যুদ্ধ- কে জেতে কে হারায়

প্রিয় আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা,


সমস্ত ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের বাঙালি সহযাত্রীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


received_580029557690979.jpeg

[সোর্স](Meta AI)








আশা করি আপনারা ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ আছেন, সব দিক থেকে ভালোও আছেন। আপনাদের সবার ভালো থাকা কামনা করে শুরু করছি আজকের ব্লগ।



যুদ্ধ। মাত্র দুটি অক্ষরের শব্দ, কিন্তু তার অভিঘাতের ওজন কতখানি, তা একবার যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে হাঁটলে বোঝা যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বপ্নগুলো কথা বলে না, চোখের ভাষা বোঝার জন্য তখন কোনো অনুবাদকের দরকার হয় না। সভ্যতার ইতিহাসে যুদ্ধ বারবার ফিরে এসেছে নানা নামে, নানা রূপে। কোথাও তা মুক্তিযুদ্ধ, কোথাও তা নিছক সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব, কোথাও আবার একতরফা আগ্রাসন। কিন্তু প্রতিবার একটিই প্রশ্ন থেকে যায়—এই যুদ্ধের শেষে সত্যিকারের জয় কার হয়? আর হারে-ই বা কে?

যুদ্ধ শুরু হয় কারণ দিয়ে—শাসকের ভাষায় “অপরিহার্যতা”, “আত্মরক্ষা”, “জাতীয় গর্ব” অথবা “বিচারের দাবি”। কিন্তু বাস্তবে তার পেছনে থাকে শক্তির খেলা, রাজনৈতিক কৌশল, প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদের দখলের লালসা। জাতি-ধর্ম-ভূখণ্ড—এই শব্দগুলো ব্যবহার করে যেসব যুদ্ধ শুরু হয়, সেগুলোর বীজ পোঁতা থাকে বহু বছর আগে, ইতিহাসের বুকে। রাষ্ট্রনায়করা টেবিলের চারপাশে বসে নীলনকশা তৈরি করেন, কিন্তু যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন গুলি চলে সাধারণ মানুষের বুকে।

যুদ্ধের শেষে যদি কোনো পক্ষ "বিজয়ী" হয়ও, সেই জয় কতখানি স্থায়ী? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু কি ভয়ঙ্কর ক্ষত রেখে গেছে সে যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে! লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু, শহর ধ্বংস, জাতিগত নিধনের কলঙ্ক। এক পক্ষকে হারিয়ে দেওয়া গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও বহু বছর ধরে মানুষের মনে, সমাজে, রাষ্ট্রে রয়ে গেছে তার রক্তাক্ত ছাপ। বিজয়ের আনন্দ তো রাজপ্রাসাদে ওঠে, কিন্তু গ্রামে, শহরে পড়ে থাকে ক্ষতবিক্ষত ভবন, অনাথ শিশু, বিধবা মা আর মৃতপ্রায় অর্থনীতি।

একটি বোমা ফেলার আগে কেউ জিজ্ঞেস করে না, ওখানে স্কুল ছিল না তো? কেউ থেমে ভাবে না, গুলির গন্তব্য শিশুর বুক না তো? যুদ্ধের মানচিত্রে শুধু দাগ পড়ে সীমান্তের, মুছে যায় মানুষের পরিচয়, জীবন, গল্প। একদিন যে কৃষক জমিতে ধান রোপণ করত, আজ সে উদ্বাস্তু। যে ছেলেটি পড়াশোনার স্বপ্ন দেখত, তার হাত আজ রাইফেলের ট্রিগারে। যুদ্ধ শুধু মানুষ মারে না, হত্যা করে সভ্যতাকে, ইতিহাসকে, সংস্কৃতিকে।

আর যারা ‘জয়ী’ হয়—তারা কি নিঃসন্দেহে সুখী? রাষ্ট্র জেতে, শাসকের পদমর্যাদা বাড়ে, অর্থনীতি হয়ত কিছুদিনের জন্য উর্ধ্বগামী হয়, কিন্তু তার বিনিময়ে যে রক্তপাত ঘটে, যে ঘৃণা তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতের জন্য বিষবৃক্ষ রোপণ করে। ইতিহাস বলছে, এক যুদ্ধ আরেক যুদ্ধের বীজ বয়ে আনে। প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল হোক, রাশিয়া-ইউক্রেন হোক কিংবা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম—প্রতিটি যুদ্ধের শেষে থেকে যায় বহু অপূর্ণ প্রশ্ন, বহু না বলা কষ্ট।

এই প্রসঙ্গে আরও একটি কথা বলা জরুরি—যুদ্ধ কখনোই সমানভাবে আঘাত করে না। শাসকের বাংকার থাকে, কিন্তু গরিবের কুঁড়ে ঘর টিকে থাকে না। নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগে। ধর্ষণ, দারিদ্র্য, উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়া, শিক্ষার অভাব—এসব নিয়তি হয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধশেষের প্রজন্মের কাছে। তাদের কাছে “বিজয়” শব্দটি শোনা যায় না—তারা জানে শুধু বাঁচার লড়াই।

তাহলে যুদ্ধ কী নিয়ে আসে? বীরগাথা না মানবিক বিপর্যয়? এই প্রশ্নে এসে আমরা বুঝি—যুদ্ধ আসলে সবাইকে হারায়। হ্যাঁ, কেউ কেউ হয়ত জয়ী হয় ভূখণ্ডে, শক্তিতে, অর্থে। কিন্তু মানবতার পক্ষে কেউই জেতে না। এমনকি জয়ী রাষ্ট্রেও যুদ্ধোত্তর মানসিক অবসাদ, বেকারত্ব, অসন্তোষ, বিভাজন তৈরি হয়। আর পরাজিত পক্ষের কথা তো না বললেই নয়—তারা শুধু নয়, তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যুদ্ধের দায় বহন করে চলে।

তাহলে কি যুদ্ধ অনিবার্য? ইতিহাস বলছে, কিছু যুদ্ধ হয়ত হয়ে উঠেছিল সময়ের দাবি—যেমন স্বাধীনতা সংগ্রাম। কিন্তু অধিকাংশ যুদ্ধই প্রতিরোধযোগ্য ছিল—সংলাপ, কূটনীতি, বোঝাপড়ার মাধ্যমে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই পথে হাঁটার চেয়ে অস্ত্র তুলে নেওয়া সহজ মনে হয় যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদের কাছে।

বিশ্ববাসীর কাছে রেখে যেতে চাই, যুদ্ধ শেষে যদি কবরেই ঘুমায় জয়ী আর পরাজিত, তাহলে কাকে বলবেন বিজয়ী? যদি শিশুরা কাঁদে, মা তার সন্তানের লাশ চিনতে না পারে, যদি একটি প্রজন্ম শুধু ধ্বংসের গল্প শোনে—তাহলে সে যুদ্ধ কি আদৌ প্রয়োজনীয়?

1000205476.png


1000216462.png

পোস্টের ধরণজেনারেল রাইটিং
কলমওয়ালানীলম সামন্ত
মাধ্যমস্যামসাং এফ৫৪
লোকেশনপুণে,মহারাষ্ট্র
ব্যবহৃত অ্যাপক্যানভা, অনুলিপি


1000216466.jpg


১০% বেনেফিশিয়ারি লাজুকখ্যাঁককে


1000192865.png


~লেখক পরিচিতি~

1000162998.jpg

আমি নীলম সামন্ত। বেশ কিছু বছর কবিতা যাপনের পর মুক্তগদ্য, মুক্তপদ্য, পত্রসাহিত্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করেছি৷ বর্তমানে 'কবিতার আলো' নামক ট্যাবলয়েডের ব্লগজিন ও প্রিন্টেড উভয় জায়গাতেই সহসম্পাদনার কাজে নিজের শাখা-প্রশাখা মেলে ধরেছি। কিছু গবেষণাধর্মী প্রবন্ধেরও কাজ করছি। পশ্চিমবঙ্গের নানান লিটিল ম্যাগাজিনে লিখে কবিতা জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ ভারতবর্ষের পুনে-তে থাকি৷ যেখানে বাংলার কোন ছোঁয়াই নেই৷ তাও মনে প্রাণে বাংলাকে ধরে আনন্দেই বাঁচি৷ আমার প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ হল মোমবাতির কার্ণিশইক্যুয়াল টু অ্যাপল আর প্রকাশিত গদ্য সিরিজ জোনাক সভ্যতা



কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ

আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সব্বাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন৷ ভালো থাকুন বন্ধুরা। সৃষ্টিতে থাকুন।

🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾🌾


1000205458.png

94efd7b00e1c419882bdc6c39ad37576.jpg

58idrue9cqFRY6nTqJLVqfsb4wVh7ZWs43L5yXFnEhkUxzEnRkTgWCckHegc7PCxPgHnqDDN1D8QdfTCGbY9iBuPsGeaLrtVLqRhwqT7xJ...27q12hnjq9tChacZPybFFWJnvSTztDDdcqe2Pi5vvpMqc1CMfyAZ9sGet4Reu7XcQBG66EtGABGkLiJb1sCP6k9usSSg5EXUQ3aW2YRtWmTnaKYoT5Us2Q5Xm.webp

58idrue9cqFRY6nTqJLVqfsb4wVh7ZWs43L5yXFnEhkUxzEnRkTgWCckHegc7PCxPgHnqDDN1D8QdfTCGbY9iBuPsGeaLrpd8ZHCtmKTJs...aboNxzhW1ahSsvTUpnJQfz6QgCaByec9sbojdoRh6B6o3oCwxGgikcooVnvhsfDEQZQ1RMM1rkQHygr7Rvupo1fMavBd84apTwkJKoadAdrdG6Sm6B5xAow7V.webp

1000205505.png

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.33
JST 0.081
BTC 63226.76
ETH 1686.26
USDT 1.00
SBD 0.42