রবিবারের আড্ডা - পর্ব ১১৩ | জীবনের গল্প - পর্ব ১৬
ব্যানার ক্রেডিট @hafizullah
সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি আমার বাংলা ব্লগের নতুন আয়োজন জীবনের গল্পের শো-তে । মূলত আমরা যেহেতু প্রথম থেকেই বলেছিলাম, রবিবারের আড্ডার কিছুটা ভিন্নতা হবে, ঠিক সেই ভিন্নতার জায়গা থেকেই, এই সংযোজন। মানুষের জীবনে কত গল্পই তো থাকে, কত সুখস্মৃতি থাকে, থাকে পাওয়া না পাওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা হারিয়ে ফেলার তিক্ততা কিংবা থাকে সফলতার হাজারো গল্প, যা হয়তো অনায়াসেই, অন্য কাউকে অনুপ্রাণিত করে ফেলে মুহূর্তেই। এই গল্পগুলো হয়তো অজানাই থেকে যায়, আমরা আসলে কান পেতে থাকি, এই গল্পগুলো শোনার জন্য। এইজন্য বাংলা ব্লগ আয়োজন করেছে, জীবনের গল্প। যেখানে অতিথি তার নিজের জীবনের গল্প অন্যদের সামনে অনায়াসেই বলে ফেলবে এবং অতিথি নিজের থেকেও বেশ হালকা হবে, সেটা হয়তো মনের দিক থেকে।
আজকের অতিথিঃ @nazmul01
ভেরিফাইড সদস্য, আমার বাংলা ব্লগ
ফেলে আসা জীবন থেকে স্মৃতিচারণ।
আমি আসলে যখন স্কুল জীবনে ছিলাম , তখনই বাবা স্ট্রোক করে। আর বাবা স্টোক করার পরেই জীবনটা অনেক কঠিন হতে থাকে, যেহেতু আমরা তিন ভাই ছিলাম, তাছাড়া বড় দুই ভাই নিজেদের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তাই বলতে গেলে পরিবারের ছোট সদস্য হিসেবে আমাকে স্কুল জীবন থেকেই কাজে যুক্ত হতে হয়েছিল। বেশ ভালই পরিশ্রম করেছি জীবনে, শুরুর দিকে তো দিনমজুরের কাজ করেছিলাম, সেই সময় বুঝতে পেরেছিলাম টাকা ইনকাম করা কতটা কষ্টকর। বলতে গেলে, কাজ আর পড়াশোনা দুটো একত্রেই চালিয়ে গিয়েছিলাম। পরে তো বাবা মারা গিয়েছিল, তারপরে আবার রেস্টুরেন্টের কাজে যুক্ত হই। সেখানে দিনকাল বেশ ভালোই যাচ্ছিল, তবে আমার যে বন্ধুর মাধ্যমে রেস্টুরেন্টের কাজে ঢুকে ছিলাম, তার চাচাতো বোনের সঙ্গে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমার ভাবের আদান-প্রদান হয় এবং সম্পর্কটা দিন দিন ভীষণ গাঢ় হতে থাকে। অবশেষে বিষয়টা রেস্টুরেন্টের মালিক জানতে পারে এবং আমার চাকরি চলে যায়। তখন থেকেই মূলত দূরত্ব তৈরি হওয়া শুরু হয় ওর সঙ্গে আমার , ওর চাহিদা অনেক ছিল, যা পূরণ করতে রীতিমতো আমাকে হিমশিম খেতে হতো। পরে কিছুদিন পরে শুনেছিলাম, এলাকার এক মধ্যবয়স্ক লোকের সঙ্গে ওর বিয়ে ঠিক হয়ে যায় এবং ও সে স্বেচ্ছায় বিয়েতে রাজি হয়। এই ব্যাপারটা শুনে বেশ কষ্ট পেয়েছিলাম। তবে আমি মনে করি, আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা সবটাই ভালো হয়েছে, নইলে আমি আজ এখানে আসতে পারতাম না। এখন মোটামুটি নিজের চাকরি বউ বাচ্চা নিয়ে বেশ ভালো আছি। তবে বর্তমানে যতদূর শুনেছি, আমার সেই মানুষ খুব একটা ভালো নেই। আসলে দুনিয়ার ঋণ দুনিয়াতেই পরিশোধ হয়।
অতিথি ও উপস্থিত দর্শকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।
পুরস্কার বিতরণের সম্পূর্ণ অবদান @rme দাদার
উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা বেশ ভালই উপভোগ করেছিল অতিথির জীবনের গল্প। তারা বেশ ভালই প্রশ্ন রেখেছিল এবং উত্তরগুলো খুঁজেও পেয়েছিল, অতিথির গল্পের মাঝে।
সব মিলিয়ে জীবনের গল্প চলছে, একদম দুর্বার গতিতে । পরবর্তীতে আমরা আসছি কিন্তু আপনার দরজায়, আপনি প্রস্তুত তো।
ধন্যবাদ সবাইকে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
জীবনের গল্প শুনতে অনেক ভালো লাগে। ব্যস্ততার কারণে এবারের আড্ডায় যুক্ত থাকতে পারিনি। তবে আপনার এই পোস্ট পড়ে সত্যি অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া।
নাজমুল ভাইকে গতকালকের শো তে অতিথি হিসেবে পেয়ে খুবই ভালো লাগছিলো। কেননা তিনি তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু শিক্ষনীয় বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করেছিলেন। সেই সাথে গত রবিবারের স্টেজ শো এর পুরো বিষয়টি পুনরায় আপনার পোস্টে পড়তে পেরে খুবই ভালো লাগলো ভাই।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই রবিবারের আড্ডায় জীবনের গল্পে আমাকে অতিথি হিসেবে নির্বাচন করার জন্য। চেষ্টা করেছি নিজের জীবনের কিছু ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার ঘটনা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে। আড্ডার সম্পূর্ণ সময়টুকু অনেক সুন্দর কেটেছে। সকলের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। চমৎকার একটি আয়োজন আমাদের মাঝে আবারো তুলে ধরার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।