লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জন!! laxmi protima bisorjon

in Incredible India8 months ago

নমস্কার বন্ধুরা,সকলে কেমন আছেন?আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

Video link

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহ্যের ও ভালোবাসার শহর কৃষ্ণনগর ।একমাত্র কৃষ্ণনগর বাসিরাই জানে প্রত্যেকটা উৎসবে শামিল হয়ে আনন্দ উপভোগ করতে। কারণ কৃষ্ণনগরে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে। প্রত্যেক পুজো থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি মেলা বারো মাস ধরে চলতেই থাকে। প্রত্যেকটি উৎসবে কৃষ্ণনগর বাসীদের মধ্যে একটা আবেগ কাজ করে। কৃষ্ণনগরে শুরু হয়ে গেছে সেই গনেশ পূজা থেকে আনন্দের ছোঁয়া ।গত সোমবার দিন ছিল লক্ষ্মীপূজা ।প্রচুর জায়গায় বড় বড় লক্ষ্মী প্রতিমা পুজো করা হয়। কিন্তু এ বছরে লক্ষ্মী প্রতিমা দেখতে বেরোতে পারিনি। গত বুধবার দিন ছিল লক্ষী ঠাকুরের বিসর্জন। সেদিন রাতের বেলায় বর হঠাৎ বায়না করলো চলো লক্ষ্মী ঠাকুর বিসর্জন দেখে আসি ।তখন ঘড়ির কাঁটায় বাজে রাত নটা। ইচ্ছে না থাকলেও কোনরকমে একটু রেডি হয়ে গিয়েছিলাম ঠাকুর বিসর্জন দেখতে যাব বলে। দুজনে রেডি হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম রাত সাড়ে নটা নাগাদ।

IMG_20251010_153054.jpg

বাড়ির কাছ থেকে টোটো ধরে চলে গিয়েছিলাম যেখানে ঠাকুর বিসর্জন হয় সেখানে। সেখানে তো গিয়ে দেখি বহু মানুষের ভিড়। প্রত্যেকটি মানুষজন লক্ষ্মী ঠাকুর বিসর্জনের জন্য রাস্তার দুই ধারে ভিড় করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।মানুষের কত ধৈর্য রাস্তায় না বেরোলে একদমই বোঝা যায় না। যাইহোক আমরা ওখান থেকে দুজনে হাঁটতে হাঁটতে সোজা চলে গিয়েছিলাম কদমতলা ঘাটের উদ্দেশ্যে যেখানে প্রত্যেকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। রাস্তায় যেতে যেতে প্রত্যেকটি ঠাকুরের লাইন ছিল। ঠাকুর লাইনের পাশে দিয়ে দুজনে হেঁটেই চলে গিয়েছিলাম কদমতলা ঘাটে ।গিয়ে দেখি ঘাটের ধার পুরো ফাঁকা সেখানে একটি মাত্র ঠাকুর বিসর্জনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে মানুষজনের প্রচুর ভিড় রয়েছে।

IMG_20251010_153119.jpg

সমস্ত ঠাকুর রাস্তায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আস্তে আস্তে ঘাটের দিকে আনা হবে। এখনকার মানুষের লক্ষ্মী প্রতিমা নিয়েও এত উদ্যোগ না দেখলে বোঝা যায় না। কিছু প্রতিমা গাড়িতে করে আনা হচ্ছিল ।আবার কিছু প্রতিমা কাঁধে চেপে কদমতলা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। তবে এবারে নদীতে প্রচুর জল। কারণ টানা বেশ কিছুদিন ধরে বৃষ্টি হয়েছে ।তাই নদীর ধারে থেকে প্রতিমা ডুবিয়ে দেওয়া যাবে। বেশি জলে নামায় দরকার নেই। এছাড়াও পৌরসভার লোকজন থাকে ।তারা কাউকে জলে নামতে দেয় না। তারা নিজেরাই প্রতিমা গুলো জলে ডুবিয়ে দেয়। দেবার সাথে সাথে ক্রেনে করে প্রতিমা গুলো তুলে পাশে জমা করা হয়।

IMG20251008214528.jpg

আমরা দুজনে বেশ খানিকক্ষণ ধরে প্রচুর প্রতিমা বিসর্জনে দেখেছিলাম। এর পরে বরের ইচ্ছে হলো একটু চা খাবে ।তাই একটু চা খেয়ে নিয়েছিল । চা খাওয়ার পর দুজনে আবারও হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম ।আর রাস্তাতে প্রচুর ঠাকুর টোটো ধরা যাবে না। রাত এগারোটা পর্যন্ত লক্ষ্মী ঠাকুর বিসর্জন হয়েছিল ।আমরা হাঁটতে হাঁটতে এসে লাস্ট ঠাকুর বিসর্জন দেখে ওখান থেকে আবার টোটো ধরে নিয়েছিলাম বাড়ি ফিরব বলে। আজকাল মানুষ লক্ষ্মী পূজার নিয়ম প্রচন্ড মাতামাতি শুরু করেছে। শুধুমাত্র আমরাই হয়তো লক্ষ্মী ঠাকুর দেখতে বের হয় না। তবে আমরা সেদিন যাওয়ার আগে সন্ধ্যা থেকেই লক্ষ্মী ঠাকুর বিসর্জন শুরু হয়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যার সময় যে প্রতিমা গুলো বিসর্জনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় প্রচুর লাইটিং সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ।সেগুলো দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে সেগুলো এবারে গিয়ে দেখতে পাইনি। প্রত্যেকটি প্রতিমা দেখতে এত মিষ্টি লাগছিল তা বলে বোঝানো যাবে না। তবে বিকেলের দিকে খানিকক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাস্তাঘাট প্রচণ্ড কাদা ছিল।

IMG20251008214909.jpg

মানুষ জন প্রতিমা বিসর্জন দিতে যাওয়ার সময় একটু অসুবিধায় হয়েছে। রাস্তায় বেশ কিছু জায়গায় জল জমে ছিল। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে বেশ ভালো লাগে। কারণ সমস্ত ঠাকুর ওই নদীর ধারে এসে জমা হয়। তবে লক্ষ্মী পূজার সময় নদীর ধারে ঠাকুর দেখতে দিলেও জগদ্ধাত্রী পুজো কিংবা কালীপুজোতে একদমই নদীর ধারে দাঁড়াতে যাই না। তখন প্রশাসন ব্যবস্থা ভীষণ কড়া হয়। লক্ষ্মী ঠাকুর বিসর্জনের কিছু ভিডিও করেছিলাম সেই ভিডিওর লিংক দেওয়া থাকলো আপনারা চাইলে কৃষ্ণনগরে লক্ষী প্রতিমার বিসর্জন দেখতে পারেন। একমাত্র কৃষ্ণনগর বাসীরাই হয়তো সমস্ত পুজো থেকে সমস্ত মেলা উপভোগ করে।


আজ এই পর্যন্ত ।আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল ।সকালে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.078
BTC 62741.70
ETH 1659.93
USDT 1.00
SBD 0.42