প্রতিযোগিতা -৬৭ঃফুলকপির রোস্ট রেসিপি।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সবসময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ১২ই পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ । আজ প্রতিযোগিতা -৬৭ তে অংশগ্রহণ করার জন্য রেসিপি শেয়ার করবো।
প্রায় মধ্য পৌষ চলছে। ইংরেজি বছরেরও প্রায় শেষ। কিন্তু শীত এবার এখনো জেকে বসেনি। দিনে প্রচন্ড তেজ রোদের। রাতেও তেমন ঠান্ডা নেই। আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাব এর কারন। সামনে শৈত্যপ্রবাহ আসবে তখন হয়ত শীত জেকে বসবে। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষের যে শীতের অনুভূতি তা এবার টের পাওয়া যাচ্ছে না। শীতের যেমনেই হোক! শীতের সব্জিতে বাজার কিন্তু ভরপুর। দামও এখন সহনীয়। আর এই শীতের সবজি নিয়েই আমার বাংলা ব্লগের এবারের রেসিপি প্রতিযোগিতা। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগ বরাবরেই প্রতিযোগিতার বিষয় নির্ধারনে আমাদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে তারেই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিযোগিতা-৬৭ শীতকালীন সবজির রেসিপি।
প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়।অংশগ্রহণেই বড় কথা। আমি প্রতিবারেই চেষ্টা করি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে। সবচেয়ে ভালো লাগে প্রতিযোগিতা গুলোতে বন্ধুরা, অনেক ইউনিক আইডিয়া নিয়ে অংশগ্রহণ করে যা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। আমি আজ শীতের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি ফুলকপির রেসিপি শেয়ার করবো। ফুলকপি সবাই কমবেশি পছন্দ করেন। ফুলকপিতে অনেক পুষ্টিগুণ আছে।ফুলকপিতে ভিটামিন বি,সি,কে যেমন আছে, তেমনি আছে আয়রন,ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক। প্রতিটি উপাদানেই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কার্যকর। আর এই শীতকালিন সবজি খাব না তা কি হয়। ফুলকপির নিয়মিত রেসিপির বাইরে ভিন্ন স্বাদের একটি রেসিপি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আর সেটি হচ্ছে ফুলকপির রোস্ট। আমরা মুরগীর রোস্ট খেয়ে অভ্যস্ত! ফুলকপির রোস্ট খেয়ে দেখুন ঠকবেন না। যারা নিরামিষ ভোজি ও বিভিন্ন কারণে মুরগীর রোস্ট খেতে বারণ তাদের জন্য দারুণ উপহার ফুলকপির রোস্ট। একদম রোস্টের স্বাদ পাবেন। তৈরি করে খেলেই বুঝতে পারবেন। রেসিপিটি আজ প্রথম করেছি। সত্যি বলছি এখনও মুখে লেগে আছে স্বাদ!! ফুলকপির রোস্ট রেসিপিটি কিভাবে তৈরি করেছি তা নিম্নে সবিস্তারে বর্ণনা করেছি। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
| ফুল কপি | অর্ধেক |
|---|---|
| টক দই | ৩ টেঃ চামচ |
| পিয়াজ কুচি | ৩টেঃ চামচ |
| পিয়াজ বাটা | ২ টেবিল চামচ |
| টমেটো | ১ টি |
| কাঠ বাদাম | ৬-৭টি |
| কিসমিস | ১০-১২টি |
| আদা বাটা | ১চাঃচামচ |
| রসুন বাটা | আধা চাঃ চামচ |
| এলাচ | ৩টি |
| লবঙ্গ | ৩টি |
| দারুচিনি | ২ ইঞ্চি |
| বেরস্তা বাটা | ২টেঃ চামচ |
| সরিষা | ১ চাঃ চামচ |
| লবন | স্বাদ মতো |
| চিনি | ১ চাঃ চামচ |
| সয়াবিন তেল | ৪ টেঃ চামচ |
| ঘি | ১ টেঃ চামচ |
| গুড়া মরিচ | ১ চাঃ চামচ |
| ধনে গুড়া | দের চাঃ চামচ |
| জিরা গুড়া | আধা চাঃ চামচ |
| গরম মশলা গুড়া | আধা চাঃ চামচ |
| কাঁচা মরিচ | ৩-৪ টি |
| জয়ত্রী | ১পিস |
ফুল কপির রোস্ট তৈরি ধাপ সমূহ
ধাপ - ১
প্রথমে অর্ধেকটা ফুল কপি বড় বড় করে টুকরো করে নিয়েছি।
ধাপ - ২
বাদাম,কিসমিস, জয়ত্রী,বেরস্তা,সরিষা,আদা,রসুন ,পিয়াজ সহ সকল কিছু বেটে নিয়েছি।
ধাপ - ৩
টমেটো ব্লেন্ড করে নিয়েছি।
ধাপ - ৪
এবার চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে দিয়েছি কিছুটা পানি দিয়ে। পানিতে অল্প পরিমাণে লবন দিয়ে দিয়েছি। পানি ফুটে উঠলে তাতে কেটে ধুয়ে রাখা ফুলকপির টুকরোগুলো দিয়ে দিয়েছি। এবং ৬-৭ মিঃ জ্বাল দিয়ে নিয়েছি।হাল্কা সিদ্ধ করে নিয়ে ফুলকপি একটি চালনীতে ঢেলে দিয়ে পানি ঝরিয়ে নিয়েছি।
ধাপ - ৫
আবারও কড়াই বসিয়ে দিয়েছি চুলায় পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল দিয়ে। তেল গরম হয়ে এলে তাতে সিদ্ধ করা ফুলকপি গুলো দিয়ে হাল্কা করে ভেজে নিয়ে একটি বাটিয়ে তুলে নিয়েছি।
ধাপ - ৬
এবার একটি বাটিতে পরিমাণ মতো টক দই নিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিয়েছি। ফেটিয়ে নেয়া দই এ বেটে নেয়া বেরেস্তা,বাদাম,সরিষা,গুড়া মরিচ,ধনে গুড়া,জিরা গুড়া, গরম মশলা গুড়া ও সামান্য লবন দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছি।
ধাপ - ৭
আবারও চুলায় কড়াই বসিয়ে দিয়েছি পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল দিয়ে। তেল গরম হয়ে এলে তাতে গোটা গরম মশলা দিয়ে দিয়েছি। এবং পিয়াজ কুচি দিয়ে দিয়েছি। কিছুটা ভেজে নিয়ে পিয়াজ বাটা,আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিয়েছি।
ধাপ - ৮
এবার কষানো মশলায় টমেটো পিউরী ও মাশলা মিশ্রিত টক দই দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিয়েছি। মাশলা যাতে পুড়ে না যায় সেজন্য সামান্য পানি দিয়ে আবারও কষিয়ে নিয়ে ,পরিমাণ মতো পানি দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ - ৯
পানি ফুটে উঠলে তাতে ভেজে রাখা ফুলকপিগুলো দিয়ে দিয়েছি। এবং ঢাকনা দিয়ে ১০-১৫ মিঃ জ্বাল দিয়ে নিয়েছি।
ধাপ - ১০
পানি কিছু টা কমে এলে তাতে গোটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিয়েছি।
ধাপ - ১১
যখন পানি শুকিয়ে মাখা মাখা হয়ে আসবে তখন সামান্য চিনি,ঘি ও বেরেস্তা দিয়ে দিয়েছি। এবং ঢাকনা দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিয়েছি। ব্যস তৈরি আমার ফুলকপির মজাদার রোস্ট রেসিপিটি।
পরিবেশন
ফুলকপির রোস্ট হয়ে এলে একটি তুলে নিয়েছি পরিবেশনের জন্য।
আশাকরি, আজকের ফুলকপির রোস্ট রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে।প্রতিযোগিতা-৬৭ সবার অংশগ্রহণে নতুন নতুন রেসিপিতে জমজমাট হয়ে উঠবে।এবং অনেক রেসিপি শিখতে পারবো এই আয়োজন থেকে। তাই অংশগ্রহণকারী সবাইকে আমার পক্ষ্ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।আমি চেষ্টা করি সব সময় নতুন নতুন রেসিপি শেয়ার করতে। এবারো সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন রেসিপি নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। শুভ রাত্রি।
পোস্ট বিবরণ
| শ্রেণি | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরা | Samsung A-10 |
| পোস্ট তৈরি | @selina 75 |
| তারিখ | ২৭শে ডিসেম্বর, ২০২৪ ইং |
| লোকেশন | ঢাকা,বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।
আপনি দেখছি আজকে ফুলকপির রোস্ট রেসিপি শেয়ার করেছেন দেখে তো জিভে জল চলে এল। আপনার রেসিপি দেখে লোভনীয় লাগছে, খেতে ও মনে হয় অনেক সুস্বাদু হয়েছিল। আপনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন এজন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ধন্যবাদ আপনাকে
অনেক লোভনীয় ছিল খাবারটি। ধন্যবাদ ভাইয়া।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
একদম সঠিক বলেছেন আপু প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা নয় বরং অংশগ্রহণ করাটাই বড় কথা। আর সব থেকে ভালো লাগে সবাই ইউনিক রকমের জিনিস নিয়ে এই কনটেস্ট গুলোতে অংশগ্রহণ করে যা দেখেই অনেক ভালো লাগে। যেমন আজকে আপনি ফুলকপির রোস্ট রেসিপি শেয়ার করেছেন। যা আজকেই প্রথম শুনলাম এবং দেখলাম। ফাইনাল আউটপুট দেখে মনে হচ্ছে অনেক টেস্টি হয়েছিল। অভিনন্দন জানাচ্ছি কনটেস্টে অংশগ্রহণ করার জন্য। আপনার রন্ধন প্রণালী অনুসরণ করে এরকম রেসিপি তৈরি করার চেষ্টা করব। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
Daily Task
https://x.com/selina_akh/status/1872670686147457219
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি । আপনার তৈরি করা ফুলকপির রোস্ট রেসিপি দেখতে অনেক বেশি লোভনীয় হয়েছে খেতেও নিশ্চয়ই অনেক সুস্বাদু হয়েছে। রোস্ট সাধারণ মুরগির মাংসের খাওয়া হয়েছে। ফুলকপির কখনো খাওয়া হয়নি ইউনিক একটা রেসিপি।এত সুন্দর একটি ফুলকপির রোস্ট রেসিপি তৈরি করে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো আপু।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
প্রথমে আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি রেসিপি তৈরি করে আমাদের দেখানোর জন্য। আপনার রেসিপি তৈরি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সুন্দরভাবে কনটেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন দেখি অনেক খুশি হলাম।
আমি চেস্টা করি প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমি চেস্টা করি প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করতে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
ওরে বাবা ফুলকপির রোস্ট। নামটা পড়েই জিভে কেমন পানি এসে গেল। জীবনে অনেক রেসিপি নাম শুনেছি এবং দেখেছি কিন্তু কখনোই শুনিনি ফুলকপির আবার রোস্ট হয়। আপনার প্রতিভা দারুন। তারপরে আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আপনার রেসিপি দেখে শিখে নিলাম পরবর্তীতে বাসায় রান্না করে খেয়ে দেখব কেমন হয় আপনারটা নিশ্চয়ই অনেক সুস্বাদু হয়েছিল?
অনেক মজা খেতে ফুলকপির রোস্ট ।একদিন করে খাবেন। আশাকরি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।
ফুলকপি রোস্ট রেসিপিটি দেখতে দারুন হয়েছে। খেতেও নিশ্চয়ই অনেক বেশি সুস্বাদু হয়েছে। অনেকবার নাম শুনেছি ফুলকপির রোস্ট কিন্তু কখনো খেয়ে দেখা হয়নি। আপনার রেসিপিটি দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে। প্রতিদিন ধাপে রন্ধন পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে শেয়ার করেছেন আমিও শিখে নিলাম। একদিন চেষ্টা করতে হবে দেখছি।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো আপু। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
জি আপু খেতে অনেক মজা হয়েছি। আমি সেই দিন এই রোস্ট দিয়ে খাবার শেষ করেছি। ধন্যবাদ আপু।