"পিয়ালীর বিয়ের শপিং শুরু"-কিছু সুন্দর মুহূর্তের গল্প
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে আশা করছি সকলের ভালো আছেন সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
একটা নতুন দিন কিভাবে আমাদের খারাপ মনকেও ভালো করে দিতে পারে আজ সে কথাই আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এই পোস্টের মাধ্যমে। গতকালকের লেখাতে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম, অজানা এক কারণে মনটা বেশ ভারাক্রান্ত ছিলো।
তবে লেখার শেষে এ কথাও জানিয়েছিলাম একটা নতুন দিন, নতুন সূর্যোদয় হয়তো ভালো কিছু নিয়ে আসবে। তবে ভাবনাটা যে এতো তাড়াতাড়ি বাস্তবায়িত হবে সেটা সত্যিই কল্পনা করিনি।
|
|---|
সাত সকালে বান্ধবীর ফোন পেয়ে একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম, কারণ অতো সকালে সাধারণত ও ফোন করে না। তাই ভেবেছিলাম হয়তো অন্য কোনো দরকারেই ফোন করেছে। এস.আই.আর নিয়ে চারিদিকে যে ধরনের জল্পনা কল্পনা চলছে, সেই বিষয়েই কোনো না কোনো তথ্য দেবে এমনটা আশাকরে ফোন তুলেছিলাম।
ফোন তুলতেই বুঝতে পারলাম কনফারেন্সে পিয়ালীও রয়েছে। দুজনে একসাথে মিলে ফোন করেছে আমাকে বারাসাতে যাওয়ার জন্য। যেহেতু পূর্বে কোনো পরিকল্পনা ছিলো না, তাই প্রথমে আমি যেতে রাজি হইনি। তবে ওরাও নাছোড়বান্দা কিছুতেই ছাড়বে না।
বেশ কয়েকদিন আগের পোস্টে আমি আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম যে পিয়ালীর বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই বিয়ের বেনারসি কেনার জন্যই মূলত বারাসাতে আসবে ঠিক করেছে। তাই সাথে করে রাখিকে তো আনবেই, আর আমাকেও যেতে বলছে বারবার।
অনেকবার বারণ করার পরেও ওরা কিছুতেই ছাড়তে চাইলো না। আর শাশুড়ি মাও বলল গিয়ে ঘুরে আসতে। তাই সকালের কাজগুলো সেরে, স্নান করে পুজো দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম বারাসাতের উদ্দেশ্যে। ওদের সাথে কথা বলে সেই ট্রেনই ধরেছিলাম যেটাতে করে ওরা মছলন্দপুর থেকে আসছিলো।
|
|---|
ট্রেন থেকে নেমে প্রথমে আমরা কলোনি মোড়ে শ্রীলেদার্সের দিকে গিয়েছিলাম জুতোর কালেকশন দেখতে। খুব একটা মন মত হয়নি বলে সেখান থেকে বেরিয়ে আমরা প্রথমেই চলে গিয়েছিলাম রেস্টুরেন্টে খেতে।
|
|---|
আমরা সেই রেস্টুরেন্টেই গিয়েছিলাম যেখানে অ্যাডমিন ম্যাম ও আমি বেশ কয়েকদিন আগে খেতে গিয়েছিলাম অর্থাৎ মৌচাকে। সেখানে গিয়ে প্রথমে আমরা স্ট্যার্টার হিসাবে অর্ডার করেছিলাম "ক্রিস্পি চিলি বেবিকর্ন"। যেটা খেতে অসাধারণ ছিলো।
|
|---|
মেন কোর্সের জন্য নিয়েছিলাম এক প্লেট ফ্রাইড রাইস, এক প্লেট চিলি চিকেন, দুটি বাটার নান ও একপ্লেট চিকেন ভর্তা। তিনজনে মিলে সব খাবার শেষ করতে পারিনি। কিছুটা খাওয়া দাওয়ার পর আমরা বাকিটা পার্সেল করে নিয়ে, রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম ওর শাড়ির দোকানে। যে উদ্দেশ্যে বারাসাতে যাওয়া সেটাই সফল করতে।
|
|---|
|
|---|
ওখানে গিয়ে অনেকটা সময় ধরে সকল শাড়ি দেখে পছন্দ করে একটা শাড়ি কেনা হলো পিয়ালীর বিয়ের জন্য। দোকানের মধ্যে কোনো ছবি তুলতে পারিনি, কারণ শাড়ি দেখা নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলাম। তারপর পিয়ালী বাড়িতে বারবার ভিডিও কল করছিল যাতে ওর মাকেও দেখাতে পারে।
|
|---|
|
|---|
সবকিছু মিলিয়ে অনেকটা সময় অতিবাহিত করে ফাইনালি ওর পছন্দের শাড়িটা নিয়ে আমরা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। পথে আসতে আসতেই তিনজনে মিলে নিজেদের পছন্দের আইসক্রিম খেলাম।
|
|---|
তারপর পিয়ালীর কেনা শাড়ির একটা ছবি তুললাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। যখন স্টেশনে উঠছি তখন দেখলাম একটা ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। পড়ন্ত বিকেলে ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করলাম।
|
|---|
|
|---|
প্লাটফর্মে এসে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। কিছুক্ষণ বাদেই আমাদের ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হলো এবং আমরা ট্রেনে উঠে পড়লাম। সৌভাগ্যবশত ওরা দুজনেই সিট পেয়ে গিয়েছিলো। আমি ভিতরের দিকে ঢুকিনি, গেটের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিলাম, যেহেতু দুটো প্লাটফর্ম বাদেই আমাকে নামতে হবে।
এরপর ট্রেন থেকে নেমে ভ্যান ধরে সোজা পৌঁছে গেলাম বাড়িতে। সন্ধ্যার বেশ কিছুক্ষণ আগেই এসেছিলাম। ফ্রেশ হয়ে, কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে, তারপর সন্ধ্যা দিয়েছি। এইভাবেই দিনের বেশিরভাগ সময় বান্ধবীদের সাথে কাটিয়ে মনটা আজ বেশ ভালো আছে।
একটু একটু করে বিয়ের কাজ গোছাতে শুরু করেছে পিয়ালী। জীবনের এতো বড় একটা দিনের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই নেওয়া উচিত, যাতে এই দিনটিকে ঘিরে সকল স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
|
|---|
যাইহোক মাঝখান থেকে ওদের সাথে দিনের বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে আজ আমার মনটাও বেশ ভালো। তাই ভাবলাম গতকাল আপনাদের সাথে মন খারাপের কথা শেয়ার করেছি, আজ ভালো কিছু মুহূর্ত তুলে ধরি। কেমন লাগলো আপনাদের সকলের আজকের পোস্ট পড়ে অবশ্যই জানাবেন। ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।
Thank you for your support @solaymann. 🙏