পঞ্চমীতে কল্যাণী দর্শন (১০% @shy-fox এর জন্য এবং ৫% @abb-school এর জন্য)
তারিখ-৩০.০৯.২০২২
নমস্কার বন্ধুরা!
আশা করি সকলে ভালো আছেন ঈশ্বরের আশীর্বাদে।আমিও ভালো আছি। আপনারা তো জানেন পশ্চিমবঙ্গে তথা বাংলাদেশেও বাঙালীর প্রধান উৎসব দূর্গাপূজা চলছে। UNESCO থেকে দুর্গাপূজা কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এর অনেক কারণের মধ্যে একটা কারণ তা হল সর্ব প্রাচীন কাল থেকে দুর্গাপুজো একটা বৃহৎ সংখ্যক মানুষ পালন করে আসছে।
আপনারা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন জাতী,বর্ণ,ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।সুতরাং, এই উৎসবে ঘোরাঘুরি কি আর ছেড়ে দেওয়ার মত?
আজ আমি আর আমার প্রাণের সখী শর্মিষ্ঠা বার হলাম কল্যাণীর ২-১ টা পুজো দেখব। আর সকাল বেলা বেড়নোর দুটো কারণ হল প্রথমত, কল্যাণীতে যে টুইন টাওয়ার হয়েছে (পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা আছেন তারা অনেকেই জানেন) সেটা রাতে ভিড় ঠেলে দেখা অসম্ভব। আর দ্বিতীয়ত বিকেল হলেই কল্যাণী এবং কাঁচড়াপাড়া তে নো এন্ট্রি লেগে যায়। কোন যানবাহন থাকে না। আর অতটা পথ হেঁটে দেখাও সম্ভব না।তাই ওই ১২ টা নাগাদ বার হলাম ঠিক করলাম ২-৩ টে প্যান্ডেল ঘুরে, খাওয়া দাওয়া করে বাড়ি চলে আসব।
প্রথমেই গেলাম বহুল প্রচারিত আমাদের কল্যাণী আইটিআই মোড়ে টুইন টাওয়ার দেখতে।পুরো প্যান্ডেলে টা কত লক্ষ বাঁশ যে লেগেছে বলা মুশকিল! সত্যি বলতে বিশ্বের বড় ইঞ্জিনিয়াররাও লজ্জা পেয়ে যাবে বাঙালীর কান্ড দেখে। এটাই ভাববে যে বাঙালী বাঁশ দিতে এতটাই মাহির যে বাঁশ দিয়েই টুইন টাওয়ার, বুর্জ খলিফা তৈরী করতে পারে। 😆
মজার ছলে বলছি বটে কিন্তু শিল্পীদের কাজ সত্যিই দেখার মত। মন্ডপের ভেতরে এবং বাইরে পুরোটাই কাঁচের তৈরী। আলো পড়লে আরো জৌলুস বাড়বে।
এবার ঠাকুর দেখে বার হয়ে গেলাম বোট পার্কের প্যান্ডেল দেখতে। বোট পার্কের প্যান্ডেলটাও ভালোই করেছিলো। তার আগে গরমে দুজন দুটো আইসক্রিম খেলাম। এরপর বোট পার্কের ঠাকুর দেখে ঠিক করলাম আমাদের কল্যাণীর সবচেয়ে পুরোনো এবং বেস্ট বিরিয়ানি বানায় রেস্টুরেন্ট ঢাকেশ্বরী চাইনিজে যাব! গিয়ে দেখি এ তো অবাক কান্ড!
পুরো রেস্টুরেন্ট টা রেনোভেট করে ফেলেছে। আগের সেই পুরোনো ছোঁয়া টা নেই ঠিকই। কিন্তু ভিড়টা একই আছে।গিয়ে অর্ডার করে দিলাম ঢাকেশ্বরীর বিখ্যাত মটন বিরিয়ানি, ফিশ ফ্রাই, কোল্ড ড্রিংক।ফিশ ফ্রাইটার কথা কী বলব! এক প্লেটে ২ পাস থাকে মাঝারি মাপের ফিশ ফ্রাই যার দাম ২০০ টাকা। এতো সুস্বাদু, ভেটকি মাছের ফিলে টা বেশ পুরু আর ধবধবে সাদা মাছটা বেশ ফ্রেশ। উপরের কোটিংটাও বেশী মোটা না। আর মাছের ফিলের উপর ধনেপাতা, রসুন, লঙ্কার যে আস্তরণটা থাকে সেটাও একদম ব্যালেন্স করা। ফ্রাই টা এত ক্রাস্পি আর ফ্লেকি যে বলার ভাষা নেই।
তখনই ঠিক করে ফেললাম যে বাবা, মা, ভাইয়ের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাব। এবার বলি বিরিয়ানির কথা। পুজো বাদে সবসময়েই এরা বিরিয়ানি তে অনেকটা পরিমানে রাইস, একটা ডিম, একটা আলু আর একটা ১০০ গ্রামের মটনের পিস থাকেই। কিন্তু পুজোর সময় ওদের বিরিয়ানি তে ডিম টা থাকে না। আর রাইসের পরিমাণ কমে থাকে। কিন্তু মটনে ওরা কোন কম্প্রোমাইজ করে না।এক প্লেট মটন বিরিয়ানি ২৭০ টাকা। ওরা পুজো স্পেশাল একটা মেনুকার্ড রেখেছে সেটায় খুব মিনিমাম আইটেম থাকে। এর কারণ একটাই পুজোর উপচেপড়া ভিড়ে সবাই কে এত ভ্যারাইটির খাবার ওরা সার্ভ করতে পারবে না। এতে খাবারের মানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এরপর ঠেসে ঠুসে খেয়ে আমি বাড়ির জন্য ফিশ ফ্রাই কিনে বাড়ি ফেরার পথে আবার ত্রিপর্ণর প্যান্ডেল দেখে আমরা রওনা দিলাম বাড়ির পথে।বাড়ি এসে এই রোদের থেকে যেনো বাঁচলাম।
আজ এখানেই শেষ করলাম বন্ধুরা। আবার আসব নতুন কিছু নিয়ে।
This post was selected for Curación Manual (Manual Curation)
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 3/8) Get profit votes with @tipU :)
প্রথমে ঘোরাঘুরি তারপর জম্পেশ খাওয়াদাওয়া।এটাই পুজোর মজা।বাংগালী আর কিছু পারুক না পারুক বাশ এর ব্যাপারে একদম দক্ষ।প্যান্ডেল গুলো অনেক অনেক অনেক ভাল লাগল দেখে।আরো দেখার অপেক্ষায় রইলাম দিদি।ধন্যবাদ মায়ের সুন্দর প্রতিমা আর প্যান্ডেল গুলো দেখার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই। পুজোর এই কদিন যে দিন যে দিন বার হব, এই নিয়ে ই পোস্ট করব।
আপনি এবং আপনার বান্ধবী পঞ্চমীতে বেশ মজা করেছেন দেখছি। আপনাদেরকে ছবিতে খুব ভাল দেখাচ্ছে। পুজো নিশ্চয়ই উপভোগ করছেন। খাবারের ছবিগুলো ভাল ছিল। ধন্যবাদ দিদি।-
ধন্যবাদ দাদা
Hi, @payelb,
Thank you for your contribution to the Steem ecosystem.
Your post was picked for curation by @rex-sumon.
Please consider voting for our witness, setting us as a proxy,
or delegate to @ecosynthesizer to earn 100% of the curation rewards!
3000SP | 4000SP | 5000SP | 10000SP | 100000SP
দিদি ফেসবুকে দেখলাম যে টুইনটাওয়ার
কল্যাণী সেখানে না কি শুধু কাচ আর কাচ ৷ সারা ভারত বর্ষের মধ্যে সেরা নজর কেরেছে ৷
সত্যি বলতে ঠাকর গুলোও সত্যি অসাধারণ শুধু ঝলঝল করছে ৷
যা হোক আপনার পোষ্ট পড়ে আরও ভালো লাগলো ৷