আম চুরি স্মৃতিময় গল্প
হ্যা লো বন্ধুরা,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সকলেই সুস্থ আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় খুব ভাল আছি। আমি @rayhan111 🇧🇩 বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগ থেকে।
গরমের ছুটি তখন জমে উঠেছে। স্কুল বন্ধ, হোমওয়ার্কের বালাই নেই, আর দুপুরবেলাগুলো হয়ে উঠেছে ছিলো আমাদের দুষ্টামির রাজত্ব। গ্রামের সব বাড়িতেই তখন তালা না থাকলেও দরজা-জানালা বন্ধ। বড়রা যে যার মতো ঘুমে ঢলে পড়ে, আর ছোটরা মানে আমরা চুপিসারে বেরিয়ে পড়ি অভিযানে।আমরা ছিলাম চারজন, আমি, মামুন, শাওন, সিয়াম । আমাদের দলে কেউ ছিল বুদ্ধির ওস্তাদ, কেউ সাহসের। কেউ আবার শুধু খাওয়া পছন্দ করত, কিন্তু চুরির সময় ঠিক লুকিয়ে যেত। তবুও, আম চুরি বাহিনী নামে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল পাড়া জুড়ে। পাড়ার বড়রাও জানত, কোথাও পাকা আম দেখা গেলেই, আমাদের হানা আসতে দেরি হবে না।
আমাদের টার্গেট ছিল কাদের স্যারের বাড়ির পেছনের বিশাল আমগাছটা। আমরা গাছটার নাম দিয়েছিলাম সোনা আমতলা,কারণ, তার পাকা আমগুলো দেখতে একেবারে সোনার মতো ঝকমক করে। স্যার আমাদের স্কুলেই পড়ান, তবে ছুটিতে উনি প্রায় ঘরেই থাকতেন। তাই এই অভিযান ছিল জীবনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনের মতো।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক দুপুরে আমরা সবাই জড়ো হলাম। মামুনের কাজ ছিল গাছে ওঠা, কারণ সে ছিল সবচেয়ে হালকা আর সবচেয়ে পারদর্শী চড়তে। কিন্তু সে আবার ভয়ানক ভীতু। আগেরবার একটা পাখি ডানা ঝাপটানোর শব্দে গাছ থেকেই ঝাঁপ দিয়েছিল নিচে।
শাওন আর সিয়াম থাকল পাহারায়।একজন গেটের দিকে, আরেকজন স্যারের বারান্দা লক্ষ্য রাখবে। আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মামুনকে নির্দেশ দিচ্ছি। “ওই ওপরে একটা বিশাল পাকা আম ঝুলছে, আমি বললাম। মামুন হাত বাড়িয়ে ধরতেই, পেছন থেকে সিয়াম বলে উঠল, দেইখো কেঁচো না থাকে,আগেরবার একটায় কামড় দিয়া দেখি ভিতরে নেচে নেচে বেড়ায়।সবাই ফিসফিস করে হাসতে শুরু করলাম। মামুন কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, চুপ কর! নিচে পড়ে গেলে তোদের আম খেতে দিব না!
তখনই হঠাৎ একটা শব্দ,চিড়িক করে দরজা খুলল। গেটের পাহারায় থাকা শাওন দৌড়ে এল, স্যার বের হইছে, আর বলার অপেক্ষা নেই,সবাই গাছ থেকে ঝাঁপ দিয়ে কে কোথায় পালায়, সিয়াম দেয়াল ডিঙিয়ে উল্টে পড়ে পাশের ঝোপে, আমি গাছের ডাল থেকে লাফিয়ে ঝোপের মধ্যে গা ঢুকিয়ে বসে থাকি।কাদের স্যার ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন লাঠি হাতে। আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে আছি, একফোঁটা শব্দও করি না। হঠাৎ তিনি একেবারে সামনে এসে দাঁড়ালেন। লাঠি না তুলেই বললেন,
পাকা আম তো মিষ্টি হয়, কিন্তু চুরি করলে ওটা তেতো হয়ে যায় রে, বাবা।আমি মুখ নিচু করে বললাম, “স্যার, আর করবো না।স্যার একটু হেসে বললেন, চুরি না করে যদি এসে বলতে, এক থলি পাকা আম নিয়ে যেতে দিতে পারতাম।তারপর হেঁটে চলে গেলেন। আর আমি ওই ঝোপে বসেই নিজের লজ্জায় পাকা আমের চাইতেও বেশি টক হয়ে গিয়েছিলাম।
https://x.com/rayhan111s/status/1917279735903838218?t=yVB9WFrlIuFVVFrX9q3cyQ&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
শৈশবের এই আম চুরির গল্পটা পড়ে মনে অনেক পুরোনো স্মৃতি জেগে উঠলো। কী মজার সময়ই না ছিল! স্যারের কথাগুলো খুবই হৃদয় ছুঁয়ে গেল। এমন স্মৃতিগুলো সত্যিই অমূল্য। দারুণ উপস্থাপন ও সুন্দর গল্পের জন্য ধন্যবাদ । আরও এমন গল্পের অপেক্ষায় থাকলাম।
আসলে ভাইয়া শৈশব বলে কথা। এই চুরিটা স্হায়ী চুরি নয় এটা হচ্ছে শখের চুরি।আর এমন চুরির মধ্যে মজা অনেক। তবে স্যার বলে কথা তারপর চুরি করে ধরা খাওয়া। লজ্জা পাওয়া স্বাভাবিক। বেশ ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।
https://x.com/rayhan111s/status/1917629586529215017?t=p5VimUZNNJHHhR0t5J5cow&s=19
https://x.com/rayhan111s/status/1917630209609850892?t=edamGjrSouM4e86QXPBCjg&s=19
আপনার আম চুরি করার স্মৃতিময় গল্প পড়ে খুবই ভালো লাগলো ভাই। আসলে আমরাও এমন ছিলাম, ছোট বেলায় অনেক ফাজলামি করতাম।আমাদের ও একটা দল ছিল আম চুরি করার।যাইহোক আপনার স্মৃতিময় পোস্ট টি পড়ে আমার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেলো।আপনার স্মৃতিময় গল্প টি আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ আপনাকে ভাই পোস্ট টি শেয়ার করার জন্য।