আমার অতি সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ বিষয়ক আপডেট -১৭ [শেষ পর্ব]
আজকে আমার সিকিম-দার্জিলিং ট্যুরের লাস্ট এপিসোড আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি । ১৩ই নভেম্বর থেকে ২১ শে নভেম্বর মোট এই ৯ দিনের ট্যুরে অনেক আনন্দ করেছি আমরা সকলে । পাহাড়ী অঞ্চল একটা আলাদা রকম জায়গা । সমতলের মানুষ টানা বেশ কয়েকদিন থাকলে সমতল ভূমিতে পা রাখার জন্য মন ছটফট করতে থাকে ।
২০ তারিখ আমরা পুরো দিনটাই দার্জিলিং ম্যালে কাটিয়েছিলাম । এই দিন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল । পুরো ম্যাল চত্বর জুড়েই তাই সব অংশগ্রহণকারী দেশের পতাকায় সজ্জিত ছিল । তবে, ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকার প্রাচুর্যই সর্বত্র চোখে পড়েছিল । দার্জিলিঙের মানুষ বেশ ফুটবল প্রেমী বোঝাই গেলো । বাট, ওরা নিজেরা ফুটবল খেলে কোথায় কে জানে ? সমতল কোনো মাঠই তো চোখে পড়লো না দার্জিলিং শহরের কোথাও ।
ম্যালের চৌরাস্তা চত্বরে আমরা অনেকটা সময় কাটিয়ে একটা ক্যান্ডি শপে ঢুকলাম । কয়েক শত প্রকারের নানা বর্ণের, নানান স্বাদের ক্যান্ডি রয়েছে দোকানটিতে । আমাদের টিনটিন বাবু বাছাই করতে পারলো না কিছুতেই । সবগুলোই তার পছন্দের । অগত্যা প্রায় সব রকমের ক্যান্ডি ২-৩ টা করে নেওয়া হলো । বাট, যখন সব রকমের ক্যান্ডিতে বড় প্যাকেটটি বোঝাই করা হলো তখন তার যে দাম বললো শুনে আমাদের চক্ষু চড়ক গাছ । মোট সাড়ে সাত হাজার টাকা ।
একটা বড়, আরেকটা ছোট প্যাকেটে ক্যান্ডিগুলো ঠেসে ঠুসে ভরে দিলো দোকানি । বিল দিয়ে এসে আমরা ফোয়ারার পাশটিতে বসে সবাই কয়েকটা করে ক্যান্ডি খেলাম । কত রকম যে আকার, রঙ আর স্বাদ হওয়া সম্ভব সেটা বুঝতে পারলাম আমরা । টিনটিন বাবু একটা কুমির, একটা ভাল্লুক আর একটা সাপ আকৃতির ক্যান্ডি নিয়ে না খেয়ে খেলা শুরু করলো ।
এরই মাঝে বিশ্বকাপের বিশাল একটা প্রসেশন শুরু হলো ম্যালে । সবার গায়ে বিভিন্ন দেশের জার্সি । মাথায় ক্যাপ, মুখে পতাকা লাগানো, আর খুব সুন্দর করে সেজেগুজে একদল ব্যান্ড পার্টি প্রসেশন এর আগে আগে বাজনা বাজাতে বাজাতে চলেছে । অদ্ভুত তাদের সাজ পোশাক । তার ঠিক পিছনেই বিশাল দুটি ড্রাগন সেজেছে দুই প্লাস দুই মোট চারজন করে আটজনে । আমি দুটি ভিডিও করলাম এই প্রসেশনটার । ভিডিও করতে গিয়ে আর ফোটো তোলা হয়নি ।
এরপরে দুপুর বেলায় আমরা সবাই হুড়মুড়িয়ে ঢুকলাম কেভেন্টার্সে । দেড়শো বছরের পুরোনো এই কেভেন্টার্স মূলত ব্রেকফাস্ট রেস্টুরেন্ট । এখন অবশ্য ব্রেঞ্চও পাওয়া যায় । ব্রেঞ্চ হলো ব্রেকফাস্ট টাইম এবং লাঞ্চ টাইমের মধ্যবর্তী টাইম । বিকেল গড়াতেই কেভেন্টার্স বন্ধ হয়ে যায় । ইংলিশ ব্রেকফাস্ট, টী, কফি, হট চকোলেট আর আইসক্রিম ছাড়া আর কোনো ফুড পাওয়া যায় না এখানে ।
রেস্টুরেন্টের দোতলায় বসে খেলুম সবাই । চমৎকার পরিবেশ । চারিদিকে অর্কিডের সমারোহ । দূরে ওই কাঞ্চনজঙ্ঘা ঝলমল করছে । খেতে খেতে গল্প গুজব করতে লাগলাম আমরা । খাওয়া শেষে হট চকোলেট খেলুম । এরপরে আবার ম্যালে । ম্যালে এই দিন আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি কাটালাম ।
প্রচুর শপিং করলাম । টাকা উড়ে যেতে লাগলো রকেটের গতিতে । আমরা মোট পাঁচটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে গিয়েছিলাম । জিনিসপত্র এত বেশি কেনা হলো যে আরো একটা ট্রলি কেনা লাগলো, আর সাথে একটা হ্যান্ড ব্যাগ । এরপরে আমরা কিনলাম আসল কাশ্মীরি শাল, চাদর, স্টোল, সোয়েটার, কোট, লং কোট, টুপি, মাফলার । অনেকগুলো । লিস্টি অনেক লম্বা । সবার নাম লেখা । সেই নাম ধরে ধরে কেনা ।
এক প্রস্থ কেনাকেটা শেষে ড্রাইভার গিয়ে হোটেলে রেখে আসলো । ততক্ষণে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে গিয়েছে । এরপরে ঢুঁ মারলাম কিউরিও এন্টিক শপে । দাম শুনলে মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন আপনারা । তবে, এই শপগুলোতে সব অরিজিনাল জিনিস মেলে । নকল নেই । তাই দাম আকাশ ছোঁয়া ।
যত ছোট জিনিসই হোক না কেন পাঁচ হাজারের নিচে দাম নেই । এক বিদেশী এসে একটা তিব্বতীয় থাঙ্কা দর করলো । দোকানি দাম চাইলো ১৪,০০০ । বুঝুন কান্ড । একটা ছোট্ট হাত আয়না দেখালাম দোকানিকে । দাম বলল ৬,০০০ । রুপোর তৈরী ডিজাইনার । বাট, দাম আকাশ ছোঁয়া ।
এখানে প্রচুর জিনিস কিনলাম আমরা । টাকা যা তুলেছিলাম এটিএম বুথ থেকে তা দিয়ে এখানকার বিল মেটানো পসিবল নয় । অগত্যা তনুজার ক্রেডিট কার্ডটি ধার করিলাম । নিজের কোনো ক্রেডিট কার্ড সাথে নিয়ে যাইনি । অনলি ডেবিট কার্ড নিয়ে গিয়েছিলাম সাথে ।
আবার ড্রাইভারকে দিয়ে এন্টিক জিনিসগুলো হোটেলে পাঠিয়ে আবার কেনাকাটা করতে বেরুলাম । ঘুরলাম আর কিনতে থাকলাম । দুটো বেকারী শপে ঢুকে প্রচুর বিস্কুট কিনলাম । হরেক রকমের । এক পর্যায়ে ভীষণ ক্লান্তি লাগাতে হোটেলে ফিরে এলুম । তারপর খাওয়া । সবাই ঘুম, আর আমি হতভাগা বসে বসে ল্যাপটপ অন করে ভোট দিতে লাগলাম ।
ম্যালে ফুটবল প্রসেশানের প্রস্তুতি চলছে ।
তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২২
সময় : দুপুর ২ টা ১০ মিনিট
স্থান : দার্জিলিং, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।
কেভেন্টার্সে আমাদের ইংলিশ খানা ।
তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২২
সময় : দুপুর ৩ টা ৩০ মিনিট
স্থান : দার্জিলিং, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।
ম্যালের ঘোড়ার আস্তাবল, ফোয়ারা আর রাতের চৌরাস্তা চত্বর ।
তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২২
সময় : সন্ধ্যে ৫ টা ২০ মিনিট
স্থান : দার্জিলিং, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।
ম্যালের কিউরিও শপ থেকে কেনা আমাদের এন্টিক সামগ্রীর একাংশ ।
তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২২
সময় : রাত ১০ টা ২০ মিনিট
স্থান : দার্জিলিং, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত ।
ক্যামেরা পরিচিতি : OnePlus
ক্যামেরা মডেল : EB2101
ফোকাল লেংথ : ৫ মিমিঃ
পরিশিষ্ট
প্রতিদিন ৫০০ ট্রন করে জমানো এক সপ্তাহ ধরে - ৪র্থ দিন (500 TRX daily for 7 consecutive days :: DAY 04)
সময়সীমা : ২৯ নভেম্বর ২০২২ থেকে ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত
তারিখ : ০২ ডিসেম্বর ২০২২
টাস্ক ১৩০ : ৫০০ ট্রন ডিপোজিট করা আমার একটি পার্সোনাল TRON HD WALLET এ যার নাম Tintin_tron
আমার ট্রন ওয়ালেট : TTXKunVJb12nkBRwPBq2PZ9787ikEQDQTx
৫০০ TRX ডিপোজিট হওয়ার ট্রানসাকশান আইডি :
TX ID : f51f53d78753010953955d769f64f49b501b97d7bfbe1c2ede57546709e9896e
টাস্ক ১৩০ কমপ্লিটেড সাকসেসফুলি
Account QR Code
VOTE @bangla.witness as witness
OR













































সিকিম-দার্জিলিং ট্যুরের লাস্ট এপিসোড দেখে ভালো লাগলো দাদা। আয়না চিরুনিগুলো আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তবে দামটা অনেক বেশি। কিন্তু দেখতেও খুবই আকর্ষণীয়। সেখানকার লোকজন ফুটবলপ্রেমী জেনে ভালো লাগলো। তাদের হয়তো ফুটবল খেলার জায়গা নেই তাই মনে মনে ফুটবল খেলে 😅😅। যাই হোক দাদা সবাই অবসরে বিশ্রাম করেছে আর আপনি আমাদের ভোট দিয়েছেন জেনে সত্যি ভালো লাগলো। আসলে আপনি আমাদের পাশে আছেন বলেই আমরা এতটা সাপোর্ট পাচ্ছি। তবুও আমরা মাঝে মাঝে কেন যে অকৃতজ্ঞ হয়ে যাই বুঝতেই পারিনা।
কেনাকাটার বিবরণ শুনে ও জিনিসপত্র দেখে আসলেই মনে হল টাকা রকেটের গতিতেই খরচ হয়েছে। আর তাছাড়া এইটা বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনাদের কেনাকাটার জিনিসপত্র গুলো বেশ নজরকাড়া ও চোখ ধাঁধানো।
Congratulations!
Your post has been rewarded by the Seven Team.
Support partner witnesses
We are the hope!
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
তাই তো তারা কোথায় ফুটবল খেলে, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মনে হয়🤪🤪।অনেক টাকার চকলেট কিনেছেন তাহলে।বুঝলাম সব দিকেই দেখি ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার দলের সমর্থক বেশি। এত ক্লান্ত হওয়ার পরও ভোট দেওয়া বন্ধ করেননি।অনেকগুলো আয়না ও চিরুনি কিনেছেন দেখি।সকালে চুল আচড়াবেন আয়না এক আয়না দিয়ে🤪,দুপুরে আরেকটা, বিকেলে আরেকটা ও রাতে আরেকটা তাই না🤪🤪
দেখতে দেখতে আপনার ভ্রমণ পর্বগুলো শেষ হয়ে আসলো। চমৎকার সব প্রাকৃতিক দৃশ্য আর ভালোলাগার অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবিগুলো সহ পুরো ভ্রমণ পর্বটি অনেক আকর্ষণীয় ছিল। এই ভ্রমণ পর্বের ছবিগুলো দেখে আর বর্ণনা শুনে যাওয়ার আগ্রহ টা আরো বেড়ে গেল। দার্জিলিং যেতেই হবে সাথে সিকিম।
দামি হলেও জিনিসগুলো সত্যিই খুব সুন্দর। অনেক উপভোগ্য একটি পারিবারিক ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন সেজন্য অভিনন্দন। এই ছবি আর বর্ননা ট্যুর সামারির মত একটি অ্যালবাম হয়ে থেকে যাবে স্টিমিটে ঠিক যেভাবে মিউজিয়ামের পর্বগুলোকে খুব সুন্দর ভাবে ধারাবাহিকভাবে একটি অ্যালবামের মত করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন।
ধন্যবাদ ও শুভকামনা।
কমিউনিটি থেকে কিছুদিনের জন্য ছুটি নিয়েছিলাম। তাই অনেক কিছু মিস করে গেছি। এই ফাঁকে আপনারা ঘুরেও এসেছেন, দেখে বেশ ভালো লাগছে দাদা। যাইহোক ফটোগ্রাফি গুলোতে অনেক কিছু দেখলাম। শুধু দার্জিলিং নয় বাংলাদেশেও আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের ফ্যান একটু বেশি। আর আপনাদের কেনাকাটা করা জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে বিশেষ করে খঞ্জরটা দেখতে বেশ সুন্দর । যদিও জিনিসপত্র গুলোর দাম শুনে আমারো চোখ কপালে উঠে গেছে।
পাহাড়ের কথা শুনলেই কেমন অদ্ভুত ভালোলাগা কাজ করে মনে।ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সাপোর্টারই বেশি ভারত এবং বাংলাদেশে।কুমির, ভাল্লুক আর সাপ আকৃতির ক্যান্ডির কথা শুনে ভারী অদ্ভুত লাগছে।সব অসাধারণ এন্টিক সামগ্রী কিনেছেন দাদা,যা দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গেল।বিশেষ করে আয়না, চিরুনি ও মায়ের মূর্তিগুলো বেশ পছন্দ হয়েছে আমার।ধন্যবাদ আপনাকে।
সিকিম, দার্জিলিং এর ভ্রমন পর্ব শেষ হয়ে গেল।আপনার পোস্ট গুলোর মাধ্যমে অনেককিছু দেখা আর জানা হল।এজন্য অনেক ধন্যবাদ দাদা। অনেক কিছু দেখছি কিনেছেন, সবই বেশ দারুন লাগলো। দায়িত্ববান মানুষ যেখানেই যাক, দায়িত্ব থেকে সরে যায় না। তাইতো রেস্ট না নিয়ে আপনি ভোট দিতে বসে গেলেন। একেই বলে দায়িত্ববোধ দাদা।সবার কাছ থেকে এরকমটা আশা করা ভুল। আপনার এই দায়িত্বশীল দিকগুলো খুব প্রশংসনীয়। 🙏🥰🥰 ধন্যবাদ দাদা।
এই লাইনটা পড়ে কেনো যেনো নিজের প্রতি একটু খারাপ লাগলো। কতকিছুর মাঝেও কতকিছু ভাবেন আপনি,সত্যিই অসাধারণ একজন ব্যাক্তি আপনি।
আর অ্যান্টিক জিনিসপত্রের দাম দেখে তো মাথায় হাত।তবে এটা ভালো যে সেখানে নকলের কোনো স্থান নেই যা আছে সব আসল।