জেনারেল রাইটিং :- ছোটবেলার ছোট্ট একটা স্মৃতি।
আমি @tuhin002, আমি আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যগনকে আমার পক্ষ থেকে জানায় সালাম," আসসালামু আলাইকুম" সবাই কেমন আছেন ? আশা করি, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমি ও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহুর অশেষ রহমতে ভাল আছি। আজকে আমার আলোচনার বিষয়টি হলো ছোটবেলার ছোট্ট একটা স্মৃতি। আশা করি আজকের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনাটি আপনাদের ভালো লাগবে। তাই শুরু করছি আমার আজকের ব্লগ...
সৃষ্টি যেমন শুরু আছে তেমন শেষ আছে। প্রতিটা সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট প্রতিটা ঘন্টায় সবকিছুর পরিবর্তন ঘটছে। জীবনের এই পরিবর্তনটা একটা সময় সমাপ্তি ঘটবে। মানুষের জীবনে অনেকগুলো সময় অনেক কিছু স্মৃতি থাকে যেসব স্মৃতিগুলো ভুলবার নয়। প্রতিটা মানুষ চিন্তা ভাবনা স্মৃতি আকাঙ্ক্ষা আশা এগুলো নেই কিন্তু মানুষ বেঁচে থাকে। কখন কোথায় কোন সময় কোন কথাটা কোন বিষয়টা মানুষের মনে আসে আর সেই বিষয়টা তার ভালো লাগার সময়গুলোটাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় সেটা বোঝা যায় না। তবে প্রত্যেকটা মানুষের ছোট থেকে মৃত্যুর পর্যন্ত অনেক স্মৃতি থাকে এর মধ্যে কিছু স্মৃতি থাকে যে সব স্মৃতি গুলো মানুষ কখনোই ভোলে না। মানুষের সব স্মৃতি গুলো কখনো সুখের হয় কখনো আনন্দের হয় কখন আবার কষ্টের হয় কখনো আবার কবি বিকৃতি হয়। আমি আজকে আপনাদের মাঝে ঠিক এমন একটি স্মৃতি নিয়ে ভাই এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যেটা আমার ছোটকালে সত্যি একটা স্মৃতি এবং ভালো রকম একটা স্মৃতি হিসেবেই পরিগণিত। ছোট খালি সবাই চায় তার পিতার সাথে বেড়াতে। অনেক সময় বাবার ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে সেভাবে সময় দিতে পারেনা তারপরও অনেক বাবা আছে যারা একটু সময় পেলেই সন্তানকে সময় দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমি আজকে যে স্মৃতি টুকরা নিয়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছি সেই বিষয়টি কিন্তু একটা খেলার বিষয় নিয়ে। এই যে আপনাকে বললাম কিছু ছোট ছোট স্মৃতি থাকে যেগুলো কখনোই ভোলা যায় না কারন কি জানেন সে সমস্ত জিনিসগুলো বারবার আপনার সামনে রিপিট হতে থাকে। আর এই কারণে এগুলো বারবার মনে পড়ে।
আমি তখন অনেকটাই ছোট। ওই সময় আমার আব্বা ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকতেন। সেই সময়টা হয়তো বা সম্ভাব্য ২০০৬ সালের কথা। আমার মনে আছে সেই সময় আমার আব্বা ব্যবসার কাজে বাইরে গিয়েছিলেন এবং তিনি প্রত্যেকদিন সকালে দিকে যান এবং সন্ধ্যার পরে বাড়িতে আসেন। ঠিক তেমনি ওই একটা দিন ছিল যেদিন আব্বা গিয়েছিল এবং সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফেরার সময় তিনি আমার জন্য একটা সুন্দর একটা স্যান্ডেল কিনে আনছিলাম। আর একটা এটিএম লুঙ্গি কিনে আনছিলেন আসলে সেই সময় এটিএম লুঙ্গি গুলো কিন্তু খুব দারুণ ছিল যদি আমি খুব ছোট ছিলাম তাই আমার জন্য একটা ছোট করে একটা লোক কিনেছিলেন। তার মধ্যে ফুটবল বিশ্বকাপ চলছিল আর আমার আব্বা আমাকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাবারা সন্তানকে ঘাড়ে করে পিঠে করে কোলে করে নিয়ে যায় ঠিক আমার বাবাও ঘাড়ে করে নিয়ে গিয়েছিল। আপনারা হয়তোবা জানেন সেই সময় টিভি ছিল কিন্তু খুবই কম হাতেগোনা কিছু কয়েকটা সাদা কালো টিভি ছিল। আর সে সময় এটা খুব বেশি আকর্ষণ ছিল এক গ্রামের মানুষ সবাই একত্রিত জড়ো হয়ে কিন্তু খেলা দেখতো এটা কিন্তু খুব দারুণ একটা বিষয়। আর এই কারণেই কিন্তু আগের মানুষ খুব আনন্দ জীবন আনন্দ করতে অর্থাৎ একত্রে মানুষের আকাশ একসাথে বসে খেলা দেখাটা কিন্তু সত্য অনেক আনন্দের। আমার বাবা ব্রাজিলের সাপোর্টার তাই তিনি আমাকে খেলা দেখতে নিয়ে গেছিলেন আমি অবশ্যই দিন ব্রাজিলে খেলা হচ্ছিল না হচ্ছিল আর্জেন্টিনা আর একটা কোন দেশ আমার ততটা মনে নাই। তো সেই সময় ওর থেকে বলে এবং বাতিস তোতা বলে দুইজন প্লেয়ার ছিল আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য ওর থেকে খেলা করতে হলো কর্নারে। খেলতো তার এই খেলা দেখে আমার ভীষণ ভালো লাগছিল ওই সময় আর ওই সময় থেকে আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়ে যায়।
ঐদিন প্রতিপক্ষকে ছিল আমার জানা নেই তবে ওদের আর্জেন্টিনার জয় লাভ করে আর আর্জেন্টিনা জয়লাভ করার ফলে আমার পরনে যে লুঙ্গি ছিল আমি সেই লুঙ্গিটা উঁচু করে আমার বাবার সামনে সেই ডান্স ।অনেক মানুষ ছিল তারা এটা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছিল এবং সবার ভীষণ হাসছিল এবং তারা বলছিল ভাই আপনে করেন ব্রাজিলের সাপোর্টার আর আপনার ছেলে হয়ে গেল আর্জেন্টিনা সাপোর্ট। আমার আব্বাই বিষয়টি খুব আনন্দ উপভোগ করেছিল তিনি বলছিলেন সেটাই তো দেখছি এত কষ্ট করে কোলে করে নিয়ে এসে এখন দেখে ছেলে আমার বিরুদ্ধে চলে গেল। সত্যি বলতে ওই দিনটা আমার মাঝেমধ্যেই মনে হয় যখনই ফুটবল খেলা দেখি তখনই ওই সময়ের কথাটা মনে হয় এবং আমি নিজে কাছে বেশ ভালো একটা সময় উপভোগ করেছিলাম সেটা উপলব্ধি করতে পারি। তবে একটা বিষয় ঐদিন ঘটে গিয়েছিল আমার আব্বু আমাকে যে স্যান্ডেল কিনে এনে দিয়েছিল ওইটা আমি ঐদিন হারিয়ে ফেলেছিলাম। তবে খারাপ লাগছিল না কারণ এই যে নিজের দল জিতে গেছে যদি ওই দিন আমি প্রথম খেলা দেখি যে আমার ছোট্ট হলেও আমার খেলা সম্পর্কে ধারণাটা সবসময় একটু বেশি। আর আমি ছোট থেকে খেলার প্রতিবেশ আসক্ত ছিলাম। বর্তমানে এখন পর্যন্ত খেলা হলে আর অন্য কিছু মনে থাকে না আসলে খেলা দেখতে আমি ভীষণ ভালো লাগে এটাই। তবে সবার জীবনে একটা কোনো না কোনো অনেক স্মৃতি থাকে তার মধ্যে কিছু স্মৃতি থাকে যে সবগুলো তারা কখনোই ভুলতে পারে না এটা আমার জীবনের তেমন একটা স্মৃতি।
আজ এই পর্যন্ত। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
| ডিভাইস | poco M2 |
|---|---|
| লোকেশন | মেহেরপুর |
👨🦰আমার নিজের পরিচয়👨🦰
আমি আবুল বাশার খায়রুল আলম তুহিন। আমার জন্ম ১১ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে। আমার বাসা মেহেরপুর জেলা,গাংনী থানা, জুগীর গোফা গ্রাম। আমি বিবাহিত। বর্তমানে আমার দুইটা পুত্র সন্তান আছে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি রাজশাহী নিউ গভমেন্ট ডিগ্রী কলেজ থেকে। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ব্লগে কাজ করতে অনেক ভালোবাসি। এই ব্লগে কাজ করার মাধ্যমে আলাদা প্রশান্তি পায়। আমি ছবি আঁকতে,গান গাইতে,কবিতা লিখতে অনেক পছন্দ করি। এছাড়া আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। আর আমি স্টিমেটে জয়েন করেছি (২৭ - ০৬ - ২০২২) সালে। সংক্ষিপ্ত আকারে আমার নিজের পরিচয় আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
শৈশবের সেই উচ্ছ্বাস আর খেলার প্রতি ভালোবাসার গল্পটা দারুণ প্রাণবন্ত লাগল! বাবার কাঁধে চড়ে খেলা দেখতে যাওয়ার সেই মুহূর্ত, দলের জয় উদযাপন করতে লুঙ্গি উঁচিয়ে নাচ এসব ছোট ছোট ঘটনাই তো জীবনের আসল আনন্দের ঝলক! স্যান্ডেল হারানোর দুঃখও যেন জয়ের উচ্ছ্বাসে মিশে গিয়েছিল। এমন স্মৃতিগুলো শুধু ফেলে আসা সময়ের অংশ নয়, বরং এগুলোই জীবনের রঙিন গল্প হয়ে রয়ে যায়। সত্যিই অসাধারণ গল্প শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ।
পৃথিবীতে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে সবথেকে শ্রেষ্ঠ সময় হলো শৈশবকাল। আর ওই সময় স্মৃতিগুলো সবসময় মধুর হয়ে থাকে। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।