রবিবারের আড্ডা - পর্ব ১০২ | জীবনের গল্প - পর্ব ১৩
ব্যানার ক্রেডিট @hafizullah
সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি আমার বাংলা ব্লগের নতুন আয়োজন জীবনের গল্পের শো-তে । মূলত আমরা যেহেতু প্রথম থেকেই বলেছিলাম, রবিবারের আড্ডার কিছুটা ভিন্নতা হবে, ঠিক সেই ভিন্নতার জায়গা থেকেই, এই সংযোজন। মানুষের জীবনে কত গল্পই তো থাকে, কত সুখস্মৃতি থাকে, থাকে পাওয়া না পাওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা হারিয়ে ফেলার তিক্ততা কিংবা থাকে সফলতার হাজারো গল্প, যা হয়তো অনায়াসেই, অন্য কাউকে অনুপ্রাণিত করে ফেলে মুহূর্তেই। এই গল্পগুলো হয়তো অজানাই থেকে যায়, আমরা আসলে কান পেতে থাকি, এই গল্পগুলো শোনার জন্য। এইজন্য বাংলা ব্লগ আয়োজন করেছে, জীবনের গল্প। যেখানে অতিথি তার নিজের জীবনের গল্প অন্যদের সামনে অনায়াসেই বলে ফেলবে এবং অতিথি নিজের থেকেও বেশ হালকা হবে, সেটা হয়তো মনের দিক থেকে।
আজকের অতিথিঃ @shymasundor
ভেরিফাইড সদস্য, আমার বাংলা ব্লগ
ফেলে আসা জীবন থেকে স্মৃতিচারণ
আসলে আমার জীবনটা গ্রন্থের মতো। কোথায় থেকে শুরু করব সেটাই আসলে ভাবছি। জন্ম হয়েছিল শাকপালা নামক ছোট্ট একটা গ্রামে, যার চতুর্দিকে নদী ছিল। ছোটবেলায় আসলে স্বাধীন ছিলাম, সারাদিন খেলাধুলা আর সন্ধ্যার পরে ঘুমিয়ে যাওয়া। তারপরে একটা সময়ে গিয়ে শহরে চলে আসি, তখন থেকেই জীবনটা আসলে ইঁদুর দৌড় শুরু হয়। যদিও শহরে এসেই শুরুতে পরিবেশ মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়েছিল, তবে তারপরেও প্রাথমিকে বেশ ভালো রেজাল্ট করি। এরপরে মাধ্যমিকে দারুণ সময় অতিবাহিত করি। এক ঝাঁক বন্ধু পেয়ে যাই, যে বন্ধুগুলো আমার জীবনের সম্পদ। আমার আসলে পড়াশোনা নিয়ে তেমন কখনো চাপ হয়নি বাড়ি থেকে, অনেকটা হাসি আনন্দেই সময় গুলো কাটছিল। আমরা তো মাধ্যমিকে থাকার সময়ই দেড়শ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেলিং করে বন্ধুরা মিলে পাহাড়পুর ঘুরতে গিয়েছিলাম। উচ্চমাধ্যমিক থেকেই জীবনের গতিপথ পরিবর্তন হয়, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, তার ভিতরে আমার কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আবার ঢাকায় চলে যাই, আবার সেখান থেকে ফিরে এসে গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ভর্তি হই। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল ডিফেন্সে যাওয়ার, একদম ফাইনাল পর্যায়ে গিয়েও বাতিল হয়ে যাই। সেই দিনটা ছিল আমার জীবনের সবথেকে কষ্টের দিন। আমার সব স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই ভেঙে গিয়েছিল। অবশেষে আমার মামার পরামর্শ অনুযায়ী , আবার জীবনে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখি। অবশেষে স্নাতকে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়ে যাই। তার ভিতরে আবার করোনাকালীন সময়ে বাংলা ব্লগে যুক্ত হই। এটা আমার জীবনে আশীর্বাদের মত। অবশেষে গ্রাজুয়েশন শেষ হয়ে যায়। এখন বেকার বলতে পারেন নতুবা চাকরি প্রত্যাশী। জীবনের প্রতিটা সময় আমি যে অবস্থার ভিতর দিয়ে যাই না কেন, তা আসলে উপভোগ করার চেষ্টা করি। দিন দিন আসলে প্রচুর দায়িত্ব কাঁধে চলে এসেছে, বিসিএস নিয়ে তেমন কোন চিন্তা নেই, আপাতত একটা ভালো চাকরি পেলেই এবং পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারলেই যেন শান্তি পাব। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে পথের দূরত্ব তৈরি হলেও যোগাযোগ হয়। সবমিলিয়ে এভাবে কাটছে সময় গুলো। আমার গলা খুব একটা ভালো না, তারপরেও আপনাদেরকে কষ্ট দেওয়ার জন্য গান শোনাবো।
বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে
দেওয়ানা বানাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে মায়া লাগাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে মায়া লাগাইছে
বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে
বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে
দেওয়ানা বানাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে মায়া লাগাইছে
কি যাদু করিয়া বন্ধে মায়া লাগাইছে
অতিথি ও উপস্থিত দর্শকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।
পুরস্কার বিতরণের সম্পূর্ণ অবদান @rme দাদার
উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা বেশ ভালই উপভোগ করেছিল অতিথির জীবনের গল্প। তারা বেশ ভালই প্রশ্ন রেখেছিল এবং উত্তরগুলো খুঁজেও পেয়েছিল, অতিথির গল্পের মাঝে।
সব মিলিয়ে জীবনের গল্প চলছে, একদম দুর্বার গতিতে । পরবর্তীতে আমরা আসছি কিন্তু আপনার দরজায়, আপনি প্রস্তুত তো।
ধন্যবাদ সবাইকে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
রবিবারের আড্ডার এত সুন্দর মুহূর্ত আপনি আমাদের সবার মাঝে শেয়ার করেছেন, এটা দেখে আমার অনেক ভালো লেগেছে। এই মুহূর্তটা সত্যি খুবই সুন্দর ছিল। শ্যামসুন্দর ভাইয়ের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছিলাম। আর আমার কাছে তো খুব ভালো লেগেছে। এত সুন্দর করে এটা শেয়ার করলেন দেখে ভালো লাগলো।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
রবিবারের আড্ডার পুরো মুহূর্তটা এই পোস্টে দেখে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। পুরো মুহূর্তটা খুব ভালোভাবেই জানতে পারলাম। আড্ডায় উপস্থিত না থাকলেও পুরোটা ভালোভাবেই জেনে নেওয়া যায়। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া এটা এতো সুন্দর করে সবার মাঝে শেয়ার করার জন্য।
গতকালের রবিবারের আড্ডায় আমরা সকলেই একত্রিত হয়ে খুবই সুন্দর একটি সময় উপভোগ করেছিলাম।@shymasundor দাদা আমাদের মাঝে খুবই সুন্দর সুন্দর গল্প শেয়ার করেছিলাম। সকলেই সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠান টি উপভোগ করেছিলাম।আর প্রতি সপ্তাহে সকলেই একত্রিত হতে পেরে বেশ ভালো লাগে।
রবিবারের আড্ডায় শ্যাম সুন্দর ভাইকে অতিথি হিসেবে পেয়ে ভীষণ ভালো লেগেছিল। কারণ তিনি খুবই গোছালোভাবে তার জীবনের গল্পের কথাগুলো বলছিলেন। তার গানটিও ভীষণ সুন্দর হয়েছিল সব মিলিয়ে আমরা খুবই মজা করে উপভোগ করেছি। রবিবারের আড্ডার বিষয়গুলো পুনরায় লিখিতভাবে আপনার পোস্টে দেখতে পেরে ভীষণ ভালো লাগলো।
রবিবারের আড্ডা মানে দারুন আয়োজন। রবিবারের আড্ডায় অতিথি হিসেবে শ্যামসুন্দর ভাইকে পেয়ে বেশ ভালো লাগছিল। তিনি অনেক সুন্দর ভাবে কথাগুলো গুছিয়ে বলেছিলেন। অতিথির কন্ঠে দারুন একটি গান শুনতে পেয়ে অনেক ভালো লাগছিল। ধন্যবাদ রিপোর্টটি আমাদের মাঝে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য ।
গতকাল একটু পারিবারিক ব্যস্ততা থাকার কারণে আড্ডায় থাকতে পারিনি। শ্যামসুন্দর ভাইয়ের কথাগুলো মিস করে গেছি৷ তবে আপনার এই পোস্টের মাধ্যমে ওনার কথাগুলো পড়ে বেশ ভালই লাগছে। জীবনের যত বয়স বাড়ে দায়িত্ব তত বাড়ে। ছাত্র জীবন সেই জন্যই সোনার দিন হয়ে থেকে যায়। আশা করি ভাই আমার তাড়াতাড়ি চাকরি পাবেন এবং পরিবারকে সাপোর্ট দিতে পারবেন। তবে ভাইয়ের মধ্যে যে পজিটিভ দিকটা দেখলাম যে সমস্ত পরিস্থিতিকেই উনি এনজয় করেন তা বড় ভালো লাগলো।
এককথায় বলতে গেলে গতকালকে রবিবারের আড্ডার জীবনের গল্প এপিসোড দারুণ উপভোগ করেছি। শ্যামসুন্দর ভাই উনার জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক কথাই শেয়ার করেছেন। যাইহোক এই রিপোর্টটি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
এই সপ্তাহের আড্ডাটি বেশ দারুণ ছিলো, পুরো সময়টা দারুণভাবে উপভোগ করেছি। অনেক ধন্যবাদ
এটা একদম সত্য ভাই, গতকালকের সময়টা আসলেই বেশ ভালো ছিল। ধন্যবাদ আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
প্রতিটি রবিবারের আড্ডা আমাদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক। কারণ ঐদিন আমরা সবাই মিলিয়ে আড্ডা করি অনেক তথ্য আদান প্রদান হয়। সবার কাছ থেকে সুন্দর সুন্দর অনুভূতি জানতে পারি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে রিপোর্টটি শেয়ার করার জন্য।