প্রত্যাশা আর লোভের মধ্যে পার্থক্য।(Difference between expectation and greed.)
তবে এই মন খারাপটা দোষের নয়, কেবল জানার বিষয় হলো মন খারাপের আড়ালে কোন অনুভূতি আমাদের মনে কাজ করছে।
অন্যান্য কারণ ছাড়াও মূলত দুটি প্রধান কারণ আমি আজকে বেছে নিয়েছি, যার আড়ালে আমাদের মন খারাপ প্রধানত দায়ী।
প্রথমটি হলো প্রত্যাশা |
|---|
কিছু বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আগে প্রত্যাশা কিভাবে আমাদের আশাহত করে সেটা আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবার প্রয়াশ করছি।
প্রথমেই জানিয়ে রাখি আজকের লেখাটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব অভিমত, কাজেই সহমত পোষণ এর আশা না রেখেই লিখছি।
- বাস্তব জীবনে ধরুন আপনি সারাবছর ধরে খুব ভালো পড়াশোনা করে, পরীক্ষা ভালো দিয়েও কোনো কারণ বশত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারলেন না।
এখানে পড়াশোনা করাটা এবং পরীক্ষা ভালো দেওয়ার পাশাপশি আপনার মনে একটা প্রত্যাশা জন্মায় যে ফলটা নিশ্চই ভালই হবে!
যে মুহূর্তে সেই প্রত্যাশা পূর্ণ হয় না, আপনি আশাহত হয়ে পড়েন।
- ধরুন কোনো একদিন আপনি খুব মনোযোগ সহকারে আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য তাদের প্রিয় খাবারগুলো রান্না করেছেন।
কিন্তু অন্যান্য দিনের সাধারণ রান্নার চাইতে সেইদিনই আপনার রান্না মনের মত হলো না!
আপনার প্রত্যাশা সেখানেও আশাহত! পরিণতি স্বরূপ সেই অপূর্ণ প্রত্যাশা নিরাশা বয়ে নিয়ে আসে।
কাজের জায়গা বলুন অথবা ব্যাক্তিগত জীবন প্রতি ক্ষেত্রে
সেটা সম্পর্ক হোক, কাজের জায়গা হোক, দৈনন্দিন কাজকর্ম হোক না কেনো।
আমকে সবাই বুঝবে, আমার মনের মত চলবে, যা কিছু আমি চাইবো, যেভাবে চাইবো সেভাবেই হবে, এগুলো হলো প্রত্যাশার অন্যান্য উদাহরণ।
- এবার আসবো লোভের বিষয়।
দ্বিতীয়টি হলো লোভ |
|---|
এখন এই লোভ এর বিষয় বিস্তারিত বলার আগে জানতে হবে লোভের উৎপত্তি কেনো হয়?
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় যেটুকু উপলব্ধি করেছি তার নিরিখে আমার মতামত পোষণ করছি।
- উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে।
- অন্যের সাথে নিজের তুলনা।
- যেকোনো ভাবেই নিজের প্রত্যাশা পূরণের প্রয়াস।
- দৃষ্টিকোণ বা দৃষ্টিভঙ্গি যদি সদর্থক না হয়ে নঞর্থক হয়।
আজকে অনেকেই হয়তো বিষয়টি জ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখবেন, কিন্তু আগেই জানিয়েছি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে যেটুকু দেখেছি ও শিখেছি;
সেটাই আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি।
আমি খুব সাধারণ মানুষ একেবারেই জ্ঞানী ব্যাক্তি নই, কাজেই আজকের লেখাটাকে কেউ দয়া করে বাঁকা নজরে দেখবেন না, এটাই অনুরোধ। তবে চিন্তাধারা যার যার নিজের।
এখন দেখার বিষয় উপরিউক্ত বিষয় দুটি তো আমাদের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত, কেউ প্রকাশ করে আর কেউ করে না, এই যা পার্থক্য।
যারা প্রকাশ করা তারা একদিকে বেঁচে যান, কারণ কোনো না কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের সঠিক পথ দেখিয়ে দেন, অথবা সৃষ্টিকর্তা।
তাহলে কি আমরা কেবল পরনির্ভরশীল থেকেই আমরা নিজেদের শুধরাতে সক্ষম?
একেবারেই নয়!
- আমাদের আমরাই সবচাইতে ভালো শিক্ষা দিতে পারি।
প্রথমে জানাই প্রত্যাশাকে নিরাশায় পরিণত না করে, যদি আমরা নিজেরা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে পুনরায় প্রয়াস করি।
যারা আমার লেখা মোটামুটি পড়ে থাকেন তারা জানেন আমার অনুপ্রেরণার স্রোত কিন্তু থমাস অ্যালভা এডিসন।
এমন একজন মানুষ যাকে শিক্ষকরা স্কুলে রাখতে চান নি, গবেট ভেবে!
এমন একজন মানুষ যিনি এক্ হাজার বার অসফল হবার পরে বাল্ব আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছিলেন।
আমার কিউরেটর অ্যাপ্লিকেশন সাত বার মনোনীত হয় নি, কিন্তু প্রতি মাসে আমি অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছি;
এবং অবশেষে অষ্টম বার গিয়ে প্রথম মনোনীত হয়েছি।
এখনও কোনো কোনো মাসে আমি বাতিলের খাতায় থাকি, কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন জমা না দিয়ে নিরাশ হয়ে বসে থাকি না।
আমার কথাগুলো বলার কারণ হলো,
যদি সুযোগ না পেয়ে অথবা কটূক্তি শুনে, বা নিজের মনের মত ফলাফল না পেয়ে আপনি নিরাশ হয়ে পথ পরিবর্তন করে নেন, তাহলে আপনি নিজেই আপনার শত্রু।
অপর দিকে লোভ আমাদের জীবনের সবচাইতে ক্ষতিকর অনুভূতি।
লোভের হাত থেকে বাঁচতে হলে, সর্বাগ্রে আপনাকে নিজের খুঁত খুজে বের করে তার উপরে কাজ করতে হবে।
প্রত্যাশার সাথে লোভ কিন্তু ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।
যদি আপনি আপনার প্রত্যাশাকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে না পারেন, আপনি লোভের বশবর্তী হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলবেন, এবং পরিনতিস্বরুপ যেটুকু উন্নতির সম্ভাবনা ছিল সেটাও বিফলে যাবে।
অনেকেই চাকরি করেন, আবার অনেকেই ব্যবসা।
ভিন্ন ভিন্ন কাজের সাথে আমাদের জীবন জড়িত।
এখন সবাই কিন্তু চাকরি অথবা ব্যবসায় শীর্ষে পৌঁছতে পারেন না।
তাই বলে তাদের সাথে তুলনা করে যদি নিজেরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছেড়ে, সৎ পথ অবলম্বন না করে লোভের বশবর্তী হয়ে পড়ি;
সেটা কিন্তু আমাদের দোষ এবং তার ফলাফলের জন্য আমরাই দায়ী।
কাজেই, প্রত্যাশা থাকুক, কিন্তু সেটা পূরণ না হলে কারণ খোঁজার প্রয়াস করা বুদ্ধিমানের কাজ হতাশ না হয়ে।
লোভ থাক কিন্তু সেটা অন্যের সফলতা, বা অন্যকে টপকাতে ব্যবহার না করে নিজেকে উন্নত করতে কাজে লাগাতে হবে।
সবাই পারছে আমাকেও পারতে হবে! এই প্রত্যাশা, জেদ সৃষ্টি করে এবং উন্নতিসাধন করতে সহায়ক।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের সুস্থ্য শরীর দিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সেই শরীরের মধ্যে মস্তিষ্ক হলো এমন একটি অঙ্গ,
যেটার পরিচালনা কিন্তু আপনার হাতে।
আশাকরি আজকে আমার লেখার মাধ্যমে আপনাদের আমি প্রত্যাশা আর লোভের মধ্যের পার্থক্য বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।
অন্যের প্রতি নালিশ না জানিয়ে নিজের ত্রুটি নিয়ে কাজ করলেই বোধহয় আমরা সকলেই একটা জায়গায় পৌঁছতে পারি।
কারণ, আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা সকলকেই কিছু না কিছু বিশেষত্ব দিয়ে এই ধরায় পাঠিয়েছেন। আমাদের কাজ হলো সেটা নিজের মধ্যে খুঁজে বের করা।
আজ তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে বিদায় নিলাম, আর অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম আপনাদের মন্তব্যের।
Upvoted. Thank You for sending some of your rewards to @null. It will make Steem stronger.
এটা আপনার প্রোফাইল এবং আপনার কথার মাধ্যমে ইতিপূর্বে আমি জেনেছি। আরো একটা জিনিস আমি আয়ত্ব করেছি আপনার থেকে যে সততা এবং পরিশ্রম কখনোই ব্যর্থ হয় না।
হয়তোবা একটু বিলম্ব হতে পারে, তবে ফলটা সুমিষ্ট হয়। তাছাড়া সৎ ও পরিশ্রমীদের সাথে ঈশ্বর সর্বদাই থাকেন।
তাই নিজেকে শিক্ষার মাধ্যমে উন্নত করাটা সব কিছুর আগে প্রয়োজন। প্রতিটি খারাপ পরিস্থিতি আমাদের জন্য এক একটি শিক্ষা।
আমরা আমাদের প্রিয় মানুষগুলোর কাছে প্রত্যাশা করি। কিন্তু আমাদের সেই প্রত্যাশা নিরাশায় পরিপূর্ণতা লাভ করে। কেননা সবাই আমাদের মনের মতো চলবে আমাদের কথা শুনবে। আমরা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে তাদেরকে চালাবে, এমনটা হয় না। হয়তোবা কেউ আমাদের কথা চিন্তা করে, সবকিছু মেনে নেয়। আর নয়তবা তারা মনে করে, আমরা তাদের উপর আমাদের নিজের গুরুত্ব চাপিয়ে দিচ্ছি।
যদিও আগেও আপনি আমাদের সাথে বিষয়টা আলোচনা করেছেন। আজকেও আপনার পোস্ট পরিদর্শন করতে গিয়ে বিষয়টা আবারও আমার চোখে পড়ল। আপনি একবার নয় সাতবার অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছেন। এবং অষ্টমবার আপনি অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে আপনি কিউরেটর হয়েছেন।
এখনো আপনি অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে বাতিলের খাতায় আপনার নাম আসে। কিছু সংখ্যক মানুষ অতিরিক্ত লোভের আশায়, অনেক কিছু করে ফেলে। কিন্তু আমি যতটুকু দেখেছি আপনার মধ্যে লোভ লালসা কোন কিছুই দেখিনি। আপনি সবসময় নিজের কাজের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এবং নিজের কাজকে সঠিকভাবে পালন করে থাকেন।
লোভ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। আর কাজের মাধ্যমে যে মানুষটা এগিয়ে যায় সে মানুষটা অনেক কিছু করতে পারে। আমি আশা করি আপনি অনেক দূর এগিয়ে যাবেন। আপনার সুস্থতা কামনা করছি।
প্রত্যাশা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।সহজ ভাবে বলতে গেলে বলা যায়, কাজের ফল।আর লোভ তো হলো কাজ না করেই কোন অনৈতিক উপায়ে পাওয়া ইচ্ছে।হ্যাঁ, আপনি একে বারে বাস্তব ধর্মী একটি মন্তব্য করেছেন, প্রত্যাশা ও লোভ অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত। মোটকথা প্রত্যাশা একটি বৈধ প্রক্রিয়া, তবে লোভ মোটে ও বৈধ প্রক্রিয়া নয়। খুব ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে। ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ আপনাকে, লোভ এবং প্রত্যাশার পার্থক্য আমাদের মাঝে সহজ ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করার জন্য।
আপনার পোস্টটি যথার্থ। পরের উন্নতি দেখে হিংসা করা মনুষ্যজাতির রোগ৷ আমরা শুধু মানুষের উন্নতিই দেখি।কিন্তু এই উন্নয়নের পেছনে তাকে যে কষ্ট এবং পরিশ্রম করতে হয়েছে তা আমরা কখনোই ক্যালকুলেশন করি না। আমরা শুধু চাই উন্নয়নশীল হতে। নিজেকে উন্নত দাবী করতে যে পরিশ্রম করতে হবে আমরা সেটা করতে নারাজ। আমরা সব কিছু সহজেই পেতে চাই। মনের চাহিদা পূরণ করতে হলে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।