আমার ছেলেবেলা - “ছেলেবেলায় বর্ষার দিনের আনন্দ “
হ্যালো বন্ধুরা,
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার প্রিয়"আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগন,কেমন আছেন সবাই?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ্র অশেষ রহমতে ভালো আছি।
বন্ধুরা,আমি @shimulakter"আমার বাংলা ব্লগ" এর একজন নিয়মিত ও অ্যাক্টিভ ইউজার।বাংলায় ব্লগিং করতে পেরে আমার অনেক বেশী ভালো লাগা কাজ করে মনের মাঝে।তাইতো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত মনের নানান অনুভূতি গুলো নিয়ে নানা রকমের পোস্ট শেয়ার করে থাকি।আজ ও আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিযে।আশাকরি সবাই সঙ্গেই থাকবেন।
ছেলেবেলায় বর্ষার দিনের আনন্দঃ
বন্ধুরা,আজ আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে।আজ শেয়ার করে নেব বর্ষার দিনের কিছু ছেলেবেলার অনুভূতি।যে অনুভূতিগুলো এখন ও আমাকে আনন্দ দেয়।বাংলাদেশে এখন চলছে বর্ষার সিজন।ছেলেবেলার বর্ষার দিনগুলো এখনকার মতো এতো ভেজাল ছিল না।সেই সময়টাতে বর্ষাকালের বৃষ্টিতে ভিজলে খুব একটা কিছু হতো না ।তবে এখন বৃষ্টিতে ভিজলে নানা রকমের অসুখ হয়ে থাকে।আমার ছেলেবেলার বর্ষার দিনগুলোর সুন্দর অনুভূতিগুলো সবটাই স্কুল কেন্দ্রিক।সেই সময়টাতে যখন বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যেতো সেই সুন্দর দৃশ্য এখনো আমাকে মোহিত করে তোলে।আকাশ মেঘে ঢেকে যেতো ঠিক তখন ক্লাস ও ঠিক মতো হত না।তখন আমরা সব বন্ধুরা মিলে কতোই না আনন্দ করতাম।
আমরা সবাই কাগজ দিয়ে নৌকা তৈরি করে বৃষ্টির পানিতে ছেড়ে দিয়ে দেখতাম কার নৌকা আগে যেতে পারে।সে এক আনন্দময় অনুভূতি।আমি যখন ক্লাস টু কিংবা থ্রিতে পড়ি তখন বৃষ্টি এতো পরিমাণে হয়েছিল যে,আমাদের বাসার মধ্যে পানি উঠে গিয়েছিল।আমাদের হাঁটার পথ পানিতে ভরপুর ছিল।তখন বেশ কিছুদিন আমাদের স্কুল বন্ধ করে দিয়েছিল।কারণ স্কুলে তখন অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।সেই সময়টাতে স্কুল বন্ধ হওয়াতে অনেক বেশি খারাপ লেগেছিল।তখন পানির মধ্যে ঘরের চার দেয়ালে বন্দী থাকতে হয়েছিল।এরপর যখন পানি নেমে গিয়েছিল তখন স্কুল খুলে দিয়েছিল।
আজকাল বর্ষা কাল এলে আমরা আতঙ্কিত থাকি।কারণ এই বর্ষার দিনেই নানা রকমের রোগ ব্যধি হয়ে থাকে।তাই বর্ষার সেই আনন্দ এখন আর কেউ উপভোগ করতে পারেনা।আমাদের ছেলেবেলা মায়েরা শুধু বলতো বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসবে।আর এখন নানা রকমের রোগের নাম এই বর্ষাকালেই শোনা যায়।মনের সেই আনন্দ এখন আর বর্ষাকালে পাওয়া যায় না।
ছেলেবেলা বর্ষাকালে মা ইলিশ খিচুড়ি রান্না করতেন তার যে স্বাদ এখন আর পাওয়া যায় না।পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে খাওয়ার যে আনন্দ এখন আর নেই।সেই দিনগুলো এখনো ভীষণ মিস করি।পরিবারের সেই মানুষ গুলো সবাই আজ আর নেই।অথচ অনুভূতি গুলো আজও মনের মধ্যে জ্বলজ্বল করছে।সুখ অনুভূতি গুলো আসলে এমনই হয়।মনের মধ্যে ভালো লাগা গুলো প্রশান্তি এনে দেয়।
ছেলেবেলা বন্ধুরা মিলে কতোই না আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম।কখনো বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এসেছে এমনটা মনে পরে না।ছেলেবেলার সব আনন্দ স্মৃতি এখনো মনে দোলা দিয়ে যায়।বৃষ্টির দিনগুলোতে ছেলেবেলা ভাই-বোনরা মিলে ঘরে বসে কতোই না খেলার আয়োজন করতাম।বৃষ্টির কারণে স্যার বাসায় আসতে পারতো না ।আর তখন আমরা চার ভাই-বোন মিলে ঘরে বসেই কত কত খেলার আয়োজন করতাম।দিনগুলো অনেক বেশি অনাবিল আনন্দে কেটেছে।সেই দিনগুলো মনে করলে এখনো আনন্দিত হই।ছেলেবেলার বর্ষার দিনের কিছু অনুভূতি আজ শেয়ার করে নিলাম ।আশাকরি আমার অনুভূতি গুলো অনেকের সাথেই মিলে যাবে।ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
আজ আর নয়।আবার কোন নতুন ব্লগ নিয়ে হাজির হবো।সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমার পরিচয়
আমি শিমুল আক্তার।আমি একজন বাংলাদেশী।বাংলাদেশ ঢাকা থেকে আমি আপনাদের সাথে যুক্ত আছি।আমি এম এস সি ( জিওগ্রাফি) কমপ্লিট করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।আমি বিবাহিতা।আমি একজন গৃহিণী।আমি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ। ভালোবাসি বই পড়তে,নানা রকমের রান্না করতে আর নতুন নতুন রেসিপি করে সবাইকে খাওয়াতে ভালোবাসি।ফটোগ্রাফি করতে আমি ভীষণ পছন্দ করি।বাংলায় লিখতে আর বলতে পারার মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুঁজে পাই।নিজের মধ্যে থাকা সৃজনশীলতাকে সব সময় প্রকাশ করতে পছন্দ করি।এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি বলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.