এম আই টি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটির কিছু চমৎকার আলোকচিত্র
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
ভারতের অন্যতম প্রগতিশীল ও চেতনায় ভরপুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান MIT World Peace University (MIT-WPU), তার লোনি কালভোর ক্যাম্পাসের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। পুনের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসটি শুধুমাত্র একাডেমিক উৎকর্ষতার কেন্দ্র নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, বিশ্বশান্তি ও সমন্বয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ। এখানকার ‘বিশ্ব শান্তি গম্বুজ’ (World Peace Dome) আকারে যেমন বিস্ময়কর, তেমনি তা চেতনায় বহন করে এক বৃহত্তর বার্তা — জ্ঞান ও শান্তির একত্রীকরণ।
লোনি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক গবেষণাগার, এবং সবুজ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের শেখা ও বেড়ে ওঠার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়। এ এক এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও মানবতার চর্চা — যা একজন পরিপূর্ণ বিশ্বনাগরিক তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
গত বর্ষাকালের একদিন, হঠাৎ ছুটির সুযোগ পেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম MIT World Peace University-এর লোনি ক্যাম্পাস দেখতে। সেদিন ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ—বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের নানা ধরনের প্রোগ্রাম চলছিল একসাথে। আমরা পূর্বেই গেট পাস সংগ্রহ করেছিলাম, তাই ভেতরে প্রবেশে কোনো অসুবিধা হয়নি।
গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিশাল সেই বিশ্ব শান্তি গম্বুজ—যেন এক ঝলকে দেখা তাজমহলের মতো সৌন্দর্য ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে! গম্বুজের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, যেন এর মধ্যে প্রবাহিত হচ্ছে এক গভীর শান্তি ও প্রজ্ঞা। এরপর ধীরে ধীরে আমরা গোটা ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে দেখলাম। একেকটি ভবন, একেকটি করিডর যেন একেকটি উপলব্ধির দিকচিহ্ন হয়ে উঠছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সবুজে ঘেরা খোলা মাঠ, আর শিক্ষার অনুশীলনে মগ্ন ছাত্রছাত্রীদের দেখে মনে হচ্ছিল—এই জায়গাটা শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এক স্বপ্নের বাস্তব রূপ।
বিশ্ব শান্তি গম্বুজের ভেতরে প্রবেশ করে, তার আভ্যন্তরীণ স্থাপত্য ও তার আশপাশের পরিবেশ দেখে এক ধরনের অন্যরকম প্রশান্তি লাভ করা যায়। গম্বুজের ভেতরে মনোমুগ্ধকর একটি শান্তির অন্দর দেখা যায়, যেখানে নানা ধর্ম ও সংস্কৃতির ছবি, শান্তির বার্তা ছড়িয়ে আছে দেয়ালজুড়ে। এখানে অল্প কিছু সময় কাটানোর পর, মনে হচ্ছিল যেন সময় থেমে গেছে এবং আমরা এক অদ্ভুত শান্তির অনুভূতি অনুভব করছিলাম।
এরপর, ক্যাম্পাসের অন্যান্য অংশে ঘুরে বেড়ালাম, যেখানে আধুনিক গবেষণাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, এবং সবুজে ভরা খোলা মাঠ রয়েছে। প্রতিটি জায়গা যেন শিখন ও বিকাশের এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এখানে শুধু শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, মানবতা এবং শান্তির গভীর বার্তাও ছড়িয়ে ছিল।
এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে একটি দারুণ প্রভাব রেখে গেছে, এবং সত্যিই মনে হয়েছিল, MIT-WPU-এর এই ক্যাম্পাস শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি শান্তির কেন্দ্র, যেখানে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী এক নতুন আশা ও লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ায়।
ঘুরতে ঘুরতে বেশ কিছু ছবি সংগ্রহ করেছিলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করব করব করে করা হয়ে ওঠেনি তাই ভাবলাম আজকে সেগুলোই শেয়ার করি।
আলোকচিত্র -১
মূল ক্যাম্পাসে ঢোকার বাইরের গেট এটি। এখান থেকে যেমনটা দেখা যায় সেটাই ছবিতে ধরে রেখেছি।
আলোকচিত্র -২
এই সেই বিখ্যাত গম্বুজ যা কিনা এশিয়ার সবথেকে বড় শান্তির ডোম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
আলোকচিত্র -৩
গম্বুজের ভেতরে ঢুকলেই ডানদিকে দেখা যায় এই স্ট্যাচুটি। এটি আসলে মহাভারতে বর্ণিত পঞ্চপান্ডবের মহাপ্রস্থান যাত্রা।
আলোকচিত্র -৪
ডমের পাশেই একটি সবুজ ঘাসের গালিচা বিছানো মাঠ থেকে এই ছবিটি তুলেছিলাম।
আলোকচিত্র -৫
গম্বুজের চারপাশে এরকম ধরনের চারটি থাম আছে ঠিক যেমনটা তাজমহলের চারপাশে দেখতে পাই। তবে আকৃতি গুলো একেবারেই আলাদা। সাথে ডিজাইনও আলাদা।
আলোকচিত্র - ৬
এই জায়গাটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের একেবারে পেছনের দিকে। এই মুথা নদীর প্রবাহিত জলের ওপর যে তিনটি মঞ্চ দেখতে পাচ্ছেন সেখানে একটিতে কোন একজন গায়ক এবং অন্য দুটিতে বাজানদার নানান ধরনের বাজনা নিয়ে বসতেন। এই জলের কোন কোন শব্দে বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১শে ডিসেম্বর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন উল্লেখযোগ্য দিন উদযাপন হত গান গেয়ে। এখানে লতা মঙ্গেশকর পর্যন্ত গান গেয়ে গেছেন অনেকবার।
আলোকচিত্র -৭
এই ছবিটি গম্বুজের ভেতরের। বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের তৈরি করা মডেলের প্রদর্শনী রেখেছিল সেই দিন। অনেকটা সময় এখানে কাটিয়েছি হে গম্বুজের ভেতরেও নানান ধরনের কারুকার্য রয়েছে সাথে সারা বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত মুখ এবং নানান ধর্মের উল্লেখযোগ্য নামগুলির স্ট্যাচু আমরা দেখতে পাই।
এই ইউনিভার্সিটি এরিয়াটি রাজ কাপুরের নিজস্ব জায়গা এবং তিনি এটি দান করেছেন। এখানে একটি সেকশন আছে যেখানে চলচ্চিত্র সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয় এবং রাজ কাপুরের একটি বড় স্টুডিও রয়েছে।
সবটা একদিনে ঘুরে দেখতে পারিনি হয়তো পরে আবার কখনো সুযোগ হলে যাব। তার মধ্যে কিছু কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম আশা করি ভালো লাগবে।
আজকের ব্লগ এখানেই শেষ করছি আবার আসবো আগামীকাল নতুন কিছু নিয়ে।
| পোস্টের ধরণ | ফটোগ্রাফি পোস্ট |
|---|---|
| ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
| লোকেশন | পুনে ভারতবর্ষ (https://what3words.com/intruded.scripted.rams) |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1915662893409767642?t=RigEA3n9E8uvKVKGbcY8lw&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1915794783852802212?t=d0odgoUvxoeglZuICddILQ&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1915795287563735352?t=kXWiuAOLjSUV2DsnU6pxeA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1915795931372429645?t=BcST_gYQ7W7qXAxOvr9vuA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1915808407208002008?t=xitvmOMLKbFHfcrYJG2J5w&s=19
কি সুন্দর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসটা। আর বেশ পরিচ্ছন্ন ও গোছানো। অনেক কিছু জানতে পারলাম আপনার পোস্টটি পড়ে। সেই সাথে প্রতিটি স্থাপনা কি যে সুন্দর কারুকার্যময়।তবে মুথা নদীর ভিতর মঞ্চ তিনটার আইডিয়াটি জাস্ট অসাধারন। আর ফটোগ্রাফিগুলোও বেশ সুন্দর করেছেন দিদি।
সত্যিই ভীষণ সুন্দর। অনেক বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। আমি পুরোটা ঘুরতে পারিনি।
ধন্যবাদ আপনাকে আপু, সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।।
ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস টা দারুণ তো। দেখে বেশ লাগল কিন্তু। ফটোগ্রাফি গুলো বেশ দারুণ করেছেন আপু। পাশাপাশি পোস্ট টা বেশ সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। সবমিলিয়ে দারুণ ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে।
হ্যাঁ খুবই সুন্দর ক্যাম্পাসটা। আর অনেকটা বড়। প্রথমে মনে হয়েছিল পর্যটন কেন্দ্র। তবে সব কিছুই দারুণ সাজানো। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।।