রংপুর সেনানিবাস ভ্রমণ||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজ আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি পোস্ট শেয়ার করতে যাচ্ছি। কিছুদিন আগে রংপুর সেনানিবাসে ভ্রমণ করার সুযোগ হয়েছিল। যদিও ভ্রমণটা খুব একটা আনন্দের ছিল না। কারণ আমার বাবা সেনানিবাসের ভেতরের সামরিক হসপিটালে ভর্তি ছিলেন। অনেকদিন পর যেহেতু রংপুর সেনানিবাসে গিয়েছিলাম তাই বেশ কিছু সময় কাটিয়েছিলাম আর সেই মুহূর্তগুলোই শেয়ার করবো।
রংপুর সেনানিবাস ভ্রমণ:
Location
মাঝে মাঝে কিছু কিছু ভ্রমণ হয় আনন্দের আবার কিছু কিছু ভ্রমণ হয় বেদনার। আসলে আমরা অনেক সময় অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করি। বাবার অসুস্থতার সুবাদে রংপুর সেনানিবাসে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। যদিও মনটা খুবই খারাপ ছিল। কারণ বাবা অসুস্থ ছিলেন। আসলে সেনানিবাসে যাওয়ার আগে বেশি খারাপ লাগছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত যেতে না পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত বেশি খারাপ লাগছিল। অনেকটা সময় গেটের কাছে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কারণ নির্দিষ্ট কিছু রিক্সা এবং অটো শুধুমাত্র ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
Location
আমরা অটোতে বসে ছিলাম অনেকটা সময় ধরে। ভিতরে যাওয়ার পারমিশন পাওয়ার পর ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছিল। প্রবেশ মুখে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অবশেষে তারা আমাদেরকে ভেতরে যাওয়ার পারমিশন দিয়েছিলেন। রংপুর সেনানিবাসের ভেতরটা সত্যিই অনেক সুন্দর। একদম সাজানো গোছানো। যদিও বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন সেনানিবাসে থাকার সুযোগ হয়েছে। তবে রংপুর সেনানিবাসে কখনো থাকার সুযোগ হয়নি।
Location
রংপুর সেনানিবাসের চারপাশের পরিবেশ আর সাজানো গোছানো সবকিছু দেখে বারবার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। যখন ছোট ছিলাম তখন বাবার সাথে মাঝে মাঝে বাবার অফিসে যেতাম। বিভিন্ন রকমের ফুল নেওয়ার জন্য বায়না করতাম। আসলে তাদের সবকিছু এতটা সাজানো-গোছানো হয় যে ঘুরতে অনেক ভালো লাগে। ছোটবেলা থেকে এরকম জায়গা গুলো দেখে অভ্যস্ত হয়েছি। তবে বাবা বর্তমানে যেহেতু অবসরপ্রাপ্ত তাই অনেকদিন পর সেনানিবাসে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।
Location
রংপুর সেনানিবাসের নিয়ম কানুন খুবই কড়া মনে হয়েছে। তারা তো একেবারে একজন একজন করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এরপর ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়। এমনকি বাহিরে বের হওয়ার সময় আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে আমরা অন্যান্য যে সেনানিবাসগুলোতে ছিলাম সেখানে এতটা করাকরি ছিল না। রংপুর সেনানিবাস এর নিয়ম কানুন গুলো আমার কাছে অনেকটাই করা মনে হয়েছে।
Location
তবে চারপাশের প্রকৃতি আর তাদের সাজানো গোছানো সবকিছু দেখে অনেক ভালো লেগেছে। সবকিছুই যেন আলাদা রকমের ছিল। আমার কাছে তো অনেক ভালো লেগেছিল। হসপিটালের আশেপাশে ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখেছি আর সেগুলো দেখে মনটা ভালো হয়ে গিয়েছিল। বাবার সাথে অনেকটা সময় কাটিয়েছি আর হসপিটালের আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করেছিলাম। সময়টা ভালোই কেটেছিল। তবে বিদায়ের সময়টা অনেক কষ্টের ছিল।
আমি চেষ্টা করেছিলাম ভ্রমণের মুহূর্ত গুলো শেয়ার করার। আশা করছি আমার এই পোস্ট সবার ভালো লেগেছে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
সেনানিবাসের ভিতরে প্রবেশ করার মতো ভাগ্য সকলের হয়ে উঠে না। আপনি আপনার বাবা অসুস্থ থাকার সুবাদে রংপুর সেনানিবাসে গিয়েছিলেন, দেখে বেশ ভালো লাগলো আমার কাছে। আসলে আমাদের দেশের সেনানিবাস গুলোর পরিবেশ অনেক বেশি সুন্দর।যা, আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছে।
এটা ঠিক বলেছেন ভাইয়া সেনানিবাসের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ সবার হয় না। বাবার চাকরির সুবাদে হয়তো সেই সুযোগটা অনেক পেয়েছি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আমি তো একসময় শুনতাম সেনানিবাসের মধ্যে পাবলিকদের প্রবেশ করতে দেয় না। গেস্ট হিসেবে যদি দিতে পারা যায় তাহলে সুযোগ হয়। তবে ফটোগ্রাফি করা নিষিদ্ধ। আপনি অনেক সুন্দর ফটোগ্রাফি করতে পেরেছেন দেখে ভালো লাগলো। সেনানিবাস অনেক সুন্দর করে সাজানো থাকে ফুলে ফুলে।
আমার বাবা অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য। তাই তো আমাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিয়েছিল। তবে ফটোগ্রাফি করা নিষিদ্ধ এরকম কিছু ছিল না আপু।
কয়েকদিন আগেই আপনার বাবার অসুস্থতার কথা জেনেছিলাম আপনার পোস্টে। রংপুর সেনানিবাস আমার বাসার অনেকটাই কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও এখানে যাওয়া হয়নি কখনো। কারণ বহিরাগতদের এখানে প্রবেশ নিষেধ। তবে আপনার ফটোগ্রাফি থেকে খুবই সুন্দর দৃশ্যগুলো উপভোগ করতে পারলাম সেনানিবাসের ভেতরের। আপনার বাবাকে দেখতে গিয়ে রংপুর সেনানিবাসে ঘোরার সুন্দর মুহূর্ত টি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
কয়েকদিন আগে বাবা হসপিটালে ভর্তি ছিলেন। তাইতো উনাকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং ছবিগুলো তুলেছিলাম ভাইয়া।
https://x.com/Monira93732137/status/1886759412481614096?t=pohuMyJv4k07TgxxADvbUg&s=19
আমার লাইফে আমি কোনদিন রংপুর সেনানিবাসে যায় নাই। তবে রাজশাহী ও যশোর সেনানিবাসে বেশ কয়েকবার গেছি। সেনানিবাসের সৌন্দর্য অনেক বেশি। আপনি বেশ কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করছেন পাশাপাশি অনেক কিছু বর্ণনা শেয়ার করেছেন। খুব ভালো লাগলো চমৎকার এই পোস্ট দেখে।
যশোর সেনানিবাসে আমিও গিয়েছিলাম এবং অনেকদিন থেকেছিলাম ভাইয়া। বলতে গেলে ছোটবেলার অনেকটা সময় কেটেছে। ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
সেনানিবাস এরিয়া গুলো বেশ কড়াকড়ি ই হয়ে থাকে এবং জনসাধারণের জন্য সাধারণত রেস্ট্রিকটেড রাখা হয়। আপনার মাধ্যমে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট এর ছবি দেখার সুযোগ হলো। আমারো কখনো ভেতরে যাওয়া হয় নি। তাই ছবির মাধ্যমে দেখে ভালো লাগলো।
ঠিক বলেছেন আপু সেনানিবাস এরিয়া গুলো অনেক কড়াকড়ি। তবে আমরা অন্যান্য অনেক সেনানিবাসে থেকেছি সেখানে এরকম কড়াকড়ি ছিল না।
রংপুর সেনানিবাস আসলেই খুব সুন্দর। ফটোগ্রাফি গুলো দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি আপু। রংপুর সেনানিবাস তো দেখছি তাহলে অনেক কড়াকড়ি। যাইহোক আপনার ফটোগ্রাফি গুলোর মাধ্যমে রংপুর সেনানিবাস দেখার সুযোগ হলো আপু। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া সেনানিবাসের ভিতরের অংশগুলো খুবই সুন্দর সাজানো গোছানো। অনেক ভালো লেগেছিল।
পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।তেমনি আপনার বাবার সুস্থতা কামনা করছি।তাছাড়া ফটোগ্রাফিগুলি ভালো ছিল, আমরাও সেনানিবাস দেখার সুযোগ পেলাম।ধন্যবাদ আপনাকে।