জেনারেল রাইটিং - "লাল গামছা "
হ্যালো বন্ধুরা,
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার প্রিয়"আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগন,কেমন আছেন সবাই?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ্র অশেষ রহমতে বেশ ভালো আছি।
আমি @shimulakter"আমার বাংলা ব্লগ"এর আমি একজন নিয়মিত ইউজার।আমি ঢাকা থেকে আপনাদের মাঝে যুক্ত আছি।আমি চেষ্টা করি প্রতিনিয়ত ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট শেয়ার করতে।আজ ও এর ব্যতিক্রম হয়নি।আমি আজ একটি জেনারেল পোস্ট নিয়ে চলে এলাম।আশাকরি আমার ব্লগ আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
লাল গামছাঃ
বন্ধুরা,আজ আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। মনটা ভীষণ খারাপ।ইচ্ছে না করলেও কেন জানি বার বার চোখের সামনে ফুটফুটে বাচ্চাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ভিডিও গুলো সামনে চলে আসছে।আমি মাইলস্টোন স্কুলের ঘটনার কথা বলছি।হে বন্ধুরা,আমি সহ্য করতে পারিনা। তাই খবর গুলো না দেখারই চেষ্টা করি।কারন আমি অসুস্থ হয়ে পরি।মনের মধ্যে সারাক্ষন এসব ভাবনা আমাকে সুস্থ থাকতে দেয় না।মনে হয় ঘটনাটা আমার সাথেই হয়েছে।দম বন্ধ করা কষ্ট হয় আমার।যাই হোক এই বিষয় নিয়ে আজ কিছু লিখব না।প্রতিদিন আমরা কতোই না ঘটনার মধ্যে দিয়ে যাই।সব ঘটনা ই মনে দাগ কাটে না।তবে কিছু কিছু ঘটনা মনে খুব বেশী দাগ ফেলে।আজ তেমন ই একটি ঘটনা আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেবো।আসুন তবে শুরু করি ---
এইতো কিছুদিন আগের কথা।বেলা ১২ টা ছেলের স্কুল ছুটি হয়েছে।ছেলেকে আনতে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পথে নেমেই রিকশার খুব জ্যাম চোখে পরল আমার।রিকশা পাচ্ছিলাম না।হঠাৎ একটি রিকশা এলো আমি তাকে বললাম যাবে কিনা?উনি রাজি হলে আমি জ্যামের মধ্যে ই রিকশায় তাড়াতাড়ি উঠে বসলাম।রিকশা কিছু দূর যাওয়ার পর রিকশাওয়ালা হঠাৎ বলল তার হাতে গামছা ছিল লাল রঙের গামছাটা দেখতে পাচ্ছে না।উনি রিকশা সাইড না করে ই খুঁজতে লাগলো গামছাটি।যদিও আমি রিকশায় উঠার সময় গামছাটি চায়ের দোকানের সামনে পরতে দেখে ভেবেছি চায়ের দোকানের কারো হবে।গামছাটা লাল রঙের আর নতুন ছিল।পেছনের রিকশা ও গাড়ির ড্রাইভার বার বার তাকে বলছিল রিকশা এক সাইডে রেখে নিতে।কিন্তু উনি মরিয়া হয়ে গামছা খুঁজে যাচ্ছিল।আমি তখন তাকে বললাম,আপনার গামছাটি কি লাল রঙের??উনি বললেন,লাল রঙের নতুন গামছা।গতকাল ১২০ টাকা দিয়ে কিনেছেন।তখন আমি তাকে বললাম,চায়ের দোকানের সামনে একটা লাল রঙের গামছা পরতে দেখেছি আমি।এটা শুনে সে রিকশা রেখে দৌড়ে যায় চায়ের দোকানের সামনে। কিন্তু না সে গিয়ে গামছাটা আর পায়নি।
বাংলাদেশে এখন প্রচন্ড গরম পরেছে।এই গরমে রিকশা চালাতে ভীষণ কষ্ট। তবে পেটের দায়ে এরা রিকশা চালায়।এই রিকশায় চড়ে আমরা কাছাকাছি দূরত্বের যেকোনো জায়গায় যেতে পারি খুব সহজে।আর গরমের তাপে যখন ঘাম হয় তাদের তখন তারা এই গামছা দিয়ে ঘাম মোছেন।উনি রিকশা টেনে যাচ্ছিলেন আর বার বার বলছিলেন গতকাল ই তিনি গামছাটা কিনেছিলেন।আর এটা ও বললেন আমি কেন রিকশায় উঠে তাকে বলিনি গামছা ওখানে পরে আছে।আসলে গামছাটা যে ওনার তাতো আমি ভাবিনি।আর রিকশায় উঠার সময় গামছার কথা বললেই কিন্তু উনি গামছাটা পেয়ে যেতেন।উনি কিছুদূর গিয়ে গামছার খোঁজ করেছিলেন।আর এতোটুকু সময়ের ব্যবধানে গামছাটা যে কেউ নিয়ে যাবে এমনটা আমি ভাবিনি কখনো।
কারন আমি মনে করি একজন মানুষের ব্যবহার করা গামছা কিংবা রুমাল অন্য কেউ যে নিয়ে ব্যবহার করতে পারে এটা আমার ভাবনায় কখনো ছিল না।হোক সে নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত।এ ধরনের রুচি কোন মানুষের আছে এটা ভাবতেই আমার ভীষণ খারাপ লাগছিলো।সব কিছু পেলেই কি নিয়ে নিতে আছে।অন্যের ব্যবহার করা গামছা নিয়ে ব্যবহার করার রুচি কোন বিবেকবান মানুষের থাকা উচিত নয়।এসব ভাবতে ভাবতে আমি ছেলের স্কুলের গেটে চলে এলাম।রিকশা থেকে নেমে আমি তাকে ১৫০ টাকা দিলাম।রিকশাওয়ালা ভাইটি আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। কারন আমার রিকশা ভাড়া হয়েছিল ৩০ টাকা।বাকি টাকা আমি তাকে গামছা কেনার জন্য দিলাম।আর বললাম,একন থেকে গামছা ঘাম মুছে মাথায় বেঁধে রাখবেন।তিনি তাতে সম্মতি দিয়ে আমার কাছ থেকে বিদায় নিলেন।
মানুষের মাঝে আজকাল কোনকিছুই যেনো পাওয়া যায় না।রুচিবোধ,বিবেক,ধৈর্য কোনকিছুই নেই মানুষের। এসব ভাবনা গুলো ও পীড়া দেয় আমাকে।যা কিছু সুন্দর মানুষ জানে তা কেন গ্রহন করবে না।যা কিছু খারাপ,দৃষ্টি কটু তা কেন মানুষ করে নিজের মনুষ্যত্ব কে হারিয়ে ফেলে আমি তা বুঝিনা। সেদিনের এই ঘটনাটি আজ আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম। আশাকরি আপনারা আমার অনুভূতিটুকু বুঝতে পেরেছেন।ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
আজ আর নয়।সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।আবার হাজির হয়ে যাব নতুন কোন ব্লগ নিয়ে।
ধন্যবাদ সবাইকে
পোস্ট বিবরন
| শ্রেনি | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| প্রয়োজনীয় ডিভাইস | Samsung A 20 |
| ফটোগ্রাফার | @shimulakter |
| স্থান | বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি শিমুল আক্তার।আমি একজন বাংলাদেশী।আমি এম এস সি(জিওগ্রাফি) কমপ্লিট করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।আমি বিবাহিতা।আমি একজন গৃহিণী।আমি স্বাধীনচেতা একজন মানুষ।ভালোবাসি বই পড়তে,নানা রকমের রান্না করতে,ফটোগ্রাফি করতেও আমি ভীষণ পছন্দ করি।বাংলায় লিখতে আর বলতে পারার মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুঁজে পাই।নিজের মধ্যে থাকা সৃজনশীলতাকে সব সময় প্রকাশ করতে পছন্দ করি।এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি বলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.