গল্প-সুদীপা||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। মাঝে মাঝে গল্প লিখতে অনেক ভালো লাগে। তবে গল্প লেখার জন্য মানসিক প্রস্তুতি অনেক বেশি দরকারি। কয়েকদিন থেকে মানসিকভাবে একদম ভালো নেই। তবুও কি আর করার। একটি গল্প লিখে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এলাম। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
সুদীপা:
Source
সুদীপা ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। সেই ছোটবেলা থেকেই মেয়েটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। স্কুলে সবাই তাকে লড়াকু মেয়ে হিসেবেই জানতো। সময়ের সাথে সাথে সুদীপা যেমন সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে তেমনি দেখতে দেখতে মেয়েটা বড় হয়ে উঠেছে। সুদীপা মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। তার এই লড়াকু স্বভাব তার বাবা-মায়ের খুব একটা পছন্দ নয়। পারা প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই কটু কথা শোনায়। তাদের মতে মেয়েদের এতটা লড়াকু হতে নেই। মাথা নিচু করে সবটা মেনে নিতে হয়।
একদিন সুদীপাও সবার কথা মেনে নিলো। বাবা-মা, চাচা চাচি সবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে নিল। নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে চলে গেল শ্বশুর বাড়ি। কিন্তু তার ভাগ্যটা যে বড্ড বেশি খারাপ। শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নিতে তার যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। যার ভেতরে লড়াকু সভাব আছে সে কি করে অন্যায় মেনে নিবে। এই কথা ভাবতে ভাবতেই তার দিন কেটে যেত। ভেতর ভেতর কষ্ট পেতো। চাপা কান্না থাকে কষ্ট দিত। দেখতে দেখতে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার ভেতরের কষ্ট আরো বেড়ে যেতে লাগলো। সুদীপা নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিল। নিজের ভেতরের সত্তা টাকে বিসর্জন দিয়েছিল। কিন্তু কারো আপন হতে পারল না।
কেটে গেল বিয়ের প্রায় তিনটি বছর। সুদীপা মা হতে পারেনি। এই কারণে মেয়েটিকে উঠতে বসতে কম কথা শোনানো হতো না। সুদীপা নীরবে সবকিছু মেনে নিয়েছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ করে সুদীপা শুনতে পেল তার স্বামীর বিয়ের আয়োজন চলছে। তার দুঃসম্পর্কের এক বোনের সাথেই নাকি তার বিয়ের কথা চলছে। এটা শুনে যেন সুদীপা আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। সেদিন সে প্রতিবাদ করেছিল। তার সাথে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। সুদীপা বুক ফুলিয়ে বলেছিল মা হতে না পারা কোন অন্যায় নয়। সৃষ্টিকর্তা চাইলেই সবকিছু সম্ভব। আর আমার স্বামী যে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সন্তান হবে এটা কিভাবে নিশ্চিত বলতে পারছেন আপনারা। এই কথা বলার পর তাকে অনেক মারধর করা হয়েছে।
সুদীপা সারারাত ধরে অনেক কেঁদেছিল। ভোরের আলো ফোটার আগেই বেরিয়ে পড়েছিল মেয়েটা। অজানা উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল। পথে ঘাটে ঘুরে ঘুরে তার শেষ ঠিকানায় ফিরেছিল। বাবা-মায়ের ঘরে ফিরেছিল মেয়েটা। বাবা মা তার কষ্টটা বুঝতে পারলেও পারা প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই তাকে নিয়ে তামাশা করতে শুরু করে। তাকে কটু কথা শোনাতে শুরু করে। সবার ব্যবহারে সুদীপা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু সে হাল ছেড়ে দেয়নি। আবারও জেগে উঠেছে তার সেই লড়াকু স্বভাব। আবারো জেগে উঠেছে তার সেই ভেতরের সত্তা। সুদীপা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সুদীপা এখন গ্রামের স্কুলে পড়ায়। গ্রামের বাচ্চাদের পড়াতে সে ভীষণ ভালোবাসে। দেখতে দেখতে কেটে যায় বেশ কয়েক বছর। সুদীপা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তার ছোট্ট সুখের সংসার হয়েছে। তার কোল জুড়ে এসেছে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান।
অন্যদিকে সুদীপার স্বামী এখনো সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি। সুদীপা যখন এই খবর জানতে পারে তখন তার খারাপ লেগেছে ঠিকই কিন্তু অদ্ভুত রকমের আনন্দ হয়েছে। তাকে অপমান করার বদলা সৃষ্টিকর্তা নিয়েছেন। সুদীপা নিজের জীবনটাকে ঠিক গুছিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তার আগের স্বামীর সংসার ভেঙে গেছে। যাকে নতুন করে ঘরে তুলেছিল সে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সৃষ্টিকর্তা সুদীপার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। সুদীপা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। আসলে জীবন কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না। সুদীপা যেমন ঘুরে দাঁড়িয়েছে তেমনি তার জীবনটাও বদলে গেছে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1876246927760896413?t=UcPkaAxFZGdK1wzqbgaXTQ&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সুদীপার প্রথম স্বামীর মনে হয় কোনো সমস্যা ছিলো। সেজন্যই সুদীপা প্রথম সংসারে থাকা অবস্থায় মা হতে পারেনি। তাছাড়া সুদীপার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পরেও সন্তান হয়নি। যাইহোক সুদীপা শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তার কন্যা সন্তান হয়েছে, জেনে খুব ভালো লাগলো। এতো চমৎকার একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মাঝে মাঝে ছেলেরা শুধু মেয়েদের উপর দোষারোপ করে। আর একটি মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানোটাই হচ্ছে জীবনের সফলতা।
আমিও মনে করি জীবন কখনও কারও জন্য থেমে থাকে না। জীবন চলে তার নিজের গতিতে। প্রকৃতি কখনও কারও কাছে যে দায়ী থাকে না তা আজ সুদীপ্তা গল্পটি আবার প্রমান করে দিলো। কিন্তু আমি ভাবছি আপনি এমন সুন্দর করে ছোট ছোট গল্পগুলো কি করে লেখেন। জানাবেন তো আপু।
এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন আপু জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। জীবন জীবনের গতিতেই চলে যায়। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু মন্তব্য করার জন্য।