ছোট একটি পাখির গল্প
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম । আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ছোট্ট একটি পাখির গল্প । পাখি ভালোবাসে না এমন মানুষ মনে হয় খুব কমই আছে । আমার কাছে তো পাখি খুব ভালো লাগে তবে দূর থেকে আকাশে উড়তে দেখতেই ভালো লাগে ।পাখিকে খাঁচায় বন্দী করে রাখা কিংবা একটা জায়গায় আটকে রাখা সেটা একদমই পছন্দ নয় । মুক্ত আকাশে খোলা হাওয়ায় পাখি ঘুরে বেড়াবে সেটাই তো স্বাভাবিক এবং সেটাই দেখতে সব সময় খুব ভালো লাগে । এই তো বেশ কিছুদিন আগে যখন ঝড় বৃষ্টি উঠেছিল সেই ঝড়ের ভিতরে কোথা থেকে যেন একটি পাখি উড়ে এসে আমাদের বারান্দার গ্রিলের সাথে পড়েছিল । আমি বারান্দায় এসে দেখলাম যে বৃষ্টির পানির ভেতরে ভিজে একটি পাখি গ্রিলের সাথে বসে রয়েছে । আমি প্রথমে ভেবেছিলাম পাখিটি গ্রিলে বসে রয়েছে একটু পরে উড়ে যাবে ।তারপর কিছু সময় পরে দেখলাম যে আমার কাজের মেয়েটা এসে বলছে যে বারান্দায় গ্রিলের সাথে একটি পাখি এসে পড়েছে । ও সেই পাখিটাকে ধরে অন্য পাশে বারান্দায় নিয়ে আসলো । দেখতে পেলাম পাখিটা একটু অসুস্থ হয়ে গিয়েছে এবং উড়তে পারছে না । তখন আমরা পাখিটাকে এনে বারান্দায় সেফ জায়গায় রেখে দিলাম ।
ছেলেটা পাখিটা দেখে অনেক বেশি খুশি হয়েছে এবং বারবার পাখির কাছে যাচ্ছে । পাশের বাসায় ওর বোন রয়েছে তাকে ডেকে নিয়ে আসলো ওরাও পাখি খুব পছন্দ করে এবং দেখলাম যে ও পাখিটার কাছে গিয়ে হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করছে এবং পাখিটাকে পানি এবং অন্যান্য খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছে । আমি তখন ওকে বললাম যে তুমি ওকে তোমার বাসায় নিয়ে যাও । ওদের বাসায় ওরা অনেকজন মানুষ রয়েছে যার কারণে নিয়ে গেলে ওরা পাখিটাকে অনেক যত্নের সাথে রাখতে পারবে । ও রুটি পানি খাওয়ালো । আমাদের উপরে ওর এক ফ্রেন্ডের বাসায় তারা অনেকগুলো পাখি পেলে তাদের সাথে যোগাযোগ করল । তারা বলল যে তাদের কাছে অন্য পাখি এই পাখিটা ওদের কাছে নেই ও এখানে ওদের সাথে থাকবে না । আমরা যেটা পেয়েছিলাম সেটা কবুতর ছিল এবং পরে ও সেটা ওদের বাসায় নিয়ে গেল ।
ওরা খুব যত্ন সহকারে একটা বক্সের ভিতরে সুন্দর করে পাখিটাকে রাখার ব্যবস্থা করল এবং ওদের বাসায় দুইটা মেয়ে ছিল ওরা খুব যত্ন সহকারে পাখিটাকে খাওয়াচ্ছিল এবং যত্ন করছিল । আর বাবা পাখিটার জন্য বাইরে থেকে ওষুধও কিনে নিয়ে এসেছিল পাখির চোখে দেওয়ার জন্য । কারণ পাখিটার চোখে একটু প্রবলেম ছিল । দেখতে দেখতে বেশ কিছু দিন চলে গেল পাখিটা উড়তে শিখে গেল । মাঝে মাঝে আমাদের বাসায় নিয়ে আসতো পাখিটাকে ওরা । আমার ছেলেটা এই কাজ করত কারণ ও বলতো এটা আমার পাখি আমি আমাদের বাসায় পেয়েছি । আমাকে বকা দিতে মা তুমি কেন দিয়ে দিলা । আমি ইচ্ছা করেই দিয়ে দিয়েছিলাম কারণ ওরা ছোট ছোট মানুষ পাখিগুলোকে যত্ন করতে পারবে । আর আমার অত সময় নেই পাখিটাকে যত্ন করার । পাখির কোনো অযত্ন না হয় সেই কারণে দিয়ে দিয়েছিলাম ।
ওরাও বেশ সুন্দরভাবে পাখিটাকে যত্ন করেছিল এবং পাখিটা বেশ উড়তেও শিখে গিয়েছিল । কিন্তু হঠাৎ করে যেন কি হল একদিন সকালবেলা উঠে দেখে পাখিটা আর নেই । আমি যেই ভয়ে পাখিটাকে দিয়ে দিয়েছিলাম ঠিক সেটাই হলো । আসলে পাখিগুলো বাইরেই ভালো থাকে ওকে বাসায় বন্দি করে রাখলে কিংবা বাসায় এনে আমরা যতই ভালো রাখার চেষ্টা করি না কোন কিছুদিন পরে ও নাই হয়ে যায় । আর এই পাখিটা হয়তো অসুস্থ ছিল যার কারণে অনেক বেশি যত্ন ও ওষুধ দেওয়ার পরও অসুস্থই থেকে যেত এবং শেষ পর্যন্ত ওকে মরে যেতে হল ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
@tauhida
*** VOTE @bangla.witness as witness
OR SET @rme as your proxy
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
একদম মনের কথা বলেছেন আপু পাখি খাঁচায় রেখে পোষা আমারও পছন্দ না। আমার ছেলে তো পাখি খুবই পছন্দ করে।আমার কাছে খুবই কিনে চায় কিন্তু আমি একদমই পছন্দ করি না পাখি বন্দি করে রাখা। তাই ইচ্ছা আছে ওকে একটা টিয়া পাখি কিনে দেবো। যেহেতু দেখাশোনা করতে পারবেন না ভালই করেছেন তাদেরকে দিয়ে। যাইহোক আপনার গল্প টি পরে বেশ ভালো লাগলো আপু।
পাখিদের কে খাঁচায় বন্দি করে রেখে শুধু শুধু ওদের কষ্ট দেওয়ার কোন মানে হয় না । তাই আমি কখনো বাসায় পাখি পালার কথা চিন্তাই করি না ।ধন্যবাদ আপনাকে ।