স্বরচিত কবিতা। সাধারণ মানুষের জন্য লেখা একটি কবিতা।
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
কথায় বলে গ্রীষ্মকাল এলে দিন বাড়ে রাত কমে। কিন্তু আমার যেন তা মনেই হচ্ছে না, সারাদিনে কোনোভাবেই সময় কোলে উঠতে পারছি না। এখন নিজের অন্যান্য কাজের চাপ এত বেড়ে গেছে সেটা কাটিয়ে দিয়েছি একটা পোস্ট করে যাব রাত্রিবেলায় জেগে সেটাও হচ্ছে না। ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ছি।
একটা পত্রিকা প্রকাশ হলে মানুষ সেটা হাতে নিয়ে অনেক মন্তব্য করেন এবং আনন্দিত হন কিন্তু সেই পত্রিকা প্রকাশের পেছনে যে আসলেই কতখানি খাটুনি তা যারা করে তারাই একমাত্র জানেন। এখন কথা হচ্ছে পত্রিকা করে কি হয় টাকা কি আসে? না টাকা আসে না ঠিকই, উল্টে নিজের পকেট থেকে অনেক টাকায় চলে যায়। কিন্তু সাহিত্য বা সংস্কৃতির প্রতি আমাদের প্রত্যেকেরই মানুষ হিসেবে কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। সেটা কি মাথায় রেখেই এইটুকু কাজ করে থাকি।
আজ প্রায় সারাদিন ধরেই পত্রিকার নানান কাজ করেছি। একটানা কাজ করতে করতে অসহ্য ঘাড়ে যন্ত্রণা হচ্ছে এখন। যারা লিখেছেন তাদের প্রত্যেককে মনোনয়নপত্র বানিয়ে পাঠালাম এবং আগামী মাসের ১১ তারিখ আমাদের পত্রিকা কবিতার আলোর বাৎসরিক অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে যারা যারা কবিতা পাঠ বা গান আমন্ত্রিত তাদের সবার জন্য আমন্ত্রণপত্র তৈরি করলাম। এবং পাঠিয়েও দিলাম। শুনতে খুব ছোট মনে হলেও খুব কম করে প্রায় দেড়শ থেকে ২০০ জনের আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছি। আর ৩০ জন কবির মনোনয়নপত্র। এরপর যখন সন্ধ্যেবেলায় সোশ্যাল মিডিয়াতে এনাউন্স করলাম তখন কত মানুষের কত ক্ষোভ কেন তাদের কবিতা ঠাঁই পেল না এবারের সংখ্যায়।
মানুষকে এটাই বোঝাতে পারিনা যে যাই লেখে সব সময় কি নির্বাচন যারা করেন তাদের মন জয় করতে পারে?
গতকাল আবার বাংলাদেশ থেকেই একটি টক শো তে আমন্ত্রণ ছিল। লাইভ চলছিল রাত্রি আটটা পর্যন্ত। সেখানেও বিশেষ একটি টপিকের উপর আমায় বলতে অনুরোধ করেছিলেন এবং আনন্দের সঙ্গে বলি সবার ভীষণ পছন্দ হয়েছে আমার কথাগুলো।
যাই বলি মানুষের কাছে যে পৌঁছে যেতে পারি এটাই আনন্দের। জীবন মানেই যে সব সময় কোন কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্যে ছুটতে হবে এমন না। অন্তত আমার কাছে তো তা নয়। একজন সাধারণ মানুষ সাধারণের মতোই বাঁচতে ভালোবাসি।
আজ তাই ঠিক করলাম একটি সাধারণ মানুষের জন্য লেখা একটি কবিতা আপনাদের জন্য পোস্ট করি।
শুকিয়ে যায় বিদুরের বীজ
--------------------------------------- নীলম সামন্ত
এক থালা ভাত বেড়ে দিতে পারিনি বলে
পৃথিবীর অভুক্তদের উদ্দেশ্যে
গন্ধরাজ বাড়িয়ে দেব—
মনে পড়তেই
চুপিচুপি কোঁচড়ে তুলে রেখেছি হাড়কাটা গলির
দাঁত চেবানো পেয়াদা
ও নীলনদ প্রিয় দানাদানা চোখ...
বাকি ছিল দু'টুকরো জিভ -
ক্ষুধার্তরা মানুষকেও খায়
অনর্গল বিপ্লব করে,
স্লোগান দেয়...
মিছিল চলে যায় পান-গুমটির গা-ঘেঁষে
কারা বেঁধে যায় শূন্যের তাঁবেদারি?
সেই শূন্যের কেন্দ্রবিন্দু ছুঁয়ে
বন্দুক হাতে দৌড়ে আসছে ফিদেল কাস্ত্রো
পেছনে অজস্র চিৎকার-
সামনে বাপুজি কেক ও ভুবনভোলা মুখ...
তবে বিপ্লব কোথায় লুকিয়ে?
কোথায় কোথায় স্পষ্ট শয়তানের পাঁজর-ছাপ?
বনগাঁ লোকাল কাঁধে যে সত্যগুলো শুধু ছুটেই চলে
তাদের দিকে মানুষ যায় না-
তারা লোক নামায়, লোক তোলে
আর ছায়াহীন রাস্তায় রোদ চাটতে চাটতে বনিতার ঘর পেরিয়ে
পুঁতে দেয় গন্ধরাজের চারা-
আমার তখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে শুকিয়ে যায় বিদুরের বীজ।
কেমন লাগল আজকের কবিতা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন৷
এলাম।
টা টা
| পোস্টের ধরণ | ক্রিয়েটিভ রাইটিং |
|---|---|
| কলমওয়ালা | নীলম সামন্ত |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ৫৪ |
| লোকেশন | পুণে,মহারাষ্ট্র |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
https://x.com/neelamsama92551/status/1917246332630167669?t=ThCzK7v2S7Dg29rtCDFNVg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1917248356146966896?t=z5fEWePWDUUMyir2R1qESQ&s=19
এই কবিতাটি ক্ষুধা, বিপ্লব এবং মানুষের কঠিন অবস্থার প্রতীকী চিত্র। এখানে কবি একটি থালা ভাত না দিতে পারার কথা বলছেন, যা পৃথিবীর অভুক্তদের প্রতি এক ধরণের দুঃখ এবং প্রতিবাদের ভাষা। "ক্ষুধার্তরা মানুষকেও খায়" – এর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চাচ্ছেন যে, যখন মানুষের কাছে কিছু থাকে না, তখন তারা অসহায়ভাবে অন্যদের ক্ষতি করতে পারে।
খুব সুন্দর বিশ্লেষণ করলেন আপনার বিশ্লেষণ করেই মুগ্ধ হলাম। আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন। ভালো থাকুন ভাই।
আপনার এই কবিতাটি এক গভীর প্রতীকী উপলব্ধির দর্পণ। ক্ষুধা, বিপ্লব ও নিঃস্বতার এক গূঢ় চিত্র এঁকেছেন আপনি। প্রতিটি পঙক্তিতে উঠে এসেছে সমাজের অবহেলিতদের কান্না ও অন্তর্দহন। ভাষা ও ভাবনার দিক থেকে সত্যিই প্রশংসনীয়।
খুব সুন্দর করে বিশ্লেষণ করলেন কবিতাটি পড়ে একদম যেন অন্তর্নিহিত অর্থ টেনে বের করার মত। অনেক ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর করে কবিতাটি পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য।
আপনার কবিতাটি পড়ে অনেক বেশি ভালো লাগলো। অসাধারণ গভীর অর্থপূর্ণ কবিতা আজকে আপনি রচনা করেছেন। বাস্তব সমাজের অনেকটাই এই কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনার কবিতাগুলো সব সময় অনেক সুন্দর হয়ে থাকে৷ সব সময় আপনি যেভাবে এত সুন্দর কিছু কবিতা আমাদের মাঝে শেয়ার করে আসছেন তা আমার অনেক ভালোই লাগে৷ আজকে যেভাবে আপনি সাধারণ মানুষ নিয়ে এত সুন্দর একটি কবিতা শেয়ার করেছেন তা পড়ে খুব খুশি হলাম৷ এখানে আপনি একের পর এক লাইনের সামঞ্জস্যতা খুব সুন্দরভাবেই বজায় রেখেছেন৷ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷