাসি। ভালোবাসি পড়তে, লিখতে, ব্লগিং,ফটোগ্রাফি,মিউজিক,রেসিপি ডাই আমার অনেক পছন্দের। আমি ঘুরতে অনেক ভালোবাসি। আমি একজন মিশুক ছেলে। আমি সবার সাথে মিশতে ভালোবাসি।

https://x.com/AshikurShohag/status/1931416177387110808?t=r1Rr1uReLRB1HK4mrA8jtg&s=19
https://x.com/AshikurShohag/status/1931418606858088591?t=nVdA_xTHq5dTs5i4j5QbfQ&s=19
https://x.com/AshikurShohag/status/1931419040096133508?t=DR5OMFXa5u0qaqLftVj7ug&s=19
https://x.com/AshikurShohag/status/1931419320363712731?t=KgwOM6icbSLOPfYB_MAVRA&s=19
https://x.com/AshikurShohag/status/1931419688162263431?t=vAJsYOVobMY_457xLNL2pw&s=19
https://x.com/AshikurShohag/status/1931420059794346060?t=f6xxN2XQlvRTL555PstOwg&s=19
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 7/8) Get profit votes with @tipU :)
বান্দরবান ভ্রমণের খুবই সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি৷ আপনার কাছ থেকে আজকের এত অসাধারণ পোস্ট পড়ে খুব ভালোই লাগলো। এখানে এই বান্দরবানের তৃতীয় পর্ব শেয়ার করেছেন দেখে খুব ভালই লাগছে। এখানে ফটোগ্রাফির মধ্য দিয়েও আপনি এই বান্দরবানের সৌন্দর্যকে খুব সুন্দর ভাবে আপনার এই পোষ্টের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন৷ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷