জীবনের মানচিত্র কি রাস্তার মত করে তৈরি করা সম্ভব?
আজকের লেখায় শীর্ষক হিসেবে একটু প্রশ্নকে তুলে ধরেছি।
ইতিপূর্বের লেখায় আপনাদের সাথে নৈনিতালের মুন্সিয়ারি পার্বত্যাঞ্চলের ছবি তুলে ধরেছি, আজকের লেখায় একেবারে পরিস্কার রোড ম্যাপ ছবির আকারে প্রথম ছবিতে তুলে ধরেছি।
এই ম্যাপটি সেই সকল ভ্রমণ প্রিয় মানুষের জন্য সুবিধাজনক যারা ভাবছেন এই জায়গায় ঘুরতে যাবেন, তারা ভারত কিংবা ভারতের বাইরের দেশের মানুষ হতেই পারে!
তবে, এইটুকু উল্লেখ করতেই আমি এখানে এসেছি এমনটি নয়, যেটি আমার প্রশ্নে পরিষ্কার।
দেখুন, আজকাল গাড়িতে, জায়গায় জায়গায় রোডম্যাপ চোখে পড়াটা একটা অতি স্বাভাবিক বিষয়, আর এই ম্যাপ তৈরির কারিগর কিন্তু মানুষ, তবে যদি সেই মানুষগুলোকে নিজেদের জীবনের ম্যাপ তৈরি করতে বলা হয়?
অথবা অন্যের জীবনের মানচিত্র, তারা কি সেটা পারবেন?
অনেকেই হয়তো বলবেন, রাস্তার তো শেষ জানা সম্ভব কিন্তু কোনো মানুষের জীবনের শেষ তো জানা নেই, তাহলে কিভাবে তার মানচিত্র তৈরি সম্ভব!
যারা উপরিউক্ত প্রশ্ন তুলবেন তুলবেন ভাবছেন, তাদের উদ্দেশ্যে উত্তরটি লেখাতেই রেখে গেলাম।
জীবনের মানচিত্র তারাই তৈরি করতে পারেন, যারা স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে ভিত্তিস্তর তৈরি করে রেখে যান পরের প্রজন্মের জন্য!
উদাহরণস্বরূপ:- ভারতীয় ব্যবসায়ী জামশেদজি নুসেরওয়ানজি টাটা, শেঠ শিব নারায়ণ বিড়লা, ধিরুভাই আম্বানি ইত্যাদি আরো অনেকেই!
আবার ধরুন যে ডাক্তার পরিবারের পরের প্রজন্ম একই জীবিকা বেছে নিয়ে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে জীবনের মানচিত্র কিন্তু সুস্পস্ট।
এছাড়াও সেই মধ্যবিত্ত পরিবার! যেখানে পুত্র সন্তান একটা সাধারণ চাকরি করবে আর মেয়ে সন্তান এর ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট পরিধি পর্যন্ত শিক্ষা অর্জনের পর, সটান বিয়ে করে উঠবে শ্বশুরবাড়িতে, এটাও সেই জীবনের মানচিত্রে প্রায়শঃই নজর কাড়ে!
অর্থাৎ গতানুগতিক ধারা বজায় রেখে যারা জীবন নির্বাহ করে, তাদের জীবনের একটা আংশিক মানচিত্র কিন্তু পাওয়া গেলেও যেতে পারে!
তাহলে কাদের জীবনের মানচিত্র তৈরি সম্ভব নয়?
এই যে অধম লেখাটা লিখছে, অর্থাৎ আমার মতো কিছু মানুষদের ক্ষেত্রে এই মানচিত্র তৈরি করতে বেশ বেগ পেতে হবে!
যাদের জীবনের প্রতিটি পথ সংঘর্ষে ভরা, যারা অনৈতিকতা, অসম্মানের সাথে আপোষে নারাজ, যারা গতানুগতিক জীবন বেছে নেয় না, কারণ সেটায় কেবলমাত্র সুখ রয়েছে বটে;
যেটা নেই, সেটা যোগ্য সম্মান!
যাদের পিছনে কোনো বট গাছ নেই, যারা অসময়ে হয় শারীরিক নয়তো মানসিক সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু মেরুদণ্ড তাদের সোজা!
এরকম একাধিক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব কিন্তু এমন মানুষদের খুঁজে পাওয়া কিন্তু বেশ কঠিন! আর, তাই এদের জীবনে কোনো নির্দিষ্ট মানচিত্র থাকে না, কারণ এরা নিজেদের জীবনের চলার পথের মানচিত্র নিজেরা তৈরি করে, কেউ তাদের জন্য সেই মানচিত্র তৈরি করে দেবে সেই ভরসায় এরা বিশেষ থাকে না।
হয়তো, খুব শীঘ্রই নিজের জীবনের মানচিত্রে আজকের ঠিকানাটিও বদলে যাবে!
অর্থাৎ পুনরায় ঠিকানা বদলাবার সময় এসে উপস্থিত হয়েছে, জানিনা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই ছুটে বেড়ানো কতখানি সফলতা, কতখানি বার্তা এই সমাজের বুকে দাগ কেটে রেখে যেতে পারবে!
তবে, কাউকে না কাউকে তো সূত্রপাত করতে হবে, যেমনটি উপরে কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছি।
সুবিধাবাদীদের সমাজে অভাব নেই, ব্যতিক্রমী হয়ে এতদিন চলেছি, আগামীদিনে সৃষ্টিকর্তার দিক নির্দেশনায় দেখা যাক কোনো মানচিত্র সেই ব্যতিক্রমী দের জন্য তৈরি করে রেখে যাওয়া সম্ভব হয় কিনা!
সবটাই সময় নির্ধারণ করবে, আর করবে সেই সৃষ্টিকর্তা, যার কাছে নিজের সবটা আজকাল ভাগ করে নিচ্ছি।
তবে, পিছনের কিছু সঙ্গে নেবার নেই, কেবলমাত্র বাস্তব জীবন থেকে অর্জিত শিক্ষা আর অভিজ্ঞতা ছাড়া।
আবার নতুন জায়গা, নতুন মানুষ সঙ্গে নতুন অভিজ্ঞতা, সঙ্গে জীবনের মানচিত্রে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা।
এবার সবটাই তৈরি হবে বাস্তবতার ভিত্তিতে, ইমোশনাল হয়ে নয়, যাতে আর কেউ আবেগ ব্যবহার করতে না পারে। খোলা বই পড়তে সহজ, আর সেটা থেকে টুকলির সম্ভবনা অধিক থাকে!
Curated by: @ahsansharif
Appreciated your support @steemcurator04 and @ahsansharif 😊