শৈশব স্মৃতি-হারিয়ে যাওয়া শৈশব||
আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার
আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি ভিন্ন ধরনের একটি পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে এসেছি। শৈশবের মধুর স্মৃতিগুলো এখনো মনে আনন্দের দোলা দিয়ে যায়। আর শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে করলে সত্যি অনেক ভালো লাগে। শৈশবের দিনগুলোর মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। তাই আজকে আমি শৈশব স্মৃতি নিয়ে কিছু কথা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
হারিয়ে যাওয়া শৈশব:
Source
শৈশবের প্রত্যেকটা মুহূর্তই যেন আনন্দের। ছোটবেলায় কতই না আনন্দে দিন কাটতো। পড়াশোনা, স্কুল সবকিছুর মাঝেও অন্য রকমের আনন্দ ছিল। সকাল হতে না হতেই বেরিয়ে পড়তাম আম কুড়োতে। সঙ্গী সাথীদের সাথে দেখা না হলে যেন সকালের শুরুটাই হতো না। সবাই মিলে একসাথে হয়ে কিছু একটা করে ফেলতাম। দিনের শুরুটা যখন আনন্দ দিয়ে হয় তখন দিনের শেষটাও আনন্দে কেটে যায়। তেমনি সকাল হলেই সবাই একত্রিত হয়ে অনেক আনন্দ করতাম। এরপর কিছুক্ষণ সময় পড়াশোনা করে স্কুলের জন্য বেরিয়ে পড়তাম।
স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে দুপুর হয়ে যেত। দুপুরে এসেই বই ব্যাগ রেখে অমনি দৌড় মাঠের প্রান্তরে। সবাই সেখানে অপেক্ষা করতো। একেক জন একেক স্কুলে পড়তাম আমরা। তাই হয়তো কিছুটা সময় দেরি হয়ে যেত। এরপর মায়ের শাসন তো আছেই। স্কুল থেকে এসে খাওয়া দাওয়া না করেই দৌড় দিতাম খেলার জন্য। মা ধরে বেঁধে এনে খাইয়ে দিতেন। আসলে সময় গুলো সত্যিই অন্য রকমের ছিল। এখনো সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। মনে হয় আবার যদি সেই দিনগুলোর মাঝে হারিয়ে যেতে পারতাম তাহলে সত্যি অনেক ভালো হতো।
নদীতে দল বেঁধে গোসল করতে নামার সেই মজার মুহূর্তগুলো এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সবাই মিলে একসাথে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। যেহেতু আমাদের গ্রামের বাড়ির পাশে একটি বড় নদী ছিল তাই নদীতে গোসল করা হতো। এরপর যখন শহরে চলে গেলাম তখন মাঝে মাঝে গ্রামে যাওয়া হতো। আর আবারো সেই আগের কাজগুলোই করতাম। তবুও তখন ইচ্ছে গুলো পূর্ণ হতো। হয়তো প্রত্যেকদিন আনন্দ করার সুযোগ হতো না। তবে মাসে একবার হলেও গ্রামে যেতাম।
এখনো মনে পড়ে সেই খেলাধুলার স্মৃতিগুলো। সবাই দল বেঁধে লুকোচুরি খেলতাম, কানামাছি খেলতাম, গোল্লাছুট খেলতাম। আর সবচেয়ে মজার খেলা ছিল দারিয়াবান্দা। এছাড়া বিভিন্ন রকমের খেলার আয়োজন ছিল আমাদের মাঝে। নতুন নতুন খেলার প্রতি আমাদের আগ্রহ অনেক বেশি ছিল। যেহেতু দল বল অনেক বড় ছিল তাই খেলায় কোন অসুবিধাই হতো না। সবাই একদম রেডি হয়ে থাকত। শুধুমাত্র বাড়ির লোকের চোখ ফাঁকি দিতে পারলেই হলো। একদম দৌড়ে চলে যেতাম মাঠের অন্য প্রান্তে।
যখনই দাদু বাড়িতে বেড়াতে যেতাম তখনই অনেক আনন্দ করা হতো। আসলে গ্রামে থাকা খুব একটা হয়নি। তবে যে কয়টা দিন থাকতে পেরেছি সেই স্মৃতিগুলো এখনো বুকে লালন করি। এখনো আনন্দের অনুভূতিগুলো খুঁজে বেড়াই। সময়ের সাথে সাথে আমরা সবাই বড় হয়ে গেছি। সব কিছুই বদলে গেছে। গ্রামের সেই আনন্দ এখন আর নেই। সবাই যে যার মত কর্মব্যস্ত জীবন পার করছে। তাদের সাথে বছরের পর বছর দেখা হয় না। সময়গুলো বড্ড বেশি পাল্টে গেছে। আর আমরাও বদলে গেছি। বদলে গেছে আমাদের অনুভূতিগুলো। হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।
https://x.com/Monira93732137/status/1924457537136705906?t=fDTT_M49s0yQeW5nBPPG3w&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/Monira93732137/status/1924460609585995971?t=bQmydyvfOO9_6rz7W7__hw&s=19
https://x.com/Monira93732137/status/1924460087923622244?t=TsxCF-DJg7u8hTCaMnqsgg&s=19
আপনার লেখা পড়ে যেন শৈশবের সেই মধুর সময়গুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠলো। যেভাবে প্রতিটি মুহূর্তের নান্দনিকতা ও খুশির গল্প বলছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ছোটবেলার সরলতা আর গ্রামের মায়াময় পরিবেশের ছবি এত সাবলীলভাবে আঁকায় মন আনন্দে ভরে গেল। হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলোর প্রতি আপনার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা স্পষ্ট বোঝা যায়। এমন সুন্দর স্মৃতিময় লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।
আপু আপনার শৈশব কালের পোস্টটি পড়ে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগলো।সত্যি বলতে আপনার পোস্টটি পড়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য শৈশব কালে হারিয়ে গেছিলাম।আসলেই আমাদের শৈশব কালটি অনেক আনন্দময় ছিল যে এখন কখনোই সম্ভব না ফেরে পাওয়া।আপনি খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুজিয়ে আপনার শৈশব কালের কিছু স্মৃতি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করছেন।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।