ঝাল চিতই
গতরাতে খুব সাধারণ ভাবে বছরের শেষ মুহূর্তটা কাটিয়ে ছিলাম। নতুন বছরকে ঝাল চিতই পিঠা খাওয়ার মাধ্যমে আগমন জানিয়ে ছিলাম।
সবাই কোন না কোন ভাবে বছরের শেষ সময়টা কাটিয়েছে, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। সন্ধ্যার পর থেকে ক্রমেই ঠান্ডার পরিমাণটা বেশ বেড়ে যাচ্ছিল তার সঙ্গে হাড় হিম করা শীতল বাতাস।
সাফি আর সোহাগের সঙ্গে আগেই কথা বলে রেখেছিলাম, আজ একটু দূরে কোথাও ঘুরতে যাব। যেহেতু ওদের তেমন কোন আপত্তি ছিল না, তাছাড়া বয়সে ওরা নবীন, তাই বলাই যায় ওদের মাধ্যমেই যেন নিজের ফেলে আসা জীবনের চঞ্চলতার স্বাদ উপভোগ করছিলাম।
মোটর বাইকের মাঝে বসে ছিলাম আমি, সামনে বসে সাফি বাইক চালাচ্ছিল আর পিছনে বসেছিল সোহাগ। মিশন ছিল ঝাল চিতই পিঠা। যদিও কুয়াশা ছিল না, তবে তীব্র ঠান্ডা বাতাস যেন কাপড় ভেদ করে শরীরে ধাক্কা দিচ্ছিল। মোটরবাইকের গতি নিয়ন্ত্রণেই ছিল,ওদের কাছে এই হিমশীতল বাতাস ভীষণ সহনশীল ছিল তবে আমার কাছে কিছুটা কষ্টকর বোধ হচ্ছিল, তবে মানিয়ে নিয়েছিলাম।
অবশেষে ত্রিশ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে এসে গরম গরম ঝাল চিতই পিঠা খেয়েছিলাম। যখন পিঠা হাতে পেয়েছিলাম তখন যেন জার্নির তিক্ততা দূর হয়ে গিয়েছিল। ধোঁয়া ওঠা গরম পিঠা চোখের সামনে বানাচ্ছিল আর তার ভিতরে নানা রকম ঝাল মসলা যুক্ত করে পরিবেশন করা হচ্ছিল।
দামেও সস্তা খেতেও মজা। বলা যায়, পয়সা উসুল ব্যাপার। আচ্ছা আমার কি বর্ষবরণ হলো না ! নাকি সবাই যেভাবে হৈ-চৈ করে বর্ষবরণ করে সেটার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল , যদি কিছুটা ব্যতিক্রম থেকেই থাকে, তাহলে কি এ সমাজ আমাকে মেনে নেবে না !
জীবন যেখানে যেমন, বুঝতে পেরেছি ! তবে তারপরেও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা ভাবতে হয়, হোক সেটা দুধের বাচ্চা, প্রবীণ লোকজন, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী, পরিবেশ-প্রকৃতি কিংবা নিরীহ পাখি গুলোর কথা।
আমি সভ্য হয়েছি নাকি ঝাল চিতই পিঠা খেয়ে এখনো অসভ্যই থেকে গেলাম, তা কিন্তু জানিনা । এ প্রশ্ন না হয়, আপনাদের কাছেই রেখে গেলাম !
সবাইকে আবারো নতুন বছরের শুভেচ্ছা। সবার আগামী দিনগুলো ভালো কাটুক, মস্তিষ্ক গুলো পুষ্টিপাক , এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই আপনাকে ভাইয়া।ঝাল,মিষ্টি কোন ব্যাপার নয়।নীরবতা কিংবা ঢাক ঢোল বাজিয়ে বর্ষবরনের ও কোন ব্যাপার নেই।খোলা মনে জীবনটাকে উপভোগ করার মাঝেই প্রকৃত আনন্দ।বাক স্বাধীনতা,মনে প্রশান্তি থাকলে নতুন বছরে এর চেয়ে আর কি বা লাগে।আপনার হাতের ঝাল ঝাল চিতই পিঠা দেখে আমারই তো এখন খাওয়ার জন্য লোভ লেগে গেলো।
আমার কাছেও তেমনটাই মনে হয় আপু।
আপনি ভীষণ লোভ লাগাই দিলেন ভাইয়া। শীতকাল মানে পিঠা পুলি খাওয়ার উৎসব। অনেক ভালো লাগে যেকোনো ধরনের পিঠা খেতে। আর চিতই পিঠা তো আমার খুবই পছন্দের। যেভাবে খাই না কেন অনেক ভালো লাগে। আপনি ঝাল চিতই পিঠা খেলেন এবং মুহূর্তটি আমাদের সাথে স্মৃতিচারণ করলেন ভালো লাগলো পড়ে।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
অবশ্যই সভ্য হয়েছেন ভাই। আপনার মতো করে যদি সবাই ভাবতো,তাহলে থার্টি ফার্স্ট নাইটে কেউ আতশবাজি করতো না। এবার এমন কড়াকড়ি নির্দেশের পরেও আতশবাজি ফোটানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। যাইহোক সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক সেই কামনা করছি। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
কৃতজ্ঞতা ভাই, ভালোবাসা রইলো।
ত্রিশ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে ঝাল চিতই পিঠা! সত্যি বলতে এতোটা পথ পারি দিয়ে ঠান্ডার মধ্যে আমি হলে তো যেতাম না। তবে নতুন বছরটা ঝাল চিতই পিঠা দিয়ে একদম সিম্পল ওয়েতে বরন করে নিলেন। এটাই ভালো। আশা করছি সবাই মেনে নেবে এটা ভাইয়া 😁
অতি সাধারণ ভাবেই বেঁচে থাকতে চাই।