এক দুখিনী মায়ের গল্প দ্বিতীয় পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম

আমার প্রিয় বাংলা ব্লগ এর সকল ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন? নিশ্চয় মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতে সবাই বাড়ির সকল সদস্যকে নিয়ে ভালো আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় ভালো আছি, সুস্থ আছি।সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করেছি আজকের পোস্ট।

এক দুখিনী মায়ের গল্প দ্বিতীয় পর্ব

1000021816.jpg

Source

বরাবরের মতো আজও আমি আপনাদের মাঝে এসেছি নতুন একটা পোস্ট নিয়ে। আসলে আজ এসেছি একটা গল্প নিয়ে। গল্প লিখতে ও পড়তে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই তো সপ্তাহে একটি করে গল্প লিখার চেষ্টা করি। আসলে গল্প মানে আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা। আগে ভাবতাম সিনেমা থেকে গল্প হয় আর এখন থেকে গল্প থেকে সিনেমা হয়। আসলে এমন একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে আমাদের পাশের এক চাচির সাথে। চাচির টাকা পয়সায় অভাব না থাকলেও লোকের বড় অভাব রয়েছে। আর সন্তানেরা কিভাবে পারে মায়ের সাথে এমন ব্যবহার করতে। যাইহোক আজ এসেছি এই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে। তাহলে চলুন শুরু করি আজকের পোস্ট।

আয়েশা বেগম যখন বিদেশে যাবার জন্য সব কিছু প্রস্তুত করলো। তার কিছু দিনের মধ্যে আয়েশা বেগম বিদেশে চলে গিয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখে তার ছেলে আর ছেলের বউ রয়েছে। তবে তারা দুজনেই চাকরি করে তাই বাসায় তেমন সময় দিনে পারে না।এদিকে আয়েশা বেগম একা বাসায় থেকে অস্বস্তি বোধ করছে।সে মনে মনে ভাবছে কেন আমি বিদেশে এসেছি।এদিকে ছেলে ও ছেলের বউ চাকরি করে এসে নিজেদের মতো সময় কাটায়। আর অন্য দিকে আয়েশা বেগম অসহায় ভাবে বাসার কিছু কাজ কর্ম করে বসে থাকে। যদিও তার ছেলে ও বউ আয়েশা বেগমকে কোন কিছু করতে বলে না। তবে আয়েশা বেগম নিজে থেকেই কাজ করে। এভাবে চলে গেল প্রায় ছয় মাস। এর মধ্যে আয়েশা বেগমের বউ প্রেগনেন্ট হলো।

তারপর আয়েশা বেগমের বউ বাংলাদেশ থেকে তার মা বাবাকে নেবার জন্য চেষ্টা করছে।আসলে বিদেশে যেতে সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। কেউ অনেক চেষ্টা করে যেতে পারে না আবার অনেকে তারাতাড়ি চলে যায়।প্রায় ছয় মাসের মধ্যে আয়েশা বেগমের বিয়াই বিয়ান আমেরিকা চলে গেল।আয়েশা বেগম ভাবলো তারা এলে হয়তো তার ভালো সময় কাটবে তাদের সাথে গল্প করে সময় চলে যাবে।আসলে কথায় বলে না মানুষ ভাবে এক হয় আর এক। এদিকে আয়েশা বেগমের বউ চাকরিতে চলে যায় আর তার বিয়ান আয়েশা বেগমকে দিয়ে বাসার সব কাজ করায়।

যদিও আয়েশা বেগমের শরীর বেশ খারাপ। আসলে নিজে একা কাজ করা আর অন্যের অর্ডারে করা সত্যি অনেক কষ্টের। তারপরে আয়েশা বেগম ভাবলো তার নাতি /নাতনি হলে দেখে সে বাংলাদেশের চলে যাবে।যাইহোক দেখতে দেখতে আয়েশা বেগমের ছেলের একটা পূত্র সন্তান হলো।সন্তান হবার কয়েক দিন পরেই আয়েশা চলে আসতে চাইলো। এদিকে তার বিয়ান তাকে কিছুতেই আসতে দেবে না। আসলে সে আসলে কাজ করবে কে।বউ আয়েশা বেগমের ছেলেকে বললো আমার ছেলের কাজ করার ভয়ে তোমার মা পালিয়ে যাবে।এদিকে তারা সবাই মিলে আয়েশা বেগমকে দিয়ে বাসার যাবতীয় কাজ করায়। কিন্তু আয়েশা বেগমের ছেলে সেই খবর রাখে না সে ভাবে সবাই মিলে মিশে কাজ করে। আয়েশা বেগম হঠাৎ কঠোর সিদ্ধান্ত নিল সে যেভাবেই হোক বাংলাদেশে চলে যাবে। [চলবে]

প্রয়োজনীয়তথ
ফটোগ্রাফার@parul19
ডিভাইসredmi note 12
লোকেসনফরিদপুর

1000000176.gif
আজ এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে অন্য কোন ব্লগে অন্য কোন লেখা নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

1000000175.png

আমি পারুল। আমার ইউজার নেম@parul19। আমার মাতৃভাষা বাংলা। বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি।আমি ফরিদ পুর জেলায় বসবাস করি।আমার দুটি মেয়ে আছে। আমি বাংলাই লিখতে ও পড়তে ভালোবাসি। আমি নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে ও ঘুরতে পছন্দ করি।এই অপরুপ বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে নিজেকে ধন্যবাদ মনে করি।

1000000177.gif

1000000178.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

1000022034.jpg

1000022032.jpg

 last year 

আমার কাছে কাল্পনিক গল্পের চেয়ে বাস্তব গল্প গুলো পড়তে বেশি ভালো লাগে। যাইহোক আয়েশা বেগমের উচিত ছিলো তার ছেলেকে সবকিছু খুলে বলা। কারণ আয়েশা বেগম কেনো একা একা বাসার সব কাজ করবে। সবাই মিলেমিশে কাজ করলে কোনো সমস্যা হতো না। তো আয়েশা বেগম যে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা খুব ভালো হয়েছে। দেশে ফিরে আসাটাই তার জন্য উত্তম হবে। যাইহোক পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম আপু।

 last year 

আসলে ভাইয়া বর্তমান বাস্তবে এমন অনেক ঘটে চলেছে,ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 59790.59
ETH 1577.54
USDT 1.00
SBD 0.42