জেনারেল রাইটিং-হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডব||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি একটি ভিন্ন ধরনের পোস্ট আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো। আসলে মাঝে মাঝে আমরা অনেক রকমের অভিজ্ঞতা অর্জন করি। আর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকে আমি কিছু কথা লিখবো। তো চলুন আমার আজকের পোস্ট পড়ে নেয়া যাক।
হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডব:
Source
গতকাল রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব দেখেছি। আমাদের এদিকে অনেক ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়াবহতা আগে সেভাবে কখনো লক্ষ্য করেনি। গতকাল রাতে হঠাৎ করেই প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়েছিল। এতটাই বাতাস বইছিল যে চারপাশে সো সো শব্দ শুরু হয়ে গিয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পর আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়ের এই ভয়াবহ রূপ আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ করে দমকা হাওয়া শুরু হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে শুরু হয় বাতাস। বাতাসের বেগ যেন সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলছিল।
প্রথমের দিকে শুধু বাতাস বইছিল। এরপর শুরু হয়ে যায় ঝড়-বৃষ্টি। মনে হচ্ছিল যেন চারপাশের সব কিছুই ভেঙে চুরে যাচ্ছে। রুম থেকে শুধু শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আসলে এই সময় বাইরে বের হওয়াটাও ঠিক নয়। মনে হচ্ছিল সবকিছু একদম ভেঙে গিয়েছে। আশেপাশে শুধু শব্দ আর শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সত্যি কথা বলতে সেই সময়টাতে ভীষণ ভয় লেগেছিল। আগে কখনো এরকম কালবৈশাখী ঝড়ের আবহাওয়া দেখিনি কিংবা অনুভব করিনি।
মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড় যেন আরো বেড়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল ঝড়ের সাথে সাথে বাতাস বেড়েই চলেছে। একদিকে লোডশেডিং শুরু হয়েছিল অন্যদিকে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল। এরকম পরিচিততে সত্যি অনেক ভয় লাগছিল। আর ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে সময় কেটেছিল। মনে হচ্ছিল সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে। যেভাবে বাতাস শুরু হয়েছিল মনে হচ্ছিল সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। শুধু অপেক্ষা করছিলাম ঝড় থামার। আসলে ঝড়ের সময় অন্য রকমের ভয় লাগে।
প্রায় দুই ঘণ্টার মতো ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল। রাত দশটা থেকে একটা পর্যন্ত ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে ঝড়-বৃষ্টি অনেকটাই কমে যায়। ঝড় বৃষ্টি কমার পর লক্ষ্য করলাম আবহাওয়া টা বেশ ঠান্ডা হয়েছে। যখন হঠাৎ করে বারান্দায় গিয়ে লক্ষ্য করলাম বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। গাছ ভাঙার কারণে ইলেকট্রিক বিভিন্ন সংযোগের লাইন গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে সত্যিই অনেক খারাপ লেগেছে।
যখন ঝড় বৃষ্টির পর গাছপালা ভাঙার দৃশ্য দেখেছিলাম তখন সত্যি অনেক খারাপ লেগেছিল। আসলে ঝড় বৃষ্টিতে কত ক্ষতি হয়ে যায়। আমাদের দেশে এমন অনেক সাধারন মানুষ আছে যারা এই ঝড় বৃষ্টিতে তাদের থাকার ঘর বাড়ি হারিয়ে ফেলে। টিনের চাল ঝড়ে উড়ে যায় কিংবা বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। যারা জীবনে এরকম পরিস্থিতি এসেছে তারা হয়তো এই কষ্টটা বুঝতে পারবে কিংবা উপলব্ধি করতে পারবে। ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার কথা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আপনারা বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছেন।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1916489148862509496?t=IMwOMrbNst2MXvAPZqanNg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/Monira93732137/status/1916493115277660224?t=kAV3w5fyWdB6qPbt9KofqQ&s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1916493632582090837?t=r88o40wkUOHHeWKrgQ2ykw&s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1916494027983044799?t=iTojrXhWz-y3bIflk2AxhQ&s=19
আপনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল। কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের মাঝে আপনার অনুভূতিগুলো খুব জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। শব্দের ভেতর দিয়ে যেন সেই ভয়ংকর রাতের চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠলো। প্রকৃতির রুদ্ররূপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আপনার লেখার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা গেল। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ক্ষতির কথা তুলে ধরে আপনি যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সত্যি ভাইয়া কালবৈশাখী ঝড় অনেক ভয়ংকর। ভীষণ ভয়ের। এরকম অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি আমার।