নাটক রিভিউ :- " স্কুল গ্যাং সিজন ২ " ( পর্ব ১৩ ) ❤️
ABB 28.1.25 ✅
বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো সুস্থ আছি। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে নতুন ব্লগ করলাম। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব একটি নাটক রিভিউ। নাটকের নাম হচ্ছে স্কুল গ্যাং সিজন ২ । নাটকটি মূলত পর্ব আকারে করা হয়েছে । বেশি দিন ধরে আমি এই নাটকটি দেখছিলাম। যদি এটা অনেক আগেই বের হয়েছে। তবে যেহেতু এই নাটকটি বেশ কিছুটা পর্ব তৈরি করা হয়েছে, তাই জন্য ভাবলাম আপনাদের মাঝে একটা একটা করে পর্ব শেয়ার করবো। আজকে আমি আপনাদের মাঝে নাটকের ১৩ তম পর্ব টা শেয়ার করবো। আশা করি রিভিউটা পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।
নাটক সম্পর্কে কিছু তথ্য :-
| নাম | স্কুল গ্যাং সিজন ২ |
|---|---|
| কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা | আর্থিক সজীব। |
| অভিনয়ে | শহিদুল আলম সাচ্চু, আব্দুল্লাহ রানা, তামিম খন্দকার, শায়লা সাথী, সিয়াম মৃধা , আরোহী মিম, মিরাজ খান, আদর আহমেদ , নাজিয়া বর্ষা, সাকিব সিদ্দিকি, অনন্যা ইসলাম, শোয়েব শান্ত , রকি খান, ফারুক আল ফারুকী সহ আরো অনেকে। |
| প্রধান সহকারী পরিচালক | মামুন অর রশিদ |
| সম্পাদনা | সাইদুর রহমান সবুজ |
| মিউজিক | বি এইচ পারভেজ |
কাহিনী সারসংক্ষেপ
এই পর্বের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই শান্ত এক্সিডেন্ট করেছে। আর তার সব বন্ধুরা তাকে গিয়ে ধরেছে। এক্সিডেন্ট করার কিছুক্ষণ পরেই সে বমি করে, আর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তারা সবাই তাড়াতাড়ি করে তাকে রিকশায় করে হসপিটালে নিয়ে যায়। আর ডাক্তার চেক করে তাদেরকে বলেছে, সে যেহেতু এক্সিডেন্ট করার পর বমি করে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে তাই ব্যাপারটা অনেক সিরিয়াস হয়ে গিয়েছে। তাকে ডাক্তার নিয়ে যাওয়ার পর তার বন্ধুরা মিলে অনেক কথা বলছিল এই বিষয়ে। আর সবার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তারপর আমরা স্কুলের অফিস রুমে হেড স্যার আর আদর স্যারকে দেখতে পাই বাসায় যাওয়ার জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছে।
আর তখনই ফারুক এসে তাদেরকে শান্তর এক্সিডেন্টের কথা বলে। এরপর হেড স্যার আদর স্যারকে বিষয়টা জানার জন্য বলে। এরপর আমরা হসপিটালে দেখতে পাই শান্তর চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে তার বন্ধুরা বাহিরে অপেক্ষা করছিল, আর অনেক কান্নাকাটি করছিল। কিছুক্ষণ পর ওখানে তার বাবা এসে অনেক কান্নাকাটি করতে থাকে, আর কান্না করতে করতে অনেক কথা বলে। আর তখনই ডাক্তার আইসিও থেকে বের হয়। তারপর ডাক্তার পেশেন্টের গার্জিয়ান কে তার রুমে যাওয়ার জন্য বলে। কিন্তু তার বাবা শান্ত কে দেখার জন্য আইসিওতে চলে যায়। তারপর শান্তর অন্য বন্ধুরা ডাক্তারের সাথে তার কেবিনে যায়। এরপর ডাক্তার ওষুধ নিয়ে আসার জন্য সিলিপ দেয়। তারপর ডাক্তার তাদেরকে জানায় পেশেন্টের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।
আর এই জন্য সিটি স্ক্যান করতে হবে। আর এর জন্য বারো হাজার টাকা প্রয়োজন। আর সবাই এটাই ভাবতে থাকে কিভাবে টাকা যোগাড় করবে। আর শান্তর বাবা একটা লোকের কাছে যায় টাকার জন্য।আর তখন লোকটা তাকে ২০০০ টাকা দেয়। কিন্তু তার বাবা তার কাছে দোকান বন্ধক দিতে চায়। কিন্তু লোকটা নিতে চায় না। আর তাকে বলে এটা কাগজে কিছু কথা লিখে লোকাল বাসে উঠে সাহায্যে যাওয়ার জন্য। এরকম বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। তারপরে আমরা ডাক্তারকে দেখতে পাই শান্তর রিপোর্ট চেক করছে। আর তার বন্ধুরা রিপোর্টের বিষয়টা জিজ্ঞেস করে। আর ডাক্তার তখন অপারেশন করে সার্জারির কথা তাদেরকে বলে। আর সার্জারি না হলে শান্ত কে বাঁচানো যাবে না এটাও বলে দেয়।
আর তখন মিরাজ সার্জারিতে কত টাকা লাগবে এই বিষয়টা ডাক্তার কে জিজ্ঞেস করে। তখন ডাক্তার তাদেরকে জানায় ৬-৭ লাখ টাকার মতো লাগবে। আর তারা ডাক্তারকে জানায় যেভাবেই হোক না কেন তারা টাকা যোগাড় করবে। এরপর তারা কেবিন থেকে বের হয়ে টাকার বিষয়ে চিন্তা করতে থাকে। কারণ তারা জানে শান্তর বাবা কখনোই পারবে না এতগুলো টাকা জোগাড় করতে। কারণ তারা অনেক গরিব। তারপরে শান্ত নিজের iphone বিক্রি করার কথা বলে। আর নাজিয়া নিজের স্বর্ণের চেন বিক্রি করে দিবে বলে।
অন্যদিকে মিরাজ নিজের মোবাইল আর সাথী নিজের কাছে থাকা আংটি বিক্রি করবে বলে দেয়। আর তারা ফ্যামিলির কাছ থেকেও কিছু টাকা নেওয়ার কথা ভাবে। এরপর তারা স্বর্ণের জিনিসগুলো বিক্রি করে। অন্যদিকে শান্তর বাবা ঐ লোকটার কথা মতো একটা কাগজে ছেলের অসুস্থতার জন্য সাহায্য চাই এটা লিখে সাহায্য চাইতে থাকে। কিন্তু তাকে কেউই টাকা দেয় না। তারপর আমরা তামিমকে দেখতে পাই রাস্তার ধারে বসে বসে চা খাচ্ছিল। আর তখন তার বন্ধু এসে তাকে শান্তর এক্সিডেন্টের বিষয়টা জানায়। এরপর তারা এই বিষয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে। আর তখনই এই পর্বটা শেষ হয়ে যায়।
ব্যক্তিগত মতামত
সবগুলো পর্বের মতো এই পর্বটাও অনেক সুন্দর ছিল। তবে শান্তর এক্সিডেন্টের বিষয়টার কারণে অনেক খারাপ লেগেছিল। তার চিকিৎসার জন্য ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু তার বাবা অনেক গরিব। তার পক্ষে কখনো সম্ভব নয়, এতগুলো টাকা যোগাড় করা। তাই তার সকল বন্ধুরা বিভিন্ন ভাবে টাকা ম্যানেজ করার জন্য চেষ্টা করছে। শান্তর বন্ধুদের মধ্যে কেউ মোবাইল, কেউ চেইন, কেউ আংটি বিক্রি করেছে। এখন দেখা যাক তারা সবাই মিলে শান্তকে বাঁচাতে পারে কিনা। নাকি শান্ত মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়?? এটা আমরা আগামী পর্ব গুলোতে জানতে পারবো। আমি চেষ্টা করবো খুব শীঘ্রই আপনাদের মাঝে পরবর্তী পর্ব টা শেয়ার করার জন্য। আশা করি আপনারা সেই পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবেন।
ব্যক্তিগত রেটিং
৯/১০
নাটকের লিংক
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আমার নাম নুরুল আলম রকি। আমার steemit I'd narocky71। আমি বাংলাদেশী নাগরিক । বাংলাদেশে বসবাস করি। তার সাথে সাথে আমি বিশ্বনাগরিক। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি। আমি বাংলা ভাষাকে ভালবাসি। আমি ফটোগ্রাফি করতে ও ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে জল রং দিয়ে পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। যখনই আমার সময় এবং হাতে টাকা থাকে তখন ভ্রমণ করতে বেরিয়ে পড়ি। বিশেষ করে আমি ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি অনেক বছর আগ থেকে ফটোগ্রাফি করে থাকি। কিন্তু বিশেষ করে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি বেশি করা হয়। বর্তমানে তার সাথে আর্ট করতে অনেক ভালোবাসি। বর্তমানে আমি বেশি সময় কাটাই আর্ট শিখতে। বর্তমানে আমার স্বপ্ন, আমি একজন ভালো ফটোগ্রাফার, ও একজন ভালো আর্টিস্ট হব। ( ফি আমানিল্লাহ)
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/NARocky4/status/1884414469998313775?t=cThd_qPXHrjYKDGAEC6WQQ&s=19
স্কুল গ্যাং সিজন ২,এর ১৩নং পর্বে মর্মান্তিক একটি দৃশ্য উঠে এসেছে। তা হলো শান্তর এক্সিডেন্ট।একে তো তারা গরিব তারওপর আবার ছয় থেকে সাত লক্ষ টাকা দিয়ে সার্জারি করানোতো প্রায় অসম্ভব।যাইহোক তার বন্ধুরা যেহেতু টাকা উঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে আশা করা যায় ভালো কিছু হতে পারে।আর সেটা আপনার রিভিউ করা পরের পর্বে জানতে পারবো।এই পর্বটি খুবই গুছিয়ে রিভিউ করেছেন ভাই।দারুন লেগেছে আপনার রিভিউ পড়ে। পরবর্তী পর্বের রিভিউ পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম ভাই।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাই। এ দৃশ্যটা খুবই মর্মান্তিক। ধন্যবাদ
আপনি আজকে স্কুল গ্যাং নাটকের ১৩ তম পর্ব শেয়ার করেছেন। আপনার নাটক রিভিউটি পড়ে মনে হচ্ছিল যেন আমি নাটকটি সরাসরি দেখতেছি। আমার তেমন একটা নাটক দেখার সময় হয় না, তবে সময় পেলেই আমি আরোহী মিম, মিরাজ খানের নাটক গুলো দেখি উনাদের নাটক গুলো আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। আপনি অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে শেয়ার করেছেন এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
নাটক রিভিউটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ
অনেক সুন্দর একটা নাটকের রিভিউ তৈরি করে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইয়া। এই নাটকটা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে কতটা ভালো লাগে সেটা বলে বোঝাতে পারবো। যদিও ছোট ছেলেমেয়েরা এই নাটকে অংশগ্রহণ করেছে তারপরও তারা খুবই সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
আমার নিজেরাও খুব পছন্দের একটি নাটক এটা। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া আপনি প্রতি সপ্তাহে একটি একটি পর্ব শেয়ার করে আজ ১০ তম পর্বে এসে পৌঁছেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। এই নাটক যত দেখি ততই আরো বেশি দেখতে ইচ্ছে করে। আমার কাছে প্রতিটা পর্বেই খুব ভালো লাগে। এই নাটকের সবাই খুব সুন্দর অভিনয় করেছেন। আপনি দশম পর্বে খুব সুন্দর ভাবে রিভিউ তুলে ধরেছেন। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ভাইয়া এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ দেওয়ার জন্য।
আজ আমি ১৩ তম পর্ব শেয়ার করেছি আপু। আমার নিজের খুব পছন্দের একটি নাটক এটা। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
দেখতে দেখতে এই নাটকের ১৩ টি পর্ব শেষ হয়ে গেল। আর এই নাটকটার প্রতিটা পর্বের রিভিউ আমার পড়া হয়েছে। আশা করি একে একে সবগুলো পর্ব তুমি সবার মাঝে শেয়ার করবে। শান্তর এক্সিডেন্টের কথা শুনে অনেক খারাপ লেগেছে। এখন দেখা যাক তাকে বাঁচাতে পারে কিনা তার বন্ধুরা। অপেক্ষায় থাকলাম পরবর্তী পর্বের রিভিউর জন্য।
আমারও শান্তর এক্সিডেন্ট দেখে অনেক খারাপ লেগেছিল।
ভাইয়া আপনি খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।স্কুল গ্যাং নাটক টি দেখি নাই তবে এই নাটকের কিছু ট্রেইলার আমি দেখছি।যাইহোক সাকিব এবং মিরাজ ও আরোহী মিম এদের অভিনয়ে খুবই ভালো লাগে আমার।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
আমার নিজেরও ওদের অভিনন্দন অনেক ভালো লাগে। এভাবে নাটকের প্রতিটা পর্বের রিভিউ শেয়ার করার চেষ্টা করবো।
নাটকের এ পর্বটি এর আগে চোখে পড়েনি তাই এখন পড়ে নিলাম। আসলে নাটকটি অনেক চমৎকার। ধন্যবাদ সুন্দর এই নাটকের পর্বগুলো এক এক করে শেয়ার করার জন্য।