একজন সংগ্রামী বাবা||

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার


আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। মাঝে মাঝে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে লিখতে অনেক ইচ্ছে করে। আসলে আমরা আমাদের চলার পথে অনেকের সাথে পরিচিত হই। অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনের গল্প গুলো জানতে পারি। তেমনি একজন মানুষের কথাই আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো।


একজন সংগ্রামী বাবা:

IMG_20250209_195110.jpg


প্রায় বছরখানেক আগে আমার একজন মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছিল। পেশায় তিনি রিক্সাচালক। প্রয়োজনীয় কাজে বাহিরে যাওয়ার সময় উনার রিক্সায় ওঠার সুযোগ হয়েছিল। উনার কথার ধরন আর সবকিছুই আমার কাছে একেবারে অন্যরকমের লেগেছিল। আমি আমার বোনকে নিয়ে কোচিং যাচ্ছিলাম তখন তিনি অনেক কিছুই বললেন। আমার বোনকে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করলেন। আসলে একজন রিক্সা চালকের জ্ঞানের পরিধি আমাকে মুগ্ধ করেছিল। মাঝে মাঝেই উনার কথা আমার অনেক মনে হয়।


গতকাল হঠাৎ করে আবারো উনার সাথে দেখা হয়েছে। প্রথমে তো আমি উনাকে চিনতে পারিনি। মেডিসিন কেনার পর বাসায় ফেরার সময় উনার রিক্সায় উঠেছিলাম। হঠাৎ করে কথা প্রসঙ্গে উনি আমাকে বললেন আপনার বাসা কোথায়। এরপর কথা বলা শুরু করলো। আসলে কারো সাথে কথা বলতে আমার ভালোই লাগে। বিশেষ করে অসহায় মানুষগুলোর সাথে কথা বলতে ও তাদের কথাগুলো শুনতে আমি খুবই আগ্রহী। এরপর আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কোন ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করেছি। তখন উনি আমাকে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন করলেন। আসলে উনার ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ আমাকে সত্যি মুগ্ধ করেছে। একজন রিক্সাচালক এত ভালোভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে এটা আসলে চোখের সামনে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না।


এরপর উনার সাথে অনেক কথা হলো। উনি একজন সংগ্রামী বাবা। বড় ছেলেকে মেডিকেল কোচিং করিয়ে উনি একদম নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে। ঢাকায় ছোটখাটো চাকরি করতেন। বড় ছেলেকে পড়াশোনা করানোর জন্য উনি দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিলেন। অবশেষে উনি সফল হতে পারেননি। উনার ছেলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। এরপর অনেক কষ্ট করে ঢাকার একটি কলেজে ছেলেকে ভর্তি করেন এবং সেখান থেকে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করান। তিনি সামান্য বেতনের চাকরিতে টিকে থাকতে পারছিলেন না। তাই চলে আসে গ্রামে। কোন কাজ না পেয়ে অবশেষে রিক্সা চালানো শুরু করেন। এখন উনার ছেলের পড়াশুনা শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো ছেলেটি বেকার।


তিনি আফসোস করছিলেন আর বলছিলেন এই বৃদ্ধ বয়সেও সবার খরচ চালাতে হয়। ছেলে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে যাওয়ার মত টাকাও তার হাতে নেই। বাবা টাকা জোগাড় করে দিবে এরপর সে ঢাকায় যাবে। এই কথাগুলো যখন বলছিলেন তখন তার ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এসেছিল। সত্যি কথা বলতে আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। আসলে সন্তানরা যখন পড়াশোনা শেষ করে বাবা মায়ের দায়িত্ব নিতে পারেনা এর থেকে কষ্টের বোধহয় আর কিছুই থাকে না। একজন বৃদ্ধ বাবা রিকশা চালিয়ে যদি সংসারের দায়িত্ব নিতে পারে তাহলে একজন শিক্ষিত ছেলে কেন বাবা মায়ের দায়িত্ব নিতে পারে না এই কথাটি ভাবতেও খারাপ লাগে।


একজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষ চাকরি ছেড়ে রিক্সাচালক হয়েছে। এটা আসলে সত্যিই অনেক কষ্টের। উনার মুখে কথাগুলো শুনে আমার সত্যিই খারাপ লেগেছিল। তবে ওনার কথা বলার ধরন আর জ্ঞানের পরিধি আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছিল। একদম স্পষ্ট ভাষায় সবকিছু বলছিলেন। কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছিল উনি অনেক শিক্ষিত একজন মানুষ। হয়তো পরিস্থিতি উনাকে অন্য পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি ওনাকে বাধ্য করেছে রিক্সা চালাতে। আমি রিক্সা চালকদের ছোট করে কথা বলছি না। তবে কেউ যখন এরকম পর্যায়ে নেমে পড়ে তখন সত্যি অনেক খারাপ লাগে। তাদের ভেতরের কষ্টটা উপলব্ধি করলে আরো বেশি খারাপ লাগে। একজন সংগ্রামী মানুষের গল্পটা যখন উনার নিজের মুখ থেকে শুনেছি তখন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। উনার প্রতি যে শ্রদ্ধা আমার মনের জন্মেছে সেটা সারাজীবন ধরে রয়ে যাবে।



আমার পরিচয়

photo_2021-06-30_13-14-56.jpg

আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

Screenshot_2025-02-09-19-57-07-92_0b2fce7a16bf2b728d6ffa28c8d60efb.jpg

Screenshot_2025-02-09-19-59-51-46.jpg

Screenshot_2025-02-09-20-01-09-42.jpg

Screenshot_2025-02-09-20-01-59-81_23bb9e0ea952186c441897efdc323bdd.jpg

 last year 

প্রতিটি বাবা-মায়ের ইচ্ছা থাকে তাদের সন্তানেরা বড় হয়ে তাদের দায়িত্ব নেবে। প্রতিটি বাবা তার সন্তানের জন্য নিজের সর্বত্র দিয়ে দেয়। অনেক কষ্ট করেও ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করতে পারেনি এখানেই তিনি হতাশ হয়েছেন। চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে রিক্সা চালাচ্ছেন এটা তার জীবনের আরেকটি কষ্টের অধ্যায়। সন্তানের পড়াশোনা শেষ তারপরেও তার চাকরি হয়নি এই বয়সে বাবা সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে সন্তানের বাবার দায়িত্ব নেওয়ার ছিলো।আসলেই এই রিকশাওয়ালা মামা একজন সংগ্রামী বাবা। আপনি এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন আপু পড়ে ভালো লাগলো।

 last year 

সন্তান যদি বাবা মায়ের কষ্ট না বুঝে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই নেই। মাঝে মাঝে মানুষের জীবনের কথা শুনে খুবই কষ্ট হয়।

 last year 

আসলে আপু রিক্সা চালায় বলে সবাইকে কম জ্ঞান সম্পন্ন হবে তা কিন্তু নয়। এখন কিন্তু লেখাপড়া জানা মানুষেরা পরের গোলামী না করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। আর আমি মনে করি এই সমস্ত মানুষগুলো অনেকটা সাদা মনের মানুষ হয়ে থাকে। জীবন জীবিকার জন্য এবং সংসারকে ভালো রাখার জন্য অনেক পরিশ্রম করে। তারপরে তাদের সুন্দর আচার ব্যবহার গুলো তাদের পূর্ব পরিচয় তুলে ধরে। দোয়া করি এই সমস্ত মানুষগুলোর জন্য।

 last year 

আপু আমি বলিনি রিক্সা চালায় বলে তার জ্ঞান কম হবে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছে যাদেরকে সব পেশায় মানায় না।

 last year 

একজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষ চাকরি ছেড়ে রিক্সাচালক হয়েছে। এটা আসলে সত্যিই অনেক কষ্টের।

এটা একদম আপু। মানুষ না পেরে এমন পেশায় কখনো আসে না! অনার্স মাস্টার্স করা ছেলের এখনো ভরণপোষণ করতে হচ্ছে বাবার! ব্যাপারটা আসলেই অনেক দুঃখজনক। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা।

 last year 

যদি কেউ ইচ্ছা করে বাবা মায়ের দায়িত্ব না নেয় তাকে কোনকিছু বুঝানো সম্ভব না। আমিও মন থেকে চাই ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা

 last year 

পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছুই করতে শেখায় আপু। আমাদের পথে এমন অনেক মানুষের সাথে দেখা হয় যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিভিন্ন কর্ম বেছে নেয়। রিক্সাওয়ালা চাচার জীবনকাহিনী পড়ে খুবই খারাপ লাগলো এবং ওনার ছেলের দ্রুত একটা চাকরি হোক এই প্রত্যাশাই রইল।

 last year 

ঠিক বলেছেন আপু পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছু করতে বাধ্য করে। তবে উনার কথা গুলো শুনে অনেক কষ্ট লেগেছে।

 last year 

লোকটার জন্য আসলেই খুব খারাপ লাগলো। সেই লোকের ছেলে যদি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতো বা অন্য কোনো কাজ করতো,তাহলে তো লোকটাকে এই বয়সে রিকশা চালাতে হতো না। আমাদের দেশে বেকারত্বের হার দিনদিন বেড়েই চলেছে। যাইহোক পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

 last year 

জীবনের কঠিন বাস্তবতা অনেককে সংগ্রামী করে তোলে। একজন বাবা সবকিছু ত্যাগ করেও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, কিন্তু কখনো কখনো বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে কঠিন করে তোলে। এই রিকশাওয়ালা বাবার গল্প সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সন্তানের চাকরি না হওয়ায় বৃদ্ধ বয়সেও তাকে পরিশ্রম করতে হচ্ছে, যা আমাদের সমাজের বেকারত্বের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। দোয়া করি, তার সন্তান দ্রুত ভালো একটি চাকরি পাক এবং এই সংগ্রামী বাবার কষ্ট কিছুটা দূর হোক। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.079
BTC 62740.17
ETH 1696.82
USDT 1.00
SBD 0.40