নিজের আঁকা কিছু ছবির ফটোগ্রাফি। রেখা সৃষ্টির অনুভূতি।
প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,
সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।
রেখার আড়ালে আমার আত্মকথন
শব্দের আগে ছিল রেখা। অনুভবের আগে ছিল রঙ। শিল্পের ভাষা কখনো কখনো এতটাই নিঃশব্দ যে, তা চোখ দিয়ে দেখা যায়, কিন্তু মুখ দিয়ে বলা যায় না। এই ছবিগুলো আমার নিজের আঁকা, কিন্তু এগুলো নিছক চিত্রকর্ম নয়—এ যেন এক ধরণের নীরব আত্মকথন, যেখানে আমি আমার অনুভব, স্মৃতি, প্রশ্ন আর প্রতিবাদকে রঙ আর রেখায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।
প্রতিটি ছবি একটা মুহূর্তের ভেতর ঢুকে যাওয়ার জানালা। কখনো সেই মুহূর্ত বড় নিঃশব্দ, একা, বিমূঢ়। কখনো আবার ছলকে ওঠা আবেগে ভরা, চিৎকার করা রঙের ঝড়। সমাজ, সময়, মানুষ আর আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতার অনুরণন ছড়িয়ে আছে এই কাজগুলোর প্রতিটি স্তরে। হয়তো কেউ দেখতে পাবে একটা অভিমানী চোখ, কেউ খুঁজে পাবে বিদ্রোহের ছায়া। কেউ আবার থেমে যাবে শুধু রঙের গাঢ়তায়, যা কোনো ব্যাখ্যা চায় না।
আমার এই চিত্রকর্মগুলো কোনো নির্দিষ্ট ঘরানায় বাঁধা নয়, ঠিক যেমন আমি নিজেও নই। কখনো আঁকি নিছক আবেগে, কখনো স্বপ্নে দেখা এক টুকরো দৃশ্য মনে গেঁথে থাকে দিনের পর দিন—সেটাকেই একদিন রঙে ধরি। আবার কখনো রীতিমতো এক বিষণ্ন চিন্তা, সমাজের অন্তঃসারশূন্যতার প্রতিবিম্ব হয়ে ধরা দেয় ছবির পটভূমিতে।
এই পোস্টের ছবিগুলো, হয়তো আপনাদের চোখেও কোনো অর্থ খুঁজে নেবে—হয়তো একেবারেই ভিন্ন এক অর্থ, যা আমি আঁকিনি, ভাবিওনি। কিন্তু তাতেই তো শিল্পের সৌন্দর্য। যে কথা বলা যায় না, যে অনুভব লেখা যায় না, সেইসব ভাষাহীন কথাগুলোরই এই নিঃশব্দ ভাষ্য—এই রেখাগুলোর আড়ালে লুকোনো আমার একান্ত গল্প।
ফটোগ্রাফি -১
এই ছবিটা আমি এঁকেছিলাম প্রেমকে একটা নীরব অথচ গভীর অনুভূতি হিসেবে ধরার চেষ্টা করে। এখানে রাধা আর কৃষ্ণ – শুধু চরিত্র নয়, তারা যেন দুইটি রঙ, দুইটি ভাব, দুইটি আত্মার ছায়া, যারা একে অপরকে ছুঁয়ে থাকে নীরবতায়। নীল আর গেরুয়া মুখাবয়ব যেন বলছে, ভালোবাসা সবসময় শব্দে প্রকাশ পায় না, তার একটা আত্মিক স্পন্দন থাকে, একটা চিরন্তন সংলাপ, যা শুধু হৃদয় বোঝে।
পাতার মতো ছড়িয়ে থাকা সোনালি অনুভূতিরা যেন সময়ের পাতায় জমে থাকা স্মৃতি, আর কালো পটভূমি সেই গভীরতা যেখানে এই প্রেম জন্ম নেয়। বাঁশি শুধু সুর নয়, সেটা এখানে হয়ে উঠেছে মিলনের সেতু। এই ছবিটা আমার কাছে এক ধরনের ধ্যান, যেখানে প্রেম আর শিল্প একাকার হয়ে যায়।
ফটোগ্রাফি -২
এই ছবিটা আমার কল্পনার একটা রঙিন খসড়া। একটা পাতার প্রতিটি পাপড়িতে আমি রেখে দিয়েছি শব্দের ছাপ—কখনও কবিতার, কখনও ভাবনার, কখনও নিছক লেখার খেলা। পেছনের জলরঙের ঢেউ যেন মনের ভিতরের যত অনুভব—আনন্দ, বিষাদ, বিস্ময়, প্রতিবাদ—সব মিলে এক অভ্যন্তরীণ বর্ণবিস্ফোরণ।
এই ছবিটা এক ধরণের সংলাপ—যেখানে ভাষা আর রঙ একসাথে কথা বলে। শব্দ আর রেখার মধ্যে যে সম্পর্ক, তাকে ধরার এই চেষ্টাটা আমার খুব ব্যক্তিগত, খুব আত্মিক। একটা পাতা শুধু প্রকৃতির অংশ নয়, সেটার মধ্যে হয়তো একটা গল্পও বাস করে।
ফটোগ্রাফি -৩
এই ছবিটা আমার রঙ আর রেখার এক ধরণের যোগসূত্র। সূর্যমুখীর উজ্জ্বলতা এখানে শুধু একটা ফুলের সৌন্দর্য নয়, বরং এক অনন্ত জেগে ওঠার প্রতীক। তার পাপড়িগুলো যেন আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে সমস্ত অন্ধকারের বিরুদ্ধে।
আর ঠিক তার মাঝখানে, সাদা-কালোর জটিল ম্যান্ডেলা নকশা—যা সময়, ধ্যান আর ধৈর্যের ছাপ রেখে যায়। এই অর্ধবৃত্ত যেন দুই জগতের মিলনস্থল—বাইরের প্রাণবন্ত রঙ আর ভেতরের সূক্ষ্ম, জটিল অনুভবের। এই ছবিটা আমার কাছে স্থিরতা আর বিস্তার—দুটো বিপরীত সত্তার একসাথে বাঁচার গল্প।
ফটোগ্রাফি -৪
এই স্কেচটা কেবল এক নারীচরিত্রের নয়, বরং এক অভিব্যক্তির, এক শিল্পশৈলীর ভাষ্য। তার পোশাকে মিশে আছে জেনট্যাঙ্গল প্যাটার্নের সূক্ষ্ম কাজ—যেন প্রতিটি রেখা একেকটা গল্প বলে, প্রতিটি বক্রতা একেকটা মনের ওঠা-পড়ার ছাপ।
কালো-সাদা রেখায় গড়া এই স্কেচে নেই রঙ, তবু আছে রঙের চেয়েও বেশি কিছু—আছে আবেগ, আছে সময়ের ছাপ, আর শিল্পীর নিজস্ব কল্পনার ছায়া। তার চোখের দৃষ্টিতে এক গভীর নির্লিপ্তি, আর জামার প্রতিটি খুঁটিনাটিতে এক ধৈর্যের নিখুঁত প্রকাশ।
ফটোগ্রাফি -৫
মধুবনী শিল্পের কথা আমরা সকলেই কম বেশি জানি। অসাধারণ সূক্ষ্ম কাজের উপরে এই ছবিটি এঁকেছিলাম। মাছ খুবই শোভাময় এবং সজ্জনমূলক হয়ে থাকে। মাছের আকার এবং বৈশিষ্ট্যগুলো শৈল্পিকভাবে এঁকেছি যা শিল্পকর্মের সৌন্দর্যও অনেকখানি বৃদ্ধি করেছে।
এই ছবিতে বিশেষ কোনো রং না ব্যবহার করে শুধু লাল এবং কালো রঙের পিন দিয়ে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
ফটোগ্রাফি -৬
জেন্টাঙ্গেল আর্ট করেছিলাম। অত্যন্ত ধৈর্য্য নিয়ে। ছবিটা পুরোটা তোলা নেই। একটু কায়দা করে তুলেছি। যাইহোক শিল্প আর ধৈর্য্য দুটো মিলিয়েই তৈরি হয় অসাধারণ সৃষ্টি। এখানে প্রতিটি রেখা আমার তৈরি করা আকর্ষণ।
আশা করি আজকের আমার ফটোগ্রাফি পোস্ট আপনাদের মন জয় করে নেবে৷ সাথে বর্ণনাও।
আবার আসব আগামীকাল নতুন কিছু নিয়ে। আজ আসি।
টা টা
| পোস্টের ধরণ | ফটোগ্রাফি পোস্ট |
|---|---|
| ছবিওয়ালা | নীলম সামন্ত |
| মাধ্যম | স্যামসাং এফ ৫৪ |
| লোকেশন | মহারাষ্ট্র, ভারতবর্ষ |
| ব্যবহৃত অ্যাপ | ক্যানভা, অনুলিপি |
১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে
~লেখক পরিচিতি~
আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশ ও ইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।
https://x.com/neelamsama92551/status/1912888946746614242?t=Zh7JIv_VpAGh9K5s1Bte8A&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/neelamsama92551/status/1912926865993683155?t=Au4Fs7ogZC7MTvfWpZ2t1w&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912927462809276473?t=CF7mmz5VVlvWXx4B0knrow&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912928287510446318?t=taMVshug_sKXHXi1W43L6g&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912928676586668477?t=_2K2Abf4o4gZrgetsEZ6DQ&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912929118792093854?t=8QmyhNmEE52bMovXU6uNzw&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912929706732630311?t=7vx-Y5h0861eyBkHGeNdqw&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912930419659391279?t=x_eddV6jxQR-5SPGOBqCAw&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912931585902379183?t=wfp-nDKDkE-8whq7kuppcA&s=19
https://x.com/neelamsama92551/status/1912932270576714043?t=q9K1t3UCRCN2AiDH9cGuFA&s=19