নাটক রিভিউ-মি. এ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি@monira999। আমি একজন বাংলাদেশী। আজকে আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটিতে একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। নাটক দেখতে অনেক ভালো লাগে। বিশেষ করে পছন্দের অভিনয় শিল্পীদের নাটক দেখতে বেশি ভালো লাগে। তাই আজকে আমি একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করতে যাচ্ছি। আশা করছি নাটক রিভিউ সবার ভালো লাগবে।
| নাম | মি. এ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড |
|---|---|
| পরিচালনা | রুবেল হাসান |
| গল্প | জিয়াউল ফারুক অপূর্ব |
| প্রধান সহকারী পরিচালক | |
| অভিনয়ে | জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তামজিম সায়েরা তটিনী ও আরো অনেকে |
| দৈর্ঘ্য | ৫৬ মিনিট |
| মুক্তির তারিখ | ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| ধরন | ড্রামা |
| ভাষা | বাংলা |
| দেশ | বাংলাদেশ |
চরিত্রেঃ
- জিয়াউল ফারুক অপূর্ব(আবির)
- তামজিম সায়েরা তটিনী(রিয়া)
নাটকের শুরুতেই দেখতে পাই আবিরের বাবা খুবই ভোলা মনের একজন মানুষ। সে তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে অন্য একজনকে নিয়ে চলে আসে। এরপর বাসায় এসে দেখে অন্য কাউকে নিয়ে এসেছে। এরপর দ্বিতীয় চিনে দেখানো হয় আবির বড় হয়ে গেছে এবং সে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে। সে তার বাবার মতোই হয়েছে। সব বিষয়ে ভুলে যায়। এই বিষয়গুলোর জন্য তার মা সব সময় চিন্তিত থাকে। তার মা যখন এসে তাকে বলে সে এই সময় কেন পড়তে বসেছে তখন আবির বলে রাত হয়েছে পড়তে তো হবে। তখন আবিরের মা বলে তখন দুপুর হয়েছে। আর তার ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। এবার আবির ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ে।
ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় তার একটি মেয়ের সাথে দেখা হয়। সে আবিরকে প্রপোজ করেছিল। আর সে উত্তর জানতে চায়। কিন্তু আবির বলে পরে জানাবে। যেহেতু আবিরের কিছু মনে থাকে না তাই ফোনে রিমাইন্ডার সেট করে দেয়। এবার আবির চলে যায় ডাক্তারের কাছে। সেখানে গিয়ে ডাক্তার রিয়ার সাথে তার পরিচয় হয়। ডাক্তার যখন তার বয়স জানতে চায় তখন আবির তার মাকে ফোন করে আর বয়স সম্পর্কে জানতে চায়। রিয়া অনেক অবাক হয়ে যায়। এরপর আবির ডক্টর দেখিয়ে স্যাম্পল না দিয়েই বাসায় নিয়ে চলে আসে। কারণ তার তেমন কিছু মনে থাকে না।
রিয়া ফোন করে আবিরকে বলে সে কেন সেম্পল না দিয়ে চলে গিয়েছে। তখন আবির বলে তার মনে ছিল না। এটা শুনে রিয়া অবাক হয়ে যায়। আবিরের অনেক কিছুই মনে থাকে না। আবির যখন আবার রিয়ার চেম্বারে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ে তখন রাস্তায় পুলিশ আটকায় এবং হেলমেট না থাকার কারণে তাকে জরিমানা করে। আবির ফেরার পথে ভুল করে পুলিশের গাড়ি নিয়ে চলে আসে। তখন থেকে পুলিশ সদস্যরা তাকে দেখলে সালাম দেয় কারণ সে পুলিশ এর গাড়ি নিয়ে চলে এসেছে। আবিরের ব্যাপারটা বেশ অবাক লাগে। এরপর সারাদিন কেটে যায়। রাতের বেলায় পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। আর থানায় নিয়ে যায়। থানায় যাওয়ার পর আবির বুঝতে পারছিল না কিভাবে কি করবে।
এবার আবির রিয়াকে ফোন করে। রিয়া এসে থাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর রিয়া তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়। আর হঠাৎ করে আবিরের মা অসুস্থ হয়ে পরে। বিয়ে তার চিকিৎসা করে এবং ভালো করে তুলে। ধীরে ধীরে রিয়ার সাথে আবিরের মায়ের অনেক ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। সবাই রিয়াকে অনেক পছন্দ করে। অন্যদিকে রিয়াও আবিরকে মনে মনে পছন্দ করতে শুরু করে। আবিরের ছেলেমানুষী রিয়ার অনেক ভালো লাগে। রিয়া মাঝে মাঝেই আবিরের সাথে কথা বলে। আর দুজনে দেখা করার জন্য বেরিয়ে পড়ে। এরপর তারা সুন্দর সময় কাটায়। কিন্তু আবির সবসময় বিয়ার কথা মনে রাখে। সে কখনো রিয়াকে ভুলে না।
রিয়া চাচ্ছিল আবির তার বাবা মায়ের সাথে দেখা করুক। সেজন্য সে তার ঠিকানা দিয়ে দেয়। কিন্তু আবির ভুলো মনের হওয়ার কারণে অন্যদিকে চলে যায়। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আবির আসে। এবার আবির রিয়ার বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে যায় এবং সে বলে সে মাঝে মাঝে অনেক কিছু ভুলে যায়। কিন্তু সে রিয়াকে কখনোই ভুলবে না। সারা জীবন ভালো রাখবে। আসলে সে কঠিন সবকিছুই মনে রাখতে পারে। আর রিয়াকে সে ভালোভাবে মনে রেখেছে এবং সারা জীবন মনে রাখবে। সবাই বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। এরপর রিয়াও বুঝতে পারে আবির তাকে অনেক ভালোবাসে। এখানেই নাটকটি শেষ হয়ে যায়।
নাটকের গল্পটি একদম ভিন্ন রকমের ছিল। মোটামুটি ভালোই লেগেছে। একজন মানুষ অনেক কিছুই ভুলে যায় হঠাৎ করে। আর এই ভুলে যাওয়ার স্বভাবের কারনে রিয়া আবিরকে ভালবেসেছিল। তার সহজ সরল চলাফেরা এবং জীবন যাপন রিয়াকে মুগ্ধ করেছিল। সব মিলিয়ে নাটকটি মোটামুটি ভালো ছিল। আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
আপনিও দেখছি এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন। আমিও ৩ দিন আগে এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছিলাম। যাইহোক এই নাটকটি দেখে বেশ মজা পেয়েছিলাম। অপূর্বর কাহিনী দেখে হাসতে হাসতে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এই নাটকের রিভিউ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনিও এই নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছিলেন জেনে ভালো লাগলো যদিও আপনার পোস্ট দেখা হয়নি। তবে আজকে যখন হঠাৎ করে এই নাটকটি দেখছিলাম তখনই ভাবলাম রিভিউ শেয়ার করে ফেলি।
https://x.com/Monira93732137/status/1866352519875822005?t=V2TGY_NbgYWRBqBdqEn4Bg&s=19
খুব ভালো একটা নাটক শেয়ার করেছেন আপু। বাংলা নাটক দেখতে আমারও ভালো লাগে বিশেষ করে অপূর্বর অভিনয় আর তটিনী এখন বাংলাদেশের ফেমাস নায়িকা। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর নাটক আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
অপূর্ব এবং তটিনী দুজনেই ভালো অভিনয় করে। আর তাদের অভিনয় দেখতে যেমন ভালো লাগে তেমনি নাটকগুলো বেশ ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
এই নাটকটি শুটিং এর একটা অংশ দেখলাম কালকে আমার কাছে বেশ মজা লেগেছিল। আপনি আজকে খুব সুন্দর ভাবে রিভিউ উপস্থাপন করেছেন। মনে হচ্ছে নাটকটি আসলেই বেশ মজার ছিল। ভালোবাসার কারণটাও মজার। ভুলে যাওয়ার কারণে নায়িকা নায়ককে ভালোবেসেছে। যাই হোক ভালো লাগলো আপনার রিভিউ পড়ে।
নাটকটি সত্যিই অনেক মজার ছিল আপু। যখন সময় পাবেন তখন নাটকের সম্পূর্ণ অংশ দেখতে পারেন। ধন্যবাদ আপু মন্তব্য করার জন্য।
আপনি আজকে এত সুন্দর করে এই নাটকের রিভিউটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো। এই নাটকের পুরো কাহিনীটা অনেক সুন্দর ছিল। অপূর্বের নাটক গুলো আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লাগে। তার নাটক আমি একটু বেশি দেখে থাকি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমি এই নাটকটি দেখিনি। তাই জন্য সময় পেলে নাটকটা দেখব ভাবছি।।
নাটক দেখতে যেমন ভালো লাগে তেমনি রিভিউ শেয়ার করতে ভালো লাগে। এই নাটকের গল্পটা অনেক ভালো লেগেছিল আপু। তাই রিভিউ শেয়ার করলাম।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
খুব সুন্দর একটি নাটক রিভিউ শেয়ার করেছেন আপু। বাংলাদেশের নাটক দেখতে আমি অনেক পছন্দ করি। আপনার নাটক রিভিউটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। অপূর্বর নাটক দেখতে আমি অনেক পছন্দ করি। খুব সুন্দর করে আজকের নাটকটি রিভিউ করেছেন আপনি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বাংলাদেশের নাটক গুলো দেখতে আমিও অনেক পছন্দ করি যখনই সময় পাই তখনই নাটক দেখার চেষ্টা করি আপু। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
মন্তব্য ভালো লাগার জন্য স্বাগতম জানাচ্ছি।
কিছুদিনের মধ্যে এই নাটকের রিভিউ টা পড়েছিলাম। আজকে আপনার পোষ্টের মাধ্যমেও রিভিউটা পড়ে ভালো লাগলো। নাটকের গল্পটা ভীষণ সুন্দর। তবে এখনো দেখা হয়নি। আপনি খুব সুন্দর ভাবে পুরো গল্পটা উপস্থাপন করেছেন। ধন্যবাদ আপু।
এর আগে আপনি এই নাটক রিভিউ পড়েছিলেন জেনে ভালো লাগলো আপু নাটকটি কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে আর গল্পটিও দারুন ছিল।
এত মিনিটের একটা নাটক মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই পড়ে নেওয়া যায়। আমি তো মনে করি দেখার থেকে রিভিউ পড়ে নেওয়াই ভালো। তাহলে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনীটা মাত্র ২ মিনিটেই জেনে নেওয়া যায়। বেশি সময় আর অপচয় করা লাগে না দেখে। আমি তো এখন সব সময় চেষ্টা করি নাটকের রিভিউর মাধ্যমেই কাহিনীটা জেনে নেওয়ার জন্য। আর ঠিক তেমনি এখনো চেষ্টা করলাম। ভালো লাগলো এই রিভিউ টা।
এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন ভাইয়া অল্প সময়ের মধ্যেই নাটকটি সম্পর্কে জানতে হলে নাটক রিভিউ পোস্টগুলো পড়তে হয়। আর নাটক রিভিউ পড়তেও অনেক ভালো লাগে।