অনেকদিন পর!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
খুব ছোটবেলা আমার একটা বাজে অভ্যাস ছিল আমি আমার মা কে ছাড়া কোথাও যেতাম না। আবার আমার মা কে একা কোথাও যেতে দিতাম না। এক পর্যায়ে গিয়ে আমার মা আমার এই অভ্যাসে বেশ বিরক্ত হয়ে যায়। তবে আমি যখন স্কুলে ভর্তি হয় তখন এই অভ্যাস টা কেটে যায়। আমার বাড়ি থেকে আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ত্ব ছিল প্রায় দেড় কিলোমিটার। এবং এই পুরোটা পথ ঐসময় আমাকে হেঁটেই যেতে হতো। প্রথম দিকে রাস্তা টা খুব একটা ভালো ছিল না। পরবর্তীতে যখন রাস্তা টা ভালো হয় তখন মোটামুটি যানবাহন কয়েকটা পাওয়া যেত। কিন্তু ততদিনে হেঁটে যাওয়া আসার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।
আমার সাথে আমার আরও কিছু বন্ধু ছিল আমার এলাকার। যদিও কয়েক বছর পরে গিয়ে সেটা পরিণত হয় মাএ দুজনে। আমি ছিলাম এবং আমার সাথে ছিল আমার এলাকার দুইজন মেয়ে। ক্লাস ফাইভ পযর্ন্ত আমি ওদের সাথেই যাওয়া আসা করতাম। প্রতিদিন গ্রামের মধ্য দিয়ে ঐ রাস্তা ধরে আমরা হেঁটে স্কুলে যেতাম আবার বিকেলে ফিরে আসতাম। কখনও কখনও বেশ ক্লান্ত হয়ে যেতাম। আমার পা আর সহ্য করতে একেবারেই পারত না। এভাবে প্রায় পাঁচ বছর চলে যায়। তবে ক্লাস ফাইভ পাস করার পরে আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে আর খুব একটা যাওয়া হয়নি। ঐটা একটু অফসাইড হয়ে যায় আমাদের বাড়ি থেকে এটাই ছিল কারণ। তারপর সময় পেতাম না খুব একটা।
আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেষ গিয়েছিলাম ২০২২ সালে আজ থেকে তিন বছর আগে। তারপর আর ঐ রাস্তায় একেবারেই যাওয়া হয়নি আমার। এবার ঈদে বাড়ি গিয়ে একদিন হঠাৎ করেই আমি এবং আমার এক চাচাতো ভাই বাইক নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ঐ সাইডে। বাইকের পেছনে বসেই আমি বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করি। সঙ্গে সঙ্গে আমার স্মরণ হয়ে যায় ঐ দিনগুলোর কথা। যদিও আশপাশের পরিবেশের বেশ পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সবকিছু যেন আগের মতোই আছে। যদিও আমার প্রাইমারি স্কুলে যায়নি আমি। ঐ বাইরে রাস্তার উপর থেকেই দেখেছিলাম। ঐসময়ের আমার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ নেই। বলতে গেলে কারো সাথেই দেখা হয় না।
স্যোসাল মিডিয়ায় খোঁজ করেছি কিন্তু খুব একটা লাভ হয়নি। এটা একটু অদ্ভুত শোনা গেলেও ব্যাপার টা সত্যি। অনেকদিন পর আবার ঐদিকে গিয়ে বেশ ভালো লাগছিল। তবে স্কুলের বন্ধুদের সাথে স্যার দের সাথে একদিন দেখা করতে পারলে সবচাইতে বেশি ভালো হতো। কিন্তু এই সময়ে এসে সেটা মোটেই সহজ না। যদিও আমাদের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ স্যার এর সাথে মাঝে মাঝে দেখা হতো বাড়িতে থাকতে। মানুষ বদলায় কিন্তু তার অনূভুতি গুলো আগের মতোই থাকে। আর এই অনূভুতি গুলো শুধুমাত্র একটা স্পর্শের অপেক্ষায় থাকে। অন্যরকম সে স্পর্শ। সেই স্পর্শ স্মৃতির স্পর্শ। একটা রাস্তা অনেক কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। অনেক অনূভুতি জাগিয়ে তুলতে পারে ঐদিন এই ব্যাপার টা আমি খুব গভীর ভাবে বুঝতে পেরেছিলাম।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
https://x.com/Emon423/status/1912435647304069135?t=LENyadzfJLakm9pt1kQ9JQ&s=19
https://x.com/Emon423/status/1912436103992471716?t=_CKVN8UH82cqcVeCv2pM4Q&s=19
https://x.com/Emon423/status/1912436343508201479?t=WHXiohJtGmIwh3pp7ZM_Lg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.